প্রতিবেদন

স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে আমাদের অভিনন্দন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশ জাতিসংঘের এলডিসিভুক্ত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। আর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার শাসনামলে ৪৮তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের প্রাক্কালে বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অর্থনীতির আকারের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ৪৩, আর ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় বিশ্বের ৩৪তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই উন্নয়ন এখন বিশ্বস্বীকৃত। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছর সামনে রেখে দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার কর্মসূচি রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিরলস কাজ করছে সরকার। উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের মর্যাদায় পৌঁছাতে একটি ভিশন নিয়ে কাজ করছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। এরই ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাথে টানাপড়েনের চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণে হাত দেয়ায় দেশে-বিদেশে অনেক উচ্চতায় উঠেছে বাংলাদেশের মর্যাদা। একইভাবে তিনি দেশকে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। এতে করে দেশের মর্যাদায় আরও একটি উজ্জ্বল পালক সংযোজিত হয়েছে। একদিকে শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আর অপরদিকে জনগণের পরিশ্রমের কারণে এই ইতিবাচক অর্জন সম্ভব হয়েছে। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর গত এক দশকে দেশের বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের ব্যাপক বিনিয়োগ বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। বাংলাদেশ শুধু অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন সূচকেই অগ্রগতি অর্জন করেনি, প্রভাবশালী শক্তির সঙ্গে দর-কষাকষির সক্ষমতাও অর্জন করেছে। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্র বিজয় এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংকের খবরদারির মুখে সংস্থাটিকে বিদায় দিয়ে নিজস্ব অর্থেই ৩০ হাজার কোটি টাকার পদ্মাসেতু নির্মাণ করছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার, সেই দেশ আগামী অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করছে। শুধু তাই নয়, এখন ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকায় নির্মাণ করছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ হতে যাচ্ছে আগামী মাসেই। বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম ১৩০ তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগও নিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেল নির্মাণ ও একসঙ্গে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার পরিচয় বহন করে। সেই ৪৭ বছর আগের উদ্যোক্তাশূন্য বাংলাদেশে এখন লাখো উদ্যোক্তা। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় শীর্ষস্থানে বাংলাদেশ। এসবের ফলশ্রুতিতেই বাংলাদেশ পেয়েছে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা। এই অর্জনে যেমন শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্ব কাজ করেছে, একইভাবে জনগণের অংশগ্রহণও ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। তাই ৪৮তম স্বাধীনতা দিবসে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে স্বদেশ খবর-এর পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ও দেশের আপামর জনগণকে অভিনন্দন।