প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

মহান মে দিবসে শ্রমিক-জনতার সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার শ্রমিকের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে নিরলস কাজ করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান মে দিবস। যে দিবসটি শুধুই কুলি, মুটে মজুর শ্রমিকদের দিন। কৃষক শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের সংহতি প্রকাশের দিন। ১৩০ বছর আগে ১৮৮৬ সালের ১ মে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে মকরম্যাক রিপার ওয়ার্কস নামের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালনরত শ্রমিকদের রক্ত দেয়ার মধ্য দিয়ে মহান মে দিবসের সূচনা হয়েছিল। এ দিনটি সারা বিশ্বের অগুনতি মেহনতি-শ্রমজীবী মানুষকে শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সুদীর্ঘ ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম, রক্তক্ষয়, আত্মত্যাগ ও তাদের বিজয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালিত হয়। এ উপলক্ষে বাণী দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। বিশ্বের সকল মেহনতি মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, এ কথা অনস্বীকার্য যে, সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে শিল্পোদ্যোক্তা, মালিক ও শ্রমিকের সম্মিলিত প্রয়াস একান্তভাবে কাম্য। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে জাতি সক্ষম হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে বলেন, তাঁর সরকার বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা চালু করেছে। পোশাক শিল্পসহ ৩৮টি শিল্পখাতের শ্রমিকদের জন্য নিম্নতর মজুরি ঘোষণা করেছে। জাতীয় শিশু শ্রমনীতি ২০১০ এবং জাতীয় শ্রমনীতি ২০১২ প্রণয়ন করেছে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন সুবিধাবঞ্চিত মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘বিশ্ব আজ ২ ভাগে বিভক্ত, এক দিকে শোষক, আরেক দিকে শোষিতÑ আমি শোষিতের পক্ষে’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা পরিত্যক্ত কলকারখানা জাতীয়করণ করে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে তাঁর সরকার দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন।
বিশ্বের সকল মেহনতি মানুষকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে আরো বলেন, আমরা দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সরকার শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে লাগসই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও ব্যবহার এবং উন্নত ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘রূপকল্প ২০২১’ বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর। মহান মে দিবসের অনুষ্ঠানে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মালিক-শ্রমিক পারস্পরিক বিভেদ ভুলে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে একসাথে কাজ করারও আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
ঐতিহাসিক ঘটনাসমৃদ্ধ মহান মে দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল মে দিবসের র‌্যালি উদ্বোধন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশ। জাতীয় পর্যায়ে গৃহীত কর্মসূচির আলোকে জেলা পর্যায়েও মহান মে দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে শ্রম ভবন, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ও রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক দ্বীপ ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড দিয়ে সজ্জিত করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। দিবস উপলক্ষে জাতীয় শ্রমিক লীগ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, জাতীয় শ্রমিক জোট, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, সিপিবি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, জাসদ, গণফোরাম, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ও পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন পৃথকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল শ্রমিক সমাবেশ, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সোনার বাংলা গড়ার
অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সারাদেশে
মহান মে দিবস পালিত
শ্রমিক-মালিক ভাই ভাই, সোনার বাংলা গড়তে চাই এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে ১ মে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান মে দিবস পালিত হয়েছে। দিনটি ছিল সরকারি ছুটির দিন। মহান মে দিবস পালন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করে। রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড়ের শ্রম ভবন এলাকা হতে র‌্যালিটি বের হয়। এই র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মহান মে দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। জাতীয় শ্রমিক লীগ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে মহান মে দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। জাতীয় শ্রমিক পার্টি মে দিবসে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় শ্রমিক জোট আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা দাবির প্রতি সমর্থন করে বলেন, ‘আমরা কারখানা রক্ষা করতে চাই, শ্রমিকদেরও হাসি মুখে রাখতে চাই। নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান মতিঝিলে এক শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, দুর্ঘটনা রোধে শ্রমিক মালিক ও যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন হতে হবে। চালকের অবহেলা ও অদক্ষতায় যেন দুর্ঘটনা না ঘটে সেজন্য চালকদের আরো বেশি সাবধানতার সাথে গাড়ি চালাতে হবে। মহান মে দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ট্রাস্ট গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও মিছিল বের করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এইচ এম বেল্লাল। সমাবেশে পোশাক শ্রমিকদের জন্য ১৫ দফা দাবিনামা উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবিদা সুলতানা দিবা। সমাবেশে ন্যূনতম মুজরি ১৪ হাজার টাকা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত, শ্রমিক হয়রানি বন্ধ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, পেশাগত স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বৃদ্ধি, ইপিজেডসহ সকল কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার, শ্রমিকদের জন্য আবাসন সুবিধা, আট ঘণ্টার মধ্যে এক ঘণ্টা কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়।
মহান মে দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগরীর প্রাইভেট কার ও ট্যাক্সি ক্যাব ড্রাইভার্স ইউনিয়ন, জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়ন, দি সিটি ব্যাংক কর্মচারী পরিষদ, বাংলাদেশ আওয়ামী মোটরচালক লীগ, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনয়ন, বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম, রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, জাগো বাংলাদেশ শিশু কিশোর ফেডারেশন, বাংলাদেশ সাংবাদিক অধিকার ফোরাম, লেবার রাইটস সাংবাদিক ফোরাম, বাংলাদেশ ট্রাস্ট গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, কারিতাস সেফ প্রকল্প, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ ক্ষেত মজুর সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন নিজ নিজ ব্যানারে সমাবেশ ও র‌্যালির আয়োজন করে।
একই ধরনের নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে খুলনা, সিলেট, লালমনিরহাট, কুমিল্লা, জয়পুরহাট, ঝিনাইদহ, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, ফরিদপুর, লক্ষ্মীপুর, সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালী, মেহেরপুর, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত হয়।

শ্রমিকের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতে
নিরলস কাজ করছে সরকার
অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্বের চাহিদার দিকে দৃষ্টি রেখে দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে মহান মে দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শ্রমকল্যাণ নিশ্চিতকরণে আমরা ‘জাতীয় শ্রমনীতি ২০১২’ প্রণয়ন করেছি। ‘বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫’ প্রণয়ন করেছি। ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি নীতিমালা ২০১৩’ এবং ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি ২০১১’ প্রণীত হয়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়নে ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিল’ গঠন করা হয়েছে। শিল্প-কারখানায় কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে উন্নীত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিল্প কলকারখানা সুরক্ষা এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে তাদের ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমি শ্রমজীবীদের একটা কথাই বলবোÑ যে কারখানা আপনাদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা করে আপনার ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা করে সে কারখানা যেন ঠিকমতো চলে, সেখানে যেন কোনো অশান্তি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে আমাদের সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সকলকে আশ্বস্ত করে বলেন, একটা ভরসা রাখবেন আপনাদের কোনো অসুবিধা হলে আমিতো আছিই। সেখানে কোনো সমস্যা হলে আমরা দেখবো। এ সময় জনগণের ভাগ্য গড়ার জন্যই তিনি ক্ষমতায় এসেছেন বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
মালিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালিকদের আমি বলবোÑ যে শ্রমিকরা শ্রম দিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আপনাদের জন্য উৎপাদন করে, আপনি ব্যবসা করেন আর অর্থ উপার্জন করেন, আপনারা ভালো থাকেন, আপনাদের পরিবার ভালো থাকে সেই শ্রমজীবী মানুষের প্রতিও আপনাদের আন্তরিক হতে হবে। তাদের প্রতিও আপনাদের কর্তব্যের যেন কোনোরকম কমতি না হয় সেটা দেখতে হবে।
তিনি এ সময় এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য ‘মালিক শ্রমিক ভাই ভাই সকলে মিলে সোনার বাংলা গড়তে চাই’-এর আলোকে বলেন, এই স্লোগানটা যে কতটা যুগোপযোগী স্লোগান সেটা মনে রেখে মালিক-শ্রমিক একে অপরের পরিপূরক শক্তি হয়ে কাজ করতে হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এইটুকুই চাই আমাদের মালিক এবং শ্রমিক তাদের মাঝে একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক যেন বজায় রাখে। বাইরের থেকে কেউ উসকানি দিলো অমনি সেখানে শুরু হয়ে গেল তা-বÑ এ ধরনের ঘটনা যেন কখনো না ঘটে সে ব্যাপারে আমি সকলকে সতর্ক করে দিচ্ছি। নিজের কাজ, চাকরি এবং পরিবারের রুটি-রুজির ব্যবস্থাটা যেন কোনোভাবে ধ্বংস না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্যও তিনি বিশেষভাবে আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা এ সময় শ্রমিকদের কল্যাণে তাঁর সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ যার মধ্যে শ্রম কল্যাণ কমপ্লেক্স নির্মাণ, শিল্প-কারখানা স্থাপন, মজুরি বৃদ্ধি, কল্যাণ তহবিল গঠন, শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য ডরমেটরি, ডরমেটরি কাম-ট্রেনিং সেন্টার, শ্রমজীবী মহিলা হোস্টেল নির্মাণ এবং শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ প্রদানে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের কথা তুলে ধরেন। তিনি তাঁর সরকারের সময়ে স্বল্প অভিবাসন ব্যয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে দালালদের খপ্পরে পড়ে বিদেশে সোনার হরিণ ধরতে যাওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য সকলকে সতর্ক করেন।
সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার রাজনৈতিক অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।