প্রতিবেদন

ভারত সফর নিয়ে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরের মধ্য দিয়ে বন্ধুপ্রতিম দু’দেশের সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে গত ২৫ ও ২৬ মে পশ্চিমবঙ্গ সফর করেন। সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করেন। শান্তিনিকেতনেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে এক একান্ত বৈঠকে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরে ভারতের কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার (ডি লিট) প্রদান করে। দেশে ফিরে ৩০ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সাম্প্রতিক ভারত সফরের মধ্য দিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং আরো সুদৃঢ় হয়েছে। শান্তিনিকেতনে স্থাপিত বাংলাদেশ ভবন উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর একান্ত বৈঠক হয়। এ সময় উভয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনে স্থাপিত বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন। একইসঙ্গে তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান আসানসোলে অবস্থিত ‘কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়’ জাতীয় কবির ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সমাবর্তনে তাঁকে ডি লিট ডিগ্রি প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে সেখানে উপস্থিত হয়ে সম্মাননা গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরের বিস্তারিত বর্ণনা করে বলেন, ২৫ মে সকালে ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়ে তিনি কলকাতার নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু বিমানবন্দরে পৌঁছলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগর ও পূর উন্নয়ন বিষয়কমন্ত্রী তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। এরপর তিনি বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছান। সেখানকার রবীন্দ্র ভবনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে স্বাগত জানান। সমাবর্তনে রবীন্দ্র ভারতীর আচার্য ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর কেশরীনাথ ত্রিপাঠী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সমাবর্তন উদ্বোধন শেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি যৌথভাবে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনির্মিত বাংলাদেশ ভবন’র উদ্বোধন করেন। এ সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা এ সময় সেখানে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণের ইতিবৃত্ত তুলে ধরে বলেন, কবিগুরুর শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয় ২০১০ সালে তাঁর ভারত সফরের সময়। ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং-এর বাংলাদেশ সফরকালে ঘোষিত যৌথ ইশতেহারে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ‘বাংলাদেশ ভবন’ নির্মাণের কথা উল্লেখ করা হয়। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সফরের সময় এ বিষয়ে ঘোষণা প্রদান করা হয়। আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্থাপত্য অধিদপ্তর যৌথভাবে দৃষ্টিনন্দন এই ভবনটি নির্মাণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবনটির নির্মাণে প্রায় ২৫ কোটি ভারতীয় রুপি ব্যয় হয়েছে। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ভবন-এর রক্ষণাবেক্ষণ এবং সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১০ কোটি ভারতীয় রুপির একটি স্থায়ী তহবিল গঠন করা হবে। এই তহবিলের অর্জিত লভ্যাংশ হতে প্রতি বছর বাংলাদেশের ১০ জন শিক্ষার্থীকে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য ফেলোশিপ প্রদান করা হবে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক গত ২৫ মে স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে ‘সোনালি অধ্যায়’ অতিক্রম করছে। তিনি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই ভবন উভয় দেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে সাধুবাদ জানান। ভবিষ্যতে উভয় দেশের মধ্যে মহাকাশ প্রযুক্তির উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। নরেন্দ্র মোদি বলেন, বাংলাদেশের উন্নত দেশ হিসেবে পরিণত হওয়ার আকাক্সক্ষায় ভারত অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে এবং সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।
এ সময় শান্তিনিকেতনের বাংলাদেশ ভবনে তাঁর প্রদত্ত ভাষণের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন স্থাপনের সুযোগ প্রদানের জন্য আমি ভারত সরকার, সে দেশের জনগণ এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশেরই সম্পদ উল্লেখ করে তিনি দু’দেশের সংস্কৃতি এবং জনমানসে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব অপরিসীম বলে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ এবং ভারত উভয় দেশেরই জাতীয় সংগীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশের পতিসর, শিলাইদহ আর শাহজাদপুরে কাটিয়েছিলেন। এজন্য তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে ১৯৯৯ সালে বিশ্বভারতী কর্তৃক তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘দেশিকোত্তম’ প্রদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের জনগণের অপরিসীম আত্মত্যাগের বিষয়টি স্মরণ করেন এবং মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্যও ভারত সরকারের অধিকতর সহযোগিতা কামনা করেন। এই পর্যায়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার একান্ত বৈঠক হয়। এ সময় আমরা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি।’
শান্তিনিকেতন থেকে ফিরে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী কবিগুরুর স্মৃতিধন্য জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি বাংলাদেশের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের চিত্র তুলে ধরে তাদেরকে বাংলাদেশে অধিকতর বিনিয়োগের আহ্বান জানান। সন্ধ্যায় রাজভবনে পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর কেশরীনাথ ত্রিপাঠী আয়োজিত নৈশভোজে যোগদান করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের আসানসোল সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, ২৬ মে পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে অবস্থিত কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার (ডি লিট) ডিগ্রি গ্রহণ করেন এবং সমগ্র বাঙালি জাতির উদ্দেশে এটি উৎসর্গ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, কবি নজরুল প্রবন্ধ, কবিতা, গান, উচ্চাঙ্গসংগীত ইত্যাদির পাশাপাশি হামদ/নাত এবং শ্যামা সংগীত/বৈষ্ণব কীর্তন রচনা করেছিলেন। নজরুলের জন্ম পশ্চিমবঙ্গে হলেও তার জীবনের অনেকটা সময় কেটেছে বাংলাদেশে। জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ ও ফরিদপুরসহ নানা জায়গায় অবস্থান করেছেন। কাজেই উভয় বাংলার সংস্কৃতিতে নজরুলের প্রভাব প্রবলভাবে বিদ্যমান। প্রধানমন্ত্রী এ সময় নজরুলকে জাতির পিতার স্বাধীন দেশে নিয়ে আসাসহ নাগরিকত্ব এবং জাতীয় কবির মর্যাদা প্রদানের উদ্যোগ তুলে ধরেন। বাংলাদেশের রণসংগীত ‘চল চল চল…. যেমন কবির লেখা তেমনি আমাদের অমিত প্রেরণার উৎস জয়বাংলা স্লোগানটি পর্যন্ত নজরুলের কবিতার পঙক্তিমালা উৎসারিত বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

মাদকবিরোধী অভিযানে কাউকেই ছাড় দেয়া হচ্ছে না : প্রধানমন্ত্রী
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের ফলে জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং কাউকেই এই অভিযানে ছাড় দেয়া হচ্ছে না। কোনো গডফাদার বা ডন যদি থেকে থাকে তাদেরকেও না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযানের ফলে জনজীবনে স্বস্তি ফিরেছে এবং দেশের জনগণের এটা দাবি। মাদকের বিস্তার রোধে বড় বড় পত্রিকাতে এজন্য হেডলাইনও হয়েছিল, সমাজ মাদকের অধীনস্থ হয়ে আছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে আমাদের কাজটা করতে দিন।’ কারা এই মাদকের গডফাদার বা ডন তাঁর জানা নেই উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি শুধু বলবো কে গডফাদার, কে ডন আমি কিন্তু জানি না। তবে শুধু এটুকুই বলতে পারিÑ যারাই এর সঙ্গে জড়িত যাদের বিরুদ্ধে এর সঙ্গে জড়িত থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে তাদের কাউকেই ছাড়া হচ্ছে না। মাদক পাচার, মাদক ব্যবসায়ী এবং সেবনকারী প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
কোনো কাজ শুরু করলে তা সুচারুরূপেই সম্পাদন করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন ধরি ভালো করেই ধরি, এটাতো সকলের ভালো করেই জানা। গডফাদার যেই হোক এবং সে যে বাহিনীতেই থাকুক তাকে কিন্তু ছাড়া হচ্ছে না। কে কার কি, কার ভাই, কার চাচা ওটা কিন্তু দেখি না।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান চলার সময়ও কথা উঠেছিল, কিন্তু আমরা সন্ত্রাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি। যদিও বিশ্বের অনেক সভ্য দেশে এই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এখনও অব্যাহত রয়েছে।’
মাদকাসক্তিকে একটা সামাজিক ব্যাধি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হবার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মাদক পাচারকারী, ব্যবসায়ী এবং সেবনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আমি আশ্চর্য হয়ে যাই এই গ্রেপ্তারের কথাটা কিন্তু সেইভাবে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হচ্ছে না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন থেকে গোয়েন্দা সংস্থা এটা নিয়ে কাজ করেছে যে কারা এর সঙ্গে জড়িত। আমরা কিন্তু অপারেশনে হঠাৎ করে যাইনি। হয়ত আপনাদের মনে হতে পারে হঠাৎ করে এই অভিযান শুরু হয়েছে। কিন্তু ঘটনা তা নয়। দীর্ঘদিন থেকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে, দেখা হয়েছে কারা আনে কোন কোন স্পট দিয়ে ঢুকছে, কোথায় তৈরি হচ্ছে, কী হচ্ছে এগুলো খবর নিয়েই কিন্তু অভিযান চলছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর পূর্বে শুধু মাদকই ধরা হতো, সেখানে এমন কোনোদিন নেই যেদিন ইয়াবা ট্যাবলেট বা মাদক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েনি। এখন ব্যবসায়ীদের ধরা হচ্ছে এবং জলপথ, স্থলপথ কোনো পথই এই অভিযানের বাইরে নেই। প্রস্তাবিত তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির অগ্রগতি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি ভারত সরকার দেখছে বলে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সকলকে ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানান। শেখ হাসিনা বলেন, তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনা তাঁর সম্প্রতি ভারত সফরের উদ্দেশ্য ছিল না। বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনই ছিল প্রকৃত উদ্দেশ্য। তিনি আরো বলেন, তিস্তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) সেখানে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত একজন সাংবাদিক যখন প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির ব্যাপারে প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার অনুরোধ করলে শেখ হাসিনা বলেন, এমন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার তার কোনো আগ্রহ নেই। এমন পুরস্কার অর্জনে লবিস্ট নিয়োগ করার মতো তার কোনো আর্থিক সঙ্গতি নেই বলেও উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমার পক্ষে প্রস্তাব এসেছে, কিন্তু আমি কখনো এ ব্যাপারে চিন্তা করি না। আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার হচ্ছে আমার প্রিয় দেশবাসীর জন্য দুবেলা খাবার নিশ্চিত করা, যাতে তারা শান্তিতে বসবাস করতে পারে।