কলাম

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্থিরতা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অধিকতর সতর্ক হতে হবে

ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তার আগে সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জুলাই। ১৫ মে অনুষ্ঠিত হয়েছিল খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। বলা যায়, সারা বাংলাদেশ জুড়ে ২০১৮ সালের পুরোটা সময়ে যেন নির্বাচনি আবহ বিরাজ করছে। ৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচন মানে ৪টি বিভাগীয় সিটি এবং ১টি মহানগর সিটিতে নির্বাচন। সে হিসাবে বলা যায়, দেশের এক-তৃতীয়াংশ জনপদ এ মুহূর্তে সরাসরি নির্বাচনে আছে। অক্টোবর থেকে সারাদেশে পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা। ৩০০ সংসদীয় আসনে একযোগে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বার্থান্বেষী মহলের অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা অমূলক নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশনেই পরাজিত প্রার্থীর পক্ষ থেকে জোরালো কোনো অভিযোগ ওঠেনি। দুই সিটি করপোরেশনে নির্বাচনেই নির্বাচনকেন্দ্রিক গোলোযোগ, মারামারি, জাল ভোট দেয়া, ব্যালটবাক্স ছিনতাই, কেন্দ্র দখলের মতো ঘটনা ঘটেনি। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধন্যবাদ পাওয়ার দাবিদার। মানুষ আশা করছে, খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতোই ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করবেন। খুলনা ও গাজীপুর সিটির নির্বাচনে মানুষ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর প্রভাব পড়বে সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। ওই তিনটি নির্বাচনে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবে বলে আশা করা যায়। তবে কথা হলো সিটি করপোরেশন নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন এক ব্যাপার নয়। সারাদেশ জুড়ে একযোগে নির্বাচন হওয়ায় এবং সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রুটিন ওয়ার্ক অব্যাহত রাখতে গিয়ে তাদের ওপর কাজের দ্বিগুণ চাপ পড়ে। সেক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যদি তাদের দায়িত্ব পালনে সামান্যতম শৈথিল্য দেখান তাহলে তার প্রভাব বাহিনীর নিচের স্তরে নেতিবাচকভাবে পড়তে পারে। সেজন্য যেকোনো বাহিনীর ঊর্ধ্বতনদের এই নির্বাচনি বছরে আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচনি পরিবেশ রক্ষায় অধিকতর সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, নির্বাচনি বছরে স্বার্থ হাসিলের জন্য রাজনীতির মাঠে একাধিক পক্ষ সক্রিয় থাকে। তারা রাজনৈতিক পরিবেশ-পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানামুখী তৎপরতা চালায়। পেশিশক্তির প্রদর্শন এবং বৈধ ও অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানিও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কাজকর্মে সামান্য শিথিলতা ও অনৈতিকতা দেখালে অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাবে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে জাতীয় নির্বাচনে। তাই নির্বাচনি এ বছরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল অস্থিরতা সৃষ্টি করে নির্বাচনি পরিবেশ যেন বিঘিœত করতে না পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অধিকতর সতর্কতা কাম্য।