প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

সরকারের সফল প্রচেষ্টায় স্বস্তিদায়ক ঈদ উদযাপিত

এম নিজাম উদ্দিন : সরকারের সফল প্রচেষ্টায় এবার শান্তিপূর্ণভাবে সারাদেশে স্বস্তিদায়ক ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। এবার সারা রমজান মাসজুড়ে রোজা ও ঈদকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় মতার মধ্যে ছিল। তাছাড়া সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কারণে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বেশ ভালো ছিল। ফলে দেশের মানুষ নির্বিঘেœ ব্যবসাবাণিজ্য ও কেনাকাটা করতে পেরেছে এবং ঈদ করতে প্রিয়জনদের নিকট ও বেড়াতে যাওয়া এবং নিরাপদে ফেরত আসতে সক্ষম হয়েছে। যদিও আমাদের দেশের প্রচলিত সংস্কৃতি অনুযায়ী যানবাহন ও মানুষের অতিরিক্ত চাপের কারণে কিছুটা যানজট ও ভোগান্তি সত্ত্বেও এবারের ঈদ অন্যান্যবারের তুলনায় অনেকটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে।
ঈদ যদিও প্রধানত একটি ধর্মীয় উৎসব, তারপরও বিশেষত বাঙালি মুসলমানের জন্য অতিরিক্ত ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করে। বছরের এই দুই ঈদ মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক পুনর্মিলনের প্রধান উৎস হয়ে ওঠে। শত প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে মানুষ ছুটে উৎসের অভিমুখে। প্রিয়জনের সান্নিধ্যে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছোটে দুদ- শান্তির আশায়। আর মানুষের এই অপ্রতিরোধ্য সামাজিক প্রবণতার বাড়তি চাপ নিতে হয় আমাদের পরিবহন ব্যবস্থা, যানবাহন এবং নিরাপত্তা রাকারী ব্যবস্থাকে। এসব েেত্র যথাযথ প্ল্যানিং মেইন্টেন্যান্স মনিটরিংয়ের ঘাটতি থাকলে তা অনেক সময় ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ঈদ উৎসব ঈদ ভোগান্তিতে পর্যবসিত হয়। যেমন দীর্ঘ প্রলম্বিত যানজট ঈদ ভোগান্তির অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে দীর্ঘকাল থেকে চলে আসছে। ঈদের দু-একদিন আগে রাজধানী ঢাকা থেকে হাসিমুখে যাত্রা শুরু করা অনেককেই দেখা গেছে ঈদ অনুষ্ঠানের পর বিরসবদনে বাড়ি পৌঁছতে। রোজার ঈদে এর সঙ্গে যুক্ত হয় প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তাঘাট। এসব ছিল ঈদ উদযাপনের নিত্যঅনুষঙ্গ। রমজানের রোজার শেষে আসা খুশির আনন্দ অনেক সময় বেদনাময় হয়ে ওঠে মনুষ্যসৃষ্ট অনিয়ন্ত্রিত ভোগান্তির কবলে পড়ে। তারপরও বাঙালির ঈদ উদযাপন অব্যাহত থাকে ঈদের নির্মল আনন্দ কখনো ফিকে হতে দেখা যায় না। উদযাপন কখনো অপ্রাসঙ্গিক মনে হয় না। তবে এবারের ঈদ উদযাপনে ব্যতিক্রমের ছোঁয়া দেখা গেছে। সেই দীর্ঘ অসহনীয় যানজট যানবাহনে নৈরাজ্য রাস্তাঘাটের দুরবস্থা প্রকৃতির রুটিন-চিত্র প্রায় অনুপস্থিত ছিল এবারের ঈদে। নানাভাবেই এবারের ঈদোৎসব অধিকতর আনন্দময় ও সুখকর হয়ে উঠেছে।
এই নিরুদ্বিগ্ন নির্ঝঞ্ঝাট ঈদোৎসব বস্তুত সরকার ও জনগণের এক যৌথ উদ্যোগের ফসল। মুসলমানদের এই সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত করার জন্য রমজানের শুরু থেকেই প্রস্তুতিপর্ব শুরু হয়। বিভিন্ন মুনাফা সিন্ডিকেটের কবল থেকে রমজানের বাজার রার জন্য শক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা গেছে। বিশেষভাবে ল্য করা গেছে ভেজাল খাদ্য বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। সহস্র টন খেজুর, লাখ টন আম ধ্বংস করতে দেখা গেছে ভেজাল উপকরণ আবিষ্কৃত হওয়ায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে শক্ত হাতে জরিমানা দ- প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। প্রকাশ্য সরকারি ঘোষণা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং সচেতন জনগণের সহযোগিতায় একটা সুস্পষ্ট মেসেজ দেয়া গেছেÑ বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে চায়। রমজান মাসে পরিচালিত মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান, চলমান সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযান এবং ঘোষিত দুর্নীতি বিরোধী অভিযান জনমনে একটা স্বস্তির আবেশ সৃষ্টি করেছে। এর প্রতিফলন দেখা গেছে ঈদ উদযাপনের পূর্বাপর অনুষঙ্গগুলোতে।
ঈদের মাঠে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হামলার ঘটনা বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতেই লণীয়। বাংলাদেশের বৃহত্তম শোলাকিয়া ঈদগাহেও ২০১৬ সালে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবারও আফগানিস্তানে ঈদকালীন যুদ্ধ বিরতি সত্ত্বেও বিস্ফোরণে বিপুল সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয়েছে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। শোলাকিয়া জঙ্গি হামলার অতীত ঘটনা মাথায় রেখেই এবারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল সিসিটিভি ক্যামেরা, ডগ স্কোয়াড, বম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইত্যাদি। এমনকি জামিনপ্রাপ্ত জঙ্গিদেরও বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।
এবারের ঈদ-ভ্রমণও আগের তুলনায় অনেক বেশি সুখকর হয়েছে। রাজধানীর অধিবাসীদের অর্ধেক অর্থাৎ আট মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ঈদ-ভ্রমণের সঙ্গে প্রত্যভাবে সম্পর্কিত থেকেছে। ঈদ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এবার যানবাহনের প্রাক-টিকিট সংগ্রহ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে পুরো ভ্রমণ প্রক্রিয়া নিরাপদ-নিরুপদ্রব রাখার ব্যবস্থা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। রাস্তাঘাটের অবস্থা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছে সবাই। আর এসব ব্যাপারে প্রতিবারের মতো এবারও বেশ তৎপর থাকতে দেখা গেছে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে। ঈদকালীন পরিবহন ব্যবস্থা সুগম করার জন্য তিনি সড়ক বিভাগকে ৮ জুন ২০১৮-এর মধ্যে সকল সংস্থার কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ঈদের ৩ দিন মহাসড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছিলেন। বিআরটিসি তার সর্বোচ্চ উপযোগিতা নিয়ে সেবাদান করেছে। টিকিট বিক্রয় মনিটরিংয়ের জন্য ভিজিলেন্স টিম সদা তৎপর ছিল। রোডস অ্যান্ড হাইওয়েজের ইঞ্জিনিয়ারদের ঈদ ছুটি বাতিল করা হয়েছে সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে।
সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় যেমন শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ঈদ-ভ্রমণ আনন্দময় করা হয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায়ও তেমনই শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও আশ্বস্ত করেছিলেন নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার এবং জাতীয় ঈদগাহ, শোলাকিয়াসহ দেশের বৃহত্তর ঈদগাহগুলোতে সর্বাত্মক সুরা দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবিসহ সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও এক্ষেত্রে ছিল বেশ সক্রিয়। ফলে দেশের কোথাও সামান্যতম বিশৃঙ্খলাও দেখা যায়নি। জঙ্গি হামলার আশঙ্কা তো দূরের কথা এমনকি কালোবাজারি, প্রতারণা, মলমপার্টি-চাঁদাবাজি, পকেটমারের দৌরাত্ম্যের বিষয়ে তেমন কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি। এখন এই ঈদ-ভ্রমণ এবং ঈদ-নিরাপত্তার বিষয়টিকে বর্ষব্যাপী ভ্রমণ এবং বর্ষব্যাপী নিরাপত্তার বিষয়ে উন্নীত করতে পারলেই জনপ্রত্যাশার ষোলোকলা পূর্ণ হবে।
এবারের শান্তিপূর্ণ ঈদ-পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশনা বাংলাদেশের সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট থেকে সরাসরি এসেছে। এমনকি নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি শেখ হাসিনা নিজে সারাদেশের সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খোঁজখবর রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বিভিন্ন বক্তৃতায় নিরাপদে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ-উৎসব উদযাপন এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদ-উৎসবকে সর্বোত্তমভাবে সুন্দর ও নিরাপদ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন এবং ঈদ শেষে গণভবনে অনুষ্ঠিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এবারের ঈদ-উদযাপন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার প্রত্যেক ঘরে ঈদের আনন্দ নিয়ে যেতে চায় এবং তা ঘটাতে তাঁর সরকার খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সুবিধা এবং শিা নিশ্চিত করেছে এবং জনগণকে আবাসন সরবরাহের মধ্য দিয়ে একটি সুন্দর জীবন প্রদানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা দেশের সর্বস্তরের জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে তিনি দেশবাসীর অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। আর এবারের ঈদ-উৎসবকে সফল ও সার্থক করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। দেশের সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার সদিচ্ছা এবং সার্বণিক তদারকির কারণে এবারের ঈদোৎযাপনকে শান্তিপূর্ণ স্বস্তিদায়ক করে তুলেছে।
বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮-এর সূচনা পর্ব বাংলাদেশের ঈদ-উৎসব ও ঈদের ছুটিকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলেছে। ঈদের অনাবিল আনন্দের সঙ্গে বিশ্বকাপ ফুটবলের হার-জিতের মিশ্র অনুভূতি একাকার হয়ে এক সুখকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এবারের ঈদ উদযাপনের একটি বড় অংশজুড়ে থাকছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচগুলো দেখা। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো প্রচারে দেশীয় টিভি চ্যানেলের অন্যান্য অনুষ্ঠানের ওপর হয়তবা কিছুটা টিআরপি নিচ্ছে। কিন্তু সার্বিক ঈদ আনন্দ-উদযাপনে তা বাদ সাধছে না। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অনুপম হ্যাটট্রিক এবং ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দুর্ধর্ষ স্পেনের বিরুদ্ধে পর্তুগালের সামাজিক সমতা রা; জীবন্ত কিংবদন্তি মেসির চরম হতাশাজনক পেনাল্টি মিস এবং নবাগত বরফমানবদের (আইসল্যান্ড) বিরুদ্ধে অসহায় অস্তিত্বের লড়াই এবং লজ্জাবনত ব্রাজিল শিবিরে উত্থিত নিন্দাঝড়; ফিফা শীর্ষ ফুটবল পরাশক্তি জার্মানির নির্মম পরাজয় এবং অজ্ঞাতকুলশীল সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে চ্যাম্পিয়নগর্বী ব্রাজিলের অনভিপ্রেত ড্র এবং আর্জেন্টিনা শিবিরের ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ৩ গোলে পরাজয়Ñ সব মিলে এবারের ঈদের আনন্দ ষোলকলায় পূর্ণ হয়েছে।
ঈদ ধর্মীয় বিবেচনায় মুসলমানদের উৎসব হলেওÑ বাংলাদেশে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিবেচনায় এটি সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়। ঈদ-আনন্দ ও ঈদ-শুভেচ্ছা বিনিময়ের যে প্রতিফলন সামাজিক মাধ্যমগুলোতে দেখা যায় তাতে ঈদের সার্বজনীন মঙ্গলময় চেহারাটাই প্রকাশিত হয়। সবশেষে বলা যায়, এবারের ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের কর্মস্থলে ফিরে আসাও স্বস্তিদায়ক ছিল। ঈদের ৩ দিনের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক বন্ধ মিলে প্রায় সপ্তাহখানেক পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে মানুষ ঢাকায় ফিরেছে নিরুপদ্রবেই। তবে যাওয়ার সময় মানুষের যে চাপ ছিল, ফেরার সময় সে চাপ ছিল না সঙ্গত কারণেই। ঈদ ফেরত মানুষের জন্য পাটুরিয়া ফেরিঘাট কিছুটা অসুবিধা সৃষ্টি করলেও মানুষ এই ভেবে স্বস্তিতে ছিল যে, অচিরেই পদ্মাসেতুর কাজ সম্পন্ন হবে। পদ্মাসেতুর ওপর দিয়ে সাঁইসাঁই করে বাড়ি যাওয়া যাবে দিনে দিনেই। সেই আশায়ই এবার কর্মস্থলে ফিরে এসেছে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। এবার ১৬ জুন ঈদুল ফিতরের উৎসব উদযাপিত হওয়ার পর ঈদের স্বাভাবিক ছুটি শেষে ১৮ জুন অফিস-আদালত খুললেও বাঙালির সংস্কৃতিগত কারণে চিরচেনা ঢাকার রাস্তাঘাট ও সারাদেশের অফিস-আদালতসহ সর্বত্র স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে ২৪ জুন থেকেই।