প্রতিবেদন

মাদক নির্মূলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সফল অভিযান : জনমনে স্বস্তি

মাদক ব্যবসায়ীদের বেপরোয়া মানসিকতায় দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছিলো। একেবারে তৃণমূলে স্কুলপড়–য়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে মাদক। এই পরিস্থিতিতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে মাদক সমস্যাকে এক নম্বর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে একে সমূলে উৎপাটনের দাবি উঠতে থাকে। মাদকের ভয়াবহতা প্রধানমন্ত্রীকেও বিচলিত করে। তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাবের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমি চাই র্যাব যেভাবে দেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গি তৎপরতা নির্মূল করেছে, একইভাবে এই চৌকস বাহিনী যেন দেশ থেকে মাদক নির্মূলেও তৎপর হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই মনোভাব জানার পর র্যাব মহাপরিচালক মাদক নির্মূলে সর্বশক্তি প্রয়োগে তার বাহিনীকে নির্দেশনা দেন। এর আগে র্যাব মহাপরিচালক মাদক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, কারো কাছে মাদকের মজুদ থাকলে র্যাব অফিসের আশপাশে এনে ফেলে রেখে যান এবং ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসা করবেন নাÑ এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। র্যাব কিছুই বলবে না। কিন্তু এরপর কারো কাছে মাদক পাওয়া গেলে এবার সে বহনকারী বা সেবনকারী, প্রভাবশালী বা সাধারণ যেই হোকÑ কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। এরপরই ৪ মে থেকে শুরু হয় র্যাব-পুলিশ-বিজিবি-কোস্টগার্ড-এর সম্মিলিত সাঁড়াশি অভিযান। চলমান এ অভিযানে এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মাদক ব্যবসায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এসব বন্দুকযুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ নিহত না হলেও আহত হয়েছেন অন্তত পঁচিশ জন। চলমান অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র। বর্তমানে বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা কমে আসছে। এর কারণ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক কেনাবেচা ও সেবন ছেড়ে দিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। এজন্য অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভিযানে শিথিলতা দেখা দিলেই আত্মগোপনে থাকা মাদক ব্যবসায়ীরা আবার বেরিয়ে এসে পুরনো পেশায় ফিরে যাবে। ফলে মাদকের যে প্রকোপ ধীরে ধীরে কমে আসছিল তা আবার বাড়তে থাকবে। এজন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো মাদক সেবনকারীদের অভ্যাস পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলমান রাখতে হবে। পাশাপাশি নতুন মাদক ব্যবসায়ী যাতে তৈরি হতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আশার কথা হলো মাদক নির্মূলের চলমান অভিযানে যেসব মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে, তাদের জন্য কেউ প্রতিবাদে নামেনি, অনুকম্পা দেখায়নি। বরং অনেক জায়গায় মানুষজনকে স্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এ চিত্র থেকে যে বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা হলো চলমান অভিযানে নিরপরাধ কোনো মানুষ নিহত হননি, যারা নিহত হয়েছে, তারা মাদক ব্যবসার মতো জঘন্য কাজের জন্য একেক জন দাগি অপরাধী।