ফিচার

রঙিন আলোয় আলোকিত শিশুদের ঈদ পোশাকের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদ হলো আনন্দের দিন। ঈদের দিনে সবার মাঝেই নতুন কাপড় পরার ধুম পড়ে। আর ছোটদের জন্য ঈদ হলো আরও বেশি আকর্ষণীয় দিন। তাই ঈদকে ঘিরে ছোটদের মাঝেও চলে নানান প্ল্যান আর চিন্তাভাবনা। আর সেই চিন্তাধারাকে মাথায় রেখেই দেশের সকল ফ্যাশন হাউজে বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও থাকে বিশেষ আয়োজন।
আমাদের দেশে এমন কিছু ফ্যাশন হাউজ আছে যারা শুধু শিশুদের কথা বিবেচনা করে শিশুদের পোশাক নিয়ে কাজ করে। এই ফ্যাশন হাউজগুলো এরই মধ্যে দারুণ জমে উঠেছে। ঈদের পাশাপাশি গরমের চিন্তাটিও মাথায় রেখেছে শিশুদের নিয়ে কাজ করা ফ্যাশন হাউজগুলো। এমনই একটি ফ্যাশন হাউজ শৈশব, বসুন্ধরা সিটির লেভেল-৪-এ এর অবস্থান। এখানে নবজাতক থেকে শুরু করে ১৬ বছরের শিশুদের জন্য আছে নানান ধরনের কালেকশন। চেক ফতুয়া, এক্সট্রা টপ, টি-শার্ট, ফ্রক, শার্ট, ২-৩ বছরের শিশুদের পাঞ্জাবি-পায়জামা, শার্ট, টি-শার্ট, প্যান্ট, পার্টি টি-শার্ট, ঘাগরা সেট, লেহেঙ্গা, রেডি শাড়ি, ফ্রক, থ্রিপিস, স্কার্ট টপস, প্যান্ট, জিন্স টপ, জিন্স প্যান্ট, পার্টি ড্রেস ইত্যাদি আয়োজনে ভরপুর এই ফ্যাশন হাউজ। আর এবারের ঈদকে ঘিরে তারা ৫০টি নতুন ডিজাইনের পোশাকের আয়োজন করেছে। এছাড়াও নাগরদোলা, সাদাকালো, অন্যমেলা, নিত্য উপহার, আড়ং, রঙ, দেশাল, প্রবর্তনা, নিপুণ, অঞ্জনস, ওটু, চাঁদের হাসি, ইনফিনিটিসহ দেশের প্রায় সব ধরনের ফ্যাশন হাউজগুলোতেই বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও রয়েছে তাদের নিজস্ব কিছু কালেকশন। শিশুদের জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের স্যুট, কোট, রাবার বেল্টের টাই, হালকা ডিজাইনের রঙিন গেঞ্জি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, থ্রিপিস এবং শাড়ি এনেছে ইনফিনিটি, বিভিন্ন ফ্রক ও ফ্রিলের পার্টি ফ্রকের পাশাপাশি আড়ং এনেছে সালোয়ার-কামিজ, ঘাগরা চোলি ও নকশা করা বিভিন্ন ধরনের প্যান্ট। সব ধরনের পোশাকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে উজ্জ্বল রঙকে। আর গরমের কারণে পাতলা সুতি কাপড়কেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। নাগরদোলা এনেছে সিল্ক, মসলিন, এন্ডি ও খাদির পোশাক, যেখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে উৎসবের আমেজ।
কে-ক্র্যাফটে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে পোশাক পরিধানের আরামের ওপর। ভয়েল, বেক্সি ভয়েল, কটন জর্জেট ও এন্ডির কালেকশনের সমারোহ চলছে কে-ক্র্যাফটে। মোটিফ হিসেবে থাকছে কাপড়ের ফুল, টুনটুনি পাখি, প্রজাপতির ডানা ইত্যাদি। ছেলেদের শার্ট বা ফতুয়ায় প্রাধান্য পাচ্ছে হাফহাতা এবং হাতাছাড়া কাট, আর লং প্যান্টের বদলে পাওয়া যাচ্ছে কোয়ার্টার প্যান্ট। ফ্যাশন হাউজ অঞ্জনস এবার তৈরি করছে জোড়া পোশাক অর্থাৎ মা-মেয়ে বা বড় বোন, ছোট বোন এবং বাবা-ছেলে বা বড় ভাই, ছোট ভাই মিলিয়ে একই পোশাক। ৭টি বিলুপ্ত পাখি থেকে রঙ নিয়ে শিশুদের পোশাক তৈরি করছে যাত্রা। বকের পালক ও ঠোঁট থেকে সাদা আর বাসন্তী, কোয়েলের চুন্দ্রির ছিটে, দুধরাজ পাখির সাদাকালো, মাছরাঙা থেকে কমলা, লাল-কালো আর নীলের সব শেড নিয়ে তৈরি হচ্ছে এসব পোশাক। বাংলার মেলার শিশুদের পোশাকের রঙ ও ডিজাইনে এসেছে নতুনত্ব। উজ্জ্বল সব রঙ ব্যবহার করে কটন, খাদি, এন্ডি প্রভৃতি কাপড়ে টাইডাই, ব্লক, হ্যান্ডস্টিচ, মেশিন এমব্রয়ডারি, চুমকি, গ্লাস ফিটিং ইত্যাদি কাজের সমন্বয়ে পাওয়া যাচ্ছে টপস, স্কার্ট, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি ও ফতুয়া। শিশুদের জন্য আবর্তন নিয়ে এসেছে সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবিসহ বর্ণিল সব পোশাকের মেলা। গরম আর উৎসবের কথা মাথায় রেখে কাপড়, রঙ ও ডিজাইন তৈরি করছে ফড়িং। সেখানে রয়েছে সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, ফতুয়া ও পাঞ্জাবি। হালকা আর উজ্জ্বল রঙ ব্যবহার করে শিশুদের জন্য রঙ আয়োজন করেছে সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, টপস, পাঞ্জাবি ও টি-শার্টসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক।
ফ্যাশন হাউজগুলোতে কাজ অনুসারে পাঞ্জাবির দাম ৫৫০ থেকে ৩ হাজার টাকা, ফতুয়া ২৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, সালোয়ার-কামিজ ৮৫০ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। ফ্রক ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা। শাড়ি মিলবে ৫০০ থেকে শুরু হয়ে ৫ হাজার টাকায়। ফ্যাশন হাউজ নিপুণের ডিজাইনার এলিনা এমদাদ মনে করেন, এ সময় শিশুদের পোশাক হওয়া উচিত একদম পাতলা, হাতাকাটা ও ঢিলেঢালা। যাতে শিশুর শরীরে সহজেই বাতাস প্রবেশ করতে পারে। গরমের দিনে অন্তত ৪ বার পোশাক পরিবর্তন করা উচিত। খেলাধুলা, ঘুমানো কিংবা বাসায় পরার জন্য আলাদা পোশাক নির্বাচন করা যেতে পারে।
গরমে নবজাতক থেকে শুরু করে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বাজারে আছে সুতি, লিনেন ও গেঞ্জি কাপড়ের বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক। আরামদায়ক উপকরণ হিসেবে ডিজাইনাররা বেছে নিয়েছেন এসব নরম কাপড়। যেমন সুতি, গ্যাবার্ডিন, লিনেন ও নরম জিনস। আর রঙ হিসেবে বেছে নিয়েছেন সাদা, চাপা সাদা, আকাশি কিংবা গোলাপি, লাল, হলুদ ও নীলের হালকা শেডগুলোকে। ছেলে ও মেয়েশিশুদের পোশাকে খুব একটা পার্থক্য দেখা যায়নি। ছেলেদের জন্য আছে ঢিলেঢালা গেঞ্জি, টি-শার্ট, ফতুয়া, নিমা, হাফ-প্যান্ট ও থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, ট্রাউজার, ফুল-প্যান্ট। মেয়েদের জন্য এসব ছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে টপ, ফ্রক, স্কার্ট, কুর্তি ইত্যাদি।
শৈশব, আড়ং, নিপুণ, রঙ বাংলাদেশ, অঞ্জনস, দেশাল, যাত্রা, ক্যাটস আই কিডস, লা রিভ, মেনজ কাব, সীমান্ত স্কয়ার, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ বিভিন্ন শপিং সেন্টারেই পাবেন এই পোশাকগুলো। এছাড়া নিউমার্কেট ও বদরুদ্দোজা মার্কেটে আছে শিশুদের জন্য নানা ধরনের আকর্ষণীয় পোশাক। তাই কালেকশন ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই আপনার সোনামণির ঈদের পোশাকটি সংগ্রহ করতে আর দেরি করবেন না। ঝটপট কিনে ফেলুন এখনই।