প্রতিবেদন

৬ প্রকল্পে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে জাপান

নিজস্ব প্রতিবেদক : মেট্রোরেলে ৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনসহ ৬ প্রকল্পের জন্য ২০০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ১৫ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা ঋণসহায়তা দিচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকা। ৩৯তম ঋণ প্যাকেজের আওতায় এ সহায়তা দেবে সংস্থাটি। ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ১৪ জুন এ ব্যাপারে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সম্মেলন কে একটি বিনিময় নোট ও ঋণ চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়েচু ইজুমি ও জাইকার চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাতোসি নিশিকাতা চুক্তিতে সই করেন। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি শেষে কাজী শফিকুল আযম সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী জাপান। চুক্তি হওয়ায় এসব প্রকল্পের মধ্যে যমুনা রেল সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি একেবারেই নতুন। আর ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্প রয়েছে দুটি। বাকি প্রকল্পগুলোও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রকল্প দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে হিরোইয়েচু ইজুমি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপান ধারাবাহিকভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ ঋণের বার্ষিক সুদের হার নির্মাণ কাজের জন্য ১ শতাংশ, স্বাস্থ্য ও সেবা খাতের জন্য শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ এবং পরামর্শক সেবার জন্য শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ। এ ছাড়া ফ্রন্ট অ্যান্ড ফি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে। প্রকল্পগুলো হচ্ছেÑ মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন : কক্সবাজারের মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে মাতারবাড়িতে একটি বাণিজ্যিক বন্দর নির্মাণে পরামর্শক সেবার জন্য জাইকা ২ হাজার ৬৫৫ মিলিয়ন জাপানিজ ইয়েন বা ২০৩ কোটি টাকা ঋণসহায়তা দেবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩ হাজার ৫১১ মিলিয়ন জাপানিজ ইয়েন বা ২৬৮ কোটি টাকা। জাইকার সহায়তা প্রকল্প ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ।
যমুনা রেল সেতু : বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে একটি স্বতন্ত্র রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) একনেকে ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকার ঋণ সহায়তা হচ্ছে ২ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা। ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (মেট্রোরেল) ৩ : এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা মহানগরীতে উত্তরা-পল্লবী-মিরপুর ১০-খামারবাড়ি-ফার্মগেট- সোনারগাঁও হোটেল-শাহবাগ-দোয়েল চত্বর-তোপখানা রোড-বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্প। প্রকল্পের ডিপিপি একনেকে ২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১২ সালের জুলাই হতে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাইকা সহায়তা দেবে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। পর্যায়ক্রমে এই ঋণ সহায়তা দেয়া হবে।
মেট্রোরেল লাইন-৫ নির্মাণ : ২০৩০ সালের মধ্যে হেমায়েতপুর-আমিনবাজার-গাবতলী-মিরপুর-১, মিরপুর-১০, কচুতে-ক্যান্টনমেন্ট-বনানী-গুলশান-২, নতুনবাজার ও ভাটারা পর্যন্ত মোট ২০ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণে জাইকা ৭ হাজার ৩৫৮ মিলিয়ন জাপানিজ ইয়েন বা ৫৬২ কোটি টাকা ঋণ চুক্তি করেছে।
মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল্ড ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট : কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল-ফায়ার্ড পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। প্রকল্পের ডিপিপি একনেকে ২০১৪ সালের ১২ আগস্ট অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১৪ সালের জুলাই হতে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩৫ হাজার ৮৪৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। জাইকা সহায়তা দেবে ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা।
হেলথ সার্ভিস স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্ট : প্রকল্পের আওতায় অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ এবং নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য জাইকা ৬ হাজার ৫৫৯ মিলিয়ন জাপানিজ ইয়েন বা ৫০১ কোটি টাকা ঋণ চুক্তি করেছে।