প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

বর্তমান মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকারের শেষ বাজেট ২০১৮-২০১৯ প্রণয়ন : জনকল্যাণমুখী বিশাল বাজেটে জনমনে স্বস্তির সুবাতাস

মেজবাহউদ্দিন সাকিল : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট পেশ করে ১৯৭২ সালে। সেই বাজেটের পরিমাণ ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। ৪৬ বছর পর জাতির পিতার যোগ্য উত্তরসূরি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই আবার বাংলাদেশের ৪৭তম এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ বাজেট পেশ করে, যার আকার ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের সর্ববৃহৎ বাজেট। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রদত্ত প্রথম বাজেটের তুলনায় টানা ১০ বার বাজেট দেয়া অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ৪৭তম বাজেট ৫১৫ গুণ বড়। দ্বিতীয় দফায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম (২০০৯-১০) অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা এবং সর্বশেষ (২০১৮-১৯) অর্থবছরের বাজেটের আকার ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা, যা মাত্র ১০ অর্থবছরের ব্যবধানে বেড়েছে সাড়ে ৩ গুণেরও বেশি।
বাজেট বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের প্রথম বাজেটের তুলনায় ৪৬তম বাজেটের আকার অন্তত হাজার গুণ বেশি হওয়া যুক্তিযুক্ত ছিল। কেন হয়নি, সে দায়ভার লুকিয়ে আছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বিয়োগান্ত ঘটনা না ঘটলে এবং পুরো সময়টাতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলে বাজেটের আকার এতদিনে হাজার গুণ বাড়ত। তারপরও জাতির পিতার উত্তরসূরি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত ৯ অর্থবছর ধরে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। আর এই সচলতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যে উন্নয়নের মহাসড়কে আরোহণ করেছে, তাতে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। ক্রমেই সমৃদ্ধির পথে এগুচ্ছে দেশ। বাংলাদেশ এখন নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ। জনগণের সমর্থন ও সরকারের ধারাবাহিকতার কারণেই মাত্র ১০ অর্থবছরে দেশের বাজেটের আকার সাড়ে ৩ গুণ বেড়েছে এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। এবারের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটকে নির্বাচনি বাজেট বলা হচ্ছে। কিন্তু বাজেটের আকার সে কথা বলছে না। গত অর্থবছরের তুলনায় বাজেটের আকার ৬০ হাজার কোটি টাকার মতো বেড়েছে; এটি নির্বাচনি বাজেট হলে বাজেটের আকার অন্তত ১ লাখ কোটি টাকা বাড়ত। প্রস্তাবিত বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের বাজেট হওয়ার কারণে বলা যায়, এই বাজেট প্রণয়নে অর্থমন্ত্রী ভোটারদের কথা মাথায় রেখেছেন। ফলে করের আওতা বাড়ানোর প্রবণতা কম ছিল। যেসব পণ্যের দাম কমতে পারেÑ এমন পণ্যের তালিকা দীর্ঘ হয়েছে। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। আর ক্রেতা মানেই ভোটার হওয়ায় এবারের বিশাল বাজেট জনমনে এবং ভোটারদের মনে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দিয়েছে।

যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে
প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে বেশকিছু পণ্যের দাম কমবে। শুল্ক ও বিভিন্ন েেত্র ডিউটি কমানোর ফলে পণ্যের দাম কমবে বলে ধারণা করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলো হলো :
ওষুধ : কিডনি রোগের প্রতিষেধক আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এতে কিডনি রোগীরা কিছুটা হলেও কম দামে ওষুধ কিনতে পারবেন।
বীজ : কৃষিকাজে ব্যবহৃত বীজ আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ফলে চাষাবাদে ব্যবহৃত বীজের দাম কমতে পারে।
মোটরসাইকেল : দেশীয় মোটরসাইকেল উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। এতে দাম না কমলেও আগের দামেই মোটরসাইকেল কেনা যাবে।
হাওয়াই চপ্পল : শর্তসাপেে ১৫০ টাকা পর্যন্ত প্লাস্টিক ও রাবারের তৈরি হাওয়াই চপ্পল ও পাদুকার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এতে এ জাতীয় পণ্যের দাম কমবে।
হাইব্রিড গাড়ি : পরিবেশ দূষণ এবং জ্বালানি ব্যয় কমিয়ে আনার জন্য হাইব্রিড গাড়ির আমদানি উৎসাহিত করার জন্য ১৮শ সিসি পর্যন্ত হাইব্রিড মোটরগাড়ি আমদানি সম্পূরক শুল্ক ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হচ্ছে।
পাউরুটি ও কেক : দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষেরা প্রতিকেজি ১০০ টাকা মূল্যমান পর্যন্ত পাউরুটি ও বনরুটি, হাতে তৈরি বিস্কুট ও হাতে তৈরি কেক (পার্টিকেক ব্যতীত) খেয়ে থাকেন। তাই প্রতিকেজি ১০০ টাকা মূল্যমান পর্যন্ত পাউরুটি, বনরুটি, হাতে তৈরি বিস্কুট এবং ১৫০ টাকা পর্যন্ত হাতে তৈরি কেক (পার্টিকেক ব্যতীত)-এর উৎপাদন পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি সুবিধা প্রদান করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।
কৃষি জমির রেজিস্ট্রেশন ফি : কৃষি জমির রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো হয়েছে। তাছাড়া রড, সিমেন্ট, বল পয়েন্ট কলম, ক্যানসারের ওষুধ, টায়ার-টিউব তৈরির কাঁচামাল, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ, ডে কেয়ার হোম সার্ভিস, আমদানি পোলট্রি খাদ্য, দেশীয় রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসার ও গুঁড়ো দুধের দাম কমতে পারে।

যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে
২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে বেশকিছু পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। যেসব পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলো হলো :
আমদানি করা চাল : আমদানি করা চালের ওপর রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে সব ধরনের চাল আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ ও রেগুলেটরি শুল্ক ৩ শতাংশ প্রযোজ্য হবে। ফলে আমদানি করা চালের দাম বাড়তে পারে।
ফার্নিচার : ফ্যাট কেনার পর ঘর সাজানোর আসবাবপত্র কিনতে গেলে আগামী অর্থবছর বাড়তি চাপে পড়তে হতে পারে ক্রেতাদের। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে আসবাবপত্র উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ১ শতাংশ করে ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে আসবাবপত্র উৎপাদন পর্যায়ে ৬ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয়। আগামী অর্থবছর থেকে তা ৭ শতাংশ হারে প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। আর বিপণন পর্যায়ে ৪ শতাংশ ভ্যাট পরিবর্তন করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।
পোশাক : বর্তমানে নিজস্ব ব্র্যান্ড সংবলিত তৈরি পোশাক বিক্রিতে ৪ শতাংশ হারে ভ্যাট আছে। সরকার আগামী অর্থবছর থেকে এ খাতে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রস্তাব করেছে। এ ছাড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য ব্র্রান্ডবিহীন পোশাক পণ্য বিপণনের েেত্রও ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপিত হবে।
ছোট ফ্যাট : আগামী অর্থবছর থেকে ছোট ফ্যাট (১ থেকে ১১০০ বর্গফুট) কেনায় খরচ বাড়তে পারে। তবে মাঝারি আকারের (১১০১ থেকে ১৬০০ বর্গফুট) ফ্যাট কেনার খরচ কমতে পারে। কেননা বর্তমানে ১ থেকে ১১০০ বর্গফুট পর্যন্ত ফ্যাট নিবন্ধনে ১ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। আর ১১০১ থেকে ১৬০০ বর্গফুট পর্যন্ত ফ্যাট নিবন্ধনে ভ্যাটের হার রয়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে এই দুই ধরনের ফ্যাটের নিবন্ধনে ২ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তবে বড় ফ্যাট (১৬০১ থেকে বেশি) নিবন্ধনের ভ্যাট হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। আবার যারা পুরনো ফ্যাট কিনবেন তাদেরও খরচ বাড়তে পারে। কারণ নতুন অর্থবছরে পুরনো ফ্যাট পুনঃনিবন্ধনে ২ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে।
তথ্যপ্রযুক্তি : তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবার ওপর বর্তমানে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে ভ্যাট হার ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছেন অর্থমন্ত্রী। এতে এ খাতে ব্যয় বাড়বে। সম্প্রতি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা গ্রহণের মাত্রা বেড়েছে। এতে মানুষের জীবনযাপনের ব্যয় বাড়তে পারে।
ই-কমার্সে ভ্যাট : বর্তমানে ইন্টারনেট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে পণ্য বা সেবা কেনাবেচা অনেক বেড়েছে। এভাবে পণ্য ও সেবার পরিসর আরও বাড়াতে ভার্চুয়াল বিজনেস নামে একটি সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে বাজেটে। অনলাইনভিত্তিক যেকোনো পণ্য ও সেবার ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তর এ সেবার আওতাভুক্ত হবে। এই ভার্চুয়াল বিজনেস সেবার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ট্যারিফ ভ্যালু বাড়ছে অনেক পণ্যে : সরকার দেশীয় শিল্পকে সুরা দিতে ট্যারিফ ভ্যালু নির্ধারণ করে তার ওপর ভ্যাট আরোপ করে। ট্যারিফ ভ্যালু সাধারণত বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম হয়। ফলে একই হারে ভ্যাট আরোপ হলেও আমদানি পণ্যের চেয়ে দেশি পণ্যের ভ্যাট দিতে হয় কম। আসছে বাজেটে বিভিন্ন পণ্যের ট্যারিফ ভ্যালু যৌক্তিকীকরণের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এ তালিকায় রয়েছেÑ টমেটো পেস্ট, কেচাপ, সস, বিভিন্ন ফলের জুস, ব্যবহার অযোগ্য ট্রান্সফর্মার অয়েল, লুবব্রেন্ডিং অয়েল, বিভিন্ন ধরনের পেপার ও পেপার প্রোডাক্ট, কটন ইয়ার্ন বর্জ্য, ওয়েস্ট ডেনিম, স্ট্র্যাপ/শিপ স্ট্র্যপ, সিআর কয়েল, জিপি শিট, সিআই শিট, রঙিন সিআই শিট, ব্লেড, চশমার ফ্রেম ও সানগ্লাস।
আমদানিতে অগ্রিম ভ্যাট বাড়ছে : আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম ভ্যাট ও ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট ৪ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। আমদানিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে প্রায় ১১০০ ধরনের পণ্য আমদানি হয়, যেখানে ভ্যাট দিতে হয়। এর বাইরে এনার্জি ড্রিংক, প্রসাধন সামগ্রী, সানস্ক্রিন সানগ্লাস, আফটার শেভ লোশন, সিগারেট, সিরামিক বাথটাব, ফিলামেন ল্যাম্প, পলিথিন, লিপস্টিক, পুরনো ফ্যাট রেজিস্ট্রেশন ফি, আমদানি করা মোবাইল ফোন, বিদেশি চকোলেট, কফি, গ্রিন টি, আমদানি করা বাদাম, আমদানিকৃত মধু, ইউপিএস, আইপিএস, স্ট্যাবলাইজার, ছাপাখানার পণ্য, প্লাস্টিক ব্যাগ, মোবাইল ব্যাটারি চার্জার, নেলপলিশ, অ্যালকোহল বিক্রয়কারী হোটেল রেস্তরাঁয় সেবার মান, হেলিকপ্টার সেবা, বিড়ি, জর্দা, গুল, সোস্যাল মিডিয়া ও অনলাইন কেনাকাটায় ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

বিজয় দিবসের ভাতা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা
জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যেককে বিজয় দিবসে ৫ হাজার টাকা করে বিশেষ ভাতা দেবে সরকার। বাজেট বক্তৃতায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এই ভাতা চালুর ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সম্মানী ভাতা ও উৎসব ভাতার পাশাপাশি বার্ষিক ২ হাজার টাকা করে বাংলা নববর্ষ ভাতা চালুর বিষয়ও বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরেন মুহিত। অসচ্ছল যুদ্ধাহত ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা অথবা নাতি-নাতনীদের সহায়তা দেয়ার জন্য বাজেটে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সার্বজনীন পেনশন প্রবর্তনের
কাজ শুরুর আশাবাদ
চলতি অর্থবছরেই সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা প্রবর্তনের কাজ শুরু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, দেশের মোট বয়স্ক জনসংখ্যার মধ্যে পেনশন ভোগীর সংখ্যা অতি সামান্য। শুধু সরকারি কর্মচারী এবং কতিপয় বেসরকারি সংস্থার কর্মচারীরা সর্বমোট প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ পরিবার বর্তমানে নিয়মিত পেনশন পেয়ে থাকেন। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের বাইরে হতদরিদ্র ৩৫ লাখ মানুষ মাসিক ৪০০ টাকা হারে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন, যা মোট বয়স্ক জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ মাত্র। তাদের ভাতার পরিমাণও মানসম্মত জীবনধারণের পে যথেষ্ট নয়। অর্থমন্ত্রী বলেন, তাই বিদ্যমান সরকারি পেনশন কার্যক্রমের বাইরে বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত সকল কর্মজীবী মানুষের জন্য সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে চাই।

শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ
৬৭ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা
২০১৮-১৯ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি শিকদের বহুল প্রত্যাশিত এমপিওভুক্তি খাতে নতুন বরাদ্দ দেয়া হয়নি। তবে অন্য কোনো খাতের থোক বরাদ্দ থেকে নতুন বেসরকারি শিা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে জাতীয় শিানীতি বাস্তবায়নের জন্যও এবারের বাজেটে পৃথক কোনো বরাদ্দ নেই। শিাখাতে বড় ধরনের কোনো নতুন প্রকল্পও হাতে নেয়া হচ্ছে না। বরং চলমান প্রকল্পগুলো চালিয়ে নেয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে ব্যাপকভাবে জনপ্রত্যাশা থাকলেও শিকদের জন্য পৃথক বেতন স্কেল, শিক নিয়োগের পৃথক কর্মকমিশন, শিকদের ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ও শিাখাতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের কোনো আশ্বাস দেয়া হয়নি। তবে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ থাকছে শিা ও প্রযুক্তি খাতে। টাকার অঙ্কে তা ৬৭ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। গতবারের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় তা বেড়েছে ৮ হাজার ৭ কোটি টাকা। মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ৬ ভাগ অর্থ এবার এই খাতে ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। টাকার অঙ্কে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও মোট বাজেটের অংশ হিসেবে তা গতবারের চেয়ে কমে গেছে। গতবার মোট বাজেটের ১৬ দশমিক ৪ ভাগ অর্থ এ খাতে ব্যয় হলেও এ বছর ১ দশমিক ৮ ভাগ বরাদ্দ কমেছে। এই হিসেবে শিা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয়েরও সার্বিকভাবে বরাদ্দ কমেছে।

মূল্যস্ফীতি প্রাক্কলন ৫.৬ শতাংশ
আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল্যস্ফীতির গড় হার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১২ মাসের গড় হিসাবে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫.৮ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্যের উচ্চ ফলন ও স্বাভাবিক সরবরাহ পরিস্থিতির সুবাদে খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী হলেও বিশ্ব পণ্য বাজার পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। এপ্রিল ২০১৮ সময়ে ১২ মাসের গড় হিসাবে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫.৮ শতাংশ, যার মধ্যে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ৭.৩ ও ৩.৫ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের প্রথম তিন মাসে বৈশ্বিক পণ্যমূল্য সার্বিকভাবে বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০১৮ সালে অপরিশোধিত তেলের মূল্য গড়ে ব্যারেল প্রতি ৬৫ মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে, ২০১৭ সালে যা ছিল গড়ে ব্যারেল প্রতি ৫৩ মার্কিন ডলার। তদুপরি, ৩ বছর ক্রমাগত স্থির থাকার পর কৃষিপণ্যের মূল্য ২০১৮ সালে ২ শতাংশ এবং ধাতব পণ্যের মূল্য ৯ শতাংশ বাড়বে মর্মে প্রপেণ করা হয়েছে। এছাড়া ভারত ও চীনসহ প্রতিবেশী দেশসমূহেও মূল্যস্ফীতির গতিধারা ঊর্ধ্বমুখী।

প্লট নয়, ফ্যাটে বরাদ্দে গুরুত্ব
অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা রাজধানী এলাকাসহ পুরো ঢাকা শহরে পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য বাজেটে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগরবাসীর বাসস্থানের জন্য ফ্যাট বরাদ্দের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এতদিন প্লট বরাদ্দ দেয়ায় অল্পসংখ্যক মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি প্লটপ্রাপ্তরা একটা প্লট পেয়েই কোটিপতি বনে যেতেন। কিন্তু এবার বাজেটে অল্প জায়গায় বেশি মানুষের বাসস্থানের জন্য প্লটের পরিবর্তে ফ্যাট তৈরির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরিকল্পিত নগরায়ণের ল্েয ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) হালনাগাদ করা হচ্ছে।
বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়, গুলশান-বনানী-বারিধারা এবং উত্তরা লেকের উন্নয়ন, হাতিরঝিল থেকে শাহজাদপুর পর্যন্ত ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার ড্রাইভওয়ে নির্মাণ করা হবে। পানি সংরণ মতা বাড়াতে কুড়িল থেকে বালু নদী পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন কাজ চলছে। এ ছাড়া ড্যাপকে হালনাগাদ করে ২০১৬-২০৩৫ মেয়াদি রিভাইজড ঢাকা স্ট্রাকচারাল প্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে।

যে খাতে যত বরাদ্দ
প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে মোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ২৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ১ লাখ ৭ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ২৯ শতাংশ।
সামাজিক অবকাঠামো খাতের আওতায় মানবসম্পদ খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে শিা মন্ত্রণালয়ে ২৪ হাজার ৮৮৮ কোটি, প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয়ে ২২ হাজার ৪৬৬ কোটি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ১৮ হাজার ১৫৯ কোটি এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগে ৪৭ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
সামাজিক অবকাঠামো খাতের আওতায় খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ৪ হাজার ১৫৫ কোটি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে ৯ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে ভৌত অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৩০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ১ লাখ ২৬ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৩৩.৯৭ শতাংশ।
ভৌত অবকাঠামো খাতের আওতায় কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে মোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫৮ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ে ১৩ হাজার ৯১০ কোটি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ৭ হাজার ৯৩ কোটি, স্থানীয় সরকার বিভাগে ২৯ হাজার ১৫০ কোটি এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগে ৮ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ভৌত অবকাঠামো খাতের আওতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৪ হাজার ৯২১ কোটি। যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে মোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫৩ হাজার ৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সড়ক বিভাগে ২৪ হাজার ৩৮০ কোটি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ১৪ হাজার ৫৪২ কোটি, সেতু বিভাগে ৯ হাজার ১১৪ কোটি এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগে ৫ হাজার ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ভৌত অবকাঠামো খাতের আওতায় অন্যান্য খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৭ হাজার ৫২ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ সেবা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। এর আওতায় জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তায় ২৬ হাজার ৫৯৪ কোটি এবং অন্যান্যে ৯০ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে সুদ পরিশোধে ৫১ হাজার ৩৪০ কোটি, পিপিপি ভর্তুকি ও দায় মেটাতে ২২ হাজার ২০১ কোটি এবং নিট ঋণ দান ও অন্যান্যে ২ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

মাতৃত্বকালীন ভাতা ও ভাতাভোগী বাড়ছে
আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভাতার পরিমাণ ও ভাতাপ্রাপ্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী দরিদ্র মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা হতে ৮০০ টাকায় বৃদ্ধি এবং ভাতার মেয়াদ ২ বছরের স্থলে ৩ বছর নির্ধারণের পাশাপাশি ভাতাভোগীর সংখ্যা ৬ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৭ লাখ করার প্রস্তাব করেন।

বয়স্ক ও বিধবা ভাতাভোগী বাড়ছে
আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বয়স্ক এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৪০ লাখ করার প্রস্তাব দেন। এছাড়া বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতাভোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৬৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৪ লাখ করারও প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী।

কৃষিতে বরাদ্দ বেড়েছে সাড়ে
৩ হাজার কোটি টাকা
খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অব্যাহত রাখতে এবার কৃষি খাতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আগের বছরের চেয়ে ৩ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়িয়েছে সরকার, যা মোট বাজেটের ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আগের বছরের সংশোধিত বাজেটে কৃষি খাতের বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা, যা ছিল মোট বাজেটের ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
কৃষিতে ভর্তুকি কমাতে দাতা সংস্থা ও দেশের কয়েকটি বিদেশি সাহায্যনির্ভর এনজিও চাপ দিলেও সরকার কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকের স্বার্থে আমলে নেয়নি তা। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে কৃষি খাতে বরাদ্দের পাশাপাশি ভর্তুকিও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বৈরী প্রকৃতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও সারের ঊর্ধ্বমুখী মূল্য বিবেচনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ভর্তুকি ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে যা ছিল ৬ হাজার কোটি টাকা। এ বছর ৩ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে বাজেটে কৃষি খাতকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অব্যাহত ও সবার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এ খাতকে গুরুত্ব দিয়েছে।

ব্যাংক খাতের করপোরেট কর
কমল আড়াই শতাংশ
ব্যাংক খাতের করপোরেট করহার কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বর্তমানে এই করহার ৪০ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে তা আড়াই শতাংশ কমিয়ে সাড়ে ৩৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হচ্ছে। মূলত বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে এ প্রস্তাব করেন তিনি। আর্থিক খাতে কর কাঠামোতে সমতা আনতে একই কর সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে লিজিং, বীমা ও মার্চেন্ট ব্যাংকের জন্য। তবে অন্যান্য খাতের করপোরেট কর অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এ প্রস্তাব কার্যকর হলে ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বার্ষিক যে পরিমাণ মুনাফা করে, তার ওপর সাড়ে ৩৭ শতাংশ হারে কর দেবে সরকারকে। এতে করের চাপ কমবে। তাদের বাড়তি মুনাফা হবে। বাড়বে মূলধন।

দুটি গাড়ি ও ৮ হাজার বর্গফুটের
সম্পত্তি থাকলে সারচার্জ
২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত নিজ নামে দুটি গাড়ি বা সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৮ হাজার বর্গফুট আয়তনের গৃহ-সম্পত্তির উপর সারচার্জ বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বছর সারচার্জের েেত্র কিছুটা সংস্কার করে নিট পরিসম্পদের ভিত্তিতে সারচার্জ আরোপের পাশাপাশি যাদের নিজ নামে দুটি করে গাড়ি রয়েছে বা সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৮ হাজার বর্গফুট আয়তনের গৃহ-সম্পত্তি রয়েছে তাদেরকেও সারচার্জের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, নিট পরিসম্পদের মূল্যমান ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা অতিক্রম করলে ন্যূনতম সারচার্জের পরিমাণ ৩ হাজার টাকা এবং ১০ কোটি টাকা অতিক্রম করলে ন্যূনতম সারচার্জের পরিমাণ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বরাদ্দ
১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা
বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনের ল্েয বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণাধর্মী কার্যক্রমকে উৎসাহিত করে এ খাতে ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবারের বাজেটে। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞান শিায় আগ্রহ বৃদ্ধি করার ল্েয জেলা পর্যায়ে চলমান বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার কলেবর বৃদ্ধি করে উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ করেছি। খুলনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং চট্টগ্রাম বিভাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারের শাখা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়াও বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজনের কলেবর বৃদ্ধি ও বিষয়ভিত্তিক বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজন করা হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও এসকল আয়োজনে সহযোগিতা করছি।

বিড়ি সিগারেটের দাম বাড়তে পারে
সিগারেট পেপার ও বিড়ি পেপারের ওপর সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে সিগারেট ও বিড়ির দাম বাড়তে পারে। অর্থমন্ত্রী জানান, নিম্নতম স্তরের সিগারেট মূল্য আগামী বছরে হবে ৩২ টাকা বা তদূর্ধ্ব এবং সেখানে সম্পূরক শুল্ক হবে ৫৫ শতাংশ। মধ্যম স্তরে দশ শলাকার সিগারেটের মূল্য হবে ৪৮ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক হবে ৬৫ শতাংশ। উচ্চস্তরে দশ শলাকার সিগারেটের মূল্য হবে ৭৫ টাকা ও ১০১ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক হবে ৬৫ শতাংশ। একইসঙ্গে আগামী দিনের ল্যমাত্রা হবে নিম্নতম স্তর ৭৫ টাকায় উন্নীত করা যেখানে সম্পূরক শুল্ক হবে ৬৫ শতাংশ।

করমুক্ত আয়ের সীমা অপরিবর্তিতই থাকছে
বাজেটে করমুক্ত আয়ের সাধারণ সীমা ও করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মন্ত্রী বলেন, এ বছর করমুক্ত আয়ের সাধারণ সীমা ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নারী করদাতাসহ বিভিন্ন শ্রেণির করদাতাদের জন্য এ সীমা কিছুটা বেশি ছিল। করমুক্ত আয়ের সীমা কী হবে তা নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়। আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি যে উন্নত দেশগুলোতে করমুক্ত আয়সীমা সাধারণভাবে মাথাপিছু আয়ের ২৫ শতাংশের নিচে থাকে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে করমুক্ত আয়সীমা সাধারণত মাথাপিছু আয়ের সমান বা তার কম থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে করমুক্ত আয়ের সীমা মাথাপিছু আয়ের প্রায় দ্বিগুণের মতো। অর্থাৎ আমাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বৈশ্বিক প্রোপটের তুলনায় অনেক বেশি। করমুক্ত আয়ের সীমা বেশি হলে কর প্রদানে সম বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি করজালের বাইরে থেকে যান। এতে করের ভিত্তি দুর্বল থাকে। সার্বিক বিবেচনায় আমি আগামী বছরে করমুক্ত আয়ের সাধারণ সীমা ও করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করছি। তবে কোনো ব্যক্তি-করদাতার প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্য থাকলে এরূপ প্রতি সন্তান বা পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা হবে। বর্তমানে করমুক্তি আয়ের সাধারণ সীমা রয়েছে সাধারণ করদাতা ২ লাখ ৫০ হাজার, নারী ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতা ৩ লাখ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি করদাতা ৪ লাখ এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতা ৪ লাখ ২৫ হাজার।

চাল আমদানিতে শুল্ক
রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার
আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চাল আমদানিতে শুল্ক রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কৃষিখাতের প্রধান উপকরণসমূহ, বিশেষ করে সার, বীজ, কীটনাশক ইত্যাদি আমদানিতে শূন্য শুল্কহার অব্যাহত রাখা হয়েছে। কৃষকের উৎপাদিত ধান চালের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করে সর্বোচ্চ আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ এবং রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ পুনঃআরোপ করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ সংরণে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গম, ভুট্টা, আলু ও কাসাভা থেকে উৎপাদিত স্টার্চের শুল্ক হার যৌক্তিকীকরণ করে আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ এবং রেগুলেটরি ডিউটি ১০ শতাংশ হারে নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।

যানজট কমাতে স্কুলবাসে শুল্ক ছাড়
শিার্থীদের যাতায়াতে বিশেষায়িত স্কুল বাস আমদানি হলে তাতে শুল্কে ছাড় দেবে সরকার। আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে এ সুবিধা প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, যানজট কমাতে উন্নত দেশের মতো ঢাকায় স্কুল বাস সংস্কৃতি চালু করতে চায় সরকার। অর্থমন্ত্রী বলেন, অধিকাংশ বিদ্যালয়ে স্কুল বাস নেই। তাই অভিভাবকরা প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার করে সন্তানদের স্কুলে পাঠান। এতে যানজট বাড়ছে। উন্নত দেশের মতো বিশেষায়িত স্কুল বাস চালু হলে যানজট কমবে, যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হবে। শিা প্রতিষ্ঠান বা কোনো এজেন্সি শিার্থীদের যাতায়াতে স্কুল বাস আমদানিতে বিশেষ শুল্ক সুবিধায় আমদানির সুযোগ দেয়া হবে।

পেনশনের টাকার তথ্য আসবে মোবাইলে
অবসরকালে সরকারি কর্মচারীদের পেনশনের টাকা পেতে হয়রানি কমানোর ল্েয বেশকিছু নতুন পদপে নেয়া হয়েছে। পেনশন ব্যবস্থাপনা, পেনশন প্রদান প্রক্রিয়া ও পেনশনের আওতার েেত্র এসব গুণগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। পেনশনারদের হয়রানি লাঘবের জন্য পেনশন প্রদান প্রক্রিয়াও সহজ করা হচ্ছে। ইএফটি’র মাধ্যমে সরাসরি পেনশনারের পছন্দ অনুযায়ী তার হিসাবে পেনশন প্রদানের কার্যক্রম পাইলট আকারে চালু করা হয়েছে, যার পরিধি শিগগিরই সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বিস্তৃত করা হবে। এর ফলে পেনশনারদের নিজ নিজ পেনশন উত্তোলনের জন্য আর হিসাবরণ কার্যালয়ে বা ব্যাংকে যেতে হবে না। প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট তারিখে পেনশনারের পছন্দ অনুযায়ী তার ব্যাংক হিসাবে সরাসরি পেনশনের অর্থ স্থানান্তর করা হবে এবং মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে এ তথ্য পেনশনারকে জানিয়ে দেয়া হবে।

বাজেট ঘাটতি ১ লাখ ২৫ হাজার
২৯৩ কোটি টাকা
জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে মোট রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এতে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি দাঁড়াবে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। ঘাটতি অর্থায়ন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে ৫৪ হাজার ৬৭ কোটি টাকা (জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ) এবং অভ্যন্তরীণ সূত্র হতে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা (জিডিপির ২ দশমিক ৮ শতাংশ) সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা হতে সংগৃহীত হবে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা (জিডিপির ১ দশমিক ৭ শতাংশ) এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংক-বহির্ভূত খাত থেকে আসবে ২৯ হাজার
১৯৭ কোটি টাকা (জিডিপির ১
দশমিক ২ শতাংশ)।

৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি
টাকা রাজস্ব আয়ের ল্যমাত্রা
জাতীয় সংসদে আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে মোট রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট প্রাক্কলিত রাজস্ব আয়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড উৎস হতে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা (জিডিপির ১১ দশমিক ৭ শতাংশ) সংগ্রহ করা হবে। এই ল্যমাত্রা অর্জনে আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, রাজস্ব আদায়ের এই ল্যমাত্রা বাস্তবসম্মত। কারণ ইতোমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনবল ও কর্মপদ্ধতিতে ব্যাপক সংস্কারসাধন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকা- স্বাভাবিক অবস্থানে রয়েছে। কর পরিপালনের প্রবণতা দেশে বর্তমানে বেশ উচ্চমানের এবং এ প্রবণতা অব্যাহত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে এ ল্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। অর্থমন্ত্রী জানান, এনবিআর বহির্ভূত সূত্র হতে কর রাজস্ব প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা (জিডিপির ০.৪ শতাংশ)। এছাড়া কর-বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আহরিত হবে ৩৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা (জিডিপির ১.৩ শতাংশ)। প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি দাঁড়াবে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

স্বপ্নচারী অর্থমন্ত্রীর টানা ১০ম বাজেট

২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পেশ করতে গিয়ে টানা ১০ বার বাজেট প্রণয়নকারী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আমি অবাক বিস্ময়ে দেখি কতটা আঘাত সহ্য করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে এদেশের জনগণ, স্বল্প সম্পদ ও সীমাহীন সীমাবদ্ধতার মাঝে বাস্কেট কেস-এর অপবাদ কাটিয়ে একটি দেশ কিভাবে উন্নয়ন বিস্ময় হয়ে ওঠে। যে দেশের শ্রমবাজারে আছে ২ কোটিরও অধিক সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণী, যে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো প্রত্যন্ত গ্রাম-পাড়া-মহল্লা এমনি দুর্গম পার্বত্য এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত, যেখানে এখনও অনাবিষ্কৃত রয়েছে অমিত সমুদ্র সম্পদ, প্রতিনিয়ত যেখানে উন্মোচিত হচ্ছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার এবং যে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ১৬ কোটি স্বতঃস্ফূর্ত জনগণ সে দেশের অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করার সাধ্য কারো নেই। এখন প্রয়োজন কেবল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব কিছুর সুসমন্বয় এবং সঠিক ও সুযোগ্য নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা। সমৃদ্ধ আগামীর পথে বাংলাদেশের অভিযাত্রার রূপকল্প-২০৪১ প্রণয়নে আমি বয়সের কারণেই হয়ত তেমন ভূমিকা রাখতে পারবো না; তবে কাজ যে শুরু হয়েছে তাতে আমি খুবই তৃপ্ত ও নিশ্চিত। অবশ্যই সে উদ্যোগের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার চেষ্টা করবো। আমি নিশ্চিত এ বাজেট বাস্তবায়নে দেশের আপামর জনগণ তাদের উদ্যোগ, সৃজনশীলতা, কর্মদতা, অংশীদারিত্ব এবং সর্বতোভাবে স্বতঃস্ফূর্ততা নিয়ে অংশগ্রহণ করবে।
একনজরে বাজেট

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ৭ জুন সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। এটি হচ্ছে দেশের ৪৭তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯তম এবং অর্থমন্ত্রীর ১০ম বাজেট।
২০১৮-১৯ প্রস্তাবিত বাজেটে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে মোট রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি আদায়ের ল্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এতে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি দাঁড়াবে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।
প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির নির্ধারিত ল্যমাত্রার চেয়ে দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এতে মূল্যস্ফীতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিনা খরচে চিকিৎসা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনা খরচে চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে একথা জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থসামাজিক অবস্থা উন্নয়নের জন্য দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এ পর্যন্ত ৫৭টি জেলায় ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। আমরা দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে ও ১৬টি বিশেষায়িত হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধাদের বিনা খরচে চিকিৎসাসেবা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছি।
‘ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থান নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৮৫২টি ইউনিট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে; আরও ১১৯টি ইউনিট নির্মাণাধীন আছে। এছাড়াও ৮ হাজার অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাকে আবাসন সুবিধা প্রদানের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সকল বে-সামরিক, সামরিক, শহীদ, খেতাবপ্রাপ্ত ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার কল্যাণ সাধনের ল্েয ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বর্তমানে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের অপোয় রয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বৈশাখী ভাতা ও বিজয় দিবস ভাতা চালু করা হচ্ছে।