খেলা

রাশিয়া বিশ্বকাপে ৩২ দলের অফিসিয়াল স্লোগান এবং মাঠ মাতাবেন যারা

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ বিশ্বকাপ। আর এ বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা এখন সমগ্র বিশ্বজুড়ে। আর মাত্র ১৫ দিন পরেই পুতিনের দেশ রাশিয়ায় বসবে ৩২ দেশের শিরোপা জয়ের জমজমাট লড়াই। পুরো বিশ্বকে ড্রিবলিং, পাসিংয়ের জাদুতে মাতিয়ে রাখবেন মেসি, নেইমার এবং রোনালডোরা।
এদিকে বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ৩২টি দলের অফিসিয়াল স্লোগান প্রকাশ করেছে ফিফা। অনলাইন জরিপের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া স্লোগানগুলো নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ভক্তদের অনলাইনে ভোটের মাধ্যমে মোট ৯৬টি স্লোগান থেকে ৩২ দেশের স্লোগান বেছে নেয়া হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল থেকে ১৪ মে পর্যন্ত ভোট নেয়া হয়। প্রত্যেকটি দেশের স্লোগান তাদের নিজ নিজ টিম বাসে লেখা থাকবে।
১. আর্জেন্টিনা : একটি স্বপ্নের জন্য এক সাথে।
২. জার্মানি : চলো একসঙ্গে ইতিহাস লিখি।
৩. বেলজিয়াম : রেড ডেভিলরা নেমেছে মিশনে।
৪. ব্রাজিল : পাঁচ নক্ষত্রেরও বেশি, ২০ কোটি হৃদয়ে।
৫. কলম্বিয়া : এক স্বপ্ন, তিন রঙ আর পাঁচ কোটি হৃদয়।
৬. কোস্টারিকা : কোনোকিছুই অসম্ভব নয় যখন একসঙ্গে খেলে পুরো দেশ।
৭. ক্রোয়েশিয়া : ছোট দেশ, বড় স্বপ্ন।
৮. ডেনমার্ক : একসঙ্গে আমরা গড়বো ইতিহাস।
৯. ইংল্যান্ড : আমাদের বিজয়ী পাঠাও।
১০. মিসর : যখন তুমি ফারাওদের কিছু বলবে, সারা বিশ্ব অবশ্যই উঠে দাঁড়াবে আর শুনবে।
১১. ফ্রান্স : তোমাদের শক্তি, আমাদের স্বপ্ন! জেগে উঠো লা ব্লুজরা।
১২. অস্ট্রেলিয়া : সাহসী হও, হও দুঃসাহসী, সকারুদের মতো স্বর্ণ-সবুজে।
১৩. আইসল্যান্ড : চলো আমাদের স্বপ্নকে সত্যি করি।
১৪. ইরান : ৮ কোটি মানুষ, একটি দেশ, একটি হৃৎস্পন্দন।
১৫. জাপান : সামুরাই ব্লু, এখনই লড়াইয়ের সময়!
১৬. সাউথ কোরিয়া : এশিয়ার বাঘ, বিশ্বের বিজেতা।
১৭. মেক্সিকো : মেক্সিকো তৈরি, তৈরি বিজয়ের জন্য।
১৮. মরক্কো : অ্যাটলাসের সিংহ, মরক্কোর গর্ব।
১৯. নাইজেরিয়া : আফ্রিকার গর্বের পাখা।
২০. পানামা : দুই সাগরের শক্তি পানামা।
২১. পেরু : এই তো আবারও আমরা। ৩ কোটি পেরুভিয়ান ফিরবে এখানেই।
২২. পোল্যান্ড : এগিয়ে চলো পোল্যান্ড।
২৩. পর্তুগাল : অতীত গর্বের, বর্তমান ইতিহাসের।
২৪. রাশিয়া : হৃদয় খুলে খেলো।
২৫. সৌদি আরব : মরুভূমির বীর।
২৬. সেনেগাল : সেনেগালিজদের কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই।
২৭. সার্বিয়া : এক দল, এক স্বপ্ন, এক সার্বিয়া।
২৮. স্পেন : এক সাথে আমরা অপ্রতিরোধ্য।
২৯. সুইডেন : সুইডেনের জন্য এক সাথে।
৩০. সুইজারল্যান্ড : চার ভাষা, এক জাতি।
৩১. তিউনিসিয়া : হাতে রেখে হাত ঈগলরা আসছে রাশিয়ায়।
৩২. উরুগুয়ে : সূর্যের আলোকে রাশিয়ার আকাশ হবে আলোকিত নীল।
এবারের বিশ্বকাপ মাতাবেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ব্রাজিলের নেইমার ও পর্তুগালের রোনালডো। স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য এই তিন বরেণ্য ফুটবলারের মধ্যে মেসির ক্যারিয়ারের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হলো। পরবর্তী সংখ্যায় নেইমার ও রোনালডোর ক্যারিয়ার বিষয়ে আলোকপাত করা হবে।
লিওনেল মেসি : রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরুর আগে অন্যতম ফেবারিট আর্জেন্টিনা সমর্থকদের চোখে দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিচ্ছে একটি ছবি। ২০১৪ সালে রিও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে সোনালি ট্রফিটার পাশ দিয়ে বিষণœ বদনে হেঁটে যাচ্ছেন এই গ্রহের সেরা ফুটবলার, লিওনেল মেসি। অথচ নিঃশ্বাস ফেলার দূরত্বে থাকা ট্রফিটিকে ছোঁয়ার সাধ্য তখন তার নেই। অধিকারটাই তো অর্জন করতে পারেননি। ওই মুহূর্তের খানিক আগেই তো মেসির স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন জার্মান ফুটবলার মারিও গোৎসে।
‘এত কাছে, অথচ কত দূরে’Ñ জনম জনমের দূরত্বেই হয়ত থেকে যাচ্ছে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটা। যদি না শেষবারের মতো রাশিয়া থেকে সুযোগটা নিজের করে নিতে না পারেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ জয়ের সর্বশেষ এবং সেরা সুযোগটা মেসির সামনে। ১৫ জুলাই লুঝনিকি স্টেডিয়ামের সাজানো মঞ্চে উঠে সতীর্থদের নিয়ে শিরোপা উল্লাসে কী শেষ পর্যন্ত মেতে উঠতে পারবেন মেসি? সময়ের কাছেই তোলা থাক এই প্রশ্নের উত্তর।
বিশ্বসেরা ফুটবলার, অথচ বিশ্বকাপটা হাতে তুলে নিতে পারেননি, এমন কিংবদন্তিদের কাতারে নাম ইতোমধ্যেই লিখে ফেলেছেন লিওনেল মেসি। রাশিয়া বিশ্বকাপই তার সামনে শেষ সুযোগ। এরপরই হয়তবা শিরোপা জিততে না পারাদের তালিকায় নামটা স্থায়ীভাবে বসে যাবে তার।
পেলে না ম্যারাডোনা? কে সেরা? ফুটবলে এটা এক চিরকালীন প্রশ্ন। এই প্রশ্নটার সমাধান করার যোগ্যতা ছিল একমাত্র লিওনেল মেসির। আর্জেন্টাইন এই জীবন্ত কিংবদন্তি ক্লাব ফুটবলে এমন কোনো ট্রফি নেই, যেটা জিততে পারেননি। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে এখনও কোনো কিছুই জেতা হয়নি তার। একটিমাত্র বিশ্বকাপ যদি হাতে তুলে নিতে পারতেন তাহলে, নিশ্চিত পেলে-ম্যারাডোনার শ্রেষ্ঠত্ব ম্লান হয়ে যেতো আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকরের সামনে।
মেসি নিজেও খুব করে চাইছেন, অন্তত তার জীবনে এই অপূর্ণতাটা ঘুচে যাক। তিনি নিজেই বারবার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলছেন, ‘ফুটবলের দায় শোধ করার এখনই সময়, আমার হাতে একটি ট্রফি তুলে দিয়ে।’ বিশ্বকাপ ট্রফিটা জেতার জন্য এতটাই উতলা হয়ে উঠেছেন তিনি।
এই একটিমাত্র ট্রফি মেসিকে এভারেস্টের চূড়া থেকে আসমানে তুলে দেবে, সন্দেহ নেই। এমন এক উচ্চতায় তিনি চলে যাবেন, যেটা দেখে হয়ত পেলে-ম্যারাডোনারও ঈর্ষা হতে পারে। ৫ বার ফিফা বর্ষসেরা, ব্যালন ডি’অর যার হাতে ওঠে, যে দেশ বিশ্বকাপে সবসময়ই থাকে ফেবারিটের তালিকায়, সে দেশের একজন ফুটবলারের একটি বিশ্বকাপ ট্রফি চাওয়া তো বেশি কিছু নয়। কিন্তু ২০০৬ সালে হলো না, ২০১০ সালেও নাম লেখাতে হয় ব্যর্থদের কাতারে। আর ২০১৪ সালে তো রীতিমতো ট্র্যাজেডিই রচনা হয়ে গেলো আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য। এত এত রেকর্ড আর গোল যার নামের পাশে, তার হাতে একটি বিশ্বকাপ শিরোপা নেই, এটা যেন খুবই বেমানান। মেসি নিজেই বলেছেন, ফুটবলের এবার দায় শোধ করার সময় হয়েছে। রাশিয়া বিশ্বকাপ কী পারবে, মেসির সেই দায় শোধ করতে!