প্রতিবেদন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪৮তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ প্রথমে স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদর্শন করে। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী পরে মন্ত্রিপরিষদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে দলের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, চিফ হুইপ, সংসদ সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতি
প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪৮তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে রাজধানীতে ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সম্মুখে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পার্ঘ্য প্রদানের পর প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিকৃতির সামনে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এরপর দলের পক্ষ থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পার্ঘ্য প্রদানের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।

স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ ছিল সরকারি ছুটির দিন। স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বেতার, টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হয়। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ভবন, বাড়িঘর, যানবাহন ও দোকানে ওড়ে জাতীয় পতাকা। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়। সারাদেশের মসজিদে বিশেষ মোনাজাতে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করা হয়। মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাতেও বিশেষ প্রার্থনা সভার ব্যবস্থা করা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করে। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন ও মোনাজাত করা হয়। সশস্ত্র বাহিনীও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করে।

স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি
প্রধানমন্ত্রীর উপহার ও শুভেচ্ছা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪৮তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর শুভেচ্ছার নিদর্শনস্বরূপ প্রতিবারের মতো এবারও স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মোহাম্মদপুরের গজনভী রোডে শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ফুল, ফল ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ ও পহেলা বৈশাখের মতো প্রত্যেক জাতীয় দিবস ও উৎসবে তাদেরকে স্মরণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা মোহাম্মদপুরে ১৩তলার আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১সহ মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনে নেয়া নানা পদক্ষেপের জন্যও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করেন।

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও তাঁর পতœী রাশেদা খানম দেশের ৪৮তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গভবনে এক সংবর্ধনার আয়োজন করেন। রাষ্ট্রপতির বাসভবন ও কার্যালয় বঙ্গভবন প্রাঙ্গণে বিকেল পৌনে ৫টায় অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ দেন। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত পরিবারের সদস্যসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনরা যোগদান করেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কেক কাটেন। তাঁরা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও অনুষ্ঠানে আগত সম্মানিত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আবদুল হামিদ ও শেখ হাসিনা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের কল্যাণে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে দেশবরেণ্য শিল্পীদের পরিবেশনায় বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়।