প্রতিবেদন

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার : জনমনে স্বস্তি

বিশেষ প্রতিবেদক
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের পাশাপাশি সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলের অংশ হিসেবে মাদক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে সরকার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সরাসরি বলেছেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূলে সফলতার পাশাপাশি মাদক নির্মূলেও কঠোর অবস্থানে থেকে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে সমূলে মাদক নির্মূল করতে হবে। আর সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওই কঠোর নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই গত ৪ মে থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে র্যাব-পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান। চলমান এ অভিযানে ২৭ মে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৩ দিনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮ এবং গ্রেফতার ৭ হাজার ৬১৩ জন। পুলিশ ও র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিহত এবং গ্রেফতারকৃতরা প্রত্যেকেই চিহ্নিত মাদক কারবারি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই চলছে সাঁড়াশি অভিযান। আরো বলা হয়েছে, মাদক কারবারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্র, স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ও পার্শ্ববর্তী দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের যোগসূত্র থাকতে পারে। তবে মাদকবিরোধী চলমান এ অভিযানে মাদক কারবারির সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক মেরুদ- পরিকল্পিতভাবে ভেঙে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছেÑ বিশেষজ্ঞ মহল থেকে এ ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করার পরপরই মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গত ৪ মে থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান এ অভিযানে অর্ধশতাধিক নিহত হলেও সমাজের কোনো স্তর থেকেই এর বিরুদ্ধে তীব্র কোনো প্রতিবাদ আসেনি। বরং দেশের কয়েকটি সীমান্তবর্তী জেলায় চিহ্নিত একাধিক মাদক ব্যবসায়ী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘স্বস্তির উচ্ছ্বাস’ পরিলক্ষিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে সরকার মাদকের বিরুদ্ধে অনমনীয় কঠোর অবস্থান নেয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মাদক ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে মাদকপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিতি পাইয়ে দেয়ার কাজটিও চালিয়ে যাচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা। দেশে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটানো সম্ভব হলে অদূর ভবিষ্যতে দেশ যেমন মেধাশূন্য হবে ও দেশের যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে; তেমনি দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাবে, দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়বে। সেই সুযোগে আন্তর্জাতিক মাফিয়া, স্বাধীনতাবিরোধী ও পার্শ্ববর্তী দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো দেশের ভেতরে ঘাঁটি গেড়ে বসবে। এমন তথ্যের ভিত্তিতেই সরকার মাদক নির্মূলে সারাদেশে যৌথ সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশ ও র্যাবের সবকটি অভিযানে উদ্ধার হয়েছে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র। নিহতদের অধিকাংশই ইয়াবা, হেরোইন ও কোকেনের মতো মারাত্মক মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। তারা মাদকের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিল। নিহতদের বিরুদ্ধে একাধিক খুন, অপহরণ ও মাদকের মামলা আছে। দেশকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সরকারের একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ, উন্নয়নশীল দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া এবং সর্বশেষ মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের কারণে দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বিশ্বদরবারে রীতিমতো জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সরকারের তরফ থেকে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এমন সার্বিক উন্নয়নে সরকারবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী মারাত্মকভাবে অখুশি। ফলে বাংলাদেশের উন্নয়নের এ ধারা নষ্ট করে দিতে চলছে নানামুখী অপতৎপরতা। তারই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক একটি চক্র বাংলাদেশে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। কয়েকটি দেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এ খাতে প্রচুর অর্থ খরচ করছে। তাদের এবং সরকারবিরোধীদের প্রত্যক্ষ মদদে বাংলাদেশকে মাদকের স্বর্গরাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক এই চক্রটির অর্থায়নে ইয়াবা তৈরির জন্য রীতিমতো ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। সেই ল্যাবরেটরিতে উৎপাদিত ইয়াবা নানাভাবে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে।
সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের অলি-গলিতে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ইয়াবা। তাৎক্ষণিকভাবে এর মারাত্মক প্রভাব লক্ষ্য করা না গেলেও অদূর ভবিষ্যতে ইয়াবার কারণে দেশ অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক বিপদে পড়তে পারে। কারণ ইয়াবা পাচার করে মাদক ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। দেশের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। চাহিদা যত বাড়ানো যাবে, স্বাভাবিকভাবেই অর্থ পাচারের পরিমাণও তত বাড়বে। সেই লক্ষ্য নিয়ে তারা বেপরোয়াভাবে দেশের ভেতরে ইয়াবা সরবরাহ করে যাচ্ছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইয়াবা সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হচ্ছে; যা দেশকে অদূর ভবিষ্যতে মেধাশূন্য করে ফেলবে। এমন তথ্যের ভিত্তিতেই দেশে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে, দেশে ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকের আগ্রাসন ঠেকাতে জল ও স্থল সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে এবং দেশের ভেতরে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ইয়াবা তৈরিতে ব্যবহৃত অন্যতম প্রধান উপকরণ সিওড্রএফিড্রিন আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কাশির ওষুধ তৈরিতে বিকল্প রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে ওষুধ কোম্পানিগুলোকে। মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়া ইয়াবা চোরাচালান বন্ধ করতে কোস্টগার্ড, বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ), পুলিশ, র্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে একটি সম্মিলিত কৌশল ঠিক করা হয়েছে।
ইতঃপূর্বে ইয়াবার চোরাচালান ঠেকাতে নাফ নদীতে মাছ ধরা পরীক্ষামূলকভাবে সাময়িক বন্ধ করা হয়েছিল। ওই সময় জেলেদের সরকারিভাবে খরচ চালানো হয়েছে। মিয়ানমারে থাকা ইয়াবা তৈরির ল্যাবরেটরি বন্ধ ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারসহ নানা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোনো ফল হয়নি। ইতোমধ্যেই সরকারের আইন মন্ত্রণালয় ইয়াবাকে দেশের এক নম্বর মাদক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দুইশ গ্রাম ওজনের বেশি ইয়াবা বহনকারীর শাস্তি যাবজ্জীবনের পরিবর্তে মৃত্যুদ- করার আইন হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গবেষণা ও নিরোধ শাখার তথ্য মোতাবেক, বহনে সহজ, সহলভ্য, দামে সস্তা, সেবনের পর মুখে দুর্গন্ধ না হওয়ায় ইয়াবা হালে বেশি জনপ্রিয় নেশা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ জানান, ইয়াবা সেবনে লিভার, কিডনি, হার্ট ও মস্তিষ্ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানুষের স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে থাকে। দীর্ঘ সময় ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনে মানুষের মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ইয়াবা সেবনে শরীর শুকিয়ে যায়। শরীরে ঘা হয়, যা আস্তে আস্তে শরীরে ক্যান্সারের সৃষ্টি করে।
একজন বিশিষ্ট অপরাধ বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম জানান, দেশের স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে ইয়াবার ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঘিরে ইয়াবার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ইয়াবাসেবী ছাত্রদের মানবিক গুণাবলি আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। তারা নেশার ঘোরে অনেক অনৈতিক ও অবৈধ কাজকে বৈধ বলে জ্ঞান করছে; যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সমাজে। তাই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ মহল বলছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে ইয়াবার আগ্রাসন বন্ধ করা না গেলে, অদূর ভবিষ্যতে দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া শিক্ষার্থীর মধ্যে মরণ নেশা ইয়াবা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়বে। জাতি ধীরে ধীরে মেধাশূন্য হয়ে পড়বে। কারণ এখন দেশের উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত শ্রেণির অনেকেই ধীরে ধীরে মাদকাসক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এতে করে ভবিষ্যতে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইতোমধ্যেই ইয়াবার কারণে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশ, জাতি, সমাজ, শিক্ষা ব্যবস্থাসহ অনেক কিছুই।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভাষ্য মোতাবেক বর্তমানে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ। আগামী ২০২০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। যদিও প্রকৃতপক্ষে দেশে মাদকসেবনকারীর সংখ্যা অন্তত দেড় কোটি। এর মধ্যে এক কোটি মাদকাসক্ত। বাকি ৫০ লাখ অনিয়মিত মাদকসেবী। একটি পর্যায়ে তারাও নিয়মিত মাদকসেবী হবে। মাদকসেবীদের মধ্যে ইয়াবা সেবনকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মিয়ানমারের সীমান্তের সঙ্গে থাকা তিনটি জেলা ও সাতটি উপজেলার সীমান্ত পথে আসছে অধিকাংশ ইয়াবা। সম্প্রতি বরগুনা, ভোলা ও পটুয়াখালীর জলপথে ইয়াবা চোরাচালানের নতুন রুট আবিষ্কৃত হয়েছে। মিয়ানমারের ১৫০টি পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ইয়াবা প্রবেশ করে। সারাদেশে সরকার অনুমোদিত ১৬০টি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে; যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।
অপরাধবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজের এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে দ্রুত ধনী হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই শ্রেণিটিই মূলত জড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসায়। মাদক ব্যবসায় চার-পাঁচগুণ লাভÑ মূলত এই মনোভাব থেকেই অনেকে জড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসায়। মাদক নির্মূলকারীদের নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়েও ভালো লাভ থাকায় অনেকে বৈধ ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে মাদকের ব্যবসায় নাম লিখিয়েছে। অবাক করা বিষয় হলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য দ্রুত ধনী হওয়ার আশায় চাকরি ছেড়ে দিয়ে আবার কেউ কেউ চাকরিরত অবস্থাতেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েছে।
মোট কথা হলো যেকোনো কারণেই হোক, মাদক বাংলাদেশের একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত চলে গেছে। ক্লাস এইট-নাইনের শিক্ষার্থীরাও ইয়াবার স্বাদ গ্রহণ করে ফেলেছে। এটি একটি বিপর্যয়কর অবস্থায় চলে গেছে। আশার কথা হলো সরকারের ঊর্ধ্বতনরা বিষয়টির ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। এমনকি সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি কঠোর নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই মাদককে সমূলে নির্মূল করার জন্য মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চলমান এ অভিযান মাদকের সমূলে বিনাশ না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এই অভিযান মাদক কারবারিদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দেখা দিলেও, সাধারণ মানুষের মনে এনেছে স্বস্তি। তারা মনে করছেন সরকারের সফল এ অভিযানের ফলে তার ছেলে বা মেয়েটি মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পাবেÑ এই স্বস্তিই এখন বিরাজমান মানুষের মনে।