প্রতিবেদন

১৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ চট্টগ্রাম বন্দরকে বিশ্বমানের আধুনিক বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার

বিশেষ প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ (ই) পিএসসি, বিএন বলেছেন, কন্টেইনার, কার্গো ও জাহাজের প্রবৃদ্ধি সামাল দেয়াই চট্টগ্রাম বন্দরের মূল চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর মহাপরিকল্পনার ভিত্তিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। একই সাথে চট্টগ্রাম বন্দরকে ‘ব্যবহারকারীবান্ধব’ বন্দর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সর্বোপরি চট্টগ্রাম বন্দরকে বিশ্বমানের আধুনিক বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার নিরলস কাজ করে চলেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৪ এপ্রিল সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের অডিটরিয়ামে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বন্দর চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ বিগত ২০১৬ ও ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক ২০১৭ সালে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং প্রবৃদ্ধি শতকরা ৯ দশমিক ৩৬ ভাগ এবং কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৯৭ ভাগ। বন্দর চেয়ারম্যান জানান, ২০৪৩ সালের টার্গেট অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ১৪ মিলিয়ন কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করতে হবে। অথচ বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের নিকট যে সকল প্রকল্প রয়েছে তা সম্পন্ন হলেও মাত্র ৭ মিলিয়ন কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব। তাই দেশে আরো নতুন নতুন বন্দরের প্রয়োজন রয়েছে বলেও কমডোর জুলফিকার আজিজ উল্লেখ করেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, সেক্ষেত্রে বে-টার্মিনাল, মাতারবাড়ি কমার্শিয়াল পোর্ট ও পায়রা সমুদ্রবন্দর অনেকটা পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
কমডোর জুলফিকার আজিজ জানান, ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালের ৫টি বাথ চালু রয়েছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্টের অধিকাংশই ইতোমধ্যে ক্রয় করা হয়েছে কিংবা কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। অন্যগুলোও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল আলোচিত ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ মে মাসেই শুরু হচ্ছে। বন্দরের দীর্ঘদিনের দাবিকৃত সার্ভিস জেটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ২০১৯ সাল নাগাদ টার্মিনালটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। লালদিয়া মাল্টিপারপাস টার্মিনাল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫টি প্রতিষ্ঠান প্রাকযোগ্যতা অর্জন করেছে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবদান সম্পর্কে বলতে গিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের কলকব্জাসমূহ যাতে সুষ্ঠুভাবে এবং নির্বিঘেœ চলতে পারে সে লক্ষ্যে নেপথ্য চালক হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি পালন করতে হয় চট্টগ্রাম বন্দরকে। তাই বন্দরের সম্প্রসারণ ও সামর্থ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি হিন্টারল্যান্ড যোগাযোগ সুগম করে দ্রুততম সময়ে আমদানি-রপ্তানি সম্পন্ন করতে বিপুল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে সরকার। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল বিশ্বের কাতারে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। এগিয়ে চলেছে ২০২১ সালের ভেতর মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বের সদস্য হয়ে ওঠার লক্ষ্যে। এ লক্ষ্যে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি ছাড়াও জ্বালানি খাতে শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তোলার কার্যক্রম চলছে। ৪০ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প চালু রয়েছে দেশে যার মধ্যে আছে ৬.১৫ কিলোমিটার পদ্মাসেতু নির্মাণ, ২.৪ গিগাওয়াট ক্ষমতার রূপপুর পরমাণু শক্তিচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, শতাধিক ইজেড/এসইজেড/ইপিজেড, একাধিক সমুদ্রবন্দর, মহেশখালী-মাতারবাড়িতে দেশের অন্যতম বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল ও দেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎ হাব, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেল এবং এলএনজি টার্মিনাল। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেশে আমদানির পরিমাণও বেড়েছে বহুগুণে। আমদানিপণ্য যথাযথ ব্যবস্থাপনায় গ্রহণ করা এবং সেগুলো যথাসময়ে আমদানিকারকদের হাতে পৌঁছে দেয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি পালন করতে হয় চট্টগ্রাম বন্দরকে। প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ ইস্পাত, লোহা, কয়লা, পোল এবং অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী আমদানি হচ্ছে দেশে। টার্মিনালে সেগুলো খালাস করার পর নির্ভুল দক্ষতায় যথাস্থানে পৌঁছে দেয়ার কাজে অপরিহার্য সহযোগিতা অব্যাহত রেখে চলেছে চট্টগ্রাম বন্দর।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ সাপ্তাহিক স্বদেশ খবর-এর সঙ্গে এক খোলামেলা আলোচনায় বলেন, জাতীয় উন্নয়নের গতিশীলতা ধরে রাখতে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে চট্টগ্রাম বন্দর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ২৪/৭ নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনের অংশগ্রহণে আরো বেগবান হয়েছে বন্দরের কার্যক্রম। গত প্রায় এক দশক ধরেই জাতীয় প্রবৃদ্ধির দ্বিগুণ থেকেছে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার প্রবৃদ্ধি। ১৯৭৭ সালে মাত্র ৬টি কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মধ্য দিয়ে কন্টেইনার বন্দর হিসেবে যাত্রা শুরু করা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরলস পরিশ্রমের ফলে ২০০৯ সালের লয়েড’স লিস্টের শীর্ষ শত কন্টেইনার বন্দরের তালিকায় ঠাঁই করে নেয় ৯৮তম অবস্থানে। মাত্র ৮ বছরে তার কন্টেইনার হ্যান্ডলিং দ্বিগুণ ছাড়িয়ে উন্নীত হয় ২.৬৭ মিলিয়ন টিইইউতেÑ তালিকায় ২৭ ধাপ টপকে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান উন্নীত হয় ৭১-এ।
কমডোর জুলফিকার আজিজ জানান, আগামী দিনের জাতীয় উন্নয়নের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিশ্চিত করতে বন্দরের সামর্থ্য বাড়ানোর পাশাপাশি চলছে হিন্টারল্যান্ডের সাথে সড়ক, রেল ও নৌপথে যোগাযোগ বৃদ্ধির কার্যক্রম। গতিশীল প্রবৃদ্ধির পথে রয়েছে পানগাঁও টার্মিনাল। গাজীপুরের ধীরাশ্রমে নির্মাণাধীন নতুন আইসিডি হিন্টারল্যান্ডের সাথে যোগাযোগে আনবে গতিশীলতা। চট্টগ্রাম বন্দরের সামর্থ্য বাড়াতে ক্যাপিটাল ও মেইনটেন্যান্স ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান কন্টেইনার চাহিদা সামাল দেয়ার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি নতুন টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ। নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের। বে-টার্মিনাল নিশ্চিত করতে যাচ্ছে গভীর ড্রাফট এবং বিশালায়তন জাহাজের বার্থিং। প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে লালদিয়া মাল্টিপারপাস কন্টেইনার টার্মিনাল, সীতাকু-ু কন্টেইনার টার্মিনাল এবং কর্ণফুলী কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ।
জুলফিকার আজিজ বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর দূর অতীতে যে অবদান রেখে এসেছে তার ধারাবাহিকতা অদ্যাবধি অব্যাহত রয়েছে, আগামী দিনে তার সামনে কেবলই নতুন সাফল্যের ইশারা। সচ্ছল আর সম্পদশালী স্বপ্নের এক বাংলাদেশ গড়ার পথে নিজের কর্মপ্রয়াস অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ে এভাবেই এগিয়ে যাবে বন্দর; জাতীয় অর্থনীতির হৃদস্পন্দনস্বরূপ প্রতিক্ষণ স্পন্দিত রয়েছে এবং থাকবে চট্টগ্রাম বন্দরÑ ১৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে বলতে পারি এই প্রতিজ্ঞা উচ্চারণ করছে চট্টগ্রাম বন্দর।
এক প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের মুখ্য বন্দর। এ কারণে জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য রয়েছে তার। চট্টগ্রাম বন্দরের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে সমুদ্রবাহিত বাণিজ্যে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের যথাযথ এবং দক্ষ হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর জোগান এবং সেবা প্রদান করা। পরিচালন প্রক্রিয়ার দুর্বলতা এবং অবকাঠামোর অপর্যাপ্ততার দরুন বন্দরের অদক্ষতার পরিণামে সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আশির দশকে বাণিজ্যের উদারীকরণ এবং বৈশ্বায়নের সুবাদে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পণ্য ও সেবার আদান-প্রদান বেড়েছে। অর্থনৈতিকভাবে তুলনামূলক এগিয়ে থাকা দেশগুলো ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণে একটা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে; যারা চাইছে নিজেদের উৎপাদনশীলতায় সামর্থ্য বাড়িয়ে তুলতে এবং ব্যবসাবাণিজ্যে বৈশ্বিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল করে তুলতে। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের নানাবিধ উপায় খুঁজছে বাংলাদেশ। এই বাণিজ্যিক লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সামুদ্রিক প্রবেশদ্বারের সামর্থ্য এবং দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও পরিবাহকের বাণিজ্যিক চাহিদা পূরণে আরও তৎপর হতে হবে। আজকের বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে প্রতিটি বন্দর অন্যান্য বন্দরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নিজেকে আরও দক্ষ এবং সাশ্রয়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ কারণে আগামীতে আঞ্চলিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার লক্ষ্য বিবেচনায় রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক সামর্থ্য বৃদ্ধি করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
তাই চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা এবং সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে সাহসী নির্দেশনা ও পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নানাবিধ টেকসই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের মাত্র ৬০ শতাংশ সামর্থ্য কাজে লাগিয়েই আগের চেয়ে অনেক বেশি জাহাজ ও কার্গো হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ হাতে নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। ওই ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর ও শুল্ক বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব সরকারি-বেসরকারি সংস্থা সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে আণবিক শক্তি কমিশন, কোয়ারেন্টাইন, খাদ্য বিভাগ, চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থা, বিজিএমইএ, বিএসটিআই, সিঅ্যান্ডএফ, শিপিং এজেন্ট এবং আগ্রাবাদ এলাকার সব ব্যাংক। গত ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে অ্যাকশন প্ল্যানটি আমি নিজেই উপস্থাপন করি। এ বিষয়ে কমোডর জুলফিকার আজিজ বলেন, একটি বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অনেক সংস্থার কার্যক্রম জড়িত। ওই সব সংস্থার সেবা যদি চাওয়া মাত্র পাওয়া যায় তবে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমেও গতি বেড়ে যায়। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ডেলিভারি টাইমেও সময় কম লাগবে। কন্টেইনার লোড-আনলোডেও জট কমবে। বন্দরের অপারেশনাল কাজের গতি বাড়াতেই ‘অ্যাকশন প্ল্যানটি প্রণয়ন করা হয়েছে। কমডোর জুলফিকার আজিজ স্বদেশ খবরকে বলেন, অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আরও যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সেগুলো হলো : পতেঙ্গা টার্মিনাল ও লালদিয়া টার্মিনাল দ্রুত চালু করা; প্রয়োজনের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ (আপদকালীন ও রিজার্ভসহ) আধুনিক ও দ্রুততর স্ক্যানিং মেশিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া; স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বন্দরের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা; বন্দরে আগমনের ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামযোগ্য মালামাল শুল্ক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা; বে-টার্মিনাল নির্মাণের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের অনুকূলে ভূমি বরাদ্দ ত্বরান্বিত করা; বন্দর কর্তৃপক্ষের আর্থিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানো; কন্টেইনার পরিবহনের জন্য ডাবল রেলওয়ে ট্র্যাক স্থাপনের লক্ষ্যে রেলওয়ে কর্তৃক পরামর্শক নিয়োগ এবং এ বিষয়ে অগ্রগতি চবক-কে অবহিত করা; আমদানি-রপ্তানি কাজে নিয়োজিত শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এফবিসিসিআই ৫/১০/১৫/২০ বছর মেয়াদে আমদানি-রপ্তানির প্রক্ষেপণ বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে; বহিঃনোঙরে জাহাজের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য লাইটারেজ জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি করা; আমদানি পণ্য খালাসের লক্ষ্যে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে কেমিক্যাল টেস্ট রিপোর্ট দেয়া এবং এজন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব অ্যাসিসট্যান্স নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া; ২০১৯ সালের মধ্যে পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনালের শতভাগ সক্ষমতা ব্যবহার নিশ্চিত করা; আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত সব লেনদেন ইলেকট্রনিক্যালি সম্পাদন করা; লেস দেন কন্টেইনার লোড (এলসিএল) কার্গো ৩ দিনের মধ্যে ডেলিভারি প্রদান করা; এলসিএল কার্গো আনস্টাফিংয়ের সময়সীমা সর্বোচ্চ ২ দিনে নামিয়ে আনা এবং বেসরকারি আইসিটিগুলোকে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সিসেটমে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি যাচাই করা।