প্রতিবেদন

ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকতে ছাত্র সমাজের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ মে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় কাউন্সিলের সফল উদ্বোধন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জাতীয় কাউন্সিল উদ্বোধন করেন।
ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের পরিচালনায় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওবায়দুল কাদের, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কাজী এনায়েত, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান কমিশনার আরিফুর রহমান লিমন ও অভ্যর্থনা উপকমিটির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ বাপ্পি।
সম্মেলনের শুরুতেই সংগঠনের সংগীত ছাত্রলীগ, জয় জয় ছাত্রলীগ পরিবেশন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ সময় হাততালি দিয়ে গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। এরপর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। ছাত্রলীগ সম্পাদিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁকে সম্মেলনের ব্যাজ পরিয়ে দেয়া হয়। এরপর ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক উপকমিটির সদস্যদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় ধন্য বাংলাদেশ ধন্য… শেখ মুজিবের জন্য, এ মাটি নয় জঙ্গিবাদের, এ মাটি মানবতার শীর্ষক গীতিনৃত্য প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। ছাত্রলীগের সাংগঠনিক রিপোর্ট তুলে ধরেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা।
বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আকর্ষণীয়, বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ছাত্রলীগের সম্মেলনে সংগঠনের ৮৭টি জেলা ইউনিটের প্রায় ৪০ হাজার কাউন্সিলর ও ডেলিগেট ছাড়াও সাবেক ও বর্তমান প্রায় লাখো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছিল কানায় কানায় পরিপূর্ণ। স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য এক সংগঠনের নাম ছাত্রলীগ। তাই বর্তমান ও সাবেক ছাত্র নেতাদের পদচারণায় মুখর পুরো উদ্যানই যেন পরিণত হয়েছিল ছাত্রলীগের মিলনমেলায়। সম্মেলনকে ঘিরে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে সাজানো হয় বর্ণাঢ্য ও মনোরমভাবে। সম্মেলনস্থলের আশপাশের সড়কসহ গোটা মহানগরীকে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নানা রঙের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন এবং ছাত্রলীগের সাংগঠনিক পতাকা দিয়ে মোড়ানো ছিল পুরো রাজধানী। নানা জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে সুদৃশ্য তোরণ। চারটি গেট দিয়ে দুপুর থেকেই ছাত্রলীগের কাউন্সিলর ও ডেলিগেটবৃন্দ সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করতে শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেল ৪টায় সম্মেলনস্থলে পৌঁছানোর আগেই প্রায় ৫০ হাজার স্থান সংকুলান সংবলিত সুবিশাল প্যান্ডেল পরিপূর্ণ হয়ে আশপাশের কোনো জায়গাই খালি ছিল না। সারাদেশ থেকে আগত বিপুলসংখ্যক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে বেশ বেগ পেতে হয়। প্রধানমন্ত্রী ৪টায় সম্মেলনস্থলে উপস্থিত হলে স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের শেষ দিকে মুষলধারে বৃষ্টি নামলেও হাজার হাজার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর উৎসবমুখর পরিবেশের এতটুকুও বিঘœ ঘটাতে পারেনি। বক্তব্যপর্ব শেষে রাতে মঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।
উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেশের ছাত্রসমাজের উদ্দেশে বলেন, সততার সঙ্গে রাজনীতি করেছি বলেই আজকে পদ্মাসেতু আমরা নিজেদের অর্থায়নে করতে সক্ষম হয়েছি। তাই আমি আমাদের ছাত্রদের বলতে চাই, কোনো ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম (ভ্যান্ডালিজম) চলবে না। ছাত্ররা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করবেÑ এটা আমি বরদাশত করব না। কারণ পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলো যদিও স্বায়ত্তশাসিত, কিন্তু প্রত্যেকটির খরচ দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নির্দেশ দেয়া আছে, ভাঙচুরকারীরা যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকার জন্য ছাত্রসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তি থেকে দূর থাকতে হবে। এ ধরনের কাজে কেউ যদি জড়িত থাকে তাকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করতে হবে। ইতোমধ্যে আমি র‌্যাবসহ সকলকে বলে রেখেছি, মাদক ব্যবসায়ী এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শান্তি বজায় থাকবে, শিক্ষার পরিবেশ বজায় থাকবে। অন্তত এটুকু দাবি করতে পারি, সরকার গঠনের পর থেকে প্রতি বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় আছে। ছাত্রছাত্রীদের মূল কাজ পড়াশুনা করা। ২০২১ সালের আগেই দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগই দেশের উন্নয়ন করে, মানুষের কল্যাণে কাজ করে। অন্যরা ক্ষমতায় এসে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি-অর্থ পাচার, খুনি-যুদ্ধাপরাধীদের মদদদান আর নিজেদের ভাগ্য গড়েছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ২০৪১ সালের মধ্যেই আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে, কেউ আর দেশকে পিছিয়ে দিতে পারবে না।