কলাম

কেন শেখ হাসিনার নৌকায় ভরসা রাখবেন?

শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল
বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন থেকে সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তখন থেকেই এরশাদ সরকারসহ বর্তমানে জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত দল বিএনপি বারবার তাঁকে হত্যার উদ্দেশে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর থেকে তার ওপর চালানো হয় নারকীয় হত্যাচেষ্টা। তৎকালীন এরশাদ সরকার ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম লালদিঘীর মাঠে জনসভায় গুলি বর্ষণ করে এবং ১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে তৎকালীন বিএনপি সরকার তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ২০০০ সালে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে তাঁর জনসভাস্থলে ৭৬ ও ৮৪ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা হয়। ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট করা হয় নৃশংস গ্রেনেড হামলা। আল্লাহ্তা’আলার অশেষ রহমতে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তাঁকে কারাবরণ করতে হয় এবং ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি কারামুক্ত হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে মহাজোট সরকার। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে টানা দ্বিতীয় বারের মতো জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ ২০৪১ সাল পর্যন্ত দেশের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
আসলে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ক্ষমতাগ্রহণের পরই একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের বিচার করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের যথাযথ ব্যবস্থা ও ভাতা প্রদান করেন। দীর্ঘদিন চলমান সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত জটিলতার সমাধানে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে বিজয় লাভ করেন। ফলে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধান হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ছিটমহলবাসীদের বন্দিজীবনের অবসান ঘটে এবং তাদের আশা আকাক্সক্ষা পূরণ করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় চুক্তি সম্পন্ন হয়। তাদের নিজস্ব পরিচয় দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ এনে পদ্মাসেতু নির্মাণে অর্থায়ন না করায় শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করার দুঃসাহসী সিদ্ধান্ত নেন; যা এখন ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে এবং দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার মাঝে যোগাযোগ স্থাপনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে অচিরে। শেখ হাসিনা শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্ব দিয়েছেন সবচেয়ে বেশি। বছরের প্রথমদিনে ১ম থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে বই দেয়া হচ্ছে। প্রাইমারি স্কুলের শিশুদের টিফিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছাত্রীদের উপবৃত্তির ব্যবস্থা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা এখন সেশন জটমুক্ত। তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে বর্তমান সরকার। হাতের নাগালেই এখন সব সেবা পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন অঞ্চলে শতশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে সাক্ষরতার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২.৭৬ ভাগ। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে, ধর্মের প্রতি অনুরাগী করে গড়ে তোলার জন্য কয়েক হাজার মাদ্রাসা নির্মিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করেছেন শেখ হাসিনা। আগের চেয়ে বেকারত্বের হার অনেক কমেছে। লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নারীদের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি করে এগিয়ে এনেছেন তাদের। সামরিক বাহিনীসহ সকল ক্ষেত্রে নারীদের যুক্ত করে বৈষম্য দূর করতে সক্ষম হয়েছেন শেখ হাসিনা। নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়িয়ে করেছেন ৬ মাস, যা আগে ছিল ২ মাস। কৃষিক্ষেত্রে কৃষকদের জন্য কৃষি ভর্তুকি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কৃষিখাতে এখন পর্যন্ত ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে ৯ হাজার কোটি টাকা। কৃষকদের জন্য অনলাইন সেবা চালু করা হয়েছে এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৪০০ লক্ষ মেট্রিকটন; যা আগে ছিলো ৫৩ লক্ষ মেট্রিকটন।
বর্তমান সরকারের আমলে চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। শেখ হাসিনা নতুন ১৭টি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করেছেন। বর্তমানে সরকারি মেডিকেল কলেজ ৩১টি। অনলাইনে চিকিৎসা সেবা চালু হয়েছে। প্রত্যেক ডাক্তারকে পাস করার পর ১ম ও ২য় বছর প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা প্রদান বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। শিশুমৃত্যু হার কমেছে। শতভাগ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ করছে শেখ হাসিনার সরকার। বর্তমানে ৮৯% লোক বিদ্যুতের আওতাভুক্ত, যা আগে ছিল ৩৬%। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে এখন ১৫৮২১ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে, যা আগে ছিল ১০৮৭৯ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৫টি, আগে ছিল ৮৮টি। রূপপুরে নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাথাপিছু আয় বেড়ে এখন ১৬১০ মার্কিন ডলার হয়েছে, আগে যা ছিল ৯০০ ডলার। প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.২৪। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগে ছিল ৩২ বিলিয়ন ডলার। যোগাযোগ ব্যবস্থায় এ সরকারের অবদান অবিস্মরণীয়। পদ্মাসেতুসহ ঢাকা শহরকে যানজট মুক্ত করতে ঢাকা শহরকে ফ্লাইওভারের মোড়কে সাজানো, বিভিন্ন মহাসড়ককে ৪ লেনে উন্নীতকরণ, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, মেট্রোরেল চালু, পদ্মাসেতুতে রেল সংযোগ, কণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস রেলওয়ে ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়েসহ ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকা- চলছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ অন্য দেশগুলোর জন্য আদর্শ। বিগত সময়ে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ সকল দুর্যোগ মোকাবিলায় এই সরকার শতভাগ সফল। দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সতর্কতা জারি ও দুর্যোগ সংগঠিত হওয়ার পূর্বেই নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া ও দুর্যোগ মোকাবিলাসহ সকল কাজে সফল এই সরকার।
পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে চলে এসেেেছ। পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ৫৭তম স্যাটেলাইট ক্ষমতাধর দেশ হতে যাচ্ছে। সবুজায়নের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচি, আন্তঃপরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের স্বীকৃতি হিসেবে শেখ হাসিনা ঈযধসঢ়রড়হ ঙভ ঞযব ঊধৎঃয-২০১৫ নির্বাচিত হয়েছেন। প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক আশ্রয় দিয়ে ও লালনপালন করে সারাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। যার স্বীকৃতিতে তিনি গড়ঃযবৎ ঙভ ঐঁসধহরঃু উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।
বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং উন্নত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে শেখ হাসিনার বিকল্প একমাত্র শেখ হাসিনাই। এজন্য আওয়ামী লীগ সরকারকে আবারও ক্ষমতায় এনে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখুন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
লেখক: সাধারণ সম্পাদক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ