রাজনীতি

খালেদা জিয়ার কারাবরণের দীর্ঘসূত্রতা : হতাশায় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ধারণা ছিল খালেদা জিয়া ৮ ফেব্রুয়ারি জেলে যাবেন ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সরকারি বন্ধ থাকায় জেলে থাকবেন, ১১ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে জেল থেকে বেরিয়ে আসবেন এবং সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত হবে এমন ভাবনাই ছিল না বিএনপি নেতাকর্মীদের। গত কয়েকদিনের ঘটনায় তাদের ধারণা, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে কারাগারেই থাকতে হবে। বিএনপির একটি পক্ষের ধারণা আইনজীবীদের অজ্ঞতার কারণেই খালেদা জিয়াকে কারাগারে থাকতে হচ্ছে। আরেকটি পক্ষের ধারণা সরকারের আইনি মারপ্যাঁচের ফলে খালেদা জিয়াকে জেলে থাকতে হচ্ছে। তৃতীয় একটি পক্ষের ধারণা খালেদা জিয়া সরকারকে চাপে রাখার জন্য ইচ্ছে করেই তার জেলজীবন দীর্ঘায়িত করছেন। অনেকের মতে, ক্ষমতার বাইরে থেকে জনকল্যাণ ও জনস্বার্থ ইস্যুতে বিএনপি এ যাবৎ যত না আন্দোলন করেছে তার চেয়ে বেশি কর্মসূচি পালন করেছে খালেদা জিয়ার বাড়ি উদ্ধার, তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার মামলাকেন্দ্রিক আন্দোলন ইস্যুতে। অর্থাৎ বিএনপিতে দলের চেয়ে ব্যক্তি ও পরিবারই বড় হয়ে সামনে এসেছে বরাবরই। এবারও বিএনপির কাছে ব্যক্তি ইস্যুটিই বড় হয়ে উঠেছে। বিএনপির নরম আন্দোলন এখন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জেলমুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে বিএনপির কাছে বড় হয়ে উঠেছে খালেদা জিয়ার কারামুক্তি। কিন্তু তার কারামুক্তি নিয়ে চরম হতাশ বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী। হতাশ নেতাকর্মীদের কথা হলো খালেদা জিয়ার কারামুক্তি নিয়ে বিএনপির যে ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলার কথা ছিল, তার কিছুই করতে পারেনি নেতারা। মানববন্ধন আর অনশনের মতো যে নরম কর্মসূচি চলছে, তা আমলে নিচ্ছে না সরকার।
দলের হাইকমান্ড এবং আইনজীবী নেতাদের ধারণা ছিল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সহজেই জামিন পাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। হাইকোর্টের জামিন এবং চেম্বার জজ তা স্থগিত না করায় সেই বিশ্বাস আরও দৃঢ়ও হয়েছিল। কিন্তু আপিল বিভাগে জামিন স্থগিত হওয়ায়, রাজনীতির মাঠে যে গুঞ্জন ও আশঙ্কা ছিল; তা সত্যিই হলো। এ বাস্তবতায় বিএনপি নেতারা এখন মনে করছেন, নির্বাচন পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে কারাগারেই থাকতে হবে। কারণ বিষয়টি শুধু আদালতের নয়, রাজনৈতিকও। এ কারণে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়টি এখন সামনে চলে আসছে। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেই বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া উচিত এবং খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে বিএনপির কিছুতেই নির্বাচনে যাওয়া উচিত নয়Ñ এমন দুইটি ধারা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে বিএনপিতে।
খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে, না খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেÑ বিএনপি এখন এই কঠিন সমীকরণটির সামনে দাঁড়িয়ে। বিএনপির একটি পক্ষ বলছেÑ খালেদা জিয়া জেলেই থাকুক, এতে তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের বৈতরণী বেশ ভালোভাবেই পার হওয়া যাবে। বিএনপির আরেকটি পক্ষ বলছেÑ খালেদা জিয়া ছাড়া বিএনপি ফ্লপ। জেলে থাকার কারণে খালেদা জিয়া যদি নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে না পারেন, তাহলে ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার আসবে না। খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে নির্বাচনে অংশ নিলে ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ৩০টির বেশি আসন পাবে না। সে হিসাবে বিএনপির উচিত, খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রশ্নে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা। কিন্তু বাস্তবে বোঝা যাচ্ছে অপ্রত্যাশিত দীর্ঘসূত্রতার আবর্তে পড়েছে খালেদা জিয়ার কারামুক্তি। কবে মুক্তি মিলবে তা অনেকটা অনিশ্চিত। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কারাগারে আছেন ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভের পর প্রথমে তা ১৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেছিল সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। রিভিউর পর স্থগিতের মেয়াদ বাড়িয়ে ৮ মে করা হয়। এর মানে হলো অন্তত মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত জেলে থাকতেই হচ্ছে খালেদা জিয়াকে। তাছাড়া অন্য কয়েকটি মামলায় খালেদা জিয়াকে ইতোমধ্যে শ্যোন-অ্যারেস্ট দেখানোর ভীতিতো রয়েছে; যার ফলে খালেদা জিয়ার কারাবাসের দীর্ঘসূত্রতার আতঙ্কে রয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। যদিও জেলে যাওয়ার আগেও বিএনপি নেতাদের ধারণা ছিল বেগম খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ দু-চারদিন কারাগারে থাকতে হবে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন পুরো বিপরীত। যতই দিন যাচ্ছে, বিএনপি নেতাদের সেই বিশ্বাসে চির ধরছে। এখন দলের অধিকাংশ নেতাই বলছেন, বেগম জিয়ার কারাবাস ‘দীর্ঘায়িত’ হতে পারে। এমনকি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর হাফিজ (অব.) সম্প্রতি এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে ব্রিটিশ আইনজীবী কারলাইলের নিয়োগ না দিয়ে যদি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আইনজীবীকেও নিয়োগ দেয়া হয় তারপরও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার কারামুক্তির সম্ভাবনা নেই। অবশ্য বিএনপি নেতাকর্মীরা ইতঃপূর্বে এটা ভাবতেই পারেননি। এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আদালত কর্তৃক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘অযোগ্য’ ঘোষণাও করা হতে পারে। অপরদিকে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট নেতাদের বড় একটি অংশকে নিয়েই নির্বাচনের পথে হাঁটতে চায় সরকার। বিএনপির কিছু নেতা সরকারের প্রতি অভিযোগ করে বলছেন, নতুন করে দল ও জোট ভাঙার তৎপরতা শুরু হয়েছে। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে ওয়ান-ইলেভেনের মতো আবারও দল ভাঙার অপচেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে বিএনপির অনেক নেতার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছে সরকারের শীর্ষ একটি মহল। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ের বিএনপির সেই নেতারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা সরকারবিরোধী বেশ কথাবার্তাও বলছেন। কিন্তু তারা কোনো মামলায় গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, বিএনপিকে ভাঙার জন্য বিএনপির ভেতরেরই একটি পক্ষ বেশ সক্রিয়। এই পক্ষটি ওয়ান-ইলেভেনেও সক্রিয় ছিল। সে সময় তারা ব্যর্থ হলেও এবার ব্যর্থ হতে চাচ্ছে না। সে জন্য সরকারের সঙ্গে তাদের কথাবার্তা চলছে। কথাবার্তা পাকা না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির এই পক্ষটি চাচ্ছে খালেদা জিয়া জেলেই থাকুক। বিএনপির আরেকটি পক্ষ চাইছে খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রশ্নে বিএনপি এখনই জ্বালাও-পোড়াও শুরু করুক। এই পক্ষটিকে কোণঠাসা করে রাখছে মহাসচিব গ্রুপ। ফখরুলপন্থিদের কথা হলো খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রশ্নে বিএনপি নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করবে এবং আইনের ওপরই বিষয়টি ছেড়ে দেবে।
সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জোট ভাঙার চেষ্টা হচ্ছে। ২০ দলীয় জোটের বেশ কয়েকজন নেতাকে ‘টোপ’ দিচ্ছে সরকার। জোট ভাঙতে চেষ্টা করছে। শরিক দলের এক শীর্ষ নেতাকে পার্শ¦বর্তী দেশে ডেকে নেয়া হয়েছে। এসব জানার পর জোটের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য স্থায়ী কমিটির এক সদস্যকে জোটের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এখন থেকে জোট নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি দেয়া হবে।
বিএনপির অপর একটি গ্রুপ সরকারের সঙ্গে সমানতালে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই গ্রুপটি খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে জিয়া বা তারেকপন্থি একটি বিকল্প বিএনপি গঠন করতে চায়। বিএনপির অভ্যন্তরে এ নিয়ে চলছে ঠা-া লড়াই। দলের কোনো নেতাই কোনো নেতাকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। এসবের পাশাপাশি ২০ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতারাও সরকারি দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। শোনা যাচ্ছে তাদের নানা প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। প্রয়োজনে খালেদা জিয়াবিহীন নির্বাচনে যাওয়ার বার্তা পাঠানো হয়েছে জোটের প্রায় সব দলের কাছেই। গোপনে কয়েকটি দল তাদের মনোভাব স্পষ্টও করেছে। জোটের একাধিক দল পরিবেশ-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও জানা গেছে। বিএনপির এক সিনিয়র নেতা জানান, কিছুদিন আগেও লেবার পার্টি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম দুই ভাগে বিভক্ত হয়। সেখানেও ষড়যন্ত্র হয়েছে। ছোট ছোট অন্য দলেও ভাঙনের চেষ্টা চলছে। তবে ভগ্নাংশ দুই দলই একে অন্যকে সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ আনছে। এ অবস্থায় কয়েকদিন আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘সরকার ২০ দলীয় জোট ভাঙার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের জোট অটুট রয়েছে। জোট ভাঙার ষড়যন্ত্র কখনই সফল হবে না।’ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর মতে, সরকারের অন্তত তিনটি ভাবনা ইতোমধ্যে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এক. বিএনপি বড় কর্মসূচি দিলে সরকার মামলা দিয়ে ধরপাকড় করত, কিন্তু এতে পা দেয়নি দল। দুই. খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হবে; বাস্তবতা হলো এখন পর্যন্ত অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে দল ঐক্যবদ্ধ আছে। তিন. তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হলে তার নেতৃত্ব কেউ মানবে না, এখানেও বাস্তবতা; এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। বরং তার নেতৃত্বে দল আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। দলের প্রত্যেকটি সিদ্ধান্ত তার সঙ্গে পরামর্শ করেই নেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের একের পর এক ভাবনা ভুল প্রমাণিত হওয়ায় তারা আরও মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাই নানা ধরনের ফন্দি আঁটছে কিভাবে বিএনপি এবং নেতাদের আটকানো যায়। কিন্তু একটি কথা স্পষ্ট করে বলা যায়, সরকার যে পথে হাঁটছে, তা কোনোভাবেই সফল হওয়ার নয়।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার আগে ও পরে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে সর্বাধিক গুরুত্ব পায় দলীয় ঐক্য। বিশেষ করে বিএনপি প্রধানের অনুপস্থিতিতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার দিকনির্দেশনা দেয়া হয়। জোটের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে দায়িত্বও দেয়া হয় বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান স্বদেশ খবরকে বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি, বিএনপি চেয়ারপারসনের কারামুক্তি দীর্ঘায়িত করতে সরকার নানা ধরনের অপতৎপরতা চালাচ্ছে। কিন্তু মিথ্যা অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতেই হবে।
এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে এ মুহূর্তে ‘নরম’ না ‘গরম’ কর্মসূচি দেয়া হবে তা নিয়েও নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত। কেন্দ্র ও তৃণমূলের নেতাকর্মীর বড় অংশই চায় কঠোর কর্মসূচি। তারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে অন্তত খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র নেতারা চান, রাজপথে শান্তিপূর্ণ ‘নরম’ কর্মসূচি। একইসঙ্গে শীর্ষ নেতারা এও বলছেন, এ মুহূর্তে বড় কোনো কর্মসূচি দেয়া মানেই সরকারের ফাঁদে পা দেয়া। এ বিষয়টি জেলে যাওয়ার আগেই বেগম জিয়া বলে গেছেন বলে উল্লেখ করেন ওইসব নেতা। বিএনপির একটি পক্ষ বলছে, যারা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বড় কর্মসূচি দেয়ার পক্ষপাতী তারাই মূলত বিএনপি ভাঙার জন্য সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য স্বদেশ খবরকে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ঘিরে বিএনপি এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ। সম্মিলিতভাবে আমরা রাজপথের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। একইসঙ্গে আইনি লড়াইও চালিয়ে যাচ্ছি। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা বেগম জিয়াকে মুক্ত করব। বিএনপি বা জোট ভাঙবে তা আমরা বিশ্বাস করি না। সরকার ও তার বিভিন্ন সংস্থার অপপ্রচার এগুলো।’ ২০ দলীয় জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরেই বিএনপি জোটে ভাঙন ধরাতে তৎপরতা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় জোটের ক্ষুদ্র দল ইসলামী ঐক্যজোট, এনপিপি, লেবার পার্টি, ন্যাপ ভাঙনের মুখে পড়ে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সেই তৎপরতা নতুনভাবে শুরু হয়েছে। নানা প্রলোভনের পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও জোটের এক নেতা অভিযোগ করেন। তবে বিএনপি জোটে থাকা কয়েকটি ছোট দল দুই নৌকায় পা দিয়ে চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘একাদশ নির্বাচন ঘিরে নানা ধরনের গুজব আমরা শুনছি। এর কোনো সত্যতা আছে কি না জানি না। তবে আমরা তো বিএনপি জোটে আছি। নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি আছে। সময়ই সব বলে দেবে।’
বিএনপিতে এখন আসলে নেতায়-নেতায় পারস্পরিক অবিশ্বাসই মূল সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। একজন আরেকজনকে সন্দেহ করছেন। গত সপ্তাহে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান ও নাজিমুদ্দিন আলম। কানাঘুষা আছে, সরকারের একটি পক্ষের সঙ্গে পাকাপোক্ত কথা বলেই তারা জেল থেকে বের হতে পেরেছেন। এই অবস্থাই এখন আসলে বিরাজ করছে বিএনপিতে। কোনো নেতা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পোক্ত আন্দোলন করতে চাইলে বলা হচ্ছে তিনি সরকারি লোক। আবার নরম আন্দোলন করতে চাইলে বলা হচ্ছে এই নেতা চাইছেন খালেদা জিয়া জেলেই থাকুক। মোট কথা না ঘরকা না ঘটকা অবস্থা বিএনপি নেতাদের। এমতাবস্থায় হতাশ বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।