প্রতিবেদন

বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবসে ভোক্তা অধিকার আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ

স্বদেশ খবর ডেস্ক
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের কার্যকারিতা সম্পর্কে অবগত নন দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ মানুষ। অথচ এই আইনের আওতায় অভিযোগ করা হলে সাধারণত তা ৭ দিনেই নিষ্পত্তি করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে বিক্রেতাকে জরিমানা করা হলে সেই অর্থের আবার ২৫ শতাংশ নগদ সহায়তা হিসেবে দেয়া হয় অভিযোগকারী ভোক্তাকে। বেশিরভাগ ভোক্তাই এই আইনটি সম্পর্কে জানেন না। ফলে বিক্রেতা যা-ই বিক্রি করুক, ক্রেতার তা নিয়ে কোনো অভিযোগই নেই। বিশ্লেষকরা বলছেন, অভিযোগ যত বাড়বে ততই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের কার্যকারিতা বাড়বে। তাছাড়া এই আইনটি কার্যকর করতে হলে, জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েই ১৫ মার্চ অন্যান্য দেশের মতো বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস পালিত হয় বাংলাদেশেও। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উদ্যোগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এছাড়া রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিজিটাল বাজার ব্যবস্থাপনায় অধিকতর স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়েও ভোক্তা অধিকার নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয় ঢাকাসহ সারাদেশে।
ভোক্তা অধিকার আইন বিষয়ে নাগরিক সমাজের ধারণা ও সচেতনতা জানার জন্য কনজ্যুমারস ফোরামের (সিএফ) পক্ষ থেকে ইতঃপূর্বে ঢাকা নগরের ২৩টি এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৪০৮ জন মানুষের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে দেখা যায়, এখনও দেশের ৩৬ দশমিক ২০ শতাংশ মানুষ জানেনই না দেশে ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণমূলক একটি আইন কার্যকর আছে। ৪৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ মানুষ জানেনই না ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে সরকারিভাবে একটি অধিদপ্তর স্থাপন করা হয়েছে। পণ্য ও সেবা গ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ মানুষ কোথাও কোনো অভিযোগই করেন না।
ওই জরিপে অংশ নেয়া নাগরিকরা মনে করেন, ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে ভোক্তা অধিকার আন্দোলনে সম্পৃক্ত ও সচেতন করতে পত্র-পত্রিকা ও রেডিও-টেলিভিশনে নিয়মিত প্রচার চালানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের নিয়ে পাড়া-মহল্লায় ভোক্তা অধিকার বিষয়ক সংগঠন গড়ে তোলা প্রয়োজন।