কলাম

মাদক ব্যবসায়ীরা দেশের শত্র“

মো. তরিকুল ইসলাম
দেশ আজ মাদকের কালো ছায়ায় আচ্ছন্ন। শহর থেকে গ্রাম সবখানে মাদকের কালো ছায়া পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের একমাত্র রূপকার যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হয়েছে, যার নাম না বললেও শিশু থেকে বুড়ো সবাই একবাক্যে বলে দেয় দেশরতœ শেখ হাসিনার নাম। বাংলাদেশের জনগণের সেই প্রিয় একমাত্র অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা যখন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছেন, দেশের মানুষ যখন প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছেন ঠিক সেই সময় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বিবৃতি জাতিকে হতাশ করেছে। সেই সাথে পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে, এদেশে মাদক ব্যবসার সাথে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত। সত্য কখনো চাপা থাকে না। বিএনপিকে ঘিরেই আমাদের দেশের সকল সন্ত্রাসী ও মাদকব্যবসার উত্থান। রুহুল কবির রিজভীর এমন বিবৃতি ‘সারাদেশে বন্দুকযুদ্ধের নামে মারণযজ্ঞ চলছে’Ñ দায়িত্বশীল জায়গা থেকে তার এমন একটি বিবৃতি জাতিকে হতাশ করেছে, একই সাথে জাতির চোখ খুলে দিয়েছে। দায়িত্বশীল জায়গা থেকে তিনি অবশ্য দায়িত্বশীল বিবৃতি দিয়েছেন। কেননা তার আত্মীয়স্বজন তো মাদক ব্যবসা করে। মাদক ব্যবসার ভাগ তো রিজভীও পান। যার জন্য রিজভীকে তো অবশ্যই এমন একটি বিবৃতি দিতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদেরতো রিজভীর বাঁচাতে হবে। এমনিভাবে বিএনপির হাজার-হাজার নেতাকর্মী মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তাদেরকে সেফ করাও তো রিজভীর কাজ। তারেক রহমান বিদেশে বসে যে আরাম-আয়েশ করছে সে টাকা তো এই মাদক বিক্রির টাকা। যার জন্য রুহুল কবির রিজভী এমন বিবৃতি না দিলে তো তার নিজেরও ক্ষতি আবার তারেক রহমানও তাকে ধরবে। বগুড়ার একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, বগুড়ায় সবচেয়ে বড় মাদকব্যবসায়ী রুহুল কবির রিজভীর নিকটাত্মীয়। মির্জা ফখরুল ঠিকই বলেছেন, মাদক নির্মূল নিজের ঘর থেকে শুরু করা উচিত। মাদক ব্যবসায়ী দেশের শত্র“। এরা কারো আত্মীয় হতে পারে না। রুহুল কবির রিজভী যেহেতু বগুড়ার মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মীয় বলে স্বীকার করেছেন সুতরাং সেও দেশের শত্র“। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জঙ্গি দমনের মতো করে দেশ থেকে মাদক নির্মূল করার জন্য জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। একটি দেশের মূল শক্তি যুবসমাজ। আর আজ সেই যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। একটি দেশের যুবসমাজ যদি ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে সে দেশের উন্নয়ন অনেকাংশে বাধাগ্রস্ত হয়। একই সাথে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখতে পেয়েছেন মাদকাসক্ত পরিবারগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। একটা খুন করলে সন্ত্রাসী হয়, একাধিক খুন করলে শীর্ষ সন্ত্রাসী হয়। বাংলাদেশে মাদক ও মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ হলো ভৌগোলিক পরিবেশ। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে মাদক চালান করা ও পাচার করা সহজ। অনেক আগে থেকে শুরু হলেও বর্তমান সময়ে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এটি উপলব্ধি করেই বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করতে জরুরিভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সরকার। বর্তমান দেশের অধিকাংশ পরিবারে মাদকাসক্ত সদস্য রয়েছে। যে পরিবারে মাদকাসক্ত সদস্য রয়েছে সে পরিবারে আর কোনো শান্তি থাকে না। মাদকের জন্য দেশে সন্ত্রাসী কর্মকা-ও অনেক বেড়ে গেছে। একই সাথে নির্বিচারে হত্যা বেড়ে গেছে। মাদকাসক্তদের নীতিনৈতিকতা বলে কিছু থাকে না। মাদকের টাকা জোগাড় করতে মানুষ খুন করতেও দ্বিধা করে না তারা। এমনকি মাদকের টাকা জোগাড় করতে প্রয়োজনে বাবা-মাকে খুন করতেও দ্বিধা করে না। সন্ত্রাস ও মাদক অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। মাদকসেবনের টাকা জোগাড় করতে মাদকসেবীরা সন্ত্রাসী কর্মকা- করে। আবার সন্ত্রাসী করতে মাদকাসক্ত হতে হয়। কেননা কোনো সুস্থ ব্যক্তির পক্ষে সন্ত্রাসী কর্মকা- করা সম্ভব নয়। মাদকের জন্য আমাদের সাময়িক শান্তি আজ বিষাদের নাম। মাদক পরিবার, সমাজ ও দেশ ধ্বংসের অন্যতম কারণ। মাদক এখন কেবল রাষ্ট্রীয় সমস্যা নয়, এটি একটি পারিবারিক সমস্যা। মাদক নির্মূল করা এখন আমাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন। আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে দেশ থেকে মাদক নির্মূল করতে হবে। মাদক নির্মূল করতে প্রথমত আমাদের অনেক বেশি সচেতন হতে হবে। সচেতনতা ছাড়া মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। প্রতিটি পরিবারকে তাদের প্রতিটি সদস্যের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে, প্রত্যেক মা-বাবাকে তাদের সন্তানের খোঁজ-খবর রাখতে হবে। তাদের সন্তানেরা কোথায় যায় কাদের সাথে মিশে সেটা খোঁজ-খবর রাখা মা-বাবার দায়িত্ব। মা-বাবার উচিত সন্তানদের সাথে বন্ধুর মতো মেলামেশা করা, প্রয়োজনের বেশি হাতখরচ না দেয়া। সন্তান বাসার বাইরে বের হওয়ার সময় খেয়াল করা সে কিভাবে বের হচ্ছে আবার বাসায় ঢোকার সময় খেয়াল করা সে কিভাবে বাসায় ঢুকছে। আমাদের সমাজকে আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। সমাজের মধ্যে যদি কেউ মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত থাকে তাহলে তাকে সামাজিকভাবে চাপ প্রয়োগ করতে হবে এবং সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। সমাজের মানুষগুলোকে সবসময় সচেতন থাকতে হবে। নিজেরা না পারলে আইনের সাহায্য নিতে হবে। মাদকের চিহ্ন দেখা গেলেই পুলিশ প্রশাসনকে তথ্য দিতে হবে এবং সেই সাথে তাকে ধরিয়ে দিতে হবে। মাদকের কালো থাবায় আমাদের সমাজব্যবস্থা আজ প্রায় বিপন্নের পথে। এ থেকে উত্তরণে আমাদের একটাই পথ আছে সেটা হলো মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনাকে আমি ধন্যবাদ জানাই এমন একটি মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে সত্যিই সেটিও প্রশংসনীয়। আমাদের প্রত্যেকের উচিত মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা। মাদক ব্যবসায়ী কখনো আমাদের আত্মীয় হতে পারে না, তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়া আমাদের কর্তব্য। হাজার জনের মৃত্যুর চেয়ে একজনের মৃত্যু অনেক ভালো। যারা সমাজকে কলুষিত করছে তারা আমাদের শত্র“, সমাজের শত্র“, দেশের শত্র“। তাই আমরা কেউ বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর মতো মাদক ব্যবসায়ী আত্মীয়দের পক্ষে কথা না বলে তাকে পুলিশের কাছে তুলে দেব। ‘দেশ হবে মাদকমুক্তÑ এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার’।
লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়