কলাম

অধিকতর সতর্কতার সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি

গত ৩ মে র‌্যাব ফোর্সেসের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে ছেলে-মেয়েদের রায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রেখে উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই ঘোষণার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। গত এক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক উদ্ধার, এর সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং কোনো কোনো মাদক ব্যবসায়ীর সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধের মতো সাংঘর্ষিক ঘটনা ঘটেছে। এতে দেড়শ’র মতো মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে কোটি কোটি টাকা মূল্যের মাদক। মাদকের বিরুদ্ধে এই অভিযানকে ইতিবাচক বলছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। এ কথা অনস্বীকার্য, সারাদেশে মাদক যেভাবে সর্বগ্রাসী রূপ লাভ করেছে, তাতে হার্ড অ্যাকশন ছাড়া গতি নেই। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদক ব্যবসার যারা মূল হোতা তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে। মাদকের যে চেইন সৃষ্টি হয়েছে তাতে কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কিছু মাদক উদ্ধার ও বন্দুকযুদ্ধে কিছু লোক নিহত হলেও অন্যরা এ সময় সাবধান হয়ে যাচ্ছে। তারা মাদক ব্যবসা আপাতত বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই দেশে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন চলছে। এখন মাদকের নতুন সংস্করণ ইয়াবা প্রবেশ করছে মিয়ানমার থেকে। এই মাদক এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সীরা এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ যে তরুণ শ্রেণি, তাদের মধ্যে ইয়াবা আসক্তি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এর কারণ হচ্ছে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা, তাদেরই একটি শ্রেণির প্রশ্রয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা অবাধে ব্যবসা করে চলেছে। এর ফলে কোনোভাবেই মাদকের আগ্রাসন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আর এ পরিস্থিতির মধ্যেই মাদক ও এর ব্যবসার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে। আমরা মনে করি, মাদক ব্যবসায়ী এবং এদের পৃষ্ঠপোষক ও নেটওয়ার্ক যতই শক্তিশালী হোক না কেন, যেকোনো মূল্যে তা নির্মূল করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। তবে এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত নয় যা বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে নিরীহ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, এ দিকেও বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। রাজনৈতিক শত্রুতার জের ধরে মাদকের নামে যাতে কাউকে বিপদে পড়তে না হয় এ ব্যাপারেও সচেতন থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, এেেত্র সামাজিক সচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত হবে এলাকাভিত্তিক মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে জনগণকে সম্পৃক্ত করা। পাশাপাশি নিজেদের বাহিনীর যারা মাদক ব্যবসাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং নিয়মিত মাসোয়ারা নিচ্ছে তাদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বলার অপো রাখে না, সর্ষের মধ্যে ভূত থেকে গেলে, সে ভূত কখনোই তাড়ানো যায় না। কাজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ল্য হওয়া উচিত মাদকের সাথে যে বা যারাই জড়িত থাকুক এবং তারা যতই প্রভাবশালী হোক, তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।