কলাম

দুর্যোগের ঝুঁকি প্রশমনে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

শাহাব উদ্দিন মাহমুদ
বাংলাদেশে বজ্রপাত নতুন কোনো বিষয় নয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলগুলোর একটি। এ বছর বজ্রপাতের তা-ব যথারীতি শুরু হয়েছে। বন্যা এবং সাইক্লোনের মতো দুর্যোগের ক্ষেত্রে কিছু প্রস্তুতি নেয়ার সময় ও সুযোগ থাকলেও বজ্রপাতের বিষয়টি ভূমিকম্পের মতোই প্রাকৃতিক এবং অতি আকস্মিক একটি বিষয়। উন্নত দেশগুলোর কোনো কোনোটিতে উল্লেখযোগ্য হারে বজ্রপাত হলেও মানুষের মৃত্যুসংখ্যা আমাদের দেশের তুলনায় অতি নগণ্য। যদিও বজ্রপাত প্রকৃতির সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যগুলোর একটি। এটি মানুষের পরিচিত সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক ঘটনার একটিও। সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রার প্রায় সমান মাত্রার স্ফুলিঙ্গ আর ভয়াবহ গর্জন বহুকাল ধরেই চলে আসছে। বজ্রপাতের এই ভয়ঙ্কর সৌন্দর্যের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে বিজ্ঞানের আরেকটি চিরন্তন রহস্যের জন্ম দেয়, বজ্রপাতের কারণ কী? ছোটবেলায় এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা বেশিরভাগ সময় এ উত্তর পেয়েছি, মেঘে মেঘে সংঘর্ষের ফলাফল হলো এই বজ্রপাত। আসলে কি তাই? কেন? কোথায় বজ্রপাত হয়? বজ্রপাত হওয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জেনে আমরা যদি সতর্ক হতে পারি তবে বজ্রপাতে প্রাণহানি অনেক কমে যেতে পারে। আশার কথা হলো মহাশূন্যে আমাদের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ কাজ শুরু করার পর ভাড়া করা স্যাটেলাইটের নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠে অর্থ সাশ্রয় করার পাশাপাশি আবহাওয়া, বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস, ভূতাত্ত্বিক জরিপ, ছবি তোলা, মানচিত্র তৈরি, জলবায়ু পরিবর্তনের সমীক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হবে।
সাধারণত উত্তপ্ত ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে বজ্রপাত বেশি হয়। উত্তপ্ত বায়ু যখন দ্রুতগতিতে ঠা-া হয়, তখন বজ্রমেঘের সৃষ্টি হয়। এই বজ্রমেঘের ভেতরে বাতাসের দ্রুতগতির আলোড়নের সৃষ্টি হয়। এর ফলে বাতাসের জলীয়বাষ্প একই সময়ে বৃষ্টিকণা, শিশিরবিন্দু ও তুষার কণায় পরিণত হয়। বৃষ্টিকণা ও তুষার কণার পারস্পরিক সংঘর্ষের ফলে তুষারের ইলেকট্রন চার্জ ধাক্কা খায়। ফলে স্থির বৈদ্যুতিক চার্জের সৃষ্টি হয়। এই চার্জ সঞ্চিত হয়ে তীব্র শব্দের বজ্রপাত সৃষ্টি করে। যখন বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ উচ্চ তাপমাত্রা সৃষ্টি করে, তখনই তীব্র শব্দের সৃষ্টি হয়। বাতাসের মধ্য দিয়ে দ্রুত প্রবাহিত বজ্রবিদ্যুৎ প্রায় ৩০ হাজার ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা উৎপন্ন করে। ফলে বায়ুর দ্রুত প্রসারণ হয় ও তীব্র শব্দের সৃষ্টি হয়। সংক্ষেপে বলতে গেলে বাতাসে ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ যতই দ্রুততর হয়, বজ্রপাত তত বেশি মাত্রায় হয়ে থাকে। পজেটিভ ও নেগেটিভ মেঘ থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালনকালে বজ্রের সৃষ্টি হয়, তখন মেঘের ভেতরে থাকা অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন গ্যাসের সম্প্রসারণ ঘটে। এতে প্রচুর ঝলকানি দিয়ে পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ে বজ্র। তখন এর সামনে মানুষ বা পশুপাখি যাই পড়ে, তার নির্ঘাত মৃত্যু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল লাইটনিং সেফটি’ ইনস্টিটিউটের মতে, প্রতি বছর সারাবিশ্বে বজ্রপাতে মৃত্যুর এক-চতুর্থাংশ ঘটে বাংলাদেশে।
পানিচক্রের নিয়মে জলাধারের পানি বাষ্পীভূত হয়ে মেঘ আকারে আকাশে আশ্রয় নেয়। এই মেঘই হলো বজ্রপাতের ব্যাটারি। বজ্রপাতের জন্য দায়ী মেঘ বৈদ্যুতিক চার্জের আধারের মতো আচরণ করে। যার ওপরের অংশ পজেটিভ এবং নিচের অংশ নেগেটিভ চার্জে রূপান্তরিত হতে থাকে। পানিচক্রে জলকণা যখন ক্রমশ ঊর্ধ্বাকাশে উঠতে থাকে তখন তারা মেঘের নিচের দিকের বেশি ঘনীভূত বৃষ্টি বা তুষার কণার সঙ্গে সংঘর্ষের মুখোমুখি হয়। যার ফলে ওপরের দিকে উঠতে থাকা অনেক বাষ্পকণা বেশ কিছু ইলেকট্রন হারায়। এই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো মেঘের তলদেশে জমা হয় এবং ইলেকট্রন হারানো পজেটিভ চার্জে রূপান্তরিত বাষ্পকণা মেঘের একেবারে ওপরের পৃষ্ঠে চলে যায়। যার ফলশ্রুতিতে মেঘগুলো শক্তিশালী ধারক বা ক্যাপাসিটারের বৈশিষ্ট্য লাভ করে। মেঘের দুই স্তরে চার্জের তারতম্যের কারণে সেখানে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি হয়। এই বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের শক্তি মেঘে সঞ্চিত চার্জের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। এভাবে বাষ্পকণা ও মেঘে সংঘর্ষ চলতে চলতে মেঘের ওপরে এবং নিচে যথাক্রমে পজেটিভ ও নেগেটিভ চার্জের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে এতটাই শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি করে যে তার বিকর্ষণে পৃথিবীপৃষ্ঠে অবস্থানরত ইলেকট্রনগুলো ভূপৃষ্ঠের আরো গভীরে চলে যায়। ফলাফলস্বরূপ ওই নির্দিষ্ট এলাকার ভূপৃষ্ঠ শক্তিশালী পজেটিভ বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে পরিণত হয়। মেঘের বিপুল শক্তিশালী বিদ্যুৎক্ষেত্র তার চারপাশের বাতাসের অপরিবাহী ধর্মকে নষ্ট করে দেয়। মেঘে অবস্থিত বিদ্যুৎক্ষেত্র যখন যথেষ্ট শক্তিশালী হয় (প্রতি ইঞ্চিতে প্রায় ১০ হাজার ভোল্ট) তখন তার আশপাশের বাতাস পজেটিভ এবং নেগেটিভ চার্জে বিভক্ত হয়ে যায়। এই আয়নিত বাতাস প্লাজমা নামেও পরিচিত। বাতাস আয়নিত হয়ে মেঘ এবং ভূপৃষ্ঠের মধ্যে বিদ্যুৎ চলাচলের পথ বা শর্ট সার্কিট তৈরি করে দেয় এবং বজ্রপাত ঘটায়। আবহাওয়াবিদদের মতে, চারভাবে বজ্রপাত হয়ে থাকে। প্রথমত, মেঘমালা থেকে ভূপৃষ্ঠে। দ্বিতীয়ত, মেঘমালার সঙ্গে মেঘমালার। তৃতীয়ত, একই মেঘের মধ্যে। চতুর্থত, মেঘমালা থেকে বায়ুম-লে। এর মধ্যে মেঘমালা থেকে ভূপৃষ্ঠে যে বজ্রপাত হয় সেটি সবচেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর। তাতে মানুষ ও জীবজন্তুর প্রাণহানি ঘটে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের গবেষণায় বলা হয়েছে ‘ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার মিটার ওপরে উষ্ণ, আর্দ্র বাতাসের বড় একটি অংশ বাংলাদেশের ওপরের বায়ুম-লের স্তরটা দখল করে ফেলেছে। একই অংশে নিচের বায়ুম-লের স্তরটা ঠা-া। এই তাপমাত্রার সঙ্গে বজ্রপাত বৃদ্ধির একটা ওতপ্রোত সম্পর্ক রয়েছে। আবহাওয়া ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে বজ্রপাত বাড়ছে। গাছপালা কমে যাওয়া ও অতিরিক্ত কার্বণ নিঃসরণের কারণে মূলত এমনটি হচ্ছে। বজ্রপাত পরিবেশ বিপর্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটা যেকোনো সময়ে ঘটতে পারে। তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, বেশি গাছপালা থাকলে বজ্র গাছের মধ্যে পড়লে জানমালের ক্ষতি কম হতো। জলবায়ু পরিবর্তন, অব্যাহতভাবে বড় বড় বৃক্ষ নিধনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত গাছ লাগানো হচ্ছে না। তাই ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়াসহ বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বজ্রপাতের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রাথমিক সম্ভাব্য কারণগুলো হচ্ছে গাছ কেটে ফেলা, মোবাইল ফোনের বহুল ব্যবহার, জলাভূমি ভরাট করা, নদী শুকিয়ে যাওয়া, কলকারখানা ও মোটরগাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মোবাইল ফোন ও বৈদ্যুতিক টাওয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষি কাজে ভারী যন্ত্রের ব্যবহার ইত্যাদি। এছাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আর্দ্র ও উষ্ণ বায়ু বঙ্গোপসাগর হতে উত্তরে দেশের অভ্যন্তরে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রায় একই সময়ে শুষ্ক ও ঠা-া বায়ু হিমালয় থেকে দক্ষিণে দেশের অভ্যন্তরে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব কারণে দেশের অভ্যন্তরে বজ্রসহ কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির পরিবেশ তৈরি করছে। আমরা পরিবেশের প্রতি যতœবান হলে নিশ্চয়ই পরিবেশ আমাদের সঙ্গে এমন বিরূপ আচরণ করত না। বস্তুত প্রকৃতি, পরিবেশ, প্রকৃতির উপকরণ ইত্যাদি সৃষ্টিকর্তার কুদরতের নিদর্শন। পৃথিবীতে কোনো কিছু অনর্থক সৃষ্টি করা হয়নি। সবকিছু মানুষ এবং অন্যান্য সৃষ্টির কল্যাণে সৃষ্টি করা হয়েছে। দুনিয়ায় সবকিছু পরিমিতভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ মানুষের জন্য অপূর্ব নিয়ামত। এই পরিবেশ ধ্বংস ও বিনষ্ট করার কারণে বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রকৃতির সব উপাদান ও সম্পদ, বন-জঙ্গল, নদীনালা ও খালবিল, মরুভূমি ও পাহাড়-পর্বত এমনভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে যা কি না প্রকৃতিতে একটি চমৎকার ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। মানুষ ও অন্যান্য সৃষ্টির জন্য এরূপ সুষম ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা প্রয়োজন।
গত কয়েক বছর ধরে বজ্রপাতে অসংখ্য প্রাণহানি ও গবাদিপশুর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বজ্রপাত যেহেতু সাধারণত উঁচু কোনো কিছুতে আঘাত করে, সে জন্য উঁচু গাছ হিসেবে সহজলভ্য তালগাছকেই বেছে নেয়া হয়েছে বজ্রপাত ঠেকানোর স্থানীয় প্রযুক্তি হিসেবে। বজ্রপাতের ঝুঁকি প্রশমনে দেশের ৬৪টি জেলায় তালগাছ লাগানোর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে ইতোমধ্যে। গবেষকদের মতে, বজ্রপাতে মৃত্যু ঠেকানোর জন্য এটাই সবচেয়ে কার্যকর স্থানীয় প্রযুক্তি। থাইল্যান্ডও স্থানীয় প্রযুক্তি হিসেবে তালগাছ লাগিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। দেশের বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন বজ্রপাত যেহেতু উঁচু জায়গায় আঘাত করে, সে হিসাবে তালগাছ মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে। কিন্তু বজ্রপাতে আঘাত পাওয়া গাছটি নষ্ট হয়ে যাবে। পাশাপাশি হাওর অঞ্চলে ভিয়েতনামে বজ্রপাতে মৃত্যু ঠেকাতে ব্যবহৃত প্রযুক্তিবান্ধব টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে সরকার। হাওর এলাকায় টাওয়ার নির্মাণ করা হলে স্থায়ী ব্যবস্থা হতো বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
কালবৈশাখী ঝড়ের সময় দেশের কোথায় বজ্রপাত হতে পারে তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারবে আবহাওয়া অফিস। এমনকি ১০ মিনিট থেকে আধাঘণ্টা আগে বজ্রপাতের সংকেত দেয়া যাবে। এতে ওই এলাকার মানুষ নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার সময় পাবে। ফলে বজ্রপাতে প্রাণহানি কমে আসবে দেশে। বজ্রপাতের আগাম সংকেত জানতে ইতোমধ্যে দেশের ৮টি স্থানে বসানো হয়েছে পরীক্ষামূলকভাবে লাইটেনিং ডিটেকটিভ সেন্সর। স্থানগুলো হচ্ছে বরিশালের পটুয়াখালী, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, নওগাঁর বদলগাছি, ময়মনসিংহ, সিলেট ও খুলনার কয়রা। আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তাদের মতে, ৮টি সেন্সরে পুরো দেশের চিত্র উঠে আসবে। একেকটি সেন্সরের রেঞ্জ ২৫০ কিলোমিটার। প্রতিটি সেন্সর থেকে ১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত মনিটরিং করা যাবে। এক মৌসুমে (এপ্রিল থেকে জুন) দেশে কতবার বিদ্যুৎ চমকায় এবং বজ্রপাত হয় সেটির রেকর্ডও থাকবে এই সেন্সরে। ডিটেকটিভ সেন্সরের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট এলাকার নামও জানা যাবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চলতি বছরের শেষ নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রযুক্তির যাত্রা শুরু হবে। আবহাওয়া অফিসের দেয়া তথ্য মতে, বাংলাদেশে ১৩টি নদীবন্দরে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় বজ্রপাতের সংকেত ও সংখ্যা নিরূপণের যন্ত্রপাতি ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্রয় করা হয়েছে। বজ্রপাতে প্রাণহানির বিষয়টির দিকে লক্ষ্য রেখে এর ঝুঁকি হ্রাসের প্রতি বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সাধারণ মানুষের সচেতনতা। সংকেত পাওয়ার পর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে, তাহলে এসব উদ্যোগ সুফল বয়ে আনবে। যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, জাপান, কানাডা ও ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বজ্রপাতের আগাম সংকেত পাওয়ার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, হিমালয়ের পাদদেশ থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত বলেই বাংলাদেশকে বজ্রপাতপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। চৈত্র-বৈশাখে কালবেশাখীর সময়ে বজ্রপাতের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় পরিকল্পনায় মোট ১২টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা উল্লেখ থাকলেও প্রাণঘাতী বজ্রপাতের কথা উল্লেখ ছিল না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বজ্রপাতের ভয়াবহতার বিষয়টি বিবেচনায় এনে গত ১৭ মে ২০১৬ তারিখে প্রাকৃতিক এই আপদটিকে ‘দুর্যোগ’ হিসেবে ঘোষণা করে বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে করণীয় নির্ধারণে উদ্যোগী হয়।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়াবিজ্ঞান বিভাগের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বজ্রপাতের ঘটনায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ মারা যায়। দুর্যোগ ফোরাম, গণমাধ্যমের তথ্য ও একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হিসাব মতে, গত ৮ বছরে সারাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি। বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে হাওর অঞ্চলের ৯টি জেলায়। বজ্রপাতে গবাদিপশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। ২০১১ সালে হাওর জেলা সুনামগঞ্জের স্বরসতীপুর গ্রামের একটি মসজিদে সন্ধ্যায় নামাজের সময় বজ্রপাতে একসঙ্গে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়, বৈদ্যুতিক পাম্প নষ্ট হয়ে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়, ভারী বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, বজ্রঝড়ে ঘরবাড়ি ধ্বংস হয় এবং ফসলের ক্ষতি হয়।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব জিওগ্রাফির অধ্যাপক ড. টমাস ডব্লিউ স্মিডলিনের ‘রিস্ক ফ্যাক্টরস অ্যান্ড সোশ্যাল ভালনারেবেলিটি’ শীর্ষক গবেষণা থেকে দেখা যায়, প্রতি বছর মার্চ থেকে মে পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৪০টি বজ্রপাত হয়। গবেষণায় তিনি উল্লেখ করেনÑ বজ্রপাতে বছরে মাত্র দেড় শ’র মতো লোকের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলেও আসলে এ সংখ্যা ৫০০ থেকে ১ হাজার। বিল্ডিং কোডে বজ্রনিরোধক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার ফলে ক্ষতির সম্ভাবনা কমিয়ে আনা যায়। ভবনের সর্বোচ্চ বিন্দু থেকে মাটি পর্যন্ত বৈদ্যুতিক প্রবাহের পথ তৈরি করাই বজ্র নিরোধক ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। একটি দালানের বজ্র প্রতিরোধ ব্যবস্থায় থাকে একটি এয়ারটার্মিনাল বা লাইটনিং রড, যা দালানের সর্বোচ্চ বিন্দু যথা সাইলো, ছাদ বা চিমনিতে স্থাপন করা হয়। এছাড়া থাকে সংযোগ তার ও গ্রাউন্ডিং ইলেকট্রোড। দালানের প্রত্যেক কর্নারে আর্থিং সিস্টেমের সংযোগ থাকা আবশ্যক। বজ্র নিরোধ ব্যবস্থার সব কমপোনেন্ট যথা সংযোগ তার, লাইটনিং রড এবং আর্থিং একত্রিত করে সংযোগ দিতে হবে যাতে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সিস্টেম তৈরি হয়। পর্যাপ্ত আর্থিং রাখার সুবিধা এই যে, বজ্র বিদ্যুৎ বিভিন্ন পথে অনায়াসে মাটিতে গমন করতে পারে। বজ্রপাত থেকে বাঁচতে হলে যোগ্যতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক প্রকৌশলীর পরামর্শ ও তদারকিতে দালানে উপযুক্ত বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে।
প্রাক মৌসুমে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বজ্রপাত সবচেয়ে বেশি হয়। এর সঙ্গে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি একটা সহায়ক গুণকের ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে মৌসুমি ঋতুতে ভূমির উচ্চতা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে যখন আর্দ্র বাতাস উচ্চতায় চলে যাওয়াসহ উচ্চ নিয়ামকসমূহ রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, পঞ্চগড়, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, রাজবাড়ী, সাতক্ষীরা, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় বজ্রপাত সংঘটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া এই ঋতুতে বায়ুম-লীয় পরিচলন দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে স্থানান্তর করে, ফলে বাংলাদেশে বজ্রপাত বেশি হয়। পোস্ট-মৌসুমি সময়ে আক্রান্তীয় অভিসৃতি জোনের (ওঞঈত) পশ্চাৎপসরণ এবং বৃহদায়তন প্রচলন সংশ্লিষ্ট বায়ুম-লীয় পরিচলনের কারণে পার্বত্য জেলায়, বিশেষ করে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে বেশি বজ্রপাত হয়ে থাকে। শীতকালে পশ্চিমা গোলযোগের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে তাজা আর্দ্রতার সরবরাহ এবং স্থানীয় বায়ুম-লীয় পরিচলনের প্রভাবে বাগেরহাট, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, সিলেট, খুলনা, রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জ জেলায় বজ্রপাত হয়। তবে অন্যান্য ঋতুর তুলনায় এর প্রকোপ কম। আবার সৌরতাপের তীব্রতা শীতকালে কম থাকায় বায়ুম-লীয় অস্থিরতা হ্রাস পায় বলে বজ্রপাতের সংখ্যাও অনেক কমে যায়।
কালবৈশাখী ঝড় ও ঘন ঘন বজ্রপাত হতে থাকলে কোনো অবস্থাতেই খোলা বা উঁচু জায়গায় না থাকাই ভালো। এ অবস্থায় সবচেয়ে ভালো হয় যদি কোনো দালানের নিচে আশ্রয় নেয়া যায়। উঁচু গাছপালা ও বিদ্যুতের লাইন থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ উঁচু গাছপালা বা বিদ্যুতের খুঁটিতে বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকে। খোলা জায়গায় কোনো গাছ থাকলে তা থেকে অন্তত ৪ মিটার দূরে থাকতে হবে। এছাড়া ফাঁকা জায়গায় কোনো যাত্রীছাউনি বা বড় গাছ ইত্যাদিতে বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। ঘরে থাকলে বজ্রপাতের সময় জানালা থেকে দূরে থাকতে হবে। জানালা বন্ধ রাখতে হবে। ধাতব বস্তু এড়িয়ে চলতে হবে। বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁঁড়ির রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করা যাবে না। এমনকি ল্যান্ড লাইন টেলিফোনও স্পর্শ না করার পরামর্শ দেয়া হয়। বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত সব যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখা ভালো। বজ্রপাতের আভাস পেলে আগেই এগুলোর প্লাগ খুলে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করুন। বজ্রপাতের সময় রাস্তায় গাড়িতে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরার চেষ্টা করতে হবে। প্রচ- বজ্রপাত ও বৃষ্টি হলে গাড়ি নিকটস্থ ছাউনি বা দালানের নিচে পার্ক করতে হবে। এ সময় গাড়ির কাচে হাত দেয়া বিপজ্জনক হতে পারে। বজ্রপাতের সময় চামড়ার ভেজা জুতা বা খালি পায়ে থাকা খুবই বিপজ্জনক। যদি একান্ত বেরোতেই হয় তাহলে পা ঢাকা জুতা পরে বের হতে হবে। রবারের গামবুট এক্ষেত্রে সব থেকে ভালো কাজ করবে। খোলা জায়গায় বা ফসলের মাঠে কাজ করা অবস্থায় আশ্রয়ের জায়গা না থাকলে যতটা সম্ভব নিচু হয়ে গুটিশুটি মেরে বসে পড়তে হবে। কোনো অবস্থাতেই মাটিতে শোয়া যাবে না। জলাশয় থেকে দূরে থাকতে হবে। বজ্রপাতের সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হবে। নৌকায় থাকলে ছইয়ের নিচে থাকতে হবে।
প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ করে বন্যা, ঝড় বা সিডরের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায়, কিংবা ভূমিকম্প পরিস্থিতিতে ত্রাণ ও উদ্ধারকর্মীদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে। ইতোমধ্যেই স্থাপিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশেষ কৃত্রিম উপগ্রহ দিয়ে ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস ও দুর্যোগ মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে অভাবনীয় সুযোগ এনে দেবে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসের গতিবিধি আগাম আরও নিখুঁতভাবে জানা যাবে। উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী প্রস্তুতি নিতে পারায় গত ৫ বছরে ঘূর্ণিঝড়গুলো আগের মতো ক্ষতি সাধন করতে পারেনি। এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও কমিয়ে আনা যাবে। দুর্যোগের সময় দুর্গত এলাকায় মোবাইলের নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখবে এই স্যাটেলাইট। বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দুর্যোগকবলিত মানুষ উদ্ধার কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে এবং উদ্ধারকর্মীরা সহজে ভুক্তভোগীকে খুঁজে ত্রাণ পৌঁছে দিতে পারবে। ঝড়ের আগের ছবি, পরের ছবির বিস্তারিত তুলনা করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হবে। ঠিক কোন অঞ্চলে কী ধরনের সহায়তা দরকার তা দ্রুত বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া সহজ হবে। উপগ্রহের ছবির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা এড়ানো সহজ হবে বা দুর্ঘটনার ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। ভূ-প্রকৃতির সূক্ষ্ম পরিবর্তন যেমন খাল-বিলে পানির উচ্চতা, নদীর নাব্যের তথ্য আরও নিখুঁতভাবে পাওয়া যাবে। এসব তথ্য ব্যবহার করে বন্যার ব্যাপ্তি, সে অনুযায়ী প্রস্তুতি, বন্যা-পরবর্তী সময়ে কোন জমি কবে নাগাদ ফসলের জন্য আবার উপযোগী হবে, তা নির্ধারণ করা সহজ ও বাস্তবসম্মত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পরিবেশের কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটছে উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত ছবি বিশ্লেষণ করে সহজে বের করা যাবে। রাস্তাঘাটের নিপুণ ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি এবং সেই মানচিত্র মোবাইলে ব্যবহার করে যোগাযোগ দ্রুত এবং নিরাপদ করা সম্ভব হবে। এতদিন উপগ্রহের সেবা ব্যবহার শুধু মোবাইলে কথা বলা ও ইন্টারনেটের ব্যবহারের ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল। নিজেদের উপগ্রহ হওয়ায় একে দুর্যোগ মোকাবিলা, যোগাযোগ ও কার্যকর গবেষণার অনেক কাজে ব্যবহার করা যাবে। উপগ্রহ এতদিন হাতেগোনা কিছু বিজ্ঞানী বা প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতে পারত। এখন পদ্ধতি মেনে সাধারণ মানুষও উপগ্রহ থেকে তাৎক্ষণিক ছবি ও তথ্য পেতে পারবে। দেশে বজ্রঝড় উৎপন্ন হবার স্থান ও সময়, তার গতিপ্রকৃতি, বিস্তৃতি, জীবনকাল ইত্যাদি নিয়ে গভীর পর্যালোচনার জন্য ভূমিতে নির্মিত বজ্রপাত পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অপটিক্যাল ট্রান্সিয়েন্ট ডিটেক্টর (ঙঞউ) বা লাইটনিং ইমেজিং সেন্সর (খওঝ)-এর মতো স্যাটেলাইট যন্ত্র থেকে তথ্য-উপাত্ত গ্রহণ ও বিশ্লেষণে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাহাড়, সমুদ্র, পরিবেশ বিজয়ের পর বাংলাদেশ জয় করল মহাকাশ। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে অনন্য এক উচ্চতায়। বজ্রপাতসহ সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস পাওয়া যাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে। এতে দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে, ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ এখন যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করেছে এবং এ জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। কিভাবে জনগণসহ অবকাঠামো দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে সে দিকে লক্ষ্য রেখে টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। বজ্রপাত প্রকৃতির ভয়ঙ্কর দুর্যোগ, যা প্রতি বছর কেড়ে নিচ্ছে অনেক মানুষের জীবন। প্রকৃতির নিষ্ঠুর থাবা থেকে মানুষকে বাঁচানোর আধুনিক কৌশল প্রয়োগ করতে হবে। শুধু প্রয়োজন সঠিক উদ্যোগ। জীবনহানি রোধে এখনই যথার্থ সময় স্যাটেলাইট সুবিধা কাজে লাগিয়ে বজ্রপাতসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি প্রশমনে প্রযুক্তিনির্ভর কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
লেখক: শিক্ষাবিদ ও গবেষক