প্রতিবেদন

জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী : চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শতভাগ গ্রামে বিদ্যুতের আলো পৌঁছবে

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শতভাগ গ্রামে বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় ইতোমধ্যে ৯০ শতাংশ গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। বাকি ১০ শতাংশ গ্রামে বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ২১ জুন জাতীয় সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের প্রশ্নের লিখিত জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালে সারাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মনিটরিং করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
সংরতি আসনের বেগম সানজিদা খানমের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ জানান, বর্তমান সরকার মতা গ্রহণের পর অর্থাৎ ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ১০ হাজার ৭৩৫ মেগাওয়াট মতার ৯৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি খাতে মোট ৫ হাজার ৮১৪ মেগাওয়াট মতার ৩৬টি এবং বেসরকারি খাতে মোট ৪ হাজার ৯২১ মেগাওয়াট মতার ৬০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জাতীয় সংসদকে জানান, বর্তমান সরকার মতা গ্রহণের পর হতে বিদ্যুতের স্থাপিত মতা প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াট (ক্যাপটিভসহ) উন্নীত হয়েছে। এছাড়া মোট ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আমদানির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদ্যুতের সিস্টেম লস বিশ্বব্যাপী অনিবার্য স্বীকৃত। তবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে এর পরিমাণের তারতম্য ঘটে। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার মতা গ্রহণের সময় বিদ্যুতের সামগ্রিক সিস্টেম লস ছিল ১৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ, যা বর্তমানে হ্রাস পেয়ে হয়েছে ১১ দশমিক ১৮ শতাংশ। এ লসকে সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
সরকারি দলের মামুনুর রশীদ কিরনের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন মতা বেশি থাকায় সাধারণত বিদ্যুৎ ঘাটতি হচ্ছে না। তবে গ্রীষ্ককালে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে রণাবেণ কাজের জন্য মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে।
ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্য হাজেরা খাতুনের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার সবার জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট ও ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক জ্বালানির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে সরকারের ল্যমাত্রা অর্জনে জ্বালানি বহুমুখীকরণ (দেশীয় ও আমদানিকৃত কয়লা, গ্যাস ও এলএনজি, তরল জ্বালানি) ও বিদ্যুৎ আমদানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।