প্রতিবেদন

টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকার লিডার্স ক্যাটাগরিতে ২১তম অবস্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

স্বদেশ খবর ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনে ২০১৮ সালে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক এই ম্যাগাজিনটি মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে পালিয়ে আসা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে কঠিন পরিস্থিতিতে আশ্রয় দেয়ার মানবিক ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য শেখ হাসিনাকে বিশ্বের সর্বোচ্চ মর্যাদার সবচেয়ে ক্ষমতাধর ১০০ জনের তালিকায় স্থান দেয়।
টাইমের এই তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রয়েছেন লিডার্স ক্যাটাগরিতে। প্রতিবারের মতো এবার ক্রমানুসারে তালিকা দেয়া হয়নি। ৫টি ক্যাটাগরিতে প্রভাবশালীদের নাম বিন্যাস করা হয়েছে। এগুলো হলো : পাইওনিয়ার্স, আর্টিস্টস, লিডার্স, আইকনস ও টাইটানস। তার মধ্যে লিডার্স ক্যাটাগরিতে স্থান পাওয়া ২৭ জনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১তম স্থানে রয়েছেন। এই ক্যাটাগরিতে অন্যান্যের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটেনের প্রিন্স হ্যারি ও তার হবু স্ত্রী অভিনেত্রী মেগান মার্কেল, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, লন্ডনের মেয়র সাদিক খান, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, মার্কিন স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলার, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রঁ। টাইম ম্যাগাজিনের এ তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লিখেছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক মিনাক্ষি গাঙ্গুলি। তিনি লিখেছেন, ’৯০-এর দশকে সর্বপ্রথম শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তখন তিনি বাংলাদেশে সামরিক শাসন বন্ধের দাবিতে জোরদার প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। সর্বশেষ আমাদের দেখা হয় ২০০৮ সালে, যখন তিনি প্রচারণা চালাচ্ছিলেন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে। এর পরের বছর নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া তার পিতার লেগ্যাসি বহনকারী শেখ হাসিনা কখনোই লড়াইকে ভয় পাননি। কাজেই গত আগস্টে যখন জাতিগত নিধনযজ্ঞের শিকার লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে প্রবেশ করা শুরু করলো, তখন তিনি এই মানবিক চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করলেন। দরিদ্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অতীতে শরণার্থীদের বিরাট ঢলকে স্বাগত জানায়নি। কিন্তু শেখ হাসিনা জাতিগত নিধনযজ্ঞের শিকার হওয়া বিপর্যস্ত ভুক্তভোগীদের ফিরিয়ে দিতে পারেননি। এজন্য তিনি প্রশংসার দাবিদার।
টাইম ম্যাগাজিনের এবারের তালিকায় প্রভাবশালী প্রত্যেকের প্রোফাইলেই তাদের সম্পর্কে লিখেছেন বিখ্যাত ও প্রভাবশালীরা। ইতিহাসের অন্যতম সেরা টেনিস তারকা রজার ফেদেরারকে নিয়ে লিখেছেন মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে লিখেছেন টেড ক্রুজ। মেগান মার্কেলকে নিয়ে লিখেছেন প্রিয়াংকা চোপড়া। ভারতীয় ক্রিকেটার বিরাট কোহলিকে নিয়ে লিখেছেন ক্রিকেটের কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকার। হিউ জ্যাকম্যানকে নিয়ে লিখেছেন অ্যানা হ্যাথওয়ে।
প্রভাবশালীদের মধ্যে পাইওনিয়ার্স ক্যাটাগরিতে রয়েছেন অলিম্পিকে সর্বকনিষ্ঠ স্বর্ণজয়ী নারী ক্লোয়ি কিম, জনপ্রিয় কমেডি উপস্থাপক ট্রেভর নোয়াহ, চীনের কোয়ান্টাম পদার্থবিদ প্যান জিয়ানওয়েই প্রমুখ। আর্টিস্টস ক্যাটাগরিতে রয়েছেন খ্যাতনামা অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান, জনপ্রিয় এক্স-ম্যান চরিত্র ওলভারিনখ্যাত হিউ জ্যাকম্যান, ওয়ান্ডার ওম্যান চরিত্রে বিশ্ব মাতানো গ্যাল গ্যাডট, বলিউড তারকা দিপীকা পাডুকোন প্রমুখ। আইকনস ক্যাটাগরিতে অন্যদের মধ্যে আছেন খ্যাতনামা অভিনেত্রী, সংগীতশিল্পী জেনিফার লোপেজ, রিহানা ও ব্ল্যাক প্যান্থার চরিত্রে বক্স অফিস মাতানো চ্যাডউইক বোসম্যান। আর সর্বশেষ ক্যাটাগরি টাইটানস-এ অন্যদের মধ্যে আছেন রজার ফেদেরার, অপরাহ উইনফ্রে, জেফ বেজস ও বিরাট কোহলি।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনের জন্য গত বছর ব্রিটিশ মিডিয়া শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধিতে ভূষিত করে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ সংবাদপত্র খালিজ টাইমস রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনার মানবিক ভূমিকা পালনের ভূয়সী প্রশংসা করে এবং তাকে ‘নিউ স্টার অব দ্য ইস্ট’ উপাধিতে ভূষিত করে। ২০১৬ সালে বিজনেস ম্যাগাজিন ফরচুনের বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের ৫০ জনের তালিকায় শেখ হাসিনা দশম স্থানে উঠে আসেন। ২০১৫ সালে বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অন্তর্ভুক্ত করে।