প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

চট্টগ্রামের পটিয়ায় বিশাল জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আবারও নৌকায় ভোট দিন

মেহেদী হাসান
চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী একাডেমিতে বিএন ডকইয়ার্ডকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান ও বিএনএ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করতে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটিয়ায় এক জনসভায় ভাষণ দিয়ে পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। ২১ মার্চ চট্টগ্রামের পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের জনসভা রূপ নেয় বিশাল এক নির্বাচনি সমাবেশে। লাখো মানুষের সমুদ্রে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ মানেই উন্নয়ন। এই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভোট দিয়ে আপনারা স্বাধীনতা পেয়েছিলেন। এই আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও বাংলা ভাইয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত করিয়েছিল। আমরা শান্তি চাই, উন্নয়ন চাই। সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং মানুষের সুন্দর জীবন নিশ্চিত করতে আবারও নৌকা প্রতীকে ভোট প্রত্যাশা করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামসহ সারাদেশে পরিচালিত উন্নয়ন কর্মকা-ের চিত্র তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে এমন কোনো এলাকা নেই, যেখানে উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালিত হচ্ছে না। আমাদের কেউ আর দরিদ্র বলে উপেক্ষা করতে পারবে না। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। এই দেশের মানুষ মাথা উঁচু করে চলবে। মানুষের আর্থসামাজিক এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোকে চার লেনে উন্নীত করেছি এবং করছি। চট্টগ্রামে মেরিনড্রাইভ সড়ক করে দিচ্ছি। চট্টগ্রামে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করছি, এলএনজি টার্মিনাল করছি। দেশে ১০০টি ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করছি। সেখানে শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে, মানুষ চাকরি পাবে, বেকার সমস্যা সমাধান হবে।
বিএনপি-জামায়াতের অপশাসনের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সময়ে চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র এসেছিল। এর সঙ্গে ছিলেন খালেদা জিয়ার দুই ছেলে। দুর্নীতির মামলায় আদালতের রায়ে তার সাজা হয়েছে। তারা জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছিল। আমাদের সরকার সিঙ্গাপুর থেকে জনগণের অর্থ ফিরিয়ে এনেছে। বেগম খালেদা জিয়ার সাজার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া এতিমের সম্পদ লুট করেছেন। একটি টাকাও এতিমখানায় দেননি। পুরোটাই আত্মসাৎ করেছেন। আর কোর্ট বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে এই রায় দিয়েছে। অথচ তারা এ নিয়ে আন্দোলনের নামে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত যতবার ক্ষমতায় ছিল প্রতিবারই মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করার ফলে চালক ও হেলপার পুড়ে অঙ্গার হয়েছে। তাদের সময়ে দেশে জঙ্গি সৃষ্টি হয়েছে। অথচ বর্তমান সরকার দুই-দুইবার ক্ষমতায় থেকে দেশব্যাপী দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ করেছে। আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি।
শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সেবামূলক কর্মকা-ের বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মায়েদের জন্য আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি। দেশে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে ৩০ ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে। শিক্ষার উন্নয়নে আমরা উপবৃত্তি চালু করেছি। দেশের ১ কোটি ৩০ লাখ মায়ের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা চলে যাচ্ছে। উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ২ কোটি ২ লাখ ছাত্রছাত্রীকে বৃত্তি দিচ্ছি। অর্থের অভাবে যেন কারও লেখাপড়া বন্ধ না হয়ে যায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত বছরের প্রথম দিন ৩৫ কোটির অধিক বই বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। শ্রেণি কক্ষে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের ব্যবস্থা করেছি। আমরা বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ করার ঘোষণা দিয়েছিলাম। তা বাস্তবায়ন করেছি। সকলের হাতে হাতে এখন মোবাইল ফোন। দেশে ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছি। আগে বছরের পর বছর বিদেশে অবস্থানরত সন্তানদের সাথে মায়ের দেখা হতো না। আজ মোবাইল ফোনে কথা বলতে পারেন, সন্তানের চেহারা দেখতে পান তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিকায়নের ফলে।
মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যুদ্ধ না করলে এদেশ স্বাধীন হতো না, উন্নয়ন হতো না। সে কারণে তাদের ছেলে-মেয়ে এবং নাতি-পুতিদের জন্যও চাকরির ব্যবস্থা রাখছি। পাশাপাশি তিনি দেশের সকল মেধাবী সন্তানদের চাকরির বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় আছে বলে উল্লেখ করেন।
বিএনপি-জামায়াতের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল তাদের বিচার হচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তারা ক্ষমতায় এসে সেই স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় বসিয়েছিল। এটা আমাদের জন্য লজ্জার। যারা স্বাধীনতা চায়নি তারাই জাতির জনককে হত্যা করে দেশকে পিছিয়ে দেয়। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। সারাদেশে এখন উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারেনি, দেশ আবার পিছিয়েছে। বিএনপি ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল।
দেশকে উন্নত এবং দারিদ্র্যমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের সরকার দরিদ্র, বিধবা, বয়স্ক সকলের জন্য ভাতা এবং সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করেছে। বাংলাদেশে কেউ দরিদ্র থাকবে না। কোনো মানুষ কুঁড়েঘরে বসবাস করবে না। যাদের ঘর নেই তাদের আমরা ঘর করে দেব। যাদের জমি নেই তাদের খাস জমি দেব। যাদের জায়গা আছে কিন্তু ঘর করার মতো অবস্থা নেই তাদের টাকা দিয়ে সাহায্য করব। এই চট্টগ্রাম থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্প শুরু হয়েছিল। দারিদ্র্য বিমোচনে পদক্ষেপ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অনেকগুলো ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার করেছি, চাকরি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার জন্য ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করেছি। বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়ার সুযোগ রেখেছি। কয়েকজন মিলে একটি ব্যবসা দাঁড় করালে সেখানে আরও ১০ জনের চাকরি হতে পারে। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক করেছি। দরিদ্র মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এই চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিনকে তারাই অপহরণ করে হত্যা করেছিল। বিএনপি শুধু আওয়ামী লীগকে নয়, তাদের লোককেও ছাড়েনি। জঙ্গিবাদ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে অভিভাবকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের সন্তান কাদের সঙ্গে মেশে, কিভাবে চলাফেরা করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিক্ষকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো ছাত্র দিনের পর দিন অনুপস্থিত রয়েছে কি না খোঁজ নিন। নির্যাতন ও মানুষ হত্যা করে কেউ বেহেস্তে যেতে পারে না। মানুষ হত্যা করে দোজখে যেতে হবে। নিরীহ মানুষ হত্যার কথা কোনো ধর্ম বলেনি।
বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন বিদ্যুতের উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। আমরা ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি। ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। আমরা আবার ক্ষমতায় আসার পর ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি।
চট্টগ্রামের উন্নয়নে তাঁর সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকা-ের আওতায় দক্ষিণ চট্টগ্রাম এবং পুরো চট্টগ্রাম বিভাগে উন্নয়ন হয়েছে। আজ (২১ মার্চ) ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন এবং ২৮টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি আমার বাবা-মাকে হারিয়েছি। ভাই-ভাইয়ের বউ ও ফুফা-ফুফিকে হারিয়েছি। আমি এবং আমার বোন রেহেনা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছি। ৬ বছর আমরা দেশে ফিরতে পারিনি। ১৯৮১ সালে আমাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করার পর জনগণের সমর্থনে আমি দেশে ফিরে এসেছি। আমার চাওয়া পাওয়া কিছু নেই। আমি চাই এদেশের মানুষের সুন্দর জীবন। জনগণ যাতে সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে সেটি আমার চাওয়া। নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের ভোটে আবার যদি ক্ষমতায় আসি তাহলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন, দেশ উন্নত হবে।
৪২ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর
স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটিয়ার জনসভা থেকে চট্টগ্রামের ১৪ হাজার ৩২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর মধ্যে ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষে উদ্বোধন ও ২৮টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। বাস্তবায়িত যে ১৪টি প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছেÑ ৬৯৬ কোটি ৩৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার, ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় গণপূর্ত বিভাগের জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স ভবন, ১১ কোটি ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ব্যয়ে কালুরঘাট-মনসারটেক জাতীয় মহাসড়কের মিলিটারি সেতু, ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে পটিয়া-চন্দনাইশ-বৈলতলী সড়কের খোদারহাট সেতু, শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের ৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫তলা একাডেমিক ভবন, ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকায় হাজেরা-তজু ডিগ্রি কলেজের ৪তলা একাডেমিক ভবন, ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পটিয়া খলিল মীর ডিগ্রি কলেজের ৪তলা একাডেমিক ভবন, ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পশ্চিম বাঁশখালী উপকূলীয় ডিগ্রি কলেজের ৪তলা একাডেমিক ভবন, ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ফটিকছড়ি হেঁয়াকো বনানী কলেজ, ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে রাঙ্গুনিয়া মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবন, ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সাতকানিয়ায় কর্নেল অলি আহমদ (অব.) বীরবিক্রম কলেজের একাডেমিক ভবন, ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মীরসরাই প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের ৪তলা একাডেমিক ভবন, ২৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নাজিরহাট মাইজভা-ার সড়ক এবং ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে পটিয়া শেখ রাসেল ভাস্কর্য ও শেখ রাসেল স্মৃতি মঞ্চ।
প্রধানমন্ত্রী ২৮টি নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সিডিএর ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নগরীর লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ২ হাজার ২৭৫ কোটি ৫৮ লাখ ৫৫ হাজার ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীর তীরের কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ, ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩ হাজার ৩৩ কোটি ৩৪ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয়ে সাতকানিয়া লোহাগাড়া উপজেলার সাঙ্গু ও ডলু নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প, ২৫৮ কোটি ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে বন্দরের কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর পর্যন্ত ড্রেজিং প্রকল্প, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ১ হাজার ৯৯ কোটি ৬৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ৮টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ, দোহাজারী সওজের ২৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পটিয়ার কালারপোল-ওহিদিয়া সেতুস্থলে ১৮০ দশমিক ৩৭৩ কিলোমিটার সেতু নির্মাণ, ৭৯ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে কেরানিহাট-সাতকানিয়া-গুনাগরি মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন। চট্টগ্রাম সওজের অধীনে ১২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বড় তাকিয়া থেকে আবু তোরাব হয়ে মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সংযোগ সড়ক, ২৪৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-নারায়ণহাট-ফটিকছড়ি আঞ্চলিক সড়কের প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২ কোটি ১৬ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয়ে পটিয়ার রাজঘাটা শ্রীমাই খালের ওপর গার্ডার ব্রিজ, ২ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ফটিকছড়ির নাজিরহাট জিসি-কাজিরহাট জিসি সড়কে মন্দাকিনি খালের ওপর গার্ডার সেতু নির্মাণ, ৩ কোটি ২৭ লাখ ১৪ হাজার টাকায় পটিয়া পিটিআইয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ। শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের ১৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সীতাকু-ু টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ওয়ার্কশপের ৫তলা একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন, ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে খুলশী সরকারি মহিলা কলেজের ১ হাজার শয্যার ছাত্রীনিবাস, ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের ৫তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ। ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে পোস্তারপার আছমা খাতুন সিটি করপোরেশন মহিলা কলেজের ৫তলা ভবন নির্মাণ। গণপূর্ত বিভাগের চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট কমপ্লেক্স স্থাপন। এলজিইডির অধীনে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ১০ কোটি ৮৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকায় পটিয়া পৌরসভার মাল্টিপারপাস কিচেন মার্কেট নির্মাণ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পটিয়া হর্টিকালচার সেন্টার।