খেলা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ফুটবল বিশ্বকাপ ২০১৮ শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয়েছে পরবর্তী বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা যৌথভাবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। মস্কোতে ১৩ জুন ফিফা সদস্যদের ভোটে মরক্কোকে হারিয়ে এ তিন দেশ আয়োজক হওয়ার স্বীকৃতি লাভ করে। মস্কোতে ফিফা কংগ্রেসে মোট ২০৩ ভোটের মধ্যে ১৯৯ ভোট পড়ে। যার মধ্যে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ ভোট পায় ১৩৪টি। মরক্কো পায় ৬৫ ভোট। সর্বশেষ ১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো উত্তর আমেরিকায় ফিরছে ফুটবলের বিশ্ব ইভেন্ট। আধুনিকতা, সুন্দর স্টেডিয়াম এবং উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে ডেলিগেটরা উচ্চস্বরে উত্তর আমেরিকাকে সমর্থন জানান। সাধারণত ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার অব্যবহিত আগে পরবর্তী বিশ্বকাপের আয়োজক দেশের নাম ঘোষণা করা হয়। সে হিসাবে ২০১৮ বিশ্বকাপের ৩ দিন আগে ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার নাম ঘোষণা করা হলো। একই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০১৪ বিশ্বকাপ শুরুর আগে ২০২২ সালের আয়োজক দেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয় মধ্যপ্রাচ্যের ছোট্ট দেশ কাতারের নাম। সে হিসাবে পরবর্তী ফিফা বিশ্বকাপ-২০২২ অনুষ্ঠিত হবে কাতারে।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের দৃষ্টিনন্দন ফুটবল স্টেডিয়াম
২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হবে কাতারে। আর সেই বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কাতার তৈরি করছে ২২টি দৃষ্টিনন্দন নতুন স্টেডিয়াম। শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, স্টেডিয়ামগুলো একইসাথে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিরও সর্বোত্তম ব্যবহার করবে। সেগুলো হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, শূন্যভাগ কার্বন নিঃসরণকারী এবং পরিবেশবান্ধব। অধিকাংশ স্টেডিয়ামের অংশবিশেষ তৈরি হবে স্থানান্তরযোগ্যভাবে, যেন বিশ্বকাপ শেষে সেগুলো বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে স্থানান্তর করে আরো ২২টি স্টেডিয়াম তৈরি করা সম্ভব হয়। এবার স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য কাতার বিশ্বকাপের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি স্টেডিয়ামের বর্ণনা দেয়া হলো।

লুসাইল স্টেডিয়াম
লুসাইল স্টেডিয়াম কাতার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম। এর অবস্থান রাজধানী দোহা থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে নবনির্মিত লুসাইল সিটিতে। দর্শক ধারণ মতা প্রায় ৮৬ হাজার। এই স্টেডিয়ামেই ২০২২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী এবং সমাপনী খেলা অনুষ্ঠিত হবে। বৃত্তাকার স্টেডিয়ামটির চারপাশে কৃত্রিম জলাধার থাকবে। জলাধারের বাইরে অবস্থিত ছয়টি পার্কিং এরিয়ার সাথে স্টেডিয়ামটি সেতু দ্বারা সংযুক্ত থাকবে। এর গোলাকার ছাদের অংশবিশেষ সম্পূর্ণ ঢেকে এটিকে ইনডোর স্টেডিয়ামে পরিণত করা অথবা সম্পূর্ণ খুলে উন্মুক্ত আকাশের দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব হবে। স্টেডিয়ামটির নির্মাণ কাজ মাত্র শুরু হয়েছে। ২০২১ সালে এর উদ্বোধন করা হতে পারে।
আল-বাইত স্টেডিয়াম
আরবি বাইত শব্দের অর্থ বাড়ি। কাতারের আল-খোর শহরে নির্মাণাধীন আল-বাইত নামের এই স্টেডিয়ামটি দেখতে হবে বিশাল এক তাঁবুর মতো, যে ধরনের তাঁবু কাতার এবং অন্যান্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রে বেদুইন আরবদের বাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্টেডিয়ামটির ধারণমতা হবে প্রায় ৬০ হাজার এবং এতে সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত একাধিক খেলার আয়োজন করা হবে। স্টেডিয়ামটি বর্তমানে নির্মাণাধীন আছে এবং ২০১৯ সালে এটি উদ্বোধন করার পরিকল্পনা আছে।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর সত্যিকার তাঁবুর মতোই এর অংশবিশেষ স্থানান্তর করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হবে। এর উপরের সারির আসনগুলো এমনভাবে তৈরি করা হবে, যেগুলোকে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। বিশ্বকাপ শেষে অন্য আরও কয়েকটি স্টেডিয়ামের মতো আল-বাইত স্টেডিয়ামের অংশবিশেষও স্থানান্তর করে উন্নয়নশীল আরব দেশগুলোতে নিয়ে সেখানকার স্টেডিয়ামে প্রতিস্থাপন করা হবে। তখন এটি ৬০ হাজার আসনের পরিবর্তে ৩২ হাজার দর্শক আসনবিশিষ্ট স্টেডিয়ামে রূপান্তরিত হবে।

আল-রায়ান স্টেডিয়াম
কাতারের আল-রায়ানে অবস্থিত আহমেদ বিন আলি স্টেডিয়ামটি মূলত স্থানীয় অত্যন্ত জনপ্রিয় ফুটবল কাব আল-রায়ান স্পোর্টস কাবের স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামটিকেই পুনঃসংস্কার করে আল-রায়ান স্টেডিয়াম নামে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করা হবে। এর ধারণ মতা হবে প্রায় ৪৪ হাজার ৭৪০। এই স্টেডিয়ামটিও বর্তমানে নির্মাণাধীন আছে এবং ২০২১ সালে এটি উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্টেডিয়ামটির বাইরের আবরণটি একটি সুবিশাল ত্রিমাত্রিক গোলাকার পর্দা হিসেবে কাজ করবে, যা বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন দৃশ্য প্রপেণ করবে। এর নকশা এবং প্রিেপত দৃশ্যাবলির মধ্য দিয়ে ফুটে উঠবে পরিবারের গুরুত্ব, মরুভূমির সৌন্দর্য, স্থানীয় উদ্ভিদ এবং প্রাণিকুলের বৈচিত্র্য, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ইত্যাদি।

আল-থুমামা স্টেডিয়াম
আল-থুমামা স্টেডিয়ামটির ডিজাইন কাতারের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় পরিচয়ের একটি নিদর্শন। এটি দেখতে বিশাল একটি টুপির মতো, যাকে স্থানীয় ভাষায় গাফিয়া বলা হয়। হাতে বোনা এ ধরনের টুপি শুধু কাতার না, প্রায় সবগুলো উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রের পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের অবিচ্ছেদ্য অংশ। গাফিয়া নামের এ টুপিগুলো মাথায় পরিধান করা ৩টি বস্ত্রাংশের মূল ভিত্তি। এই টুপির উপরে পরা হয় এক টুকরো কাপড়, যাকে বলা হয় গুত্রা। তার উপরে থাকে কালো রঙের দড়ি সদৃশ আগাল, যা গাফিয়ার উপরে গুত্রাকে বেঁধে রাখে। থুমামা স্টেডিয়ামটির অবস্থান হবে রাজধানী দোহার সমুদ্রতীরের প্রমোদোদ্যান থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দেিণ। এর ধারণমতা হবে প্রায় ৪০ হাজার এবং এতে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত একাধিক ম্যাচের আয়োজন করা হবে।