খেলা

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অনন্য সাফল্য : প্রমীলা টি-টুয়েন্টি এশিয়া কাপে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রমীলা টি-টুয়েন্টি এশিয়া কাপে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল নতুন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য সাফল্যের অধিকারী হয়েছে। টানা ৬ বারের চ্যাম্পিয়ন ও শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে প্রমীলা এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত টি-টুয়েন্টি এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।
প্রমীলা টি-টুয়েন্টি এশিয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচে মালয়েশিয়ার ‘কিনারা ওভাল’ স্টেডিয়াম ১০ জুন কানায় কানায় ভরে উঠেছিল। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা কাজ ফেলে ভিড় জমিয়েছিলেন মাঠে। একটাই স্বপ্ন ছিল চোখেÑ ইতিহাস দেখবেন। সেই স্বপ্ন বিফলে যায়নি। ১৬ কোটি মানুষের মুখে হাসি ফুটে উঠলো এক জয়ে। মালয়েশিয়া থেকে আসা এক সুখবরে মেতে উঠলো বাংলাদেশ। মেয়েদের হাত ধরে এলো বাংলাদেশের খেলাধুলার এ যাবৎকালের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অর্জনÑ এশিয়া কাপ।
হ্যাঁ, প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলতে গিয়েই এশিয়া কাপ জিতে নেয় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপ ছিল ভারত। এই এশিয়া কাপের ইতিহাসে ভারত ছিল প্রতিবারের চ্যাম্পিয়ন। এর আগের ৬ আসরে ভারত একটি ম্যাচও হারেনি। সেই ভারতকে একই আসরে দ্বিতীয়বারের মতো হারালো বাংলাদেশ। ফাইনালে বাংলাদেশের জয় এলো ৩ উইকেটের ব্যবধানে।
সপ্তম আসরের ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয় বাংলাদেশ। বল হাতে শুরু থেকেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখে বাংলাদেশ। ফলে স্কোর বোর্ডে ৩২ রান উঠতেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে ভারত। এমতাবস্থায়, ভারতের হাল ধরেন অধিনায়ক হারমানপ্রিত কাউর। কাউর এক প্রান্তের হাল ধরলেও রুমানা ও খাদিজা-তুল কুবরার সাথে বাংলাদেশি অন্যান্য বোলারদের তোপে অন্য প্রান্তে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি ভারতের ব্যাটসম্যানরা। শেষ পর্যন্ত কাউরের ৭টি চারে ৪২ বলে ৫৬ রানের সুবাদে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১২ রানের মামুলি সংগ্রহ পায় ভারত। দলের পে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ রান করে করেন মিতালি রাজ ও বেদা কৃষ্ণমুর্তি। বাংলাদেশের পে রুমানা-কুবরা ২টি করে এবং সালমা-জাহানারা ১টি করে উইকেট নেন।
জয়ের জন্য ১১৩ রানের ল্েয ভালো শুরু করে বাংলাদেশ প্রমীলা দল। দলকে ৩৫ রানের সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার শারমিন সুলতানা ও আয়শা রহমান। তবে সপ্তম ওভারের শেষ দু’বলে বিদায় নিতে হয় দুই ওপেনারকে। শারমিন ১৯ বলে ১৬ ও আয়শা ২৩ বলে ১৭ রান করেন। এরপর দলের রানের চাকা সচল রাখেন ফারজানা হক ও নিগার সুলতানা। দলীয় ৫৫ রানে ফারজানা নামের পাশে ১১ রান রেখে ফিরে গেলে চতুর্থ উইকেটে দলকে সামনে টেনে নেয়ার দায়িত্ব পান নিগার ও রুমানা। দায়িত্বটা ভালোভাবেই পালন করে যাচ্ছিলেন নিগার ও রুমানা। কিন্তু জুটিতে ২২ বলে ২৮ রান যোগ হওয়ার পরই বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তারা। দলীয় ৮৩ রানে চতুর্থ ও ৯৬ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে রুমানার ব্যাটিং দৃঢ়তায় ম্যাচ জয়ের লড়াইয়ে টিকে থাকে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য শেষ ওভারে বাংলাদেশ দলের প্রয়োজন পড়ে ৯ রান। বল হাতে ইনিংসের শেষ ওভার করতে আসেন ভারতের অধিনায়ক কাউর। প্রথম বল থেকে ১ রান নিয়ে উইকেটে সেট থাকা রুমানাকে স্ট্রাইক দেন লোয়ার-অর্ডার ব্যাটসম্যান সানজিদা। দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি ও তৃতীয় বলে ১ রান নিয়ে জয়ের টার্গেট ৩ বলে ৩ রানে নামিয়ে আনেন রুমানা। তবে চতুর্থ বলে ব্যক্তিগত ৫ রানে বিদায় নিতে হয় সানজিদাকে। পঞ্চম বলে অহেতুক ২ রান নিতে গিয়ে রান আউট হন রুমানা। ফলে শেষ ডেলিভারিতে জয়ের জন্য ২ রান দরকার পড়ে বাংলাদেশের। ৮ নম্বরে ব্যাট হাতে নামা জাহানারা আলম ২ রান নিয়ে বাংলাদেশকে শিরোপার স্বাদ দেন। ভারতের পুনম যাদব ৪টি ও কাউর ২ উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন বাংলাদেশের রুমানা আহমেদ। সিরিজ সেরা হন ভারতের কাউর।
লিগ পর্বে ভারতকে ৭ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে হার দিয়ে এবারের আসর শুরু করেছিল সালমা-রুমানারা। শ্রীলংকার কাছে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৬ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর লিগ পর্বে টানা ৪ ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠে তারা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচেও জয় তুলে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় পরলো বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল।
এশিয়া কাপ টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের ফাইনালে ভারতকে তিন উইকেটে হারিয়ে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করায় বাংলাদেশ প্রমীলা ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পৃথক অভিনন্দন বার্তায় তারা বাংলাদেশের এই ক্রিকেট দলটি আগামীতেও তাদের এই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এক অভিনন্দন বার্তায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সব খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) টি-টুয়েন্টি এশিয়া কাপ দলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, মহিলা ক্রিকেটাররা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে। আমি বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের টিম স্পিরিট এবং তাদের অসাধারণ সাফল্যে সত্যিই গর্বিত।
জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে কানাডায় সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়, কোচ এবং সকল কর্মকর্তার পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সমগ্র জাতি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের টিম স্পিরিট ও অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্য দেখে গর্বিত। শেখ হাসিনা বলেন, খেলাধুলায় বর্তমান সরকারের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থন এই ঐতিহাসিক সাফল্য এনে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র স্বদেশ খবরকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদ-উল ফিতরের আগেই বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অসাধারণ সাফল্যে তাদেরকে গণভবনে সংবর্ধনা দেবেন।