প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

কানাডায় জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন ও আউটরিচ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী : রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে জি-৭ নেতাদের প্রতি শেখ হাসিনার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক : কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বিশেষ আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ জুন টরেন্টো পৌঁছলে সেখানে তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা জানানো হয়। ৯ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেন। ১০ জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর মধ্যে এক ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সবচেয়ে সোচ্চার। মূলত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাতে রোহিঙ্গাদের নিজভূমে প্রত্যাবাসনে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত নেতাদের প্রভাবিত করতে পারেন, সে জন্যই কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কানাডা নিয়ে যান।
শেখ হাসিনা ও অন্যান্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দ জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দিতে সড়কপথে কুইবেক সিটি থেকে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার দূরে লা মালবাই-এর লা মানইর রিচেলিউয়ে পৌঁছলে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও তার স্ত্রী সোফাই গ্রেগরি ট্রুডো তাঁকে স্বাগত জানান। শেখ হাসিনা জি-৭ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং ফটোসেশনে অংশ নেন। বিশ্বের অর্থনৈতিক পরাশক্তিগুলোর সংগঠন জি-৭-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো হচ্ছেÑ কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আউটরিচ অধিবেশনের বিভিন্ন সেশনে যোগ দেন এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন বন্ধ ও বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে সুর্নিদিষ্ট পদক্ষেপ নিতে কানাডাসহ অপরাপর ৬ দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি এবং গণতন্ত্র, সুশাসন, দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর মতায়নের বিষয়গুলো জি-৭ নেতাদের উদ্দেশে তুলে ধরেন।
বিভিন্ন আউটরিচ অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে শেখ হাসিনা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাকি চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারের প্রতি চাপ প্রয়োগে সুনির্দিষ্ট পদপে নেয়ার জন্য জি-৭ নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, দ্বিপীয় চুক্তি বাস্তবায়নে রাখাইন রাজ্যে কার্যকর পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমারকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদপে নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের বারবার দেশ থেকে বিতাড়ন বন্ধ এবং মূল সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারকে অবশ্যই কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে পদপে নিতে হবে। এেেত্র আমাদের আরো আন্তর্জাতিক বিশেষ করে জি-৭ দেশগুলোর সমর্থন প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের সমস্যার মূল মিয়ানমারেই নিহিত এবং তাদেরকেই এর সমাধান করতে হবে। রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরত নিতে হবে যেখানে তারা শত শত বছর ধরে বসবাস করে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইতোমধ্যেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের চুক্তি হয়েছে। এই প্রক্রিয়া যাতে স্থায়ী ও টেকসই হয় সেজন্য আমরা এতে ইউএনএইচসিআরকে অন্তর্ভুক্ত করেছি। প্রধানমন্ত্রী রাখাইন অ্যাডভাইজরি কমিশনের সুপারিশসমূহ অতিদ্রুত এবং নিঃশর্ত বাস্তবায়নে মিয়ানমারকে রাজি করানো এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ অবরোধ আরোপে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব গ্রহণে কাজ করার জন্য জি-৭ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যাযজ্ঞের অপরাধ অথবা তাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা ও সুবিচার নিশ্চিত করতে পদপে নিতে হবে। বাংলাদেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখের বেশি মিয়ানমারের নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে এবং তারা নিজ দেশে গণহত্যার মুখোমুখি হওয়ায় জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। আমাদের জনগণ তাদের বাড়িঘর ও হৃদয় দুর্দশাগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে এবং নিজেদের খাবার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, মোট ১২২টি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও এবং জাতিসংঘ সংস্থা কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের ক্যাম্পগুলোতে কাজ করছে। অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা আমাদের নিজস্ব সম্পদ থেকে তাদের নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য মৌলিক সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমরা আসন্ন বর্ষা ও সাইকোন মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি। সরকার পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী প্রায় ১ লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচর নামে একটি নিরাপদ দ্বীপে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই স্থান বসবাসের উপযোগী, নিরাপদ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সুরা থাকবে। সেখানে বসবাসের পরিবেশ উন্নত হবে এবং জীবিকার সুযোগ থাকবে এবং আমরা সেখানে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করছি।

জি-৭ দেশগুলোর সঙ্গে নীল
অর্থনীতি বিষয়ে অংশীদারিত্বের
আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিবেশ সুরার জন্য জি-৭ দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। জি-৭ এর আউটরিচ বৈঠকে বিশ্ব মহাসাগর বিষয়াবলি শীর্ষক এক ইন্টারভেনশনে শেখ হাসিনা বলেন, সমুদ্র ও উপকূলীয় প্রতিবেশের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং সুরার জন্য বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে জি-৭ দেশগুলোর অংশীদারিত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নীল জল আমাদের জনগণের কাছে একটি ঐতিহ্য। সময়ের দাবি অনুযায়ী আমরা আমাদের উপসাগরকে সংরণ এবং সুরার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র সীমানা বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন উদ্বেগের সঙ্গে ল্য করছি বর্জ্য নিপে এবং সাগরের জল অম্লীয় হয়ে যাওয়াসহ জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েই চলেছে।
বাংলাদেশের ৭৫টি উপকূলীয় দ্বীপ ডুবে যাওয়ার পর্যায়ে রয়েছে এবং নদীগুলোতে সাগরের লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ায় হুমকির মুখে পড়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ২ কোটি লোকের বাস্তুভিটা স্থানান্তরের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের জীবিকার সুযোগ সীমিত এবং মহাসাগরীয় চ্যালেঞ্জ ও জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে তাদের খাপ খাইয়ে চলার মতা খুবই সীমিত।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সর্বত্র শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জনগণের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে টেকসই উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে সামুদ্রিক নীতি গ্রহণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী জি-৭ এর আওতাভুক্ত সকল দেশকে সমুদ্রভিত্তিক পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান এবং সুবিধার অংশীদারিত্বের নীতির ভিত্তিতে এবং তাদের উদ্ভাবন ও সমতাকে সমুদ্র সম্পদের টেকসই উন্নয়নের সুরা প্রদান, সংরণ এবং কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। অভিযোজিত প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং মূল প্রযুক্তি হস্তান্তরকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এজন্য সামুদ্রিক জৈবপ্রযুক্তির দিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। মহাসাগরে প্লাস্টিক বর্জ্য নিপে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্লাস্টিকের পরিবর্তে শিল্পে পাট জাতীয় প্রাকৃতিক তন্তুর ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্ব এেেত্র স্বল্প ব্যয়ে পচনশীল জৈব প্রযুক্তিকে বিকল্প হিসেবে দেখতে পারে।
জলবায়ু বিষয়ক ইন্টারভেনশনে শেখ হাসিনা বলেন, প্যারিস চুক্তির পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিযোজনে সহায়তা প্রয়োজন। বাংলাদেশকে জলবায়ু অর্থ সংস্থানের উন্নয়নে যুক্ত করা এবং সহায়তা বাড়ানো উচিত। বাংলাদেশের মতো দেশের কৃষি, জনস্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং স্থানান্তর প্রভৃতি খাতে সহায়তা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের সাথে মানিয়ে নিতে দরিদ্র ও সর্বাধিক ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর সমর্থনের জন্য কানাডিয়ান সরকারের অঙ্গীকারের প্রশংসা করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে মোকাবিলা করার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সাহায্য করতে কানাডা আগামী ৫ বছরে ২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেবে। আর গ্রিন কাইমেট ফান্ডের জন্য দেবে (জিসিএফ) ৩০০ মিলিয়ন ডলার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জি-৭ এর দেশগুলোর কাছে কানাডার মতো অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত উভয় ধরনের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

জি-৭ অতিথিদের সম্মানে
গভর্নর জেনারেল আয়োজিত
নৈশভোজে শেখ হাসিনার যোগদান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ জুন জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন ও আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দিতে আসা রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে কানাডার গভর্নর জেনারেলের দেয়া এক নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন। কানাডার গভর্নর জেনারেল জুলি পায়েট এই নৈশভোজের আয়োজন করেন। প্রধানমন্ত্রী এখানে দণি আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী নগুয়েন জুয়ান ফুচ, হাইতির প্রেসিডেন্ট এবং ক্যারিবীয় সম্প্রদায়ের সভাপতি জোয়েনাল ময়েজি এবং নৈশভোজে যোগ দেয়া অন্যান্য অতিথিবৃন্দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এই নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জি-৭ দেশসমূহের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানরা ছাড়াও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট এবং জি-২০ এর সভাপতি মাউরিকো ম্যাকরি, হাইতির প্রেসিডেন্ট ও ক্যারিবিয়ান কমিউনিটির সভাপতি জোভেনেল মইসি, জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রিউ হোলনেস, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইরো কেনিয়াত্তা, মার্শাল আইল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট হিলদা হেইনি, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ, রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট ও আফ্রিকান ইউনিয়নের সভাপতি পল ক্যাগামি, সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল, সিসিলির প্রেসিডেন্ট ড্যানি ফেউরি, দণি আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগুয়েন জুয়ান পুউচ, ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন ল্যাগারডে, ইকোনমিক কো-অপারেশন ও ডেভেলপমেন্ট সংস্থার মহাসচিব জোসে অ্যাঞ্জেল গুরিয়া, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টেনিউ গুটেরেজ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস্টালিনা গিউরগিভা যোগ দেন।