প্রতিবেদন

অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজগঠনে প্রতিবন্ধী শিশুরা ভূমিকা রাখতে পারে : সেভ দ্য চিলড্রেন

স্বদেশ খবর ডেস্ক : প্রতিবন্ধিতার শিকার শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ শিশু নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলে একটি ভালো শৈশব পাওয়ার পাশাপাশি তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্ব শিশু দিবস সামনে রেখে গত ৩১ মে জাতীয় প্রেসকাবে সেভ দ্য চিলড্রেন আয়োজিত ‘এন্ড অব চাইল্ডহুড (হারানো শৈশব)’ বিষয়ক এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তবে প্রান্তিক শিশুরা বিশেষ করে প্রতিবন্ধিতার শিকার হওয়া শিশুরা বিভিন্নভাবে বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ না থাকার কারণসহ নানা কারণে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়াও বেড়েছে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ শিশুর উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ, কিশোরী বয়সে গর্ভধারণ, শিশুমৃত্যু, শিশুশ্রম, অপুষ্টি, শিশুর প্রতি সহিংসতাসহ ৮টি সূচককে বিবেচনায় নিয়ে গবেষণায় দেখা যায় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ৭০১ পয়েন্ট পেয়ে বাংলাদেশ ১৩০তম স্থানে রয়েছে, যা ২০১৭ এর তুলনায় ২১ পয়েন্ট বেশি। গত এক বছরে অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অগ্রগতি ঈর্ষণীয়। এ গবেষণায় দেখা যায় পাকিস্তান পেয়েছে ১৪৯ ও আফগানিস্তান ১৬০। বাংলাদেশের পেছনে থাকলেও সামনে রয়েছে শ্রীলংকা ৬০, মিয়ানমার ১০৭ এবং ভারত ১১৩।
এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৭৫টি দেশের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে রয়েছে যৌথভাবে সিঙ্গাপুর ও স্লোভেনিয়া। শীর্ষ পাঁচের অন্য দেশগুলো হচ্ছে নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড। অনিরাপদ শৈশবের দিক দিয়ে শীর্ষ ১০টি দেশের ৮টিই পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার। নাইজেরিয়ার শিশুদের শৈশব সবচেয়ে কষ্টকর বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশের বেশি শিশু যাদের বয়স ৫ বছরের কম তারা অপুষ্টিতে ভোগে, ৪৪ ভাগ কিশোরী মেয়েদের ২০ বছরের আগে বিয়ে হয়ে যায় এবং ৩ দশমিক ৫ ভাগ শিশু ৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা যায়। অনুষ্ঠানে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, সেভ দ্য চিলড্রেনের শিক্ষা কর্মসূচির আওতাভুক্ত হোপ প্রকল্পের পরিচালক কামাল হোসেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে ২০ শতাংশেরও কম শিশু স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায়। স্কুলের বাইরে থাকা শিশুদের ৫৩ শতাংশ শিশুর মধ্যে দৃশ্যমান প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। কামাল হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধিতার শিকার শিশুদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টির জন্য বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি একীভূত শিক্ষার ব্যাপক বিস্তারের জন্য জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর সাথে যৌথভাবে কাজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
সংগঠনের প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট ও কোয়ালিটির পরিচালক রিফাত বিন সাত্তার বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন সূচকে উন্নতি করেছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ে পাঠানোর ক্ষেত্রে। তবে শিক্ষায় অগ্রগতির সুফল সব শ্রেণির শিশুরা পাচ্ছে না, বিশেষ করে চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের শিশুরা ও প্রতিবন্ধিতার শিকার শিশুরা।

যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি
শিশু : সেভ দ্য চিলড্রেন

বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি শিশু চরম দারিদ্র্য, যুদ্ধ অথবা লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ১ জুন আন্তর্জাতিক শিশু দিবস উপলক্ষে লন্ডনভিত্তিক সেভ দ্য চিলড্রেন-এর এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। প্রতিবেদনটিতে তারা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এই তিনটি প্রধান বিষয় কিভাবে শিশুদের থেকে তাদের শৈশব ছিনিয়ে নিচ্ছে তা নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে।
সংস্থাটি দেখেছে যে ১০০ কোটিরও বেশি শিশু দারিদ্র্যকবলিত দেশে বাস করে, ২৪ কোটি শিশু যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৫৭ কোটি ৫০ লাখ মেয়েশিশু লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার। ২০টি দেশে বসবাসকারী প্রায় ১৫ কোটি ৩০ লাখ শিশু এই ঝুঁকি তিনটির মধ্যে রয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের সিইও ক্যারোলিন মাইলস বলেন, ‘আমরা অনেক দেশে কিছুটা অগ্রগতি দেখছি। এই দেশগুলোতে বাল্যবিবাহ, শিক্ষাবঞ্চিত ও ভগ্নস্বাস্থ্যের মতো বিষয়গুলোর উন্নতি ঘটেছে। তবে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য এটা খুব দ্রুত ঘটছে না।’
প্রতিবেদনটিতে শিশুদের জন্য সবচেয়ে বেশি ও সবচেয়ে কম ঝুঁকির ১৭৫টি দেশের সূচক দেখানো হয়েছে। সিঙ্গাপুর ও স্লোভেনিয়া প্রথমে রয়েছে। সবচেয়ে নিচের ১০টি দেশের ৮টি দেশই পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ২০৩০ সাল নাগাদ শিশুদের শিক্ষা, সুরক্ষা, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে জাতিসংঘের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মাইলস তা পূরণ করতে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।