প্রতিবেদন

মানসম্মত উচ্চশিক্ষা প্রদানে বদ্ধপরিকর নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক ২০০২ সালে অনুমোদিত নর্দান ইউনিভার্সিটি তার গৌরবের ১৬তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে ধারাবাহিক সফলতার কারণে নর্দান ইউনিভার্সিটি ইতোমধ্যেই অভিভাবক মহল এবং শিক্ষার্থীদের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং একই কারণে সবার কাছেই নর্দান ইউনিভার্সিটি আজ একটি সুপরিচিত নাম। গুণগতমানের শিক্ষা প্রদান এবং দক্ষ নাগরিক তৈরির ক্ষেত্রে নর্দান ইউনিভার্সিটি এখন দেশের প্রথম শ্রেণির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি।
নর্দান ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েটরা বর্তমানে বিসিএস ক্যাডার, জুডিশিয়াল সার্ভিস, আইনজীবী, ব্যাংকার, কেমিস্ট, এনজিও, বহুজাতিক কোম্পানি, টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি, ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি, ইলেকট্রনিক ইন্ডাস্ট্রি, আইটি ফার্ম, সফটওয়্যার ফার্ম, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাসহ নানাবিধ পেশায় সম্মানজনক কর্মসংস্থান পাচ্ছেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের তরুণ ও সাহসী উদ্যোক্তা হিসেবেও কর্মজীবন শুরু করেছেন অনেকে। এমতাবস্থায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্বদেশ খবরকে বলছেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বের চাহিদা মোতাবেক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে নর্দান ইউনিভার্সিটি। গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভূমিকাই প্রধান বলে মনে করে নর্দান ইউনিভার্সিটি। এ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এখানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বুয়েট, আইবিএ, ঢাকা ইউনিভার্সিটি, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি. ডুয়েট, রুয়েট, খুয়েট, বুটেক্স-এর তরুণ ও মেধাবী গ্র্যাজুয়েটদের; যাদের মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকার রয়েছে বিদেশি ডিগ্রি এবং ২০ শতাংশের রয়েছে পিএইচডি ডিগ্রি। এছাড়াও স্ব স্ব ক্ষেত্রে সিনিয়র ও উচ্চপদস্থ কর্তাব্যক্তি এবং ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টদের সম্মানিত এডজানক ফ্যাকাল্টি হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। গবেষণা, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য এখানে বাধ্যতামূলক।

নর্দান ইউনিভার্সিটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষ
দেশে এ পর্যন্ত ১০০-এর বেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার অনুমোদন পেয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তির অভাব প্রকট। নর্দান ইউনিভার্সিটি এক্ষেত্রে সুসংগঠিত। নর্দান ইউনিভার্সিটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত দক্ষ ও যোগ্য, যাদের প্রায় সবাই স্বনামধন্য এবং প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ। যেমন নর্দান ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ। আইবিএ-এর স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ এবং একই সাথে একজন সফল উদ্যোক্তা। তিনি ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ক্যাডেট কলেজে কলেজ ব্লু ও বেস্ট অলরাউন্ডার ক্যাডেট হিসেবে নির্বাচিত হন। একই কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান লাভ করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন প্রাপ্তির পর আইবিএ থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ফিনল্যান্ডের বিশ্বখ্যাত হেলসিনকি স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে আন্তর্জাতিক এমবিএ এবং আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস, অস্টিন থেকে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে লেবার প্রোডাক্টিভিটি’র ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়া পার্লিস থেকে পোস্ট ডক্টোরাল ফেলোশিপ অর্জন করেন। তিনি আন্তর্জাতিক বাজার ব্যবস্থাপনা, মুক্ত বাজার অর্থনীতি, ব্র্যান্ডিং, প্রোডাক্টিভিটি, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একজন প্রতিভাধর শিক্ষক এবং দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর আইবিএ তে অধ্যাপনা করছেন। প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় তার রয়েছে আন্তর্জাতিকমানসম্পন্ন একাডেমিক দক্ষতা ও যোগ্যতা।
¡প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত বর্তমান উপাচার্য। তিনি আইবিএ-এর সাবেক স্বনামধন্য প্রফেসর এবং ডাইরেক্টর; আইবিএ-এর বিবিএ প্রোগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। প্রফেসর ড. আনোয়ারুল করীম, মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত বর্তমান উপ-উপাচার্য। যিনি হার্ভার্ড ডিগ্রিধারী বিশ্বমানের একজন গবেষক এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার। প্রফেসর মো. আনোয়ার হোসেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত বর্তমান ট্রেজারার। তিনি দেশের ঐতিহ্যবাহী ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের সাবেক স্বনামধন্য শিক্ষক। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভিসি, প্রোভিসি, ট্রেজারারÑ এ ৩টি পদ একটি বিশ্ববিদ্যালয় সফলভাবে পরিচালনার জন্য অপরিহার্য। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ই এ ৩টি পদ পূরণে বরাবরই ব্যর্থ হচ্ছে।

নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর স্থায়ী ক্যাম্পাস
ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সন্নিকটে আশকোনায় আধুনিক সকল সুবিধা নিয়ে গড়ে উঠছে নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর স্থায়ী ক্যাম্পাস। ঢাকার প্রাণকেন্দ্র উত্তরা হাজী ক্যাম্প থেকে মাত্র ৫ মিনিটের দূরত্বে প্রায় ৬ বিঘা জমির ওপর আধুনিক স্থাপত্য শিল্পের এক অনুপম নিদর্শন হিসেবে গড়ে উঠছে এ ক্যাম্পাসটি।

নর্দান ইউনিভার্সিটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্জন
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি আরোপিত শর্ত যেমন একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের নিয়মিত সভা, কনভোকেশন, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ, নিয়মতান্ত্রিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ, নিয়মিত সিলেবাস আপডেটকরণ ইত্যাদি এখানে পুরোপুরিভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদান করার লক্ষ্যে বিশ্বের নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে ‘আন্তর্জাতিক গবেষণা ও শিক্ষা-উন্নয়ন’ সংক্রান্ত ইন্টারন্যাশনাল ফ্র্যাঞ্চাইজ কোলাবোরেশন গড়ে তোলা হয়েছে।
ষ নর্দানের শিক্ষার্থীরা দেশে অবস্থান করেই ডিসটেন্স মুড-এ ব্রিটেনের বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার-এর সার্টিফিকেট অর্জন করার সুযোগ পাচ্ছে।
ষ ন্যানটং কলেজ অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, চীন-এ প্রতি বছর নর্দানের ১০০ শিক্ষার্থী ১০০% সরকারি শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে পড়াশুনা করার সুযোগ পাচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বিরল সম্মানের ঘটনা।
ষ ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া এবং ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়া পার্লিস থেকে যৌথ ডিগ্রি প্রজেক্ট-এর আওতায় এমফিল ও পিএইচডি অর্জন করার সুযোগ পাচ্ছে নর্দানের শিক্ষার্থীরা।
ষ লন্ডনভিত্তিক পৃথিবীর বিখ্যাত শিক্ষা কোম্পানি ‘পার্সন এডএক্সেল’-এর বিশ্ববিখ্যাত এইচএনসি ও এইচএনডি কোয়ালিফিকেশন করার সুযোগ পাচ্ছে নর্দানের শিক্ষার্থীরা।
ষ যুক্তরাষ্ট্র সরকার-এর ‘আমেরিকান সেন্টার’ (যা বাংলাদেশস্থ ইউএস অ্যাম্বেসি কর্তৃক পরিচালিত)-এর মাধ্যমে নর্দানের শিক্ষার্থীরা আমেরিকাতে পড়াশুনার সুযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ের সাপোর্ট পাচ্ছে।
ষ বিশ্বখ্যাত আইডিপি, অস্ট্রেলিয়ার ওঊখঞঝ রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড এক্সাম সেন্টার’ এখন নর্দান ইউনিভার্সিটিতে। কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নর্দানই প্রথম এ সুযোগ লাভ করেছে।
ষ মালয়েশিয়ার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটি সেইন্স মালয়েশিয়া’-এর এমফিল ও পিএউচডি প্রোগ্রামে সরাসরি ভর্তির সুযোগ অর্জন করেছে নর্দানের এমপিএইচ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা।
ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘ইধহমষধফবংয ওহংঃরঃঁঃব ড়ভ ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঝঃঁফরবং (ইওওঝ)’ সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সুবিধা সংবলিত বিশ্বমানের এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছে ঢাকার অভিজাত এলাকা বনানীতে। এটি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি মাইলফলক। নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও এ ইনস্টিটিউট থেকে দেশি-বিদেশি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবে। নর্দান থেকে পাস করে যাওয়া সকল গ্র্যাজুয়েটদের কনভোকেশনের আওতায় আনা হয়েছে, অর্থাৎ সকল গ্র্যাজুয়েট কনভোকেশন দ্বারা স্বীকৃত।

দেশের প্রথম ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি
নর্দান ইউনিভার্সিটি দেশের প্রথম ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নর্দান ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ নিজেদেরকে যোগ্য অংশীদার মনে করে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে নর্দান ইউনিভার্সিটিকে বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ই-লার্নিং, ই-লাইব্রেরি, ই-পেমেন্ট, ভার্চুয়াল ক্লাস সুবিধা ইত্যাদিতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।

নর্দানের কয়েকটি উল্লেখ্যযোগ্য ডিপার্টমেন্ট
নর্দান ইউনিভার্সিটির বিজনেস ডিপার্টমেন্ট দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শুরু থেকেই অত্যন্ত জনপ্রিয়। ওইঅ-এর স্বনামধন্য ৪ জন্য প্রাক্তন ডিরেক্টরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এ বিভাগটি পরিচালিত। পূর্ণকালীন তরুণ মেধাবী শিক্ষকদের পাশাপাশি আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষকগণ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বড় বড় ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি, জিএম ও ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টগণ এখানে নিয়মিতভাবে পার্টটাইম ক্লাস নিয়ে থাকেন। পূর্ণকালীন এবং খ-কালীন মিলিয়ে এ বিভাগে ১৪ জন পিএইচডিধারী শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের কম্পিউটার সায়েন্স, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ঊঊঊ) এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ অত্যন্ত আধুনিক। আলাদাভাবে সর্বাধুনিক ১৮টি ল্যাবরেটরি দ্বারা এ অনুষদটি সজ্জিত। বুয়েট, ডুয়েট, রুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী গ্র্যাজুয়েটদের এ অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ অনুষদের প্রায় প্রতিটি গ্র্যাজুয়েট ন্যাশনাল এবং মাল্টিন্যাশনাল সফটওয়্যার কোম্পানি, আইটি ফার্ম, ইলেকট্রনিক ইন্ডাস্ট্রি, টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি, টেলিযোগাযোগ কোম্পানিতে কাজ করছেন। পূর্ণকালীন এবং খ-কালীন মিলিয়ে এ অনুষদে ১২ জন পিএইচডিধারী শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন।
ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য এককভাবে ৫০ হাজার বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যেকোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি সর্বোচ্চ একক। এখানে রয়েছে ৬টি আধুনিক ল্যাবরেটরি। পূর্ণকালীন এবং খ-কালীন মিলিয়ে এ বিভাগে ৬ জন পিএইচডিধারী শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। এটি এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ বিভাগ, যা ফার্মেসি পড়–য়া ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ৩ জন ডিনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এ বিভাগটি পরিচালিত। বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী এ বিভাগের প্রায় ৭৫% গ্র্যাজুয়েট বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে চাকরি পাচ্ছে, ১৫% গ্র্যাজুয়েট উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ যাচ্ছে এবং ১০% দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রশাসনিক এবং ফার্মাসিস্ট হিসেবে দক্ষতার সাথে কাজ করছে।

দেশের সুবৃহৎ এডুকেশন গ্রুপ
নর্দান পরিচালনা করছে দেশের একমাত্র এবং বৃহৎ এডুকেশন গ্রুপ। ব্রিটেনের রাসেল গ্রুপ ইনস্টিটিউশন, পিয়ারসন গ্রুপ ইনস্টিটিউশন-কে অনুসরণ করে বাংলাদেশেও একটি সর্ববৃহৎ এডুকেশন গ্রুপ প্রতিষ্ঠার টার্গেট নিয়ে নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ কাজ করছে। ইতোমধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে এবং দু’টি বাস্তবায়নের পথে। এগুলো হলো নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি খুলনা, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, নর্দান কলেজ বাংলাদেশ, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল নার্সিং কলেজ, নর্দান নার্সিং ইনস্টিটিউট, নিউ ল্যাব ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল হায়ার স্টাডিজ, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, এনইউবি ল্যাবরেটরি স্কুল।

শেষ কথা
১৯৯২ সালে প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় ঢাকায়। তখন থেকে হিসাব করলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছে আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে। শুরু থেকেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে জনমনে আগ্রহের পাশাপাশি কিছু সংশয়ও ছিল। বেসরকারি পর্যায়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেমন শিক্ষা দিবে বা তার শিক্ষা কার্যক্রম আদৌ চালু রাখতে পারবে কি না এ নিয়ে অনেক আশঙ্কাও ছিল। সব আশঙ্কা এবং সমালোচনাকে পেছনে ফেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গণমানুষের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছে। ফলে অল্পদিনের ব্যবধানেই অনেকগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আজ মাথা উঁচু করে বীরদর্পে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কর্মমুখী সিলেবাসের কারণে এখানকার গ্র্যাজুয়েটরা দ্রুত কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারছে। ফলে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেশের সকল শ্রেণির মানুষের আস্থা এবং আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বিশেষ যতœ নিয়ে থাকে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী প্রতি বছর ৫ শতাংশ ছাত্রছাত্রীর টিউশন ফি মওকুফের কথা থাকলেও নর্দান প্রতি সেমিস্টারে ১০ শতাংশের অধিক দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের টিউশন ফি মওকুফ করছে। গত সেমিস্টারে নর্দান প্রায় ১২ কোটি টাকা খরচ করেছে শুধু বৃত্তি ও উপবৃত্তি খাতে। অথচ অপরাপর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় নর্দান কম টিউশন ফি নিয়ে থাকে। মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের মাঝে উচ্চশিক্ষা বিস্তারের কথা চিন্তা করেই নর্দান এ রকম টিউশন ফি ধার্য করেছে। এ ছাড়াও নর্দান ইউনিভার্সিটিতে রয়েছে সেমিস্টার বৃত্তি প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা প্রতি সেমিস্টারেই ভালো রেজাল্টের জন্য নিয়মিতভাবে বৃত্তি পাচ্ছে। অপরদিকে বেশি দাম দিয়ে যাতে ছাত্রছাত্রীদের বই কিনতে না হয়, সে জন্য বাসায় নিয়ে পড়াশুনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব লাইব্রেরি থেকে তাদেরকে বই দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা শুধু ক্লাস ও পরীক্ষার পড়ালেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ছাত্রছাত্রীদের শুধু পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, ক্যারিয়ার গঠনমূলক ওয়ার্কশপ, সিম্পোজিয়াম, তথ্যপ্রযুক্তি বিস্তারে আইটি মেলা, নিয়মিত স্টাডি ট্যুর, গণিত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ, আন্তর্জাতিক হেনরি ডুনান্ট মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ, আর্তমানবতার সেবায় বিভিন্ন সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ ইত্যাদি কাজে অনেকটা বাধ্যতামূলকভাবে জড়িত রাখা হয়। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ফুটবলসহ বিভিন্ন ইনডোর-আউটডোর গেমসে অংশগ্রহণ ইত্যাদি বহু রকমের এক্সট্রা কারিকুলাম কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার বিকাশ লাভের জন্য বিভিন্ন সহ-শিক্ষা কার্যক্রম যেমন ডিবেটিং ক্লাব, ফটোগ্রাফি ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, কালচারাল ক্লাব, প্রোগ্রামিং ক্লাব, থিয়েটার ক্লাব, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব ইত্যাদির ব্যাপক চর্চা রয়েছে এখানে। আন্তঃক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে তাদের মেধা-মননের উৎকর্ষ সাধন করছে। প্রাণচঞ্চল এসব শিক্ষার্থী লেখাপড়ার পাশাপাশি কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি মেলা, স্টাডি ট্যুর, আর্তপীড়িত মানুষদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন কর্মকা- যেমন বন্যা দুর্গতদের সহায়তা, রক্তদান কর্মসূচি, গণসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি যথেষ্ট আগ্রহ ও উদ্দীপনার সাথে পালন করছে।