কলাম

চাকরির কোটা সংস্কার আন্দোলন

ড. ইশা মোহাম্মদ
চাকরির কোটা সংস্কার নিয়ে দেশব্যাপী আন্দোলনের তুঙ্গাবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেনÑ সরকারি চাকরিতে কোনো কোটাই থাকবে না। ঘোষণা দেয়া মাত্রই আন্দোলনের আগুন নিভে গেল। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি’র বাড়ির আগুন নিভলেও মনের আগুন নেভেনি। প্রশ্ন হলো সরকারের বিরুদ্ধে দাবি আদায়ের লড়াইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি তো কোনো পক্ষ নন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বিএনপির পক্ষ নিয়ে কাজ করেছে। কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলনে তো বিএনপি কোনো পক্ষ নয়। আওয়ামী লীগও কোনো পক্ষ নয়। তাহলে বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা কেন সংশ্রব তৈরি করল? বোঝা যাচ্ছে ছেলেমেয়েদের আন্দোলন হলে কোনো নাশকতা করা যাবে না বিধায় এটাকে রাজনৈতিক করা হয়েছে। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হলেও প্রধানমন্ত্রী যথাসময়ে ঠিক কাজটিই করেছেন। অংকুরেই বিনষ্ট করেছেন কোটা বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলন। কিন্তু এভাবে সব ষড়যন্ত্র ঠেকিয়ে দেয়া যাবে না। ষড়যন্ত্র আবারও হবে। প্রয়োজন, ষড়যন্ত্রকারী ও তাদের সাঙ্গোপাঙ্গ-অনুচরদের সন্ধান করা এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসা। আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এমনই চলবে। ঝামেলা নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতেই থাকবে। তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখতে হবে, যেন নির্বাচন বানচাল হয়ে না যায়। দেশব্যাপী কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘনীভূত হলে সংকট তৈরি হতো এবং নির্বাচনের ওপর চাপ সৃষ্টি করত। যারা চায় সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করুক, তারা এ ধরনের চাপ সৃষ্টি করবেই।
কোটার ব্যাপারটা রাজনৈতিক কারণে তুলে দেয়া হলে এটা সাময়িকভাবে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এটি স্থায়ীভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। স্থায়ী হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন স্থবির হয়ে যাবে। দেশ আবার বৈরী সনাতনে ফিরে যাবে। কোটার ব্যাপারটা এখন যেভাবে আছে, সেটা থাকাও উচিত নয়। মেধা কোটা বলে একটা কথা চালু আছে। যারা কোটা সংস্কার আন্দোলন চালাচ্ছে, তারা মেধার দোহাই দিয়েই চালাচ্ছে। একটি অলীক বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে চাকরি দেয়া হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের প্রথম থেকেই। পাকিস্তান আমলেও মেধার ব্যাপারটা ছিল। ব্রিটিশ আমলেও ছিল। তবে সর্বক্ষেত্রে একরকম নয়। ব্রিটিশরা মেধার সঙ্গে বংশগত পরিচয় ও পরিবার দেখত এবং পরিবারের সাংস্কৃতিক অবস্থান পরিমাপ করত। ব্রিটিশ আমলেও সিডিউলকাস্ট কোটা ছিল। কিন্তু সিডিউলকাস্ট হলেও চৌদ্দপুরুষ ধরে চোরের বংশের কেউ সে সময়ে অফিসার হয়নি। এমনকি পিয়নও হয়নি। পাকিস্তান আমলে মেধার নামে বিতিকিচ্ছিরি কা-কারখানা করা হয়েছিল। সে সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের মেধাবীদের চাকরি দেয়ার ব্যাপারটা তাদের মর্জির ওপর নির্ভর করত। খুব কমসংখ্যক বাঙালি চাকরি পেয়েছিল। তার মধ্যে মুসলিম ঘরানার লোকজনই ছিল বেশি। সাধারণ পরিবারের কেউই ছিল না। অর্থাৎ মেধার মূল্যায়ন সে সময়ে ছিলই না। তবে ওই কারণে ছাত্রছাত্রীরা কোনো আন্দোলন করেনি। রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ওই বঞ্চনার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। সে সময়কার আন্দোলনে ছাত্রছাত্রীরাও অংশ নিয়েছিল। তবে এ জাতীয় সব আন্দোলনই হয়েছিল রাজনৈতিক।
বাংলাদেশ হওয়ার পর যে কোটা তৈরি করা হয়েছে তা বেশ জটিল। প্রায়ই দেখা যায় কোটার কারণে পদ শূন্য থাকে। আবার যারা দাবি করে, যে তারা মেধাবী তারা চাকরি পায় না। এ বিষয়ে বলা যায় যে মেধা বলে যেহেতু কিছুই নেই, সেহেতু মেধা কোটা বলে কিছুই থাকবে না। এদিক দিয়ে হিসাব করলে বলা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই সঠিক। কিন্তু তাই বলে কোনো কোটাই থাকবে না, তা হবে না। চাকরির ক্ষেত্রে মহিলা কোটা আছে। বলা হয়েছিল মহিলারা বঞ্চিত হচ্ছে। তাই তাদের কোটার মাধ্যমে চাকরিতে নিয়ে এসে বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি দিতে হবে। কালক্রমে এ পদ্ধতিতে নারীর ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হবে। এটা অনেকটা যাকাত পদ্ধতির মতো। ধনবৈষম্য কমানোর জন্য যাকাত ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। আশা করা হয়েছিল যাকাত ঠিকমতো আদায় করা হলে সমাজে নির্ধন কেউ আর থাকবে না। একদিনে হবে না, তবে একসময় হবে। বাস্তবে দেখা যায়, যাকাত সর্বহারার সংখ্যা কমাতে পারে না। তারপরও দেখা যায় কেউ কেউ যাকাতের নতুন শাড়ি পায়, আবার কেউ কেউ পদদলিত হয়। মহিলা কোটার ব্যাপারটা এত খারাপ না। ৩০ শতাংশ হারে বছর বছর চাকরি পেলে নারীর ক্ষমতায়ন অবশ্যই একটা পর্যায়ে যাবে এবং এর সঙ্গে যোগ হবে মেধা কোটার চাকরিপ্রাপ্তরা। ফলে বৈষম্য অনেকটাই কমার কথা। তারপরও দেখা যায়, বড় চাকরিতে মহিলার সংখ্যা কম। যেমন সংসদের বেলায় দেখা যায় নির্বাচিত হয়ে আসার সমান সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিশেষ মহিলা কোটা তৈরি করা হয়েছে। নইলে সংসদে মহিলাদের চেহারাই দেখা যাওয়ার কথা নয়। অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ার কারণে এবারও তাদের মেয়াদ বাড়ানো হলো। পৃথিবীর কোনো উন্নত দেশে এ রকম নেই। কিন্তু বাংলাদেশে থাকতে হবে আরও বহুদিন। কারণ কী? আমাদের দেশটা অনুন্নত এবং আমরা বৈরী সনাতনে বাস করি। নারীরা কেতাবেই স্বাধীন; কিন্তু বাস্তবে পরাধীন। কোটা উঠে গেলে চাকরির ক্ষেত্রে নারীদের অবস্থা কী হবে? একেবারেই নারী নির্যাতনের মতোই ঘটনা ঘটবে। চাকরির বোর্ড যখন বসে, তখন তারা আলোচনার সময় বলে, এ চাকরির যে দায়িত্ব তা কি মহিলারা পারবে? যে দেশে এ ধরনের প্রশ্ন হয়, সে দেশে কোটা ছাড়া যথেষ্টসংখ্যক মহিলা চাকরি পাবে না। যথেষ্টসংখ্যক মহিলা যাতে চাকরি পায় সেজন্য কোটা থাকতেই হবে। কিন্তু কোটা তো থাকছে না। তাহলে কী হবে? নারী কোটা বিলুপ্ত হলে প্রকারান্তরে নারী নির্যাতন হবে। সেজন্য জনসংখ্যার অর্ধেক যে নারী, তাকে অর্ধেক চাকরির নিশ্চয়তা দিতে হবে। নইলে একসময় তারা চাকরির জন্য আন্দোলন করবে।
বাংলাদেশে নারীরা শোষিত। যেকোনো বিচারে তাদের সর্বহারা বিবেচনা করা যেতে পারে। যে প্রতিজ্ঞা অন্তরে নিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন সেই নিম্নবর্ণের লোকদের কোটা না থাকলে কখনও তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে না। কোটা তুলে দেয়ার পরও ওই নিম্নবর্ণের মানুষদের জন্য বিশেষ সুযোগ তৈরি করতে হবে। খুব বেশিদিন লাগবে না। ২৫-৩০ বছর উন্নয়নধারা বজায় থাকলে প্রান্তিকেরা নিম্নমধ্যবিত্তে পরিণত হবে। তখন কোটা চাপিয়ে দেয়ার দরকার হবে না। কিন্তু এখন তো দিতেই হবে। শোষণ সম্পর্ক যতদিন প্রবল থাকবে, ততদিন শোষিতের পক্ষে রাষ্ট্রকে দাঁড়াতেই হবে। তবে এটি অনন্তকালের জন্য নয়।
যে কোটা অনন্তকালের জন্য স্থায়ী করতে হবে তা হচ্ছে জেলা কোটা। মোট পদসংখ্যা জেলাওয়ারি বিভাজিত হবে। ওই জেলার কোটা পাবে জনসংখ্যানুপাতিক। যে জেলার জনসংখ্যা বেশি সে জেলায় পদসংখ্যাও বেশি হবে। মেধাবীদের তার জেলার অন্য মেধাবীদের চ্যালেঞ্জ দিয়ে আসতে হবে। এক জেলার মেধাবী অন্য জেলার মেধাবীর সঙ্গে মাস্তানি করার সুযোগ পাবে না। জাতীয় মেধা বলে কিছুই থাকবে না। এভাবে জেলা কোটা তৈরি হলে এক ধরনের সাম্য তৈরি হবে এবং কোনো বিশেষ জেলা কখনোই দাপট দেখাতে পারবে না। এই জেলা কোটার অর্ধেক নর আর অর্ধেক নারী হিসাবে বণ্টিত হবে। যদি সমান সমান হয় তবে মেধা তালিকায় নারী-পুরুষের দ্বন্দ্ব আর থাকবে না।
জাতিগত উন্নয়নে ভারসাম্য খুবই প্রয়োজন। ভারসাম্য না থাকলে এক ধরনের সামাজিক অসন্তোষ তৈরি হয়। যে অসন্তোষ পরিণামে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে; যা সমবেতভাবে গণ-অসন্তোষে পরিণত হয়। অনেক ন্যায়বান ভালো মানুষও এই জাতীয় গণ-অসন্তোষে পড়ে নাজেহাল হয়। ভালো কাজ করার পরও মন্দ কাজের বদনাম হয়। তাই পক্ষপাতিত্ব হয়, এমন কোনো কাজ করাই যাবে না। কেবল জাতীয় পর্যায়ের মেধা শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় দেখা যাবে চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো একটি বা দুটি জেলা সুবিধা ভোগ করবে। এটা একজাতীয় পক্ষপাতিত্ব।
সর্বোচ্চ বা সর্বোৎকৃষ্ট মেধাবীদের তো চাকরির দরকার নেই। রাষ্ট্র তাদের শনাক্ত করে বিশেষ বিশেষ কাজ দেবে। বছরে গোটা দশেক চমৎকারিত্ব প্রদর্শনকারী ছেলেমেয়েকে জাতীয়ভাবে শনাক্ত করে বিশেষ বিবেচনায় রাষ্ট্র গ্রহণ করবে। বলা যায় এক অর্থে এদের পুরো দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করবে। এদের দিয়ে রাষ্ট্রীয় বিশেষ কাজ করানোর জন্য বিশেষ ট্রেনিং দিতে হবে। তারা চাকরি চাইবে না। চাকরি তাদের আহ্বান করবে। এই গুটিকয়েক ছেলে-মেয়ে ছাড়া বাদবাকি সবাইকে জেলার মেধায় লড়াই করে চাকরি নিতে হবে। মেয়েরা ওই মেধার লড়াইয়ে বঞ্চিত হবে না। কেননা মোট চাকরির শতকরা পঞ্চাশ ভাগ তারা পাবেই। যে জন্য মেয়েদের মেধা তালিকা ভিন্ন হবে। কোনো সম্মিলিত মেধা তালিকা তৈরি করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে একাডেমিক মেধা তালিকা তৈরি হয় সেটি সম্মিলিত। কিন্তু তার সঙ্গে চাকরির মেধা তালিকা তুলনা করা যাবে না। মনে রাখতে হবে, সব মেধাবীই চাকরি প্রত্যাশী হয় না। যারা অভাবী কেবল তারাই চাকরি প্রত্যাশী। সমাজজীবনে দেখা গেছে, সৃষ্টিশীল মেধাবীরা চাকরিকে ঘৃণা করে। অনেকেই উদ্যোক্তা হতে চায় এবং সেখানেই তারা ভালো করে। আর ধনী লোকের ছেলেরা ব্যবসা করে। যাদের বিকল্প আছে, তারা চাকর হওয়া পছন্দ করে না। সবদিক বিবেচনায় নিয়ে তবে কোটা থাকবে না, যাবে তা ভাবতে হবে।
সিডিউল কাস্ট জাতীয় নোংরামি আর যেন করা না হয়। নিম্নবর্গকে বিশেষ সুবিধা দিতে হবে। এ জন্য প্রতি বছর বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সুবিধা দেয়ার বিষয়টি মানবিক এবং রাজনৈতিক। যদি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় না থাকে তবে কোটা দিয়ে চাকরি দেয়া যাবে না। বরঞ্চ ওই মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বলার কারণেই তার চাকরি হবে না। আর মুক্তিযুদ্ধের পরিবারের ছেলেমেয়েদের চাকরি দিতে চাইলে তার জন্য কোটা লাগে না। বুদ্ধিশুদ্ধি করে দেয়া যায়। প্রজাতন্ত্রের স্বার্থে কাকে কোন চাকরিতে দেয়া যাবে, সেটাও ভাবতে হবে। একমাত্র পরীক্ষা নিয়ে সব শ্রেণির কর্মকর্তাকে শনাক্ত করার কুবুদ্ধি সম্ভবত বাংলাদেশেই আছে। এটি গড়ে হরিবল ব্যবস্থা, যা বর্তমান যুগে অচল। প্রতি শ্রেণির চাকরির জন্য স্বতন্ত্র পরীক্ষা নিতে হবে। একবার ভেবে দেখুন, ফরেন সার্ভিস এবং পুলিশে যোগ্য লোকের জন্য একই পরীক্ষা কি চলে? যে আবগারিতে যাবে আর যে বিচার বিভাগে যাবে তাদের জন্য কি একই পরীক্ষা হওয়া উচিত। যে হিমালয়ে উঠবে আর যে নর্দমায় নামবেÑ তাদের উভয়ের জন্য একই পরীক্ষা হবে? প্রতি শ্রেণির জন্য অবশ্যই স্বতন্ত্র পরীক্ষা নিতে হবে। না হলে যোগ্যকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। যেমন যে ফরেন সার্ভিসে যাবে তার ইংরেজি এবং বাংলা খুব ভালো করে জানতে হবে। আর যে বাংলাদেশের ক্ষেতে খামারে কিংবা আবগারিতে কাজ করবে তার খুব বেশি বিদেশি ভাষা না জানলেও চলবে। যোগ্যকে শনাক্ত করার জন্য তার অধীত বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। যে বিষয়ে সে মোটেই পড়েনি সে বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত চাকরির জন্য অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। কোনো কোনো বিষয় আছে যেখানে পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায়। উর্দুতে একশ পাওয়া প্রার্থীর সঙ্গে যদি অর্থনীতিতে পঞ্চাশ পাওয়া প্রার্থীর তুলনা করা হয়, তবে নম্বর বিবেচনায় ওই উর্দু পড়–য়ারাই উতরে যাবে। এমন ধারা মেধা বিবেচনা দেশের জন্য ক্ষতিকর। এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় হচ্ছে বিষয়ভিত্তিক লোভের ব্যবস্থা করা। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর জন্য বিশেষ আনুপাতিক লোভ দিয়ে ওপরে তুলতে হবে। নইলে একেবারেই মূর্খ কিন্তু অনেক নম্বর পাওয়ারা মেধা তালিকায় আসবে। তারা চাকরি করবে, আর দেশটা গোল্লায় যাবে। অনেক পরীক্ষা দেয়া খুবই কষ্টকর। সে জন্য প্রত্যেক জেলায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পরীক্ষা দেয়ার জন্য কোনো টাকা দিতে হবে না। মৌখিক পরীক্ষাও নিজের জেলাতেই দিতে হবে। যোগ্যতা বিবেচনার জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকবে। কোনো বোর্ডই নির্দিষ্টকৃত কাঠামো লঙ্ঘন করবে না। তাহলেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
জাতীয় স্বার্থে সাংস্কৃতিক বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। কোন পরিবারের সন্তান বিবেচনায় না নিলে চৌদ্দপুরুষ চোর-ডাকাতের পরিবারের ছেলেমেয়েরা চাকরি পেলে দেশ মূল্যবোধের সংকটে পড়বে। বাংলাদেশের জরিপে ওই জাতীয় সাংস্কৃতিক জরিপ নেই। সরকারের উচিত হবে, নতুন করে চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়ার আগে সাংস্কৃতিক পরীক্ষাটা করে ফেলা। এ জন্য খুব বেশি দিন সময় লাগবে না। চোর পরিবারের কেউ যদি বড় চাকরি পায় তবে পুরো জাতীয় কাঠামো ভেঙ্গে পড়বে। এমনও হতে পারে, দেশটা বিদেশ হয়ে যাবে।
তাহলে শেষমেশ কী দাঁড়ালো? সব চাকরিই হবে জেলা কোটায়। মেধাবীদের তার নিজের জেলায় মেধার লড়াইয়ে জিততে হবে। ‘উড়ে এসে চিল, জুড়ে নিল বিল’ এ দেশে আর চলা উচিত নয়। প্রত্যেক জেলাতেই অভাবী চাকরি প্রার্থী আছে। তাদেরও সমান সুযোগ দিতে হবে। ইশপের একটি গল্পের সারমর্ম নিম্নরূপ: ‘নিজে বাঁচো, অপরকেও বাঁচতে দাও।’ সিদ্ধান্ত হতে পারে সব চাকরিই জেলাভিত্তিক কোটায় নির্দিষ্টকৃত। প্রত্যেক জেলা অঞ্চলে তার প্রাপ্য অধিকার। যা কর্মক্ষেত্রে দুই ভাগে বিভক্ত। স্থায়ী হোক এই বিবেচনা। তাছাড়া দয়া-মায়া এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সব সময়েই থাকবে। ভয় নেই।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক
শিক্ষক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়