প্রতিবেদন

সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ ও ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ এবং পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে তাঁর দেয়া ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস পালিত হয়েছে। ৬ দফা আন্দোলন বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার ল্েয ৬ দফা দাবি পেশ করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা উত্থাপন করা হয় লাহোর প্রস্তাবের সাথে মিল রেখে ২৩ মার্চ। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬ দফা দাবির পে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে তীব্র গণ-আন্দোলনের সূচনা হয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে এবং পরাধীনতার অবসান ঘটিয়ে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ১৯৬৬ সালের ৭ জুন দিনব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়। আওয়ামী লীগের ডাকে ওই হরতালে টঙ্গী, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে পুলিশ এবং ইপিআরের গুলিতে মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ ১১ জন শহীদ হন। সেই থেকে প্রতি বছরের ৭ জুন বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ ও তাঁর দেয়া ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস পালিত হয়ে আসছে।
৬ দফা দিবস বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য প্রতিবাদী আত্মত্যাগে ভাস্বর একটি দিন। এই দিনটি বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনকে স্পষ্টতই নতুন পর্যায়ে উন্নীত করে। আর এ ৬ দফার মধ্য দিয়েই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন স্বাধীনতা সংগ্রামে রূপ নেয়। ৬ দফা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আসে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১১ দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বশেষ বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাসখন্দ চুক্তিকে কেন্দ্র করে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ৬ দফা উত্থাপন করেন এবং পরের দিন সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে যাতে এটি স্থান পায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা দাবির প্রতি আয়োজক প গুরুত্ব প্রদান করেনি। তারা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে। প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে যোগ না দিয়ে লাহোরে অবস্থানকালেই ৬ দফা উত্থাপন করেন। সেদিন পাকিস্তানের তৎকালীন সেনাশাসক জেনারেল আইয়ুব খান অস্ত্রের ভাষায় ৬ দফা মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ৬ দফার সমর্থনে ১৯৬৬ সালের ১৩ মে আওয়ামী লীগ আয়োজিত পল্টনের জনসভায় ৭ জুন হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। মাসব্যাপী ৬ দফা প্রচারে ব্যাপক কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। ৭ জুন তেজগাঁওয়ে বেঙ্গল বেভারেজের শ্রমিক সিলেটের মনু মিয়া পাকিস্তান স্বৈরশাসকের গুলিতে প্রাণ হারান। এতে বিােভের প্রচ-তা আরো বাড়ে। তেজগাঁওয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আজাদ এনামেল অ্যালুমিনিয়াম কারখানার শ্রমিক আবুল হোসেন ইপিআরের গুলিতে শহীদ হন। একই দিন নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনের কাছে পুলিশের গুলিতে মারা যায় আরো ৬ শ্রমিক। আন্দোলনের প্রচ-তায় লাখো বাঙালি মাঠে নেমে পড়ে। সন্ধ্যায় জারি করা হয় কারফিউ। রাতে হাজার হাজার আন্দোলনকারী বাঙালিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এমনিভাবে ৬ দফাভিত্তিক আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। শহীদের রক্তে আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয় শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের আন্দোলন।
বরাবরের মতো এবারও ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নেয়। আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে ছিল সূর্য উদয়ণে বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন এবং দুপুরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দণি ও উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি এক বিবৃতিতে ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস পালন উপলে গৃহীত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের সকল শাখাসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। সে মতে সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ ও তার প্রণীত ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস পালিত হয় সাড়ম্বরে।
ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঐতিহাসিক ৬ দফা শুধু বাঙালি জাতির মুক্তিসনদ নয়, সারা বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের মুক্তি আন্দোলনের অনুপ্রেরণারও উৎস। বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি ুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণে তথা সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি ৬ দফার দাবি আদায়সহ জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিহত সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ঐতিহাসিক ৭ জুনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার অুণœ রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ জুন এক অবিস্মরণীয় দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ৬ দফা আন্দোলন ১৯৬৬ সালের ৭ জুন নতুন মাত্রা পায়। তিনি বলেন, বাঙালির মুক্তিসনদ ৬ দফা আদায়ের ল্েয এদিন আওয়ামী লীগের ডাকে হরতাল চলাকালে নিরস্ত্র জনতার ওপর পুলিশ ও তৎকালীন ইপিআর গুলিবর্ষণ করে। এতে ঢাকা, টঙ্গী ও নারায়ণগঞ্জে ১১ জন শহীদ হন। প্রধানমন্ত্রী এই দিনে ঐতিহাসিক ৭ জুনসহ স্বাধীনতা সংগ্রামের সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
৬ দফা দাবির মূল উদ্দেশ্য পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র এবং ৬ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে এই ফেডারেল রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে। ৬ দফা কর্মসূচির ভিত্তি ছিল ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব। পরবর্তীকালে এই ৬ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতির স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন জোরদার করা হয়। বাংলাদেশের জন্য এই আন্দোলন এতই গুরুত্বপূর্ণ যে একে ম্যাগনা কার্টা বা বাঙালির মুক্তির সনদও বলা হয়।
ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ রাজত্ব শেষে পাকিস্তান নামে একটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পূর্ব পাকিস্তানের (পরে বাংলাদেশ) জনসংখ্যা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল এবং পাকিস্তানের মোট রপ্তানি আয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ রপ্তানি (যেমন পাট) হতো পূর্ব পাকিস্তান থেকে। তবে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক মতা ও অর্থনৈতিক সুবিধা আনুপাতিক ছিল না। বছরের পর বছর পূর্ব পাকিস্তান আঞ্চলিকতার কারণে ক্রমাগত বৈষম্যের শিকার হওয়ায় গুরুতর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। এর ফলে অর্থনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিবিদদের মনে বৈষম্য সম্পর্কে প্রশ্ন বাড়তে শুরু করে এবং ওই অবস্থাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৬ দফা প্রদান করেন। তবে একটি কঠিন সত্য এই যে, ৬ দফা ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের বেশকিছু সিনিয়র নেতা বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে রাজনৈতিক প্রতিপরে মতো তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। অনেকের ধারণা ছিল ৬ দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক অস্তিত্ব রা করতে সম হবেন না। তার দল আওয়ামী লীগ ধ্বংস হবে। কিন্তু বাস্তবে এই ৬ দফার কারণেই শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু, জাতির পিতা ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। ৬ দফার কারণে বাংলাদেশ আজ স্বাধীন। রাজনীতিতে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে পারলে যে কি আকাশচুম্বী সফলতা অর্জন করা যায় বঙ্গবন্ধু ৬ দফার ঘোষণার মধ্য দিয়ে তা প্রমাণ করেছেন।
বঙ্গবন্ধু ৬ দফা দেয়ার পরই পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে বাঙালিদের ওপর অত্যাচারের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয়। এর প্রতিবাদে ১৯৬৯ সালে নির্যাতিত নিপীড়িত বাঙালি যুব, ছাত্র ও আপামর জনতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এক দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। এই আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হলে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট লৌহমানব ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান, যিনি দীর্ঘ ১০ বছর দোর্দ- প্রতাপের সাথে শাসন কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন, বাধ্য হয়ে পাকিস্তানের শাসনভার তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া খানের হাতে দিয়ে পদত্যাগ করেন।
১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবিসমূহ

প্রথম দফা
শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি : দেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো এমনি হতে হবে যেখানে পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেশনভিত্তিক রাষ্ট্রসংঘ এবং তার ভিত্তি হবে লাহোর প্রস্তাব। সরকার হবে পার্লামেন্টারি ধরনের। আইন পরিষদের (খবমরংষধঃঁৎবং) মতা হবে সার্বভৌম। এবং এই পরিষদও নির্বাচিত হবে সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে জনসাধারণের সরাসরি ভোটে।

দ্বিতীয় দফা
কেন্দ্রীয় সরকারের মতা : কেন্দ্রীয় (ফেডারেল) সরকারের মতা কেবল মাত্র দু’টি েেত্রই সীমাবদ্ধ থাকবে; যথা দেশরা ও বৈদেশিক নীতি। অবশিষ্ট সকল বিষয়ে অঙ্গ রাষ্ট্রগুলোর মতা থাকবে নিরঙ্কুশ।

তৃতীয় দফা
মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় মতা : মুদ্রার ব্যাপারে নিম্নলিখিত দু’টির যেকোনো একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা যেতে পারে।
ক. সমগ্র দেশের জন্য দু’টি পৃথক, অথচ অবাধে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকবে। অথবা খ. বর্তমান নিয়মে সমগ্র দেশের জন্য কেবল একটি মুদ্রাই চালু থাকতে পারে। তবে সেেেত্র শাসনতন্ত্রে এমন ফলপ্রসূ ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে করে পূর্ব-পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে মূলধন পাচারের পথ বন্ধ হয়। এেেত্র পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক ব্যাংক রিজার্ভেরও পত্তন করতে হবে এবং পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক আর্থিক বা অর্থবিষয়ক নীতি প্রবর্তন করতে হবে।

চতুর্থ দফা
রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় মতা : ফেডারেশনের অঙ্গ রাজ্যগুলোর কর বা শুল্ক ধার্যের ব্যাপারে সার্বভৌম মতা থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনোরূপ কর ধার্যের মতা থাকবে না। তবে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য অঙ্গ-রাষ্ট্রীয় রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাপ্য হবে। অঙ্গ রাষ্ট্রগুলোর সব রকমের করের শতকরা একই হারে আদায়কৃত অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল গঠিত হবে।

পঞ্চম দফা
বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক মতা : ক. ফেডারেশনভুক্ত প্রতিটি রাজ্যের বহির্বাণিজ্যের পৃথক পৃথক হিসাব রা করতে হবে। খ. বহির্বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা অঙ্গরাজ্যগুলোর এখতিয়ারাধীন থাকবে। গ. কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা সমান হারে অথবা সর্বসম্মত কোনো হারে অঙ্গরাষ্ট্রগুলোই মেটাবে। ঘ. অঙ্গ রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দেশজ দ্রব্য চলাচলের েেত্র শুল্ক বা করজাতীয় কোনোরকম বিধিনিষেধ থাকবে না। ঙ. শাসনতন্ত্রে অঙ্গরাষ্ট্রগুলোকে বিদেশে নিজ নিজ বাণিজ্যিক প্রতিনিধি প্রেরণ এবং স্ব-স্বার্থে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের মতা দিতে হবে।

ষষ্ঠ দফা
আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের মতা : ক. আঞ্চলিক সংহতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রার জন্য সংবিধানে অঙ্গরাজ্যগুলোকে স্বীয় কর্তৃত্বাধীনে আধা-সামরিক বাহিনী বা আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের মতা দিতে হবে। খ. কেন্দ্রীয় সরকারের সকল শাখায় বা চাকরি েেত্র প্রতিটি ইউনিট থেকে জনসংখ্যার ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ করতে হবে। গ. নৌ-বাহিনীর সদর দপ্তর করাচি থেকে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করতে হবে।