রাজনীতি

পাসপোর্ট কেলেঙ্কারিতে তারেক রহমান : দলের ভিতরে-বাইরে সমালোচনার ঝড়

মেহেদী হাসান
প্রায় ১০ বছর ধরে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাংলাদেশি পাসপোর্ট পরিত্যাগ ইস্যুতে দলের ভিতরে-বাইরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পাসপোর্ট কেলেঙ্কারিতে তারেক রহমান এক প্রকার ফেঁসেই গেলেন বলে মনে করছেন সমালোচকরা। তিনি আর বাংলাদেশি নাগরিক ননÑ এই বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর খোদ বিএনপির ভিতরে-বাইরে চলছে তীব্র সমালোচনার ঝড়। এ নিয়ে তারেক রহমানের পক্ষে-বিপক্ষে নানাজন নানান যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন। বিএনপির কিছু নেতা বলছেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর তারেক রহমান যখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন, তখনও তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন না। তাহলে কোন নৈতিকতার বলে তিনি একটি পার্টির সর্বময় কর্তা হয়ে গেলেন। তারেক রহমান ছাড়া দলে কি আর কোনো যোগ্য লোক নেই? বিএনপির মধ্যে সমালোচনা ও হতাশার আরেকটি কারণ হলো দৃশ্যতই, জিয়া পরিবারের কেউ আর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে নেই। জিয়া পরিবারের যে সদস্যটি এখন বিএনপি প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি তা করছেন সম্পূর্ণ মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে। তারেক রহমান নিজেকে লন্ডনে নিরাপদ রেখে বাংলাদেশে বসবাসরত বিএনপির সকল স্তরের নেতাকর্মীকে অনিরাপদ করে নিজে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পরিত্যাগ করে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব/পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে বিএনপির মধ্যে সমালোচনা ও হতাশা বিরাজ করলেও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তারেক রহমানের পাসপোর্ট পরিত্যাগের তথ্য প্রকাশের পর চ্যালেঞ্জ আর পাল্টা-চ্যালেঞ্জে বিএনপি-আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠ ইতোমধ্যে বেশ গরম হয়ে উঠেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে তারেক রহমান উকিল নোটিশ পাঠালে প্রত্যুত্তরে বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলে দেখানোর দাবি তুলেছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে নথি দেখিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, তারেক রহমান আর এ দেশের নাগরিক নন। বলেন, একজন কনভিকটেড ক্রিমিনাল এ রকম একটি ভ্যালিড ডকুমেন্টের প্রেজেন্টেশনের পরও কিভাবে উকিল নোটিশ দেন, দ্যাট বি ভেরি ইন্টারেস্টিং।
জানা গেছে শুধু তারেক রহমানই নন, তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা জারনাজ রহমানও তাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তারেক রহমানের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ফিরিয়ে দেয়া সংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা চ্যালেঞ্জ করে বিএনপির বক্তব্য দেয়া এবং তারেক রহমানের পক্ষে আইনি নোটিশ পাঠানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়েছে। আজ বলছি, শুধু তারেক রহমান নন, তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা জারনাজ রহমানÑ তাদের পাসপোর্টও যুক্তরাজ্য হোম অফিস (স্বরাষ্ট্র দপ্তর) আমাদের হাইকমিশনে ফেরত দিয়েছেন।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। সে ব্যাপারে আমাদের আলোচনা চলছে। এ মুহূর্তে আমি আর বলতে চাই না। তবে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাদের (তারেক রহমান ও পরিবার) এখানে আসার ইচ্ছা নেই বলেই হয়ত তারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন।’
এদিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব না থাকলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফেরাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখছেন না আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি জাতিসংঘের নির্দেশনার আলোকে বাংলাদেশে মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স অ্যাক্ট করে তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার কথা বলেন। অপরদিকে ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় আইন অনুযায়ী আবেদন করলেও তারেক রহমান নতুন পাসপোর্ট পাবেন না বলে জানিয়েছেন পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাসুদ রেজওয়ান। এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেননি।
খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০০৮ সালে জামিনে মুক্ত হয়ে তৎকালীন সরকারের কাছে রীতিমতো মুচলেকা দিয়ে লন্ডনে যান। এরপর থেকে স্ত্রী-কন্যা নিয়ে তিনি সেখানেই বসবাস করছেন চিকিৎসার কথা বলে। ১০ বছর ধরে চিকিৎসা করার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সময় এমনকি আদালতে প্রশ্ন উঠলেও আজ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে কখনোই বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়নি। বরং প্রায় সব সময়েই বলা হচ্ছে সেখানে তাদের নেতা তারেক রহমান চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরবেন। এরই মধ্যে হাইকোর্ট দুই বছর আগে বিদেশে অর্থ পাচারের এক মামলায় তারেক রহমানকে পলাতক দেখিয়ে ৭ বছরের কারাদ- দেয়। আর জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্র“য়ারি তাকে ১০ বছরের কারাদ- দেয় আদালত। আর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাতেই ৫ বছরের সাজার রায়ের পর থেকে কারাগারে আছেন তারেক রহমানের মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার অনুপস্থিতিতে তারেক রহমানই পদাধিকার বলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে লন্ডন থেকে দল পরিচালনায় নির্দেশনা দিচ্ছেন। এমনই এক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দ-িত আসামি তারেক রহমানকে যেভাবেই হোক দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি। যে অপরাধী সাজাপ্রাপ্ত, সে কী করে এখানে থাকে? কাজেই তাকে তাড়াতাড়ি ফেরত দেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও ওই অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের বিষয়ে কথা বলেন, যা নিয়ে দেশে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে আলাদা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘তারেক জিয়া বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট হাইকমিশনে জমা দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন। সেই তারেক রহমান কিভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে?
গণমাধ্যমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রকাশের পরই এ নিয়ে কোনো কথা বলেনি বিএনপি। তাদের চুপ হয়ে যাওয়ায় সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শুরু হয় বিএনপির বর্তমানের শীর্ষ নেতার সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে সাধারণের কাছে রীতিমতো দুর্বল ও অযোগ্য নেতায় পরিণত হচ্ছিলেন তারেক রহমান। এরপর বিএনপির দু’একজন নেতা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিচ্ছিন্নভাবে এ নিয়ে কথা বললেও তারা কেউ তারেক রহমানের বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রত্যাহারের ঘটনাকে মিথ্যা বলতে পারেননি।
বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘তারেক রহমান এ দেশের মানুষ। এ দেশেই আসবেন। দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র ফিরে এলেই তিনি আসবেন।’ তার এ বক্তব্যের কোথাও পাসপোর্ট প্রত্যাহারের তথ্যকে অস্বীকার করার কথা নেই। এরপর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বরাতে সংবাদমাধ্যমের খবর প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি। সংবাদ সম্মেলন করে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়ারও হুমকিও দেন।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নির্জলা মিথ্যা কথা বলেছেন। আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমা দিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি প্রদর্শন করুন। হাইকমিশন তো সরকারের অধীনেই, তাদের বলুন সেটি দেখাতে। রিজভী প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সমালোচনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হওয়ার জন্যই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলছেন, যা মন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টায় আত্মবিক্রির সমতুল্য।
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকের প্রসঙ্গ টেনে এই বিএনপি নেতা বলেন, পাসপোর্ট সারেন্ডার করে তারা, যাদের ছেলেমেয়েরা বিদেশিদের বিয়ে করে বিদেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন। জিয়া পরিবারের কেউ বিদেশিদের বিয়ে করেনি, অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্বও তারা গ্রহণ করেননি। তারেক রহমান অসুস্থ অবস্থায় লন্ডনে অবস্থান করছেন। বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের পরপরই প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে তারেক রহমানের উকিল নোটিশ পাঠানোর খবর আসে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন তারেক রহমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তারেক রহমান বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট হাইকমিশনে জমা দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেনÑ এমন বক্তব্য আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করা না হলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে মামলা করার হুঁশিয়ারি দেয়া হয় ওই উকিল নোটিশে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বরাতে দুটি সংবাদপত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করায় ওই দুটি পত্রিকার সম্পাদককেও নোটিশ দেয়া হয়।
কায়সার কামাল বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তানকে নিয়ে ‘এমন অসত্য, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বক্তব্যে দেশে-বিদেশে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে তার ‘সম্মান ও মর্যাদাহানি’ ঘটানো হয়েছে। নোটিশে আমরা আগামী ১০ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট জমা ও নাগরিকত্ব বর্জন সংক্রান্ত বক্তব্যের যথাযথ প্রমাণ দিতে বলেছি। প্রমাণ দিতে না পারলে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। না হয় তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি এবং দেওয়ানি আদালতে মামলা করা হবে। আইনজীবী আরও বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভিত্তিহীন বক্তব্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন ওই সময়ের মধ্যে প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে দুটি পত্রিকাকেও। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিএনপির পক্ষ থেকে চ্যালেঞ্জ ও পাসপোর্ট দেখানোর দাবি তোলা হলে প্রতিক্রিয়া জানাতে সময় নেয়নি ক্ষমতাসীনরা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন (সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তখন ভারত সফরে থাকায়) সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তারেক রহমান ব্রিটিশ হোম অফিসের মাধ্যমে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন, তারেক রহমান ওয়ান-ইলেভেনের সময় মুচলেকা দিয়ে বিদেশে যাওয়ার পরে একবার তিনি পাসপোর্ট রিনিউ করেছেন বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে। এরপরে তিনি ব্রিটেন হোম অফিসের মাধ্যমে বাংলাদেশ দূতাবাসে তার পাসপোর্ট সারেন্ডার (সমর্পণ) করেছেন।
স্বপন বিএনপির উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশের পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনে কোনো আবেদন করেছেন কি না এটা যদি তারা দেখাতে পারে তাহলে আমরা তাদের বক্তব্যকে স্বাগত জানাব। মূলত তিনি বাংলাদেশের পাসপোর্ট সারেন্ডার করেছেন এবং তিনি ব্রিটেনে এখন কী স্ট্যাটাসে আছেন এটা আপনারা সবাই জানেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে তারেক রহমানের আইনি নোটিশ পাঠানোর বিষয়ে স্বপন বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কোনো মিথ্যাচার করেননি। তিনি সত্য তথ্য উপস্থাপন করেছেন। এ বিষয়ে যদি কোনো আইনি নোটিশ দেয়া হয়, সে নোটিশ প্রাপ্ত হলে অবশ্যই যথাযথ জবাব দেবেন। সত্য তথ্য তিনি প্রকাশ করেছেন, সত্য তথ্য প্রকাশ করার জন্য যদি ক্ষমা চাইতে হয় তাহলে সেটা দুর্ভাগ্যজনক বিষয়। তারেক রহমানের জমা দেয়া পাসপোর্ট দেখাতে রিজভীর চ্যালেঞ্জের পর পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন স্বপন। বলেন, তারেক রহমানের কাছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলে দেখাতে বলেন। এটা আমাদের চ্যালেঞ্জ নয়, আমরা এ তথ্য জানতে চাই। ওনার কাছে কোনো পাসপোর্ট থাকলে উনি আমাদের দেখাতে পারেন। রিজভীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় স্বপন আরও বলেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জিয়া পরিবার ধ্বংসের চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে সরকারের প্রতি হাস্যকর-মনগড়া অভিযোগ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে জিয়া পরিবার ধ্বংসের নায়ক স্বয়ং তারেক রহমান। জিয়া পরিবার ধ্বংসের কোনো অভিপ্রায় সরকার বা আওয়ামী লীগের নেই। দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা তারেক রহমান। সেই দল ধ্বংসের জন্য অন্য কোনো শক্তির প্রয়োজন নেই।
রিজভীকে ‘হাইড্রোলিক টকিং ডল’ আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, প্রতিদিন মিডিয়ার সামনে শব্দ সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পরও জিয়া হত্যার বিচার করতে পারেননি কেন? এমনকি ক্যাবিনেটে সিদ্ধান্ত নিয়ে জিয়া হত্যা মামলাকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন। একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বানিয়ে বিএনপি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে কলঙ্কিত করেছে। তারেক রহমানের কাছে শুধু বাংলাদেশ নয়, যুক্তরাজ্যের নাগরিকরাও নিরাপদ নয়। দ-িত তারেক রহমানকে অবিলম্বে বাংলাদেশের হাতে সোপর্দ করতে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে চ্যালেঞ্জ ও পাল্টা-চ্যালেঞ্জের পর সংবাদ সম্মেলন করে রীতিমতো নথি দেখিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান আর এ দেশের নাগরিক নন। যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের মাধ্যমে তারেক রহমানের পাসপোর্ট বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমা দেয়ার একটি নথি দেখিয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এখন আর বাংলাদেশের নাগরিক নন। পাসপোর্ট জমা দেয়ার প্রমাণ দেখাতে বিএনপির চ্যালেঞ্জ আর তারেক রহমানের উকিল নোটিশের পর তারেক রহমানের মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টের কপি এবং ব্রিটিশ হোম অফিসের একটি নথি দেখান শাহরিয়ার আলম।
তিনি বলেন, তারেক রহমান ব্রিটিশ হোম অফিসের মাধ্যমে ২০১৪ সালের ২ জুন তার নিজের, স্ত্রীর এবং মেয়ের পাসপোর্ট লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ‘ফেরত পাঠান’। এত কিছুর পরও যদি কারও কোনো প্রশ্ন থাকে, বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী দলের কেউ যদি আগ্রহী হন, আমরা ব্যবস্থা করবো। লন্ডনে আমাদের বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে দেখে আসবেন।
তারেক রহমানের উকিল নোটিশের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি খুবই আশ্চর্যের বিষয় যে, একজন কনভিকটেড ক্রিমিনাল এ রকম একটি ভ্যালিড ডকুমেন্টের প্রেজেন্টেশনের পরও কিভাবে উকিল নোটিশ পাঠান! বিএনপি যদি মামলা করতে চায়, আওয়ামী লীগ উইল ডেফিনিটলি ফেইস ইট।