প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

বাংলাদেশ সফরকালে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলে তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যুর সমাধানে ভারত-বাংলাদেশ একযোগে কাজ করবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
বলা হয়ে থাকে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক ভালো। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন গত ৯ বছর সময়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার অনেক অমীমাংসিত ইস্যুর সমাধান হয়েছে। প্রতিবেশী দুই দেশের সরকার ও জনগণের মধ্যে গভীর আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তারপরও তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যুতে এমন জটিলতা তৈরি হয়েছে যে, পানি চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেও তা আবার থমকে গেছে। সর্বশেষ ভারতের মোদি সরকার বাংলাদেশ সরকার ও তার জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেছে যে, দুই দেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের মেয়াদকালেই তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হবে। কিন্তু দুই দেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের মেয়াদই শেষের দিকে। তাই এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের মাঝে ক্রমেই হতাশা তৈরি হচ্ছে।
৮ এপ্রিল ৩ দিনের বাংলাদেশ সফরে এসে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলে আশা প্রকাশ করে বলেছেন, তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যুর সমাধানে ভবিষ্যৎ দিনগুলোতে ভারত ও বাংলাদেশ একযোগে কাজ করবে। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ও রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া বিষয়ে ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও তিস্তা চুক্তির বিষয়ে ভারতের অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। ভারত যত দ্রুত সম্ভব তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যার সমাধানে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সড়ক অবকাঠামো এবং যোগাযোগ সংক্রান্ত ৬টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। ৯ এপ্রিল ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলের এক বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে এসব সমঝোতা স্মারক সই হয়।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ঢাকায় সফররত ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে ৬টি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এছাড়া রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বক্তব্য রাখেন। একই দিন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন বিজয় কেশব গোখলে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ঝুলে থাকা তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তিসহ দ্বিপক্ষীয় সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে জানিয়ে শহীদুল হক বলেন, বৈঠকের ফল নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। বৈঠকে পর এক যৌথ বিবৃতিতে শহীদুল হক বলেন, ভারত যত দ্রুত সম্ভব এ সমস্যার (তিস্তা চুক্তি) সমাধানে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে, এতে তিনি খুবই খুশি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ভারতের যে অবস্থান, বিশেষ করে ভারত যে এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাতে তিনি খুবই খুশি।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং তিস্তা চুক্তির অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এ সমস্যাটির সমাধানে আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি। ভারতকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে বিজয় গোখলে বলেন, গত ৭ বছরে বাংলাদেশকে দেয়া ঋণের পরিমাণ ৮০০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ যেহেতু উন্নয়নকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে, ফলে এই ঋণ খুবই কার্যকর হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ যে শুধু ভারতের ঘনিষ্ঠই নয়, বরং দুই দেশের পথচলা একসঙ্গেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে গোখলে বলেন, ২০১৭ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর এবং ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময় যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, তার প্রায় সব ক্ষেত্রেই আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছি।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য দ্বিতীয় ধাপে মানবিক সহায়তা পাঠানোরও ঘোষণা দেন। এর আওতায় রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবার বিভিন্ন সরঞ্জামের সঙ্গে গুঁড়া দুধ, শিশুখাদ্য, শুকনো মাছ, রান্নার চুলা ও জ্বালানি, রেইনকোট এবং গামবুটও থাকবে বলে জানান তিনি। ভারত এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ৩ লাখ শরণার্থীর জন্য ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছিল।
মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ যেভাবে মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে বলেও জানান ভারতের পররাষ্ট্র সচিব। তিনি জানান, বাস্তুচ্যুত লোকজনকে দ্রুত তাদের দেশে ফেরাত পাঠাতে এবং এই সংকট সমাধানে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার প্রতি ভারতের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইনেও ভারত উন্নয়ন কর্মকা- চালাচ্ছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশ থেকে যারা ফেরত যাবে তাদের জন্য রাখাইনে ঘরবাড়ি নির্মাণে কাজ করছে ভারত। দুই দেশের মধ্যে ৬টি সমঝোতা স্মরকের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, জনকল্যাণ, সড়ক অবকাঠামোসহ বিভিন্ন আর্থসামাজিক খাতের উন্নয়নে আমাদের অংশগ্রহণ প্রচেষ্টার অংশ এটি। এজন্য আমরা ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা দিচ্ছি।
বিজয় কেশব গোখলে বলেন, দুই দেশ সন্ত্রাস দমনে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। ভারত দুই দেশের মানুষে মানুষে যোগাযোগকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের সম্পর্ক এখন সর্বোচ্চ উচ্চতায়। এ সময় বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনে শুভেচ্ছা জানান গোখলে। পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন তিনি। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে বিজয় গোখলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। উল্লেখ্য, ভারতের নতুন পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলে ৮ এপ্রিল তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসেন। ১০ এপ্রিল দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব।

ভারতের সঙ্গে তিস্তা ইস্যু
সমাধানে শেখ হাসিনার আশাবাদ
ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যু সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলে ৯ এপ্রিল তাঁর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অনেক সমস্যারই সমাধান করেছি, এখন একটি সমস্যাই সমাধানের বাকি, সেটা হচ্ছে তিস্তা সমস্যা।
এ সময় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের সঙ্গে করা সকল অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে চান। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান সকল প্রকল্প পর্যবেক্ষণ করছি। রোহিঙ্গা ইস্যুর বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশ থেকে তাদের সকল নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে ভারত মিয়ানমারকে ক্রমাগত আহ্বান জানিয়ে আসছে। ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সংকট সম্পর্কে আমরা সকলেই অবগত রয়েছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং পুরো ভারত সরকার এ বিষয়ে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই করবে। তিনি বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশ থেকে তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে ভারত মিয়ানমারের ওপর আরো চাপ প্রয়োগ করুক। তাছাড়া বর্ষাকালে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়স্থলে ভূমিধসের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার এ কারণে প্রায় ১ লাখ রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার থেকে অন্যত্র একটি চরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে।
১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমন শুরু হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সমস্যাটির সমাধানের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে যে ৫টি দেশের সীমান্ত রয়েছে তাদের সাথে যোগাযোগ রাখছি। বাংলাদেশের সঙ্গে লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এ বছরের শেষ নাগাদ এই বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে। গোখলে বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক চমৎকার এবং লন্ডনে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনের সাইড লাইনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হওয়ার প্রতীক্ষায় রয়েছেন। বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব তার দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পৌঁছে দেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত এবং তার জনগণের অবদানের কথাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন শেখ হাসিনা। এ সময় নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

৬ সমঝোতা স্মারক সই
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিবের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সড়ক অবকাঠামো এবং যোগাযোগ সংক্রান্ত ৬টি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে নুমালিগড় এবং পার্বতীপুরের মধ্যে মৈত্রী পাইপলাইন স্থাপন, প্রসার ভারতী এবং বাংলাদেশ বেতারের মধ্যে সহযোগিতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-আইসিসিআর উর্দু বিভাগে রবীন্দ্র চেয়ার প্রতিষ্ঠা এবং জিসিএনইপি-বিএইসির মধ্যকার চুক্তির বর্ধিতকরণের সমঝোতা। এছাড়া দুটি অনুদান প্রকল্পের জন্যও সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। একটি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের ৫০৯টি স্কুলে ভাষা গবেষণাগার স্থাপন করবে ভারত। অন্য প্রকল্পটি হলো রংপুর শহরের কয়েকটি সড়ক উন্নয়ন।

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের সোনালি
যুগ : ভারতের পররাষ্ট্র সচিব
ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে এখন সোনালি যুগ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলে। তিনি বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক শুধু দুই দেশের সরকার নয়, মানুষে মানুষে গড়ে উঠেছে। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যে চুক্তি বা সিদ্ধান্ত হয়েছে তাতে দুই দেশ সমানভাবে লাভবান। ৯ এপ্রিল রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ইনস্টিটিউট অব পলিসি, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের (আইপিএজি) উদ্যোগে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অমীমাংসিত সব বিষয় ধাপে ধাপে সমাধানের আশা করেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে সহযোগিতা করতে দ্বিতীয় ধাপে ত্রাণ সহায়তা দিতে যাচ্ছে ভারত। উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নে বাংলাদেশকে ভারত অন্যতম ইঞ্জিন মনে করে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, দুই দেশের মধ্যে মানুষে মানুষে যোগাযোগ যেন বাড়ে, সেজন্য ভিসা সহজীকরণ করা হয়েছে। ২০১৭ সালে প্রায় ১৪ লাখ বাংলাদেশিকে ভিসা দিয়েছে ভারত।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য ঐতিহাসিক সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে। দুই দেশের প্রায় সব বিষয় সমাধান হয়ে গেছে। এখন শুধু এগিয়ে চলা। আমাদের সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ায় কিভাবে আরও বিস্তার করা যায় তা নিয়ে কাজ করতে হবে।
সেমিনারে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, ভারতের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলে এবারই প্রথম বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। গত ২৯ জানুয়ারি ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমবারের মতো তিনি ঢাকায় এলেন। এ সফর এমন সময় ঘটছে যখন গত কয়েক বছরে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তা ঝালাই করার সঙ্গে সঙ্গে আগামীর চলার পথের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।