প্রতিবেদন

বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ৪৮তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় উন্নত বাংলাদেশ গড়ার শপথ

তারেক জোয়ারদার
অন্যান্য বছরের তুলনায় ৪৮তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ভিন্ন মহিমায় বাংলাদেশে পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের যে দিনে স্বাধীন অস্তিত্ব নিয়ে রক্তাক্ত পথচলা শুরু বাংলাদেশের, সেই বাংলাদেশ ৪৮তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করেছে জাতিসংঘের স্বীকৃত স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরের যোগ্যতা অর্জনকারী দেশ হিসেবে। এবারের ২৬ মার্চের অব্যবহিত আগে জাতিসংঘ বাংলাদেশের জনগণকে এই সুখের বার্তা প্রেরণ করে। এই বার্তা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের জনগণকে ৪৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ৪৮তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সর্বস্তরে প্রতিধ্বনিত হয়েছে, পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা না হলে বাংলাদেশ বহু আগেই উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতো। তারপরও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণেই অনেক ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত ৯ বছর ধরে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিস্ময়করভাবে উন্নতি করেছে। উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার জন্য জাতিসংঘের যে ৩টি শর্ত পূরণ করতে হয়, শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে তার সবগুলোই বাংলাদেশ পূরণ করেছে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই। ফলশ্রুতিতে ৪৮তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জাতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় উন্নত বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়েছে। জাতি আরো শপথ নিয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের। ৪৮তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচি থেকে সহিংসতা-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদী কর্মকা- রুখে দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয়; আর জঙ্গিবাদমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধিশালী উন্নত দেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এদিন শ্রদ্ধাবনত জাতি ফুলে ফুলে ভরে দিয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং টুঙ্গিপাড়ার বঙ্গবন্ধুর মাজারের বেদিমূল। সারাদেশেই নতুন প্রজন্মের অভূতপূর্ব গণজাগরণ এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবারের স্বাধীনতা দিবসে। রাস্তায় বের হওয়া মানুষ বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের হাতে, গালে বা কপালে আঁকা ছিল রক্তাক্ত জাতীয় পতাকা, প্রিয় মাতৃভূমির মানচিত্র। তরুণ প্রজন্মের ছেলেদের গায়ে জাতীয় পতাকাসদৃশ শর্ট পাঞ্জাবি বা গেঞ্জি এবং মেয়েরা লাল-সবুজের মিশ্রণে জাতীয় পতাকার মতো শাড়ি পরে অংশ নিয়েছিল এবারের স্বাধীনতার আনন্দ উৎসবে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে শহর-বন্দর-গ্রামে স্বাধীনতা দিবসের প্রতিটি কর্মসূচিতে নতুন প্রজন্মের ঢল, তাদের চোখে-মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখার দীপ্ত শপথ আর স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণার প্রচ-তাও প্রত্যক্ষ করেছে দেশের মানুষ। শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ ও পথে-প্রান্তরে দিনভর বেজেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা সংবলিত ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ।