ফিচার

রূপচর্চা : গরমে তৈলাক্ত ত্বকের যতেœ যা করবেন

গরমে তৈলাক্ত ত্বকের যতেœ যা করবেন

গরমে ত্বকে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা। সানবার্ন থেকে শুরু করে র‌্যাশ, সমস্যা রয়েছে হাজারটা। তবে সমস্যার পাশাপাশি এর সমাধানও রয়েছে। একটু সচেতন থাকলেই নিশ্চিত করতে পারবেন আপনার ত্বকের সুস্থতা। গরমে ব্যবহার করতে পারেন গ্লিসারিনসমৃদ্ধ সাবান অথবা ক্লিনজার বা ফেসওয়াশ। তবে গরমে সবচেয়ে ভালো হচ্ছে ময়েশ্চারাইজিং ক্লিনজার। তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীদের গরমকালে কষ্ট হয় বেশি। তেলগ্রন্থিগুলো এ সময় সক্রিয় হয়ে ওঠার কারণে তেল বের হয় বেশি। এ জাতীয় ত্বকের অধিকারীরা মেডিকেটেড ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে ভালো ফল পেতে পারেন।
রোদ থেকে রক্ষা পেতে বাইরে বের হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করবেন, বিশেষ করে চোখের নিচের নমনীয় ত্বকের জন্য মেডিকেটেড সানস্ক্রিন এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য তেলবিহীন সানস্ক্রিনই ব্যবহার করতে হবে। রোদে বাইরে বের হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করবেন। শুষ্ক ত্বকের খসখসে ভাব দূর করার জন্য এবং বলিরেখা পড়ার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সবসময় ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। অবশ্য ক্রিমের বদলে বেবি লোশনও ব্যবহার করতে পারেন। তবে গরমের দিনে ক্রিম হতে হবে তেলবিহীন। প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ যতেœরও। গরমে সুস্থ থাকতে প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল এবং কমপক্ষে ১০-১২ গ্লাস পানি পান করতে হবে। এ সময় গুরুপাক খাবার এড়িয়ে চলুন। টক, ভাজাপোড়া এবং খুব বেশি গরম খাবার খাবেন না। রোদে বের হওয়ার আগে সানগ্লাস নিতে ভুলবেন না যেন।
নিয়মিত মুখের ত্বক পরিষ্কার করুন। ঘাম ও মুখের তৈলাক্ত ভাবের কারণে অস্বস্তি হয় বলে নিজের সুবিধামতো সময়ে বারবার মুখ ধুয়ে নিতে চেষ্টা করুন। মুখ ধোয়ার পানিতে দু-এক ফোঁটা গোলাপজল মিশিয়ে নিতে পারেন, তাতে সতেজ অনুভূতি পাবেন। বাজারে যেসব ফেসওয়াশ কিনতে পাওয়া যায়, তা যদি আপনার ত্বকে মানিয়ে যায়, তবে সেটি ব্যবহার করতে পারেন। দিনে অন্তত দু’বার গোসল করুন। গরম পানিতে নিমপাতা ডুবিয়ে রেখে সেই পানিতে গোসল করতে পারেন, এতে বিভিন্ন জীবাণুর সংক্রমণ থেকে বাঁচবেন। নিমযুক্ত সাবানও ব্যবহার করতে পারেন। পাউডার ব্যবহার করলে তা দিন শেষে অবশ্যই পরিষ্কার করে ফেলবেন।
মেকআপ হবে যেমনÑ যে প্রসাধনীই ব্যবহার করুন না কেন, তা হতে হবে ওয়াটার-বেইসড বা পানিনির্ভর। অর্থাৎ অয়েল-বেইসড বা তেলের প্রাধান্য বেশি এমন কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করা যাবে না। ফাউন্ডেশন লাগাতে হবে খুব কম। ফেসপাউডার লাগালে কোনো ক্ষতি নেই। এমন আইলাইনার লাগানো উচিত, যেন তা ভিজে গেলেও মুছে না যায়।

ত্বকের ঘরোয়া যতœ
মুলতানি মাটি, চন্দনের গুঁড়া, কাগজিলেবুর রস এবং সর তোলা দুধ বা টকদই একত্রে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখতে পারেন ১০-১৫ মিনিট। এতে ত্বকের বাড়তি তেল ও ময়লা বেরিয়ে যাবে। তবে কাগজিলেবুর রস সরাসরি ব্যবহার না করে এটিকে গোলাপজলের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে তারপর ব্যবহার করুন। আর চন্দনের পরিবর্তে চাইলে ভিজিয়ে রাখা মসুরের ডাল বেটে নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

খাদ্যাভ্যাসে আনুন পরিবর্তন
সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার খাবেন না। ভাজাপোড়া কম খাবেন। ছোট মাছ, শাকসবজি খাবার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রচুর পানি পান করুন। সকালে ঘুম থেকে উঠেই লেবুপানি পান করতে পারেন। উঠতি বয়সীরা লেবুপানির সঙ্গে একটু মধুও যোগ করতে পারেন। ফলের রসও পান করতে পারেন।

ব্রণের সমস্যা?
ব্রণ সাধারণত একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যেই হয়ে থাকে। উঠতি বয়সীদের মধ্যেই এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে কখনো কখনো ব্রণের সমস্যা হতে পারে তরুণীদেরও। ব্রণ থেকে দুই ধরনের সমস্যা হতে পারে। একটি হচ্ছে দাগ এবং অপরটি হচ্ছে ক্ষত সৃষ্টি হওয়া। ব্রণ ভালো হয়ে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে এমনিতেই দাগ চলে যায়। এমনিতে দাগ চলে না গেলে দাগ দূর করার ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। অতিরিক্ত রোদ ও গরমে ব্রণ বেশি হতে পারে।

জেনে নিন
বেসন অথবা মসুরের ডাল বাটার সঙ্গে টকদই, আমন্ড বাদাম, কমলালেবুর খোসা নিমপাতা একত্র করে বেটে একটি প্যাক তৈরি করতে পারেন। এটি তৈরি করে ফ্রিজে রেখে কয়েক দিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারেন। প্যাকটি প্রতিদিন মুখে লাগাবেন এবং ভেজা তোয়ালে দিয়ে মুছে নেবেন। মুখ ছাড়াও প্যাকটি শরীরের যেকোনো জায়গায় সাবানের পরিবর্তে ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া ১৫ দিন অন্তর ফেসিয়াল করাতে পারেন।
Ñগ্রন্থনা : সাবিনা ইয়াছমিন