প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইআরআই’র গবেষণা প্রতিবেদন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা বেশিরভাগ বাংলাদেশির

স্বদেশ খবর ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব ও বর্তমান অর্থনৈতিক উন্নতিতে শেখ হাসিনা ও তার দলকেই বেশি কৃতিত্ব দেয় দেশের মানুষ। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ও এর নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রতি বেশিরভাগ বাংলাদেশির মনোভাব নেতিবাচক। অন্যান্য বিরোধী দলের তুলনায় বর্তমানে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতি মানুষ বেশি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) ‘বাংলাদেশ : ডেইলি চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৭ সালে দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে ১৬টি ‘ফোকাস গ্রুপ’ আলোচনার মাধ্যমে এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের মনোভাব জানতে এই গুণগত গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে।
১ মে প্রকাশ করা প্রতিবেদন অনুযায়ী নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবির প্রতি মানুষের সমর্থনও এখন মাঝারি পর্যায়ে নেমে এসেছে। বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গুণগত মান নিয়ে সন্দিহান। তারপরও বেশিরভাগ মানুষ আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী। আইআরআই’র এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ডেরেক লুইটেন বলেছেন, এমন অবস্থায় নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা ও বর্তমান অর্থনৈতিক উন্নয়নে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগ ও দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন আলোচনায় অংশ নেয়া বেশিরভাগ মানুষ। ময়মনসিংহে অংশগ্রহণকারী এক নারী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, জেল খেটেছেন। এজন্য জনগণ আওয়ামী লীগকে ভালোবাসে। অনেক অংশগ্রহণকারীর মতে, শেখ হাসিনাও তার বাবার মতো ভালো কাজ করছেন। পদ্মাসেতু হচ্ছে বর্তমান সরকারের কারণেই। রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
গ্রুপ আলোচনায় অংশ নেয়া বেশিরভাগ মানুষই বিএনপি ও এর নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। বিএনপির প্রতি প্রশংসার চেয়ে সমালোচনা বেশি করেছে অংশগ্রহণকারীরা। খালেদা জিয়ার প্রশংসা বেশি করেছে অংশগ্রহণকারীরা। যদিও এই প্রশংসা শেখ হাসিনার তুলনায় কম। জামায়াতের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্যই বেশি এসেছে। সহিংস রাজনীতির জন্য অনেকেই জামায়াতকে দায়ী করেছেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ কমেছে। বিগত (২০০৭-০৮) তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নেতিবাচক ধারণা এ ধরনের সরকার ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তনের দাবিকে দুর্বল করেছে বলে মনে করে আইআরআই।
বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ে প্রশ্ন ও সমালোচনা রয়েছে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে। এরপরও আগামী নির্বাচনে ভোট দেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারী। তারা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক মনোভাবও দেখতে চান।
প্রকাশ্যে রাজনৈতিক মতামত নিয়ে আলাপ-আলোচনায় ভীতি রয়েছে জনগণের মাঝে। রাজনৈতিক দলের শাস্তির ভয়ে তারা প্রকাশ্যে মত প্রদান করতে চান না।
বাংলাদেশের বিরাট অর্থনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, সম্পদের বৈষম্য এবং সুযোগের অভাব নিয়েই মূল উদ্বেগ। অনেকের মধ্যে অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও তারা এজন্য সরকারের চেয়ে বেশি দায়ী করেছে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় প্রশাসনকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যক্তি ও কমিউনিটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে মানুষের মধ্যে। ছিনতাই, সড়ক দুর্ঘটনা, মাদক, শিশু পাচার ও নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা। অনেক সময় ধর্ষণের মতো ঘটনার বিচারে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।
প্রতিবেদনের সুপারিশে আইআরআই বলেছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সকল ক্ষেত্রে পৌঁছাচ্ছে না। এর সুফল সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছাতে হলে ব্যাপকভাবে স্থানীয় উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতে দুর্নীতি কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।