প্রতিবেদন

২৫ মে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী : শেখ হাসিনা ও শর্মিলা ঠাকুরকে ডি লিট দিচ্ছে আসানসোলের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুই দিনের সফরে আগামী ২৫ মে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সফরে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদান এবং আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ করবেন। বিশ্বভারতী-শান্তিনিকেতনের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার সঙ্গে থাকবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অনুষ্ঠানের ফাঁকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কথা হবে। ভারতের সরকারি সূত্র ও বিশ্বভারতীর উপাচার্য সবুজকলি সেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
জানা যায়, ২৫ মে সকালে কলকাতা পৌঁছে শান্তিনিকেতনের উদ্দেশে রওনা হবেন শেখ হাসিনা। শান্তিনিকেতনে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন করবেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উপস্থিত থাকবেন। এ অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত থাকতে পারেন, তাঁকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একইদিন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন নরেন্দ্র মোদি, যিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির আচার্য।
বিশ্বভারতীর অনুষ্ঠান শেষে ওই দিন রাতে কলকাতায় ফিরে রাত্রিযাপন করবেন শেখ হাসিনা। তিনি পরদিন ২৬ মে আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হবে। তাছাড়া ওই দিন আরও দুই বিশেষ ব্যক্তিত্বের হাতে তুলে দেয়া হবে সম্মানসূচক ডি লিট। তারা হলেনÑ বলিউড তারকা শর্মিলা ঠাকুর ও ভারতের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এসএম ইউসুফ। অনুষ্ঠান শেষে ওই দিন বিকেলেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিশ্বভারতী জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাবর্তনে যোগ দেবেন এবং দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করবেন।
কলকাতার বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর শান্তিনিকেতন সফরের আগে গত ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বাংলাদেশ ভবনের নির্মাণ কাজের চূড়ান্ত পর্ব সরজমিনে ঘুরে দেখেন। ১৮ এপ্রিল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সবুজকলি সেনের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন আসাদুজ্জামান নূর। ওই বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শান্তিনিকেতন সফর সম্পর্কে বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে অবগত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য শান্তিনিকেতন সফরকে ঘিরে উপ-দূতাবাস ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করে দিয়েছে। সংস্কৃতিমন্ত্রী শান্তিনিকেতন থেকে ঢাকায় ফেরার পর আরও দুটি প্রতিনিধি দল শান্তিনিকেতন সফর করবে বলেও ওই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন। এই বিষয়ে কলকাতার স্থানীয় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই বাংলাদেশ ভবন হস্তান্তর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঢাকায় ফিরে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। আড়াই বিঘা জমির ওপর প্রায় সাড়ে ১১ হাজার বর্গফুটের দ্বিতল বাংলাদেশ ভবনের পুরো ব্যয়ভার বহন করছে বাংলাদেশ সরকার।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের পর শান্তিনিকেতনে ‘বাংলাদেশ ভবন’ নির্মাণের প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরপরই এ ভবন নির্মাণের জন্য বিশ্বভারতী দুই বিঘা জমি দান করে। বাংলাদেশ সরকার ভবন নির্মাণের জন্য দেয় ২৫ কোটি রুপি। তবে নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের শেষ দিকে।
বাংলাদেশ ভবনে একটি অত্যাধুনিক প্রেক্ষাগৃহ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বছরভর নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। তাছাড়া রয়েছে প্রদর্শনী কক্ষ। বড় একটি পাঠাগারও তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দুই বাংলার সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামের কাহিনি সংক্রান্ত বইপত্র থাকবে। রয়েছে শহীদ মিনার, ভবনের প্রবেশদ্বারের দুই প্রান্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুটি ম্যুরালও বসানো হচ্ছে। দুই দেশের সম্পর্ক দৃঢ় করতে এই উদ্যোগ একটা বড় ভূমিকা নেবে বলে দুই দেশ দৃঢ়ভাবে মনে করে।