রাজনীতি

খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচন : ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ-বিএনপির জমজমাট লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও অন্যতম বিরোধী দল বিএনপি। আগামী ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন। জাতীয় নির্বাচনের আগে এই ৬টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী হতে দুই দলই এখন মরিয়া। আর প্রথমবারের মতো এই ৬টি সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দলীয় প্রতীকে। ফলে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকা ও ধানের শীষের এই লড়াই নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে ব্যাপক আলোচনা। স্থানীয় সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনগুলোতে জনগণের ম্যান্ডেট পেতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এ নির্বাচনে জয়ী হয়ে উভয় দলই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের পক্ষে ইতিবাচক বার্তা দিতে চায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ বেশি। কারণ সরকারকে একদিকে প্রভাবমুক্ত নির্বাচন আয়োজন করতে হবে অপরদিকে নৌকার জয়ও ঘরে তুলতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজীপুর ও খুলনা দুই সিটিসহ মোট ৬টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যে দল বিজয়ী হবে সে দল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সরকার গঠনের মতো সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। ফলশ্রুতিতে, ৬ সিটি করপোরেশন বিশেষ করে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সিরিয়াসলি নিয়েছে দেশের বড় দুইটি রাজনৈতিক দলই। আর এরই অংশ হিসেবে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ২৪ এপ্রিল দুই সিটির নির্বাচনি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন, টেলিভিশন স্ক্রলে এই সংবাদ দেখার ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ১৭৭০.৫৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নৌকা মার্কার লক্ষ লক্ষ পোস্টারে গাজীপুরের আকাশ ছেয়ে ফেলেন। হাসানউদ্দিন সরকারের ধানের শীষ মার্কার কোনো পোস্টার ওইদিন গাজীপুরে দেখা যায়নি। অপরদিকে খুলনা সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক এবং বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রতীক পাওয়ার দিন দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন।
মূলত প্রতীক বরাদ্দের দিন থেকে নয় খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পরপরই নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার কৌশল নির্ধারণে মাঠে নেমে পড়েন দুই দলের নীতিনির্ধারকরা। যেহেতু প্রতীকের বিষয়টি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, সেহেতু প্রতীকের জন্য অপেক্ষার প্রয়োজন ছিল না। ফলে তফসিল ঘোষণারও ৩-৪ মাস আগে থেকেই গাজীপুরের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নৌকা মার্কার পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগের কাজ শুরু করে দেন। কারণ তার মনোনয়ন প্রাপ্তির বিষয়টি ছিল নির্ধারিত। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বহু আগেই জাহাঙ্গীর আলমকে সে নিশ্চয়তা দিয়ে রাখেন। এতে জাহাঙ্গীর আলমের জন্য নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার মতো কাজ অনেক আগে থেকেই শুরু করা সম্ভব হয়। যা ১৫ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে গাজীপুরবাসী মনে করেন। অপর দিকে জাহাঙ্গীর আলমের মতো এই সুযোগ বিএনপি প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকার পাননি। ফলে গাজীপুরের অনেক লোক মনে করেন, শুধু এই সুযোগটি পাওয়ার কারণেই জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভূমিধস বিজয়ের নায়ক বনে যেতে পারেন। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, দলের জন্য ত্যাগ, অবদান, জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতাসহ সামগ্রিক দিক বিবেচনা করেই অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম ও তালুকদার আবদুল খালেককে যথাক্রমে গাজীপুর ও খুলনায় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আর আওয়ামী লীগ থেকে বলা হচ্ছে দলের সবাইকে এক হয়ে দলীয় প্রার্থীর জন্য কাজ করতে হবে। কেউ বিরোধিতা বা অসহযোগিতা করলে তিনি বা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অপরদিকে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, দুই সিটি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়াকে তাদের চেয়ারপারসনের কারামুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের পরিপূরক হিসেবে দেখছেন তারা। তাদের মতে, গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনে জয় মানে আন্দোলনেরও জয়। এ জয়ের মধ্য দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি আরো বেগবান হবে।
অপরদিকে খুলনা প্রেসক্লাবে ২৪ এপ্রিল ‘নৌকার জয়, বাংলার জয়’ স্লোগান নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন মেয়রপ্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। সংবাদ সম্মেলনে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনি ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে নির্বাচন কমিশন থেকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ নেন তিনি। সেখান থেকে তিনি দলীয় কার্যালয়ে যান এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে ২২ এপ্রিল তিনি বাগেরহাটে হজরত খাজা খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মঞ্জু দলীয় কার্যালয়ে দোয়া অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন। এর আগে তিনি নির্বাচন কমিশন থেকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ নেন। এর পরপরই তিনি দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে দোয়ার আয়োজন করেন। দোয়া শেষে মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র থেকে ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন। এ সময় তার সঙ্গে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন ম-ল মেয়রপ্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন। প্রতীক পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্রার্থীরা নির্বাচনে নিজের জয়লাভের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নৌকা হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষের প্রতীক, মানুষের মর্যাদার প্রতীক। আমি সেই নৌকা পেয়েছি। আমি মনে করি, গাজীপুরের মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে আগামী ১৫ মে নৌকা মার্কায় ভোট দেবে।
অপর দিকে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকার বলেন, আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। আল্লাহর রহমতে ধানের শীষের জয় শতভাগ নিশ্চিত। নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে এখন থেকে নির্বাচনের প্রচার কাজে নেমে পড়ব।
সিপিবির রুহুল আমিন বলেন, কাস্তে প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। গাজীপুর সিটিকে একটি বাসযোগ্য, মানবিক, উন্নত, আধুনিক এবং পরিবেশসম্মত সিটি করপোরেশন হিসেবে গড়ে তুলব। ইসলামী ফ্রন্টের জালাল উদ্দিন জানান, মানুষ পরিবর্তন চাচ্ছে। পরিবর্তনের ধারায় সিটিবাসী মোমবাতিকে বিজয়ী করবে বলে আশা করি। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ উদ্দিন দেয়াল ঘড়ি প্রতীক পেয়েছেন। মেয়র ছাড়াও ওয়ার্ড অনুসারে ভাগ হয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেন।
চান্দনা চৌরাস্তা থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন। এ সময় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি নির্বাচনি মিছিল ও শোভাযাত্রা করেন। এখানে তিনি দলীয় হ্যান্ডবিল বিতরণ করেন। এ ছাড়া গাজীপুরের রাজবাড়ী সড়কে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচনি মিছিল বের করে। মিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনা সদর এবং দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রদবদল করা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কেএমপি কমিশনার মো. হুমায়ুন কবিরের নির্দেশে ‘জনস্বার্থে’ এ রদবদল করা হয়েছে। ২৪ এপ্রিল তারা নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেন।
কেএমপি সূত্র জানায়, খুলনা সদর থানার ওসি এমএম মিজানুর রহমানকে কেএমপির গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) এবং দৌলতপুর থানার ওসি মো. হুমায়ূন কবিরকে খুলনা সদর থানায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিবির ইন্সপেক্টর কাজী মোস্তাক আহমেদকে দৌলতপুর থানায় বদলি করা হয়েছে।
অপরদিকে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে গণসংযোগ করতে ৫৭টি টিম গঠন করেছে বিএনপি। টিমগুলো ৫৭টি ওয়ার্ডে নির্বাচনি কাজ ও প্রচার চালাবে।
এদিকে গাজীপুরে বরাবরই আওয়ামী লীগের শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান আছে। তবে গত নির্বাচনে এখানে মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছিল বিএনপি। এক্ষেত্রে নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দলকে দায়ী করা হয়। তাই এবার দলীয় কোন্দল নিরসনে আওয়ামী লীগের শীর্ষমহল থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকা- জনগণের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারলে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীরা নির্বাচনে এগিয়ে থাকবেন। এক্ষেত্রে বিএনপি প্রার্থীরা কিছুটা হলেও বেকায়দায় রয়েছেন। তাছাড়া দুর্নীতির দায়ে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার কারাভোগ এবং দলের দ্বিতীয় শীর্ষ প্রধান তারেক রহমানের লন্ডনে পলাতক জীবনযাপন করছেন। তাছাড়া সম্প্রতি তারেক রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে; যা নির্বাচনে বিএনপির জন্য নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। গাজীপুর ও খুলনায় বিষয়টি যত স্পষ্ট হচ্ছে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম ও তালুকদার আবদুল খালেকের বিজয় যেন ততই ত্বরান্বিত হচ্ছে।

গাজীপুরে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছেন অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আকাশে-বাতাসে এখন নৌকার জয়জয়কার। দেশের বড় এই সিটি করপোরেশনের যেকোনো জায়গায় একজন মানুষ তার চারদিকের যেকোনো দিকে তাকাবেন, সেখানেই নৌকা দেখতে পাবেন। সাদা-কালো পোস্টারে সেখানে লেখা আছে ‘উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলমকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিন’। অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন, টেলিভিশন স্ক্রলে এই সংবাদ দেখার পরপরই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নৌকা প্রতীকের লক্ষ লক্ষ পোস্টারে পুরো গাজীপুর ছেয়ে ফেলেন। বিষয়টি ছিল অভূতপূর্ব। নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে প্রতীক পাওয়ার পরপরই নৌকা মার্কার পক্ষে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলমের অন্তত ১২ থেকে ১৫ লাখ পোস্টার যখন বাতাসে পতপত করে উড়তে থাকে, তখন সত্যিকার অর্থেই বিএনপি প্রার্থীর একটি পোস্টারও গাজীপুরে দেখা যায়নি; যদিও বিএনপি প্রার্থীর ধানের শীষ মার্কাটিও ছিল পূর্বনির্ধারিত।
গাজীপুরের বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন, গাজীপুরের প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়ন না পাওয়াটাই তাঁর জন্য এবারের বিজয়ের পথটি পরিষ্কার করেছে। জাহাঙ্গীর আলম গত ৫ বছর মনোনয়ন না পাওয়ার হতাশায় না ভুগে প্রায় ১৮০০ দিনের প্রতিটি দিনই গাজীপুরবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। গাজীপুরবাসীর খুব কাছাকাছি তিনি গিয়েছেন ‘জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে’। এই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় তিনি বেসরকারি ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করে গাজীপুরের যানজট পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি ঘটিয়েছেন। গাজীপুরের ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী তথা সর্বস্তরের মানুষকে দ্রুত রাজধানীতে প্রবেশের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আগে গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ঢাকা মহানগরীর প্রবেশদ্বার টঙ্গী ব্রিজ-আবদুল্লাহপুর আসতে যেখানে ৩ ঘণ্টা সময় চলে যেত, এখন সেখানে লাগছে সর্বোচ্চ ২৫ মিনিট। মূলত এই কাজটির কারণেই জাহাঙ্গীর আলম তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর থেকে ২ লাখ ভোটে এগিয়ে থাকবেন; যার অধিকাংশই থাকবেন স্লিপিং ভোটার। আর সকলেই জানেন স্লিপিং ভোটাররাই যেকোনো নির্বাচনে পার্থক্য তৈরি করে দেয়; যা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও বুঝতে পারেন না। অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম স্লিপিং ভোটারদের ভোট পাওয়ার কাজটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে করে আসছেন বছরের পর বছর ধরে। জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তাঁর আরেকটি কাজও তাকে গাজীপুরের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছে। ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি গরিব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের ‘শিক্ষা বৃত্তি’ প্রদান করে তরুণ সমাজের ব্যাপক সমর্থন ইতোমধ্যেই পেয়েছেন; যা ১৫ মে অনুষ্ঠিত ভোটে জাহাঙ্গীর আলমকে ভূমিধস বিজয়ের নায়ক বানিয়ে দেবে বলে গাজীপুরবাসী মনে করেন। এর বাইরে বলা যায়, জাহাঙ্গীর আলমকে বিজয়ী করার জন্য এবার গাজীপুর আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা গাজীপুরে নৌকার বিজয়কে প্রেস্টিজ ইস্যু হিসেবে নিয়েছেন। তারা পণ করেছেন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি গাজীপুর থেকে এবার তারা আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলমের গলায় জয়ের মালা পরাবেনই। তাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলমকে বিজয়ী করতে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।