প্রতিবেদন

সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এখন অনেক বেশি উজ্জ্বল

নিজস্ব প্রতিবেদক
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি বাদশাহ সালমান-বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ-এর আমন্ত্রণে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক মহড়ায় যোগ দিতে সৌদি আরব, কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের বৈঠক-২০১৮-এ যোগ দিতে যুক্তরাজ্য এবং সিডনিতে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে (আইসিসি) অনুষ্ঠিত নৈশভোজের এক অনুষ্ঠানে গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ গ্রহণের জন্য অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। দেশ তিনটি সফর শেষে গত ২ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা তাঁর সাম্প্রতিক তিন দেশ সফরকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, এই সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী গত ১৫ থেকে ১৬ এপ্রিল সৌদি আরবে একটি যৌথ সামরিক মহড়া ও ১৭ থেকে ২২-এ এপ্রিল লন্ডনে কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করেন। ২৬ থেকে ২৯ এপ্রিল শেখ হাসিনা অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। সেখানে তাঁকে গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮তে ভূষিত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সৌদি আরব সফর সম্পর্কে বলেন, সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক মহড়ায় ১৮ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত যৌথ সামরিক মহড়ায় ২৩টি দেশ যোগ দেয়। এ সময় আমিসহ অংশগ্রহণকারী দেশসমূহের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানদের সৌদি বাদশাহ অভ্যর্থনা জানান। আমি সৌদি বাদশাহ ও অন্যান্য দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করি।
শেখ হাসিনা তাঁর যুক্তরাজ্য সফর সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে জানান, কমনওয়েলথ সম্মেলনে ৪টি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এগুলো হচ্ছে সকলের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ, একটি অধিক টেকসই ভবিষ্যৎ, একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ ও একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ। এই ৪টি এজেন্ডা ছাড়াও গণতন্ত্রের বিকাশ, মানবাধিকার এবং সদস্যভুক্ত দেশগুলোতে আইনের শাসন জোরদার করাসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। সদস্যভুক্ত দেশগুলোর জন্য এ বছরের সম্মেলন ছিল আন্তর্জাতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ করে বেক্সিটের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের বিরোধিতা। শেখ হাসিনা বলেন, সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিযোজনে প্রযুক্তি হস্তান্তর, জলবায়ু পরিবর্তনে অর্থায়ন ও অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতগুলোতে সহিষ্ণু ও সক্ষমতার উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ব্রিটেনের রাণীর সম্মানে রয়েল সোসাইট কর্তৃক উৎসর্গীকৃত কুইন্স কমনওয়েলথ ক্যানোপি (কিউসিসি) প্রকল্প ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ক্ষুদ্র ও সংরক্ষিত ‘শালবনকে সংযুক্ত করার ঘোষণা দেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সফলতা বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নের চিত্র তুলে ধরেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি কমনওয়েলথকে আরো কার্যকর এবং উন্নয়নমুখী একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে এর পুনর্গঠন ও সংস্কারের ব্যাপারে সদস্যভুক্ত দেশগুলোর নেতৃবৃন্দের মনোযোগ আকর্ষণ করি। তিনি কমনওয়েলথ সম্মেলন-২০১৮তে গৃহীত ব্লু ইকোনমি সংক্রান্ত কমনয়েলথ ব্লু চার্টার বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ব্লু চ্যাম্পিয়নে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি ব্রিটেন ও কানাডার প্রধানমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকটি দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে কমনয়েলথ নেতৃবৃন্দ ধৈর্যসহকারে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় তাঁর সরকারের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন এবং এ সমস্যা সমাধানে জোরালো সমর্থনের আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের আমন্ত্রণে বিশ্ব নারী সম্মেলনে যোগ দিতে ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। তিনি ২৭ এপ্রিল সিডনিতে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে (আইসিসি) অনুষ্ঠিত নৈশভোজের এক অনুষ্ঠানে গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ গ্রহণ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও এশীয়- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নারী শিক্ষার বিস্তার এবং নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে তার নেতৃত্বের জন্য গ্লোবাল উইমেন সামিট তাকে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে। অনুষ্ঠানে গ্লোবাল উইমেন সামিটের প্রেসিডেন্ট আইরিন নাতিভিদাদ প্রায় ১ হাজার নারী নেত্রীর উপস্থিতিতে তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।
শেখ হাসিনা অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করে বলেন, নারী নেত্রীরা এ সময় মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। আইরিন নাতিভিদাদ নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তি চালু এবং জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোন দল নির্বাচন করবে- কী করবে না এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত এবং কে সরকার গঠন করবে জনগণই তার সিদ্ধান্ত নিবে। ‘নির্বাচনে আসার বিষয়টি হচ্ছে গণতন্ত্র। কোন দল নির্বাচন করবে, কোন দল করবে না এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত, আমি কোনো দলীয় সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারি না।’ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। নির্বাচন ঠেকাতে চেষ্টা করেছে এবং ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ হত্যা করেছে, ৫৮২টি স্কুল পুড়িয়েছে, ৭০টি অফিস পুড়িয়ে দিয়েছে, গাছ কেটেছে, রাস্তা কেটেছে, ধ্বংসাত্মক কর্মকা- চালিয়েছে। ২৭ জন পুলিশ হত্যা করেছে। কাজেই এখন নির্বাচনে আসবে কি আসবে না সেটা সম্পূর্ণই তাদের ওপর নির্ভর করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে জেতার বিষয়টি আমি জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি। জনগণ যদি মনে করে তাদের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে তাহলে নৌকা মার্কায় ভোট দেবে। আমরা আবার ক্ষমতায় আসবো। অন্তত যে পরিকল্পনাগুলো আমরা নিয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, মধ্যম আয়ের এবং উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। ইনশাআল্লাহ একমাত্র আওয়ামী লীগই সেটা করতে পারবে। আর কেউ পারবে না। নইলে এতদিন তো ক্ষমতায় ছিলো জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া। দেশের উন্নয়ন হয়নি কেন? এখন হচ্ছে কেন? প্রধানমন্ত্রী এ সময় মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধির ফলে রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টির বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি বলছে তাদের নেত্রী মুক্ত না হলে নির্বাচন করবে না এখন তাদের নেত্রীকে তো আমি জেলে পাঠাইনি। আমি যদি জেলে পাঠাতাম ২০১৪, ১৫ এবং ২০১৬ সালে যেমন তিনি মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করছিলেন, ৬৮ জন লোক নিয়ে নিজেই একটি অফিস রুমে অন্তরীণ থেকে এবং সেখান থেকে হুকুম দিয়ে যখন মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করলেন তখনই তাকে আমি গ্রেপ্তার করতাম। সেই গ্রেপ্তারটা আমি রাজনৈতিকভাবে করতে চাইনি। এমনকি আপনারা জানেন তার ছেলে মারা গেল আর আমি দেখতে গেলাম। মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিল ঢুকতে দিল না। অন্য কোনো দেশ হলে কি করতোÑ ওই দরজার বাইরে আর একটি তালা দিয়ে দিত। যেন সেখান থেকে আর কেউ বের হতেই না পারে। কারণ আমি যদি ঢুকতে না পারি, তাহলে তোমরা বের হতেও পারবে না। সেই তালা আমি দিয়ে দিতে পারতাম। যদিও আমি সেটাও করিনি।
প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মামলা সম্পর্কে বলেন, ১০ বছর একটা মামলা চলেছে, ১৫২ থেকে ১৫৪ বার সময় নিয়েছে, তিনবার কোর্ট বদল হয়েছে। ২২ বার রিট হয়েছে। তারপরও বিএনপি’র কত বড় বড় আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আইনজীবী রয়েছে। তারা কিছুতেই প্রমাণ করতে পারলো না যে খালেদা জিয়া এতিমখানার নামে টাকা এনে দুর্নীতি করেনি। তারা প্রমাণ করতে পারেনি। ফলে কোর্ট রায় দিয়েছে। এখানে আমাদের কাছে দাবি করে তো কোনো লাভ নেই। খালেদা জিয়া আইনগতভাবেই যখন কারাগারে গেছে, আইনগতভাবেই তাকে মোকাবিলা করতে হবে। আমাদের কাছে দাবি করে কি লাভ হবে? আমরা কি করতে পারবো? তিনি বেগম জিয়াকে গ্রেপ্তার না করলেও বরং একটি অন্যায় কাজ করেছেন উল্লেখ করে বেগম জিয়ার সেবা-যতেœর জন্য তার সঙ্গে কারাগারে প্রেরণ করা গৃহপরিচারিকা ফাতেমার কথা উল্লেখ করে বলেন, সাজাপ্রাপ্ত কোনো আসামিকে কবে কখন কোন দেশে গৃহপরিচারিকা সরবরাহ করা হয়েছে। একজন নিরপরাধ মানুষ এখানে বেগম জিয়ার সঙ্গে জেল খাটলেও কোনো মানবাধিকার সংস্থা আজ পর্যন্ত সোচ্চার না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার সেবা এবং পরিচর্যার জন্য চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজের ব্যবস্থা করে দেয়ার বিষয়টিও এ সময় উল্লেখ করেন।
তারেক রহমানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে এ ধরনের অপরাধীকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার। এ ব্যাপারে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং আইনগত ও আন্তর্জাতিকভাবে আমরা তা করবো। সে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি এটা ভুলে গেলে চলবে না। তার অপরাধের বিষয় শুধু আমাদের দেশে নয়, এফবিআইয়ের প্রতিনিধিরা এসেও সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন। সে দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং আরো মামলা রয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত এই আসামি বিদেশের মাটিতে বসে আন্দোলন করে।
একজন সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি হওয়া সত্ত্বেও তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করায় বিএনপি’র কঠোর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি অবাক হয়ে যাইÑ একটা দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পেতে গেলে তার পাসপোর্ট সারেন্ডার করতে হয়। এরপর সে ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট পায়, যেখানে স্পষ্ট লেখা থাকে যে দেশ থেকে সে এসেছে সে দেশে আর ফেরত যেতে পারবে না। এ ধরনের একজন আসামিকে বিএনপি কিভাবে তাদের নেতা বানায়? দলে কি বাংলাদেশে তারা একজনও উপযুক্ত নেতা খুঁজে পেল না? আন্দোলনকারীদের দাবির কারণে কোটা সংস্কার না করে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে কোটাই তুলে দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা কোটা চায় না। এ বিষয়ে তারা আন্দোলন করেছে। ঠিক আছে, আমি দাবি মেনে নিয়েছি। এখানে ক্ষুব্ধ হওয়ার কোনো বিষয় নেই। তা নিয়ে এখন আর প্রশ্নই বা আনার দরকার কী? ১৯৭২ সালে জাতির পিতা এই কোটা করে দেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের জন্য চাকরির কোটা শতকরা ৩০ শতাংশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, জাতির পিতা দিয়ে গেছেন এটা ঠিক। কিন্তু আপনারা বিবেচনা করে দেখেন, ’৭৫ সালের পর কোনো মুক্তিযোদ্ধা ওই কোটায় কি চাকরি পেয়েছেন?
আন্দোলনকারীদের ৫ দফা দাবি তিনি দেখেছেন এবং তাঁর অনেক আগে থেকেই খালি কোটা মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা হচ্ছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি নিজ হাতে ফাইলের ওপর লিখে দিয়েছিলেন, যেখানে যে কোটা পাওয়া যাবে না সেখানে মেধাতালিকা থেকেই পূর্ণ করা হবে। কোনো কোনো বছর ৭৭ শতাংশ পর্যন্ত মেধাতালিকা থেকে পূরণ হচ্ছিল। যারা পরীক্ষা দিচ্ছে তারা সকলেই মেধাবী এবং যারা পাস করছে তারাই কেবল কোটার সুযোগ পাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটার পক্ষে যৌক্তিকতা তুলে ধরলেও এখনকার শিক্ষার্থীরা সকলে তার নাতির বয়সী এবং তাদের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশকে মেনে নিতেই তিনি কোটা তুলে দিয়েছেন। কাজেই এখন এ নিয়ে আর কোনো কথার অবকাশ থাকতে পারে না বলেও শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন।
গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বিলম্বের কথা স্বীকার করে এ বিষয়ে ভারত, রাশিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের পাশে রয়েছে বলে উল্লেখ করে তাদের পুনর্বাসনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি ও জরুরি সহায়তা প্রদানে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী দেশগুলো এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বিশ্বের উদ্যোগও তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে মানবিকতা রয়েছে। দুস্থ মানুষের সঙ্গে খাবার ভাগ করে নিতে আমাদের দেশের মানুষ জানে।’
প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে তুলে ধরে সকলকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার এবং এ বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে গেলে জনগণ যেন নিজের হাতে আইন তুলে না নেয়, সে জন্য সচেষ্ট হতে তিনি সকলকে পরামর্শ দেন। এসময় বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন, ছাত্রলীগের আসন্ন সম্মেলন, যানজট এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নানা অনিয়ম প্রসঙ্গেও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে উপস্থিত সাংবাদিকরা ‘গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮তে ভূষিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিক, সম্পাদক এবং মিডিয়া কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।