প্রতিবেদন

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিটিসিএলের অনন্য ভূমিকা স্থাপন হচ্ছে অপটিক্যাল ফাইবার ॥ সকল এক্সচেঞ্জই ডিজিটালে রূপান্তরিত ডিজিটাল সেবার আওতায় আসছে পুরো দেশ

বাকী বিল্লাহ
টেলিকম সেবাপ্রদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান বিটিসিএল ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার গত ৯ বছরে সর্বাধুুনিক টেলিকম সেবা দিয়ে টেলিকম সেবাকে সহজলভ্য করে জনগণের দোরগোড়ায় এ সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আইটি ও ডিজিটাল কার্যক্রম সম্পর্কিত বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং ভিশন-২০২১ এর অংশ হিসেবে রাজধানী থেকে ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যন্ত অত্যাধুনিক টেলিকম সুবিধা সম্প্রসারণে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলেছে। এ খাতে সরকারের উল্লেখযোগ্য অনেক ইতিবাচক অর্জন রয়েছে। আগে ডিজিটাল এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি এনালগ এক্সচেঞ্জ থাকলেও এখন দেশে কোনো এনালগ টেলিফোন এক্সচেঞ্জ নেই। সব এক্সচেঞ্জ ইতোমধ্যে ডিজিটালে রূপান্তরিত হয়েছে। ২০০৯ সালের আগে সারাদেশে ১৯০০ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার অবকাঠামো ছিল। বর্তমানে সারাদেশে ২১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার অবকাঠামো রয়েছে। আগে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা রাজধানীসহ বড় বড় শহরে ছিল। বর্তমানে সব জেলা, উপজেলা ও বেশ কিছু ইউনিয়ন পর্যন্ত দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা একই মূল্যে দেয়া হচ্ছে। দেশে ১২১২টি ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ দেয়া হয়েছে। আরও ২ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করার কাজ চলছে। আগে ডিজিটাল এক্সচেঞ্জসমূহ পুরাতন প্রযুক্তির ছিল। বর্তমানে ঢাকা চট্টগ্রামে আইপি বেইসড আধুনিক এক্সচেঞ্জ চালু করা হয়েছে; যা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে বিস্তৃত হচ্ছে। পার্বত্য এলাকার উপজেলাসমূহে আগে ডিজিটাল এক্সচেঞ্জ ছিল না। বর্তমানে পার্বত্য এলাকার সব উপজেলায় ডিজিটাল এক্সচেঞ্জ স্থাপন করা হয়েছে।
ঢাকা-কক্সবাজার লিংকের মাধ্যমে একটি মাত্র সাবমেরিন ক্যাবলযুক্ত ছিল। এখন ঢাকা কুয়াকাটা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লিংকের মাধ্যমে তা দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে সংযোগ দেয়া হয়েছে। আগে সাবমেরিন ক্যাবল থেকে প্রাপ্ত ব্যান্ডউইডথ পরিবহনের জন্য ঢাকা-কক্সবাজার লিংকের ক্ষমতা ছিল ৪০ জিবিপিএস। এখন লিংক ক্ষমতা ৬ গুণ বৃদ্ধি করে ২৪০ জিবিপিএস করা হয়েছে।
দেশের বেশির ভাগ উপজেলা স্বল্প ক্ষমতার বেতার সংযোগ দ্বারা জেলা পর্যায়ে সংযুক্ত ছিল। এখন তা বাড়িয়ে দেশের প্রায় সকল উপজেলা উচ্চক্ষমতার অপটিক্যাল ফাইবার দ্বারা জেলা পর্যায়ের সঙ্গে সংযুক্ত। দেশে আগে গ্রাহক সেবা সংক্রান্ত কোনো কল সেন্টার ছিল না। এখন গ্রাহক ১৬৪০২ নম্বরে কল করে অভিযোগ করতে পারছেন। আগে উচ্চ কলচার্জ মিনিটে ছিল ১ টাকা ৫০ পয়সা। এখন বিটিসিএল এর অন-নেট কলচার্জ সর্বনিম্ন ১০ পয়সা মিনিট। আগে ডাটা ব্যান্ডউইডথ-এর মূল্য ছিল প্রতি এমবিপিএস প্রতি মাসে ২৭ হাজার টাকা। বর্তমানে ব্যান্ডউইডথ চার্জ প্রতি এমবিপিএস প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৯৬০ টাকা। সর্বনিম্ন ৩৬০ টাকা। বর্তমানে বাংলা চালু করার মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিম-লে বাংলা ভাষায় ওয়েবসাইটের অ্যাড্রেস দেয়ার সূচনা হয়। বর্তমানে বিডি বাংলা রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলি অনলাইনে তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন করা যাচ্ছে; যা আগে অনলাইনভিত্তিক ছিল না। পাশাপাশি বিলিং সংক্রান্ত লেজার ম্যানেজমেন্ট পুরাতন ম্যানুয়াল পদ্ধতির ছিল। বর্তমানে লেজার ম্যানেজমেন্ট অটোমেশন করা হয়েছে। ফলে গ্রাহক নিজেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে বিল প্রিন্ট নিতে পারছেন। মাঠ পর্যায়ে আগে প্রশাসনিক যোগাযোগের জন্য ভিডিও কনফারেন্সের ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমানে রাজধানী থেকে দেশের যেকোনো স্থানে ভিডিও কনফারেন্স করা সম্ভব হচ্ছে।

উপজেলা গ্রোথ সেন্টারে
ডিজিটাল টেলিফোন স্থাপন প্রকল্প
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আধুনিক ডিজিটাল টেলিফোন সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উপজেলা গ্রোথ সেন্টারে ডিজিটাল টেলিফোন স্থাপন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ৪১৭ দশমিক ৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৮টি জেলার ১৭৮টি উপজেলা ও ৪৪টি গ্রোথ সেন্টারে সর্বমোট ১ লাখ ৯ হাজার লাইন ধারণ ক্ষমতার ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও ১৬৪টি রেডিও লিংক ও ২৫টি অপটিক্যাল ফাইবার লিংকসহ ৩৩৫ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন করা হয়। এর ফলে উপজেলা ও গ্রোথ সেন্টারে ইন্টারনেট সুবিধাসহ ডিজিটাল টেলিফোন স্থাপন করায় পল্লী অঞ্চলের জনগণ আধুনিক টেলিফোন সেবা উপভোগ করতে পারছে। অবকাঠামোগত সুবিধা সম্প্রসারণের ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে প্রকল্পটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। এভাবে দেশের ১০০টি ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন, ইন্টারনেট ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সরকার তথ্যপ্রযুক্তিগত উন্নয়নমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ফলে এখন গ্রামগঞ্জের মানুষ ঘরে বসে টেলিফোন, ইন্টারনেট সেবাসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। ফলে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের সাফল্য পৌঁছে গেছে। শুধু তাই নয় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মাধ্যমে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পেরেছে। তারা এখন ঘরে বসে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হচ্ছে; যা বর্তমান সরকারেরই সাফল্য। দেশের ৬৪ জেলার ৩৪৯টি উপজেলার জনগণ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটসহ আধুনিক টেলিযোগাযোগ সুবিধা পাবে। ইতোমধ্যে ৭ হাজার ১৫০ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। ২৭০টি উপজেলায় যন্ত্রপাতি চালু করা হয়েছে। এই ছাড়াও ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ওয়্যায়ারলেস ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে। এতে দেশের সকল মেট্রোপলিটন শহর, জেলা শহর, উপজেলা ও গ্রোথ সেন্টারগুলোতে ইএনওডিইবি ৩০০ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার এবং ইএনওডিইবিসমূহের আন্তঃসংযোগের জন্য দেশব্যাপী ট্র্যান্সমিশন যন্ত্রপাতি স্থাপন করে সর্বত্র ব্রডব্যান্ড সুবিধা নিশ্চিত হবে। এর ফলে জনগণ উচ্চ গতির ব্রডব্যান্ড সুবিধাও ভোগ করতে পারবে।
বিটিসিএলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য শক্তিশালী টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। সরকারের এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ রাজধানী থেকে জেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যন্ত টেলিকমিউনিকেশন স্থাপন করছে। এর ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মানও বাড়ছে। বাড়ছে মাথাপিছু আয়। নিম্নমধ্যম আয়ের শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় দেশজুড়ে অবকাঠামোগত কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। এটাকে আরও উন্নত ও সুসংহত রাখতে সকল ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।