ফিচার

স্বাস্থ্যতথ্য : রমজানে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে চলবেন

সন্ধ্যাবেলা রোজা ভেঙে আমরা প্রথমে কী করি? এ ক্ষেত্রে আমাদের অনেকেরই উত্তর হবে হুবহু এক। যা হলো ফাস্টফুড খাওয়া… হ্যাঁ, দুঃখজনক হলেও এটাই সত্যি। পিঁয়াজু, বেগুনি, আলুরচপ, জিলাপি এমন গতানুগতিক ইফতার আইটেমগুলোকে ফাস্টফুড ছাড়া আর কিছু বলার উপায় নেই এবং এদের ক্ষতির পরিমাণও নেহায়েত কম নয়। আমাদের সবারই জানা আছে ফাস্টফুড তৈরি করে ফাস্টডেথ-এর ভিত্তি, কিন্তু আমরা ক’জন আসলে এসব ক্ষতিকর খাদ্য এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি? রমজান মাসে যেহেতু খাদ্য গ্রহণ করতে হয় নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী, সেহেতু এ সময়ে আমাদের একটি সঠিক ও নিয়মতান্ত্রিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার সুযোগ আছে। দুর্ভাগ্যবশত, ভুল খাদ্য গ্রহণের ফলে এ সময়ে অনেককেই অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখা যায়, এমনকি তৈরি হয় দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিলতা। এছাড়াও ঘুমের অনিয়ম, অপরিমিত ব্যায়াম, ধূমপান ইত্যাদি কারণে রমজানে স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে পারে। স্বদেশ খবর পাঠকরা চলুন জেনে নিই কোন কোন বিষয়গুলো বর্জন করলে রমজানে সুস্থ থাকা সম্ভব।

খাদ্যাভ্যাসে যা মেনে চলবেন
রমজানে সুস্থ থাকার জন্য সঠিক খাদ্য গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। কারণ দীর্ঘ সময় উপবাসের ফলে আমাদের শরীর কিছুটা হলেও দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু বর্তমানে অস্বাস্থ্যকর, তৈলাক্ত, অতিরিক্ত মশলাদার ও অতিমাত্রায় চিনি আর লবণে ভরা খাদ্যের ভিড়ে সুস্থ থাকা হয়ে পড়ছে নিতান্তই দুরূহ ব্যাপার। সারা বছর যেসব খাবার ক্ষতিকর বলে আমরা এড়িয়ে চলি, রমজান মাসে সেসব খাবারকে অবশ্যই খাদ্য তালিকার বাইরে রাখতে হবে।
এড়িয়ে চলার তালিকায় সবার প্রথমেই রয়েছে অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার। তেল হজম করা কঠিন ও সময়সাপেক্ষ এবং এ প্রক্রিয়ায় শরীরের অনেক পানি খরচ হয়ে সৃষ্টি করে পানিশূন্যতা। ডুবোতেলে রান্না করা খাদ্যদ্রব্য ক্ষতি করে একইভাবে এবং এভাবে ভাজার পর অনেকটা খাদ্যগুণের অপচয় হয় যা কম তেলে ভাজা খাবারে পাওয়া সম্ভব।
মাত্রাতিরিক্ত চিনি ও লবণযুক্ত খাবার পরিহার করুন। বিশেষ করে, কৃত্রিম রঙ ও ফ্লেভারযুক্ত কোলা জাতীয় পানীয় পান করা অনুচিত। এতে পানিশূন্যতা দেখা দেয়ার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অংশের স্থায়ী ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। এ সময়ে ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় যেমন চা, কফি এসব বর্জন করাই উত্তম, বিশেষ করে ইফতারের পর। কারণ এসব পানীয় শরীর থেকে অনেক পানি টেনে নেয় এবং নিদ্রাহীনতা তৈরি করে।
তৃষ্ণা মেটাতে বেছে নিন বিশুদ্ধ পানি অথবা ঘরে তৈরি ফলের জুস। দিনে একটি করে ডাবের পানি পান করলেও শরীরের চাহিদা অনেকটা পূরণ হয়। প্রক্রিয়াজাত খাদ্যদ্রব্যের পরিবর্তে অগ্রাধিকার দিন ঘরে তৈরি খাদ্যকে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটা মনে রাখা উচিত তা হলো অতিমাত্রায় পেট ভরে খাওয়ার প্রবণতা বাদ দেয়া। সেহরিতে আমরা অনেকেই বেশি খাওয়ার চেষ্টা করি কারণ এরপর অনেকটা সময় উপবাসী থাকতে হয়। কিন্তু এ সময়ে খাওয়া অতিরিক্ত খাবার আমাদের শক্তি যোগাতে সাহায্য করে না বরং এর ফলে বদহজম এবং অম্ল হয়ে অনেকেই দুর্বল হয়ে পড়েন।
সেহরি এবং ইফতার উভয় সময়েই খাদ্য নির্বাচনে তালিকায় রাখতে হবে ৬টি খাদ্যশ্রেণিকেই। শুধু এক বা দুই শ্রেণির খাদ্য (যেমন শুধু শর্করা এবং চর্বিজাতীয় খাবার) খাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।

ঘুমের ক্ষেত্রে মনে রাখুন
রমজান মাসে সেহরির জন্য ভোররাত্রে ঘুম থেকে উঠে জেগে থাকতে হয় বলে আমাদের অনেকের ঘুমের সময়সূচি সম্পূর্ণ এলোমেলো হয়ে পড়ে। তাই ঘুমের সময় এমনভাবে ঠিক করা উচিত যাতে আমাদের দেহঘড়ি চলে কোনো অসুবিধা ছাড়াই। ইফতারের ঠিক পরে আমরা অনেকেই ছোট্ট একটা ঘুম দিয়ে উঠি, কিন্তু এই অভ্যাস বাদ দেয়া উচিত কারণ এর পর সারা রাত ঘুম আসে না অথবা ঘুম এলেও গভীর ঘুম হয় না। ফলে পরবর্তী দিনে শরীর থাকে ক্লান্ত। বিশ্রামের প্রয়োজনে সেহরির আগে কয়েক ঘণ্টা নিñিদ্র ঘুম এবং ইফতারের আগে একটু ঘুমানো শরীরের জন্য বেশি উপকারী।

ব্যায়াম করবেন যেভাবে
রমজান মাসে ব্যায়াম তখনই করা উচিত যখন শরীর থাকে সতেজ এবং সক্রিয়। দিনের বেলা শরীর দুর্বল এবং পানিশূন্য থাকে বলে ব্যায়াম এড়িয়ে চলাই ভালো। ইফতারের ঠিক আগে ব্যায়াম করা একেবারেই অনুচিত কারণ এসময়ে মূল্যবান পেশিকলা ক্ষয় হবার সম্ভাবনা থাকে। ব্যায়াম যদি করতেই হয় তবে তা করুন ইফতারের অন্তত ৩ ঘণ্টা পর, যখন ইফতার থেকে শরীর পুষ্টি নিয়ে কর্মক্ষম হয়ে ওঠে। যারা বাসাতেই থাকেন সারাদিন এবং তেমন ভারী কোনো কাজ করেন না, তারা সকালের দিকেও ব্যায়াম করতে পারেন।

ধূমপান পরিহার করুন
বছরের যেকোনো সময়েই ধূমপান শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ধূমপানের ফলে শরীরে বিভিন্ন ভিটামিনের সদ্ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হয় এবং বিপর্যস্ত হয় শারীরিক প্রক্রিয়াসমূহ। সম্ভব হলে চেষ্টা করুন রমজান মাসে ধূমপান সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে। আর তা যদি সম্ভব না হয়ে থাকে তবে একটু একটু করে কমিয়ে আনুন ধূমপানের মাত্রা।