ফিচার

ঈদ রেসিপি

ঈদের সকালে নামাজে যাবার আগে মিষ্টি কিছু খাওয়া রেওয়াজে পরিণত হয়েছে বলা চলে। আর এই মিষ্টান্ন খাবারটি জর্দা সেমাই হলে মন্দ হয় না। আসলে আমাদের ঈদে এটি এমন একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ যে সেমাই নিয়ে আলাদা করে তেমন কিছুই বলার থাকে না। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরে আমাদের ঘরে ঘরে সেমাই থাকবেই। এ জন্যই হয়ত ঈদুল ফিতর সেমাই ঈদ নামেও অনেকের কাছে পরিচিত। নারিকেলের দুধ দিয়ে তৈরি কোপ্তা কারিও ঈদের দিনের একটি জনপ্রিয় খাবার। সেমাইয়ের বাইরে ফিরনিও রান্না হয় ঘরে ঘরে। তবে সেটি যদি ফলের ফিরনি হয় তাহলে তো কথাই নেই। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এবার স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য ৩টি পদের রেসিপি দেয়া হলো। পরিবারের সদস্যদের জন্য রেসিপি অনুযায়ী এগুলো রান্না করুন বাড়িতেই।

জর্দা সেমাই

উপকরণ : সেমাই ১ প্যাকেট, চিনি ২ কাপ, নারিকেল কোরা ১ কাপ, কিশমিশ ২ টেবিল চামচ, চীনা বাদাম (ভাজা) ৩ টেবিল চামচ, দারুচিনি ৩ টুকরা, তেজপাতা ২টি, ঘি ৪ টেবিল চামচ, পানি ২ কাপ ও লবণ পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রণালি : চুলাতে কড়াই চাপিয়ে আগুনের আঁচে কড়াইয়ের ভেতরটা শুকাতে দিন। এবার গরম কড়াইতে ঘি দিয়ে দিন। ঘি
সামান্য গরম হলে ১ প্যাকেট সেমাইয়ের অর্ধেকটা এই গরম ঘিয়ে ঢেলে দিয়ে ১০-১৫ মিনিট নাড়–ন, সেমাই ঘিয়ে ভাজা হবে। এবার চিনি দিয়ে নেড়ে দিন ভালো করে। অতঃপর এতে কোরানো নারিকেল দিয়ে নাড়তে থাকুন, কিছুণ পর পানি দিয়ে দিন আর চুলার আঁচ কমিয়ে নাড়তে থাকুন। পানি শুকিয়ে এলে বাদাম, কিশমিশ, তেজপাতা, দারুচিনি দিয়ে আরো মিনিট দশেক মৃদু জ্বালে দমে রাখুন। সেমাই ঝরঝরে হলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

ফলের ফিরনি

উপকরণ : দুধ ১ গ্যালন, চিনি চার টেবিল চামচ, চালের গুঁড়া ৩ টেবিল চামচ, ঘি বা মাখন ২ টেবিল চামচ, এলাচ ৪টা, দারুচিনি ২ টুকরা, পেস্তা বাদাম এবং কিশমিশ পরিমাণমতো। ফলÑ আম, কলা, আপেল ও বেদানা কিউব করে কাটা।
প্রস্তুত প্রণালি : প্রথমে একটি হাঁড়িতে দুধ নিয়ে এলাচ, দারুচিনি এবং কিছু পেস্তা বাদাম এবং কিশমিশ মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিতে হবে। তারপর আর একটি হাঁড়িতে ঘি বা মাখন দিয়ে হালকা আগুনে চালের গুঁড়া ভেজে সামান্য বাদামি হলে চিনি এবং ঘন করা দুধ দিয়ে কিছুণ নেড়ে নামিয়ে নিন। তারপর একটি কাচের বাটিতে প্রথমে কিছু কিউব করে কাটা ফল এবং পেস্তা বাদাম বিছিয়ে তার উপর ফিরনি ঢেলে দিন এবং বাকি ফল উপরে দিয়ে তাতে পেস্তা বাদাম কুচি এবং কিশমিশ দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন দারুণ মজাদার ফলের ফিরনি।

নারিকেল দুধের কোপ্তা কারি

উপকরণ : কাঁচা মাংসের কিমা ১ কাপ, সেদ্ধ মাংসের কিমা ১ কাপ। আদা বাটা ১ চামচ, রসুন বাটা আধা চা-চামচ, গরম মশলার গুঁড়া আধা চা-চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, কর্নফাওয়ার ২ টেবিল চামচ, ডিমের কুসুম ১টি, তেল ১ টেবিল চামচ। লবণ পরিমাণমতো, লেবুর রস ১ চা-চামচ ও ময়দা ২ টেবিল চামচ।
প্রস্তুত প্রণালি : সব উপকরণ একসঙ্গে মাখিয়ে ১৪ থেকে ১৬ ভাগ বা পছন্দমতো ভাগ করে গোল গোল কোপ্তা বানাতে হবে। একটি ডিমের সাদা অংশে ২ টেবিল চামচ পানি দিয়ে ফেটিয়ে কোপ্তাগুলো ডিমের সাদা অংশে ডুবিয়ে গরম ডুবো তেলে ঘিয়ে রঙ করে ভেজে উঠাতে হবে।
উপকরণ : ঘন নারিকেলের দুধ ২ কাপ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা আধ চা-চামচ, জিরা বাটা আধা চা-চামচ, পিঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ, পোস্তদানা বাটা ১ টেবিল চামচ, পিঁয়াজ কুচি আধা কাপ, তেল এক কাপের চার ভাগের তিন ভাগ, মরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, গরম মশলার গুঁড়া আধা চা-চামচ, বেরেস্তা ৪ টেবিল চামচ, তেঁতুলের মাড় ১ টেবিল চামচ, দারুচিনি ৪ টুকরা, এলাচ ৪টি, লবঙ্গ ৪টি, তেজপাতা ২টি, আস্ত কাঁচা মরিচ ৫-৬টি, চিনি ১ চা-চামচ ও লবণ পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রণালি : তেল গরম করে পিঁয়াজ ভাজতে হবে। পিঁয়াজ নরম হলে সব বাটা মশলা, গুঁড়া মশলা, গরম মশলা দিয়ে কষিয়ে নারিকেলের দুধ দিতে হবে। ফুটে উঠলে কোপ্তা দিতে হবে। ঝোল কমে এলে চিনি, তেঁতুল, কাঁচা মরিচ, কিছু বেরেস্তা দিয়ে নামাতে হবে। পরিবেশন পাত্রে ঢেলে পিঁয়াজ বেরেস্তা ও পেস্তাবাদাম কুচি ছড়িয়ে দিতে হবে। কোপ্তা কারি পোলাও, পরোটা ও লুচির সঙ্গে পরিবেশন করা যায়।