Uncategorized

বিএনপিকে তৃতীয়বারের মতো সন্ত্রাসী সংগঠন বলল কানাডার ফেডারেল কোর্ট

স্বদেশ খবর ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে তৃতীয়বারের মতো ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবেই রায় দিয়েছে কানাডার ফেডারেল আদালত। দলটির একজন নেতার আশ্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তি করে দেয়া রায়ে বিচারক বলেন, বিএনপি এমন একটি সংগঠন যেটি সন্ত্রাসী তৎপরতায় লিপ্ত ছিল, এখনও রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও লিপ্ত হতে পারে। বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলে আগের দেয়া রায় আদালত বহাল রেখেছে। দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থী বিএনপি কর্মী মোস্তফা কামালের পক্ষ থেকে করা একটি রিভিউ আবেদনের প্রেক্ষিতে আবেদনটি খারিজ করে এ রায় দিয়েছে ফেডারেল আদালত। রায়ে বলা হয়েছেÑ তিনি (মোস্তফা কামাল) বাংলাদেশে বিএনপি নামে যে রাজনৈতিক দলের সদস্য পরিচয়ে আশ্রয় চাচ্ছেন, সেই রাজনৈতিক দল সন্ত্রাসী কর্মকা-ে যুক্ত।
এ নিয়ে কানাডার আদালতে তৃতীয়বারের মতো ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষিত হলো বিএনপি। প্রতিবারই বিএনপির সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন ৩ জন আশ্রয়প্রার্থী। কানাডায় আশ্রয়প্রার্থী বিএনপি নেতা মো. মোস্তফা কামালের পক্ষ থেকে করা রিভিউ আবেদনের রায়ে পূর্বের অবস্থানে থাকার বিষয়টি ইতোমধ্যেই আদালত নিজেদের ওয়েবসাইটে জানিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি মোস্তফা কামালের রিভিউয়ের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদন খারিজ করে এ রায় দেয়া হয়। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ছেড়ে কানাডায় আশ্রয়প্রার্থী হন মো. মোস্তফা কামাল। তার বিষয়ে কানাডার সরকার আদালতকে আগেই বলেছিল, বাংলাদেশ সরকারকে উৎখাতেও দলটি চেষ্টা করছে বলে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ আছে। জানা গেছে, তৃতীয়বারের মতো দেয়া রায়ে তিনবারই বিএনপির সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তিনজন। প্রতিবারই আদালত বলেছে, বিএনপির সদস্যকে আশ্রয় দিলে সে দেশের নিরাপত্তা বিঘিœত হতে পারে। প্রতিবার শুনানিতে বাংলাদেশে বিএনপির ডাকে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আন্দোলন চলাকালে ব্যাপক নাশকতার কথা তুলে ধরে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এগুলো সন্ত্রাসী সংগঠনের কাজ। এসব সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদেরকে তারা আশ্রয় দিতে পারেন না।
কানাডার আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, যে সংগঠন সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত ছিল, আছে বা ভবিষ্যতে থাকতে পারে বলে বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ আছে, তাহলে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে সে দেশে প্রবেশের অনুমতি পাবেন না। সবশেষ রায়টি ২১ মে ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে। সেখানে কারণসহ ব্যাখ্যা দিয়ে জানানো হয়েছে, বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী দল’ হিসেবে তাদের দেশের মন্ত্রীর বক্তব্যকেই আবারও মেনে নিয়েছে ফেডারেল আদালত। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ছেড়ে কানাডায় আশ্রয়প্রার্থী হন মোস্তফা কামাল। আবেদনে তিনি নিজেকে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদল নেতা ছিলেন বলে উল্লেখ করেন। এমনকি কানাডিয়ান বর্ডার সিকিউরিটি এজেন্সির (সিবিএসএ) একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশে সরকার উৎখাতে দলটি (বিএনপি) প্ররোচনা দিচ্ছে এমন যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ আছে বলেও কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে দাবি করেছিলেন দেশটির জননিরাপত্তা ও জরুরি তৎপরতা বিষয়ক মন্ত্রী।
সে সময় বিএনপিকে নিয়ে কানাডা সরকারের এই বক্তব্য গ্রহণ করে মোস্তফা কামালের আবেদন খারিজ করে দেয় দেশটির আদালত। পরে তিনি দেশটির ফেডারেল আদালতে রিভিউয়ের জন্য আবেদন করেন। রায়ে বলা হয়, মোস্তফা কামালের রিভিউ আবেদনের পর ফেডারেল কোর্টের পক্ষ থেকে জননিরাপত্তা ও জরুরি তৎপরতা বিষয়ক মন্ত্রীর দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী বোর্ডের অভিবাসন বিভাগ (আইডি)’কে নির্দেশ দেন। তখন জননিরাপত্তা ও জরুরি তৎপরতা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিনিধি সিবিএসের প্রতিবেদন রেফারেন্স হিসেবে আইডির কাছে তুলে দেন। ওই প্রতিবেদনসহ সম্পূর্ণ বিষয়টি যাচাই ও পুনর্বিবেচনা করে এবং পরবর্তী শুনানিগুলোতে মন্ত্রীর যুক্তি পর্যালোচনা করে আইডি কানাডা সরকারের আগের বক্তব্যই সঠিক বলে সিদ্ধান্তে আসে।
আইডির সিদ্ধান্ত অনুসারে বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর যৌক্তিকতা রয়েছে উল্লেখ করে ফেডারেল আদালত মোস্তফা কামালের আপিল আবেদন খারিজ করেন। একইসঙ্গে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে কানাডার আদালতের দুটি রায়ে বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলা হয়েছে। ২০১৭ সালের ১২ মে দেশটির ফেডারেল কোর্টের বিচারকের দেয়া রায়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিএনপিকে এই সংগঠনের তকমা দেয়া হয়। তখন দেশটিতে বিএনপির একজন যুগ্ম মহাসচিবের করা রাজনৈতিক আশ্রয় নাকচ করে দেয়া রায়ে এই মন্তব্য করেন বিচারক জে ফদারগিল। কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন প্রকাশ পেলে বাংলাদেশে নিরাপত্তা বিঘিœত হতে পারে বলে আদালত ওই নেতার পরিচয় প্রকাশ করেনি। তাকে এস এ অদ্যক্ষরে পরিচয় দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
তার আগে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন কর্মীর রাজনৈতিক আশ্রয় সংক্রান্ত জুডিশিয়াল রিভিউর আবেদনে ফেডারেল কোর্টের বিচারক জাস্টিস ব্রাউন বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ অভিহিত করেন। সে সময় ঢাকার মোহাম্মদ জুয়েল হোসেন গাজী নামে মিরপুরের এক ব্যক্তি বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীর পরিচয় দিয়ে কানাডা সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন।
তার স্থায়ীভাবে কানাডায় বসবাসের আবেদন ২০১৫ সালে প্রাথমিক অনুমোদন পেলেও গত বছরের ১৬ মে তাকে ‘কানাডায় প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা’ করেন দেশটির অভিবাসন কর্মকর্তা। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কানাডার ফেডারেল আদালতে যান জুয়েল গাজী। জুয়েল গাজী আদালতে দাবি করেন, বিএনপি সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় না এবং দলের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করায় কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ারও নজির রয়েছে। কিন্তু অভিবাসন কর্মকর্তার তুলে ধরা লাগাতার হরতাল ও সহিংসতার বিবরণ তুলে ধরে রায়ে বলা হয়েছে, তার সঙ্গে তুলনা করলে আবেদনকারীর যুক্তি হারিয়ে যায়।
অভিবাসন কর্মকর্তার যুক্তি থেকে উদ্ধৃত করে বিচারক তার রায়ে বলেছেন, বিএনপির লাগাতার হরতাল এবং তাতে অব্যাহত সহিংসতা এই বিশ্বাস জাগায় যে, নিজেদের কর্মীদের সহিংসতা থেকে না সরিয়ে দলটি কেবল কৌশল হিসেবে হরতালে সহিংসতার নিন্দা করেছে। ২০১৫ সালে বিএনপির তিন মাসের অবরোধ-হরতালে প্রতিদিন বহু যানবাহন নাশকতার শিকার হয়। অভিবাসন কর্মকর্তার সঙ্গে সহমত পোষণ করে রায়ে বিচারক বলেন, ওই কর্মকর্তা বাংলাদেশের রাজনীতিকে একটি ‘সহিংস বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।