প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাণে সর্বাত্মক সহায়তা দেবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ৮ জুলাই তারা ঝলমলে এক আসর বসেছিল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। দেশের চলচ্চিত্রের শিল্পী ও কলাকুশলীদের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠেছিল প্রাঙ্গণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার নিয়ে আরো ভালো সিনেমা তৈরির প্রত্যয় জানালেন দেশের জনপ্রিয় নায়ক-নায়িকা ও চলচ্চিত্র শিল্পে বিভিন্ন েেত্র উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা রাখা কলাকুশলীরা। এবারের আসরে যৌথভাবে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী ববিতা ও মিয়া ভাইখ্যাত অভিনেতা ফারুক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার নেন তারা দুজনই।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর মধ্য থেকে সেরা কাজের জন্য ২৬টি বিভাগে মোট ৩১ জনের হাতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ক্রেস্ট, মেডেল ও চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য সচিব আবদুল মালেক ও তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লাহ।
পুরস্কার প্রদান করে চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীদের বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাণে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাণে সর্বাত্মক সহায়তা দেবে সরকার। তিনি আরো বলেন, আমাদের সবসময় একটা কথা মনে রাখতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয়ী জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে চলতে চাইÑ কোনো দিকেই আমরা পিছিয়ে থাকতে চাই না। আর শিল্পের দিক থেকে বিশেষ করে, চলচ্চিত্র শিল্পের দিক থেকেও আমরা চাই, আমরা যেন বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাণ করে এগিয়ে যেতে পারি। আর তার জন্য যা করার দরকার সরকারের প থেকে আমরা সবই করব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই, আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্প আরও উন্নত হোক। এর জন্য ইতোমধ্যে অনেকগুলো পদপে আমরা নিয়েছি। সমাজ সংস্কারে চলচ্চিত্র শিল্প অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, চলচ্চিত্র মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি। সমাজে অনেক বার্তা পৌঁছানো যায়। অনেক কথা বলা যায়। চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও আধুনিক করা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমি তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং আমাদের যে সংগ্রাম সে চিত্রগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরা একান্তভাবে প্রয়োজন।
বিদেশ সফরে যাওয়া-আসার সময় উড়োজাহাজে বসে বাংলা সিনেমা দেখার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ছবি আমি দেখেছি, অনেক ভালো ছবি হয়। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেয়ার পর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
২০১৬ সালের জন্য সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে তৌকীর আহমেদ নির্মিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের চলচ্চিত্র অজ্ঞাতনামা। সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন অমিতাভ রেজা চৌধুরী তার আয়নাবাজি চলচ্চিত্রের জন্য। এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী। সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা ও কুসুম শিকদার। তাদের অভিনীত চলচ্চিত্রের নাম যথাক্রমে অস্তিত্ব ও শঙ্খচিল।
শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে এস এম কামরুল হাসানের ঘ্রাণ। শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার পায় যৌথভাবে একান্তর মিডিয়া লিমিটেড ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর জন্মসাথী ছবির জন্য। একান্তর মিডিয়া লিমিটেডের প থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন মোজাম্মেল হক বাবু এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প থেকে মফিদুল হক। সেরা কণ্ঠশিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন মেহের আফরোজ শাওন ও ওয়াকিল আহমেদ। ছবির নাম যথাক্রমে কৃষ্ণপ ও দর্শন বিসর্জন।
পার্শ্ব চরিত্রে সেরা অভিনেতা হিসেবে যৌথভাবে পুরস্কার পেয়েছেন আলী রাজ (পুড়ে যায় মন) ও ফজলুর রহমান বাবু (মেয়েটি এখন কোথায় যাবে) এবং সেরা অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ (কৃষ্ণপ)। সেরা খল চরিত্রের পুরস্কার পেলেন শহীদুজ্জামান সেলিম অজ্ঞাতনামা ছবির জন্য। শঙ্খচিল ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী আনুন রহমান খান। শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক ও সুরকারের পুরস্কার পেয়েছেন ইমন সাহা মেয়েটি এখন কোথায় যাবে ছবির জন্য। মেয়েটি এখন কোথায় যাবে সিনেমার বিধিরে ও বিধি গানের জন্য শ্রেষ্ঠ গীতিকারের পুরস্কার পেয়েছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। আরো পুরস্কার পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক মো. হাবিব নিয়তি ছবির জন্য, শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার তৌকীর আহমেদ অজ্ঞাতনামা ছবির জন্য, শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার যৌথভাবে অনম বিশ্বাস ও গাউসুল আলম আয়নাবাজি ছবির জন্য। শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা সৈয়দ রুবাইয়াত হোসেন (আন্ডার কনস্ট্রাকশন), শ্রেষ্ঠ সম্পাদক ইকবাল আহসানুল কবির (আয়নাবাজি), শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক উত্তম গুহ (শঙ্খচিল), শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক রাশেদ জামান (আয়নাবাজি), শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক বিপন নাথ (আয়নাবাজি), শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা পুরস্কার পেলেন যৌথভাবে সাত্তার (নিয়তি) ও ফারজানা সান (আয়নাবাজি)। শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান মানিক আন্ডার কনস্ট্রাকশন ছবির জন্য।