প্রতিবেদন

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল অটিজম আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় সব সুযোগ দিতে হবে

স্বদেশ খবর ডেস্ক :
অটিস্টিক শিশুদের কল্যাণে দেশে-বিদেশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল। আর এ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে অনন্য সম্মান ও স্বীকৃতিও পেয়েছেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল। বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে ২ এপ্রিল নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা বলেছেন, অটিজম আক্রান্তদের সফল, ক্ষমতায়িত ও কর্মক্ষম ব্যক্তিতে পরিণত করতে আমাদের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করতে হবে। অটিজম আক্রান্তদের বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সুযোগ করে দিতে হবে। তার প্রতিষ্ঠান ‘সূচনা ফাউন্ডেশন’ বাংলাদেশ সরকার, সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও এনজিওদের সাথে সমন্বিতভাবে অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারসহ অন্যান্য ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গের কল্যাণে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও সায়মা ওয়াজেদ হোসেন উল্লেখ করেন।
এর আগে দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সায়মা ওয়াজেদ জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ইকোসক চেম্বারে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ আয়োজিত ‘অটিজম আক্রান্ত নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন। ইভেন্টে প্যানেলিস্ট হিসেবে আলোচনায় তিনি অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গ বিশেষ করে মেয়েদের যে সকল সামাজিক ও পারিবারিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া অটিজমের শিকার নারীদের বিভিন্ন বৈষম্য ও তাদের প্রতি গতানুগতিক সামাজিক ও পারিবারিক ধারণার কথা, তাদের নাজুক পরিস্থিতি এবং পরিবারের সদস্যসহ আশপাশের মানুষের দ্বারা নিগ্রহ ও নির্যাতনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অটিজম আক্রান্ত মেয়েরা নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে নিজেদের একান্ত চাওয়া-পাওয়ার কথাও ঠিকমতো বোঝাতে পারেন না। এ সকল নারীর বিবাহ ও দাম্পত্য জীবনসহ প্রাত্যহিক জীবনযাপনের বিষয়ে পর্যাপ্ত ব্যবহারিক শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি তারা যাতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের অন্তর্নিহিত শক্তি ও সম্ভাবনার প্রকাশ ঘটাতে পারে সে বিষয়টির ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সায়মা ওয়াজেদ আরো বলেন, অটিজম আক্রান্তদের সমাজে জায়গা করে দিতে হবে যাতে তারা সমাজ বা রাষ্ট্রে অবদান রাখতে পারে, অন্যথায় সমাজে বড় ধরনের বিভেদ তৈরি হবে।
ইভেন্টটির অন্যান্য প্যানেলিস্ট ছিলেন অটিজম উইমেন নেটওয়ার্কের চেয়ারপারসন মরেনিকি গিওয়া-ওনাইয়ু, অটিজম কনসালট্যান্ট অ্যামি গ্রাভিনো এবং জাতিসংঘের কমিটি অন দ্য রাইট অব পারসন উইথ ডিসঅ্যাবিলিটি-এর মেম্বার প্রফেসর জোনাস রুজকুস। মডারেটর ছিলেন জাতিসংঘের এনজিও সম্পর্ক বিষয়ক অফিসের প্রধান জেফ্রি ব্রিজ।
দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘে বাংলাদেশ ও কাতার মিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল। অটিজম নিয়ে কাজ করছে এমন সংস্থাসমূহ এ প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের প্রতিষ্ঠান সূচনা ফাউন্ডেশনও এই প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। অটিজম স্পিকস-এর প্রতিনিধি দলের সঙ্গেও একটি সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল।