প্রতিবেদন

ইউজিসি-শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারের নির্দেশনা অমান্য করেই বহালতবিয়তে চলছে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত আগস্ট মাসে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরেজমিন পরিদর্শন করে। দুদকের অভিযানের প্রথম পর্যায়ে ৪০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা অনুসরণ না করাসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা তথ্য উঠে আসে। সে অনুযায়ী এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন বাতিলের সুপারিশ করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে চিঠি দেয় দুদক। এদিকে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন বাতিল করার জন্য শিা মন্ত্রণালয়ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে চিঠি
দিয়েছে।
সূত্র জানায়, দুদকের অভিযানে ৪০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্যচিত্র উঠে আসে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে। দুদকের কর্মকর্তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে বহুমুখী অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পান। সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে অযোগ্য শিক ও কর্মকর্তা নিয়োগ প্রদান করাসহ শিার্থীদের ঠিকমতো না পড়িয়ে বরং অর্থের বিনিময়ে সার্টিফিকেট দেয়াসহ নানা ধরনের অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে।
দুদকের অভিযানে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তার বাইরে আরো কয়েকটি গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রতিষ্ঠানটির ভিসি নিয়োগ সংক্রান্ত। সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে আছেন এ এন এম মেশকাত উদ্দিন; যিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অনুমোদনপ্রাপ্ত নন। অভিযোগ রয়েছে এ এন এম মেশকাত উদ্দিন নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় সদস্য। ভিসির বাইরেও সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির গভর্নিংবডির অধিকাংশ সদস্যই জামায়াত-বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ভিসি এ এন এম মেশকাত উদ্দিন ও গভর্নিংবডির সদস্যরা মিলে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছেনÑ সেখানে এমন আলোচনাই প্রতিষ্ঠিত যে, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীরা হবে শিবিরের এবং শিক্ষকরা হবেন জামায়াতের। প্রগতিশীল কোনো ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকের স্থান সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে হবে না।
এরই অংশ হিসেবে গত সেপ্টেম্বর মাসে ১২ জন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়। এই ১২ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ ছিল তারা জামায়াতি নন, প্রগতিশীল। এর চেয়েও মারাত্মক অপরাধ হলো এই প্রগতিশীলতার অভিযোগ তুলেই বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের চ্যান্সেলর মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের একটি আদেশ দিনের পর দিন লঙ্ঘন করে আসছে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি। এই আদেশটি হলো সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি নিয়োগ সংক্রান্ত। গত ৭ জানুয়ারি উপ-সচিব (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-১) জিন্নাত রেহানা স্বাক্ষরিত (নং-শিম/ শা: ১৭/৮ বে. বি-২৭/২০০৫/৮৬১) চিঠি দেয়া হয় সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান বরাবর। চিঠিতে বলা হয়, উপর্যুক্ত বিষয়ে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ৩১(১) ধারা অনুযায়ী সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর পদে ড. নার্গিস আক্তার-কে যোগদানের তারিখ হতে ০৪ (চার) বছরের জন্য নিয়োগ প্রদানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর সানুগ্রহ সম্মতি প্রদান করেছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হলো।
৭ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনÑ এই ৬ মাসেও রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের আদেশ ও অনুমোদন সত্ত্বেও ড. নার্গিস আক্তারকে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি পদে নিয়োগ দেয়া হয়নি। এমনকি ড. নার্গিস আক্তারকে রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত চিঠির কপিও দেয়া হয়নি। ড. নার্গিস আক্তার ভিন্ন মাধ্যমে চিঠির কপি সংগ্রহ করে তাঁকে ভিসি পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য গভর্নিংবডিকে বললে গভর্নিংবডির একাধিক সদস্য এবং ভারপ্রাপ্ত ভিসি এ এন এম মেশকাত উদ্দিন এই মর্মে ড. নার্গিস আক্তারকে জানিয়ে দেন, ‘প্রগতিশীল কোনো ব্যক্তির সাউথইস্টের ভিসি হওয়ার স্বপ্ন দেখে লাভ নেই। এই ইউনিভার্সিটিতে প্রগতিশীল কোনো শিক্ষককেই নিয়োগ দেয়া হয় না, সেক্ষেত্রে আপনি তো এসেছেন ভিসি হওয়ার দাবি নিয়ে’। ড. নার্গিস আক্তার মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে ভারপ্রাপ্ত ভিসির কক্ষে এক হাস্যরস সৃষ্টির অবতারণা করা হয়। ভারপ্রাপ্ত ভিসি এ এন এম মেশকাত বলেন, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো চ্যান্সেলরের আদেশ সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে কার্যকর হয়নি; আর উনি এসেছেন আবদুল হামিদের আদেশ নিয়ে! হা হা হা।
রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের আদেশ সত্ত্বেও ড. নার্গিস আক্তারকে কেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে নাÑ এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত ভিসি এ এন এম মেশকাত উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি স্বদেশ খবরকে বলেন, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর আদেশ দিলেই যে ভিসি পদে কাউকে বসিয়ে দিতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রে চ্যান্সেলরের আদেশ বিবেচ্য বিষয় নয়। এখানে গভর্নিংবডির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। গভর্নিংবডি আমাকে ভারপ্রাপ্ত ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, তারা যতদিন চাইবে ততদিন আমিই ভারপ্রাপ্ত ভিসি পদে থাকব। গভর্নিংবডি যদি ড. নার্গিসকে নিয়োগ দেয় তাহলে আমি সরে যাব।
ড. নার্গিস আক্তারকে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে ইউজিসিস ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। একজন যোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ভিসি নিয়োগ দেয়ার পরও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কেন ওই ব্যক্তিকে ভিসি পদ দিচ্ছে নাÑ এটা ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের কেউই জানেন না। চ্যান্সেলরের আদেশ অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা কীÑ এ বিষয়টিও কেউ জানেন না বলে স্বদেশ খবরকে জানানো হয়। তবে জানা গেছে, ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই নাকি সাউথইস্টসহ বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলে। ফলে অনেকেই বলেন, সরকারের চেয়েও শক্তিশালী হচ্ছে সাউথইস্টসহ দুদকের তদন্তে অভিযুক্ত ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়।
ড. নার্গিস আক্তারকে কেন ভিসি পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না- এ বিষয়টি স্বদেশ খবর প্রতিবেদক গভর্নিংবডির একজন মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমেই নিতান্ত তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলেন, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর গত ১৬ বছরে কোনো সাংবাদিকের সাহস হয়নি সাউথইস্টের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতে। আর আপনি কোথাকার কোন সাংবাদিক এসেছেন আমাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতে। স্বদেশ খবর প্রতিবেদক তাকে যখন স্মরণ করিয়ে দেন যে, সাউথইস্টের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতে নয় বরং ড. নার্গিস আক্তারকে কেন চ্যান্সেলরের আদেশ সত্ত্বেও ভিসি পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে নাÑ তা শুধু জানতে চাওয়া হচ্ছে। তখন ওই প্রভাবশালী মেম্বার বলেন, সাউথইস্টের ক্ষেত্রে চ্যান্সেলর বলেন আর রাষ্ট্রপতিই বলেন, সবই হলেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান। তার আদেশই সব। তিনি যাকে ভিসি পদে নিয়োগ দেবেন, তিনিই ভিসির চেয়ারে বসবেন।
এ বিষয়ে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের কাছে টেলিফোনে জানতে চাইলে তিনি ড. নার্গিস আক্তারকে ভিসি পদে নিয়োগ দেয়া সংক্রান্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের আদেশের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি এ বিষয়ে পরবর্তীতে কথা বলবেন বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। দুদকের কর্মকর্তারা সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি নিয়ে যে তদন্ত করেছেন, তার প্রতিবেদনে সংস্থাটি অভিযোগ করেছে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়টি অনুমোদন পেতে প্রাথমিক শর্ত পূরণ করতে পারেনি। এ েেত্র তারা অর্থের বিনিময়ে অনুমোদন নিয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবও কাজে লাগানো হয়েছে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির অনুমোদনের েেত্র। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠার ৫ বছরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা থাকলেও সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি এখনো তেজগাঁয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পসেই আছে।
জানা গেছে, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে যে ৩৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়া হয়, তার সর্বাগ্রে ছিল সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি। এই ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর সবাই জামায়াত-বিএনপির রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক। প্রগতিশীল কোনো শিক্ষকের স্থান এ বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। প্রগতিশীলতার অভিযোগে যে ১২ জন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের এখনো পুনর্বহাল করা হয়নি। একইসঙ্গে একই অভিযোগে ড. নার্গিস আক্তারকেও ভিসি পদে নিয়োগ দেয়া হয়নি।
এদিকে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য এএনএম মেশকাত উদ্দিনের নিন্দায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির চাকরিচ্যুত ১২ শিককে পুনর্বহালের দাবিতে উত্তাল শিার্থীরা। ভিসির নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে তাকে অপসারণের দাবিতে আন্দোলনও চালিয়ে যাচ্ছেন শিার্থীরা। আন্দোলনের শুরুতে শিার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়টির সামনে ভিসির সমালোচনা করলেও এখন তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও তার সমালোচনায় মুখর।
মোহাম্মদ আলী নামের এক শিার্থী সাউথইস্ট ইনফো নামের ফেসবুক পেজে ‘মেসকাতসমস্ত’ শিরোনামে লেখেন, ‘পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্টের সাথে অবৈধ রিলেশনের জন্য নর্থসাউথ থেকে বিতাড়িত হয়ে সাউথইস্টে এসেছিল, এখানেও বাংলা ডিপার্টমেন্টের সাবেক চেয়ারম্যান ম্যামের সাথেও একই ঘটনার জন্ম দেয়ায় এখান থেকেও জব চলে গিয়েছিল (২০১৩ সালের বিবিএ ডিপার্টমেন্টের পিকনিকের দিনের কথা মনে করলেই হবে)। সারিনা হোটেলের অবকাশযাপন না হয় বাদই দিলাম। তারপর নর্থসাউথে ফিরে গিয়ে জালিয়াতি ধরা পড়ে আবার কিক আউট। তারপর আবার সাউথইস্ট! ভয়ঙ্কর প্ল্যানে আছে মালিক পক্ষ। তাদের প্ল্যান দিন দিন কোয়ালিটি নিচে নামিয়ে এনে একটা সময় ভার্সিটি একদম বন্ধ করে ফেলা। কারণ ভার্সিটির ভেলুয়েশন এখন প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ওপরে। অথচ ট্রাস্টি বোর্ডের মাত্র ২২ জন সদস্য, যার মধ্যে বেশিরভাগই মাত্র ৫ লাখ টাকা দিয়ে নামমাত্র শেয়ারহোল্ডার হয়েছিল, যেসব শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্য কত টাকা হতে পারে ভাবাই যায় না। প্রতিষ্ঠান কোনোরকমে বন্ধ করতে পারলে পুরো টাকা ভাগাভাগি করে নেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে মালিক পক্ষ, সেটাও ভিসি মেসকাতের মাস্টার প্ল্যানের ওপর ভিত্তি করে। এই মেসকাতই হচ্ছে সব নাটের গুরু, বিজনেস স্কুলকে যে সকল সিনিয়র টিচাররা পরিবারের মতো মনে করতেন অতীতেও এই মেসকাতই তাদের জব ছাড়া করেছে। এখন বলছে হাইকোর্ট থেকে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আরে নিষ্পত্তি হয়ে থাকলে নর্থসাউথেই ফিরে যান। বাতিল মালগুলোই সব সাউথইস্টে ভিসি হিসেবে আসে।’
তবে সে যা-ই হোক, এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, ইউজিসি-শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে ভারপ্রাপ্ত ভিসি এএনএম মেশকাত উদ্দিন ও গভর্নিংবডির কয়েকজন সদস্যের অনৈতিক কর্মকা-ের মাধ্যমে বহালতবিয়তেই আছে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি। ইউজিসির আদেশ অমান্য করে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি গত ১৬ বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের আদেশ মান্য করে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি গত ১৬ বছরে একজন ভিসি, একজন প্রো-ভিসি এবং একজন রেজিস্ট্রার পর্যন্ত নিয়োগ দিতে পারেনি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারাই ভিসি, প্রো-ভিসি ও রেজিস্ট্রার পদে এসেছেন, তারা সবাই ছিলেন গভর্নিংবডির চেয়ারম্যানের আশীর্বাদপুষ্ট। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ভিসিও চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের আশীর্বাদপুষ্ট। ফলশ্রুতিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের আদেশ সত্ত্বেও ড. নার্গিস আক্তার সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি হওয়া থেকে বঞ্চিত।