প্রতিবেদন

মুসলিম বিশ্বের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠায় ওআইসি’র কার্যকর ভূমিকা দরকার

মুসলিম দেশগুলোর সমস্যা সমাধান এবং মুসলিম দেশগুলোকে শান্তি, উন্নয়ন এবং প্রগতির পথে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)। কিন্তু প্রতিষ্ঠার এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় মুসলিম বিশ্বের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠায় ওআইসি তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। তারপরও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের প্রতি আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার জন্য ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওআইসি। ঢাকায় ওআইসির ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে ওআইসির শীর্ষ নেতারা এই প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি কার্যকরে ওআইসির কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিপন্ন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিপীড়িত মানবতার পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। কাজেই মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী যখন জাতিগত নির্মূলের মুখোমুখি, ওআইসি তখন নিশ্চুপ থাকতে পারে না। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে ওআইসিকে অবশ্যই নেপিডোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। সীমিত আয়তনের এদেশটিতে প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বসবাস। গত বছর বাংলাদেশের জন্য ছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগের বছর। হাওরে আগাম বন্যা এবং দেশজুড়ে অতিবৃষ্টি ও অকাল বন্যায় কয়েক কোটি মণ ধানের ক্ষতি হয়েছে। নিজেদের দুঃসময়েও বাংলাদেশ মিয়ানমারের বিপদাপন্ন রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবতাবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। মিয়ানমারের প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ আশ্রয় দিয়েছে। ইতিহাসের এক বিশেষ সন্ধিক্ষণে ঢাকায় ইসলামি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক চলাকালে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখনকার মতো মুসলিম বিশ্ব আগে কখনো এত বেশি সংঘাত, অভ্যন্তরীণ গোলযোগ, বিভাজন ও অস্থিরতার মুখোমুখি হয়নি। লক্ষ্য করা যায়নি এত ব্যাপক হারে বাস্তুহারা জনগোষ্ঠীর দেশান্তর। আজ মুসলিম পরিচয়কে ভুলভাবে সহিংসতা ও চরমপন্থার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে পারে না। এখন সময় এসেছে আমাদের চিন্তা-চেতনা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনার। সময় এসেছে টেকসই শান্তি, সংহতি ও সমৃদ্ধির আলোকে আমাদের ভবিষ্যৎকে নতুন আঙ্গিকে ঢেলে সাজানোর। প্রধানমন্ত্রী মুসলিম বিশ্বের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে ৫ দফা প্রস্তাব পেশ করেন। মুসলিম বিশ্বকে নিজেদের বিরোধ নিজেরাই মিটিয়ে ফেলা এবং সব ধরনের বিভাজন দূর করার সুপারিশ সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওই প্রস্তাবে ইসলামের শাশ্বত মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে সবাই মনে করেন। সে মতে মুসলিম বিশ্বের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠায় ওআইসি’র কার্যকর ভূমিকা দরকার বলে আমরা মনে করি।