প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

লন্ডনে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি বৈঠক তিস্তা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ এপ্রিল স্থানীয় সময় বিকেলে লন্ডনের ল্যানক্যাস্টার হাউজের বাই লেটারাল রুমে তাদের এ বৈঠক হয়। বৈঠকে রোহিঙ্গা, তিস্তাসহ দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয় নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আগের অবস্থান থেকে অনেকটা সরে এসেছে ভারত। এ ইস্যুতে ভারতের অবস্থান এখন বাংলাদেশের অনেক কাছাকাছি। ভারত রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনেও সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় সকল বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলাপ হয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত তাদের অবস্থান থেকে অনেক সরে এসেছে। তারা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য সহযোগিতা করছে। আর কমনওয়েলথ সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বিশ্বভারতীতে নির্মাণাধীন বাংলাদেশ হাউজ নির্মাণের বিষয়টিও হাসিনা-মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে উঠে আসে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, শিগগিরই বিশ্বভারতীতে নির্মাণাধীন বাংলাদেশ হাউজের উদ্বোধন করা হবে। আপনি (শেখ হাসিনা) যদি উদ্বোধনের সময় ভারতে আসেন, তবে আমিও আসবো।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বৈঠকের পর এক টুইট বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় করার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সুদূরপ্রসারী আলোচনা হয়েছে। এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রায় ১ বছর পর দুই নেতা মিলিত হলেন। সর্বশেষ গত বছরের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আবারও তার ভারত সফরের কথা রয়েছে।
এদিকে হাসিনা-মোদি বৈঠক নিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছেÑ প্রতিবেশীই প্রথম! প্রতিবেশী এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় করেছেন। কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলন ২০১৮-এর সাইডলাইনে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের বিগত ৯ বছরের শাসনামলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, দুই দেশের সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক ভালো। প্রতিবেশী দুইটি দেশের সরকার ও জনগণের মধ্যে গভীর আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার অনেক অমীমাংসিত ইস্যুর শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে।
তারপরও তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যুতে এমন জটিলতা তৈরি হয়েছে যে, পানি চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেও তা আবার থমকে গেছে। সর্বশেষ ভারতের মোদি সরকার বাংলাদেশ সরকার ও তার জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেছে যে, দুই দেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের মেয়াদকালেই তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হবে। কিন্তু দুই দেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের মেয়াদই শেষের দিকে। তাই এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের মাঝে ক্রমেই হতাশা তৈরি হচ্ছে।
এমনই এক প্রেক্ষাপটে লন্ডনে হাসিনা-মোদি বৈঠকে দুই দেশের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে দুই নেতার মধ্যে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যুর সমাধানে ভবিষ্যৎ দিনগুলোতে ভারত বাংলাদেশের সাথে একযোগে কাজ করবে বলে দুই নেতা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ও রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার বিষয়ে ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন নরেন্দ্র মোদি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও তিস্তা চুক্তির বিষয়ে ভারতের অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। ভারত যত দ্রুত সম্ভব তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যার সমাধানে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও জানা যায়।
সন্ত্রাস দমনে দুই দেশ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি বলেন, দুই দেশের মানুষে মানুষে যোগাযোগকে ভারত সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের সম্পর্ক এখন সর্বোচ্চ উচ্চতায়। এ সময় বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।