ফিচার

থ্রি-জি বনাম ফোর-জি

শাহীন শিমুল : থ্রি-জি (৩-এ-৩ৎফ এবহবৎধঃরড়হ) প্রযুক্তি একটি স্ট্যান্ডার্ড মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম, যা ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঞবষবপড়সসঁহরপধঃরড়হ টহরড়হ (ওঞট) কর্তৃক নির্ধারিত ওহঃবৎহধঃরড়হধষ গড়নরষব ঞবষবপড়সসঁহরপধঃরড়হ-২০০০ (ওগঞ-২০০০)-এর শর্তসমূহ পূরণ করে। ওগঞ-২০০০ স্ট্যান্ডার্ড এর প্রধান শর্ত অনুযায়ী এই প্রযুক্তিতে কমপে ২০০শনঃ/ং অর্থাৎ প্রায় .২সনরঃ/ং গতিতে ডাটা ট্রান্সফারের সুবিধা থাকতে হবে।

ফোর-জি কী
মোবাইল টেলিকমিউনিকেশনের সর্বাধুনিক সংস্করণ ফোর-জি (৪এ-ঋড়ঁৎঃয এবহবৎধঃরড়হ)। এটি সম্পূর্ণরূপে ইন্টারনেট প্রটোকলভিত্তিক একটি টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম, যা গ্রাহককে টষঃৎধ-নৎড়ধফনধহফ সড়নরষব রহঃবৎহবঃ ধপপবংং প্রদান করে থাকে। ফোর-জি প্রযুক্তি হচ্ছে থ্রি-জি মোবাইলের আধুনিকতর সংস্করণ। এই প্রযুক্তি এখনও গ্রাহক পর্যায়ে সহজলভ্য হয়ে ওঠেনি। ফোর-জি মোবাইলের পুরোপুরি বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বিপণন শুরু হলে তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেমে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

থ্রি-জি মোবাইল ব্যবহারের সুবিধা
থ্রি-জি মোবাইল প্রযুক্তি অত্যন্ত উচ্চগতি সম্পন্ন ডাটা ট্রান্সফারের সুবিধা দেয়। ডাউনলিংকের েেত্র এই গতি ১৪ সনঢ়ং এবং আপলিংকের েেত্র ৫.৮ সনঢ়ং. থ্রি-জি মোবাইলে অত্যন্ত শক্তিশালী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভয়েজ আদান-প্রদানের পাশাপাশি ভয়েজ মেসেজ, টেক্সট মেসেজ, ছবি তোলা, অডিও ভিডিও রেকর্ডিং, হাইস্পিড ইন্টারনেট ব্রাউজিং, গেমিং ইত্যাদি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। পূর্বে ৩ মিনিটের একটি গান টু-জি মোবাইলের মাধ্যমে ডাউনলোড করতে ৬-৯ মিনিট সময় লাগতো, বর্তমানে থ্রি-জি প্রযুক্তির সাহায্যে তা ১১-৯০ সেকেন্ডেই করা সম্ভব। থ্রি-জি মোবাইলের সাহায্যে মোবাইলে টিভি দেখা এবং টেলিকনফারেন্সের সুবিধা ভোগ করা সম্ভব।
ফোর-জি মোবাইল ব্যবহারের সুবিধা : ফোর-জি মোবাইলে রয়েছে সর্বোচ্চ গতির ডাটা ট্রান্সফারের সুবিধা। এই প্রযুক্তিতে গ্রাহক সর্বদাই মোবাইল অনলাইন ব্রডব্যান্ডের আওতায় থাকতে সমর্থ হবেন। এতে হাই ডেফিনেশন টেলিভিশন এবং ভিডিও কনফারেন্সের সুবিধা পাওয়া যাবে। এই প্রযুক্তিতে গ্রাহকের কথোপকথন ও ডাটা ট্রান্সফারের নিরাপত্তা অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। ফোর-জি মোবাইল গ্রাহককে ভয়েস মেসেজ, ফ্যাক্স, মাল্টিমিডিয়া মেসেজ, অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং ইত্যাদির সুবিধাও প্রদান করবে।

ফোর-জি’র বৈশিষ্ট্য :
২০০৮ সালের মার্চ মাসে ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঞবষবপড়সসঁহরপধঃরড়হং টহরড়হ জধফরড় পড়সসঁহরপধঃরড়হ ংবপঃড়ৎ (ওঞট-জ), ফোর-জি প্রযুক্তির েেত্র কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বাধ্যতামূলক হিসেবে নির্ধারণ করে দেয়, যা ওহঃবৎহধঃরড়হধষ গড়নরষব ঞবষবপড়সসঁহরপধঃরড়হং অফাধহপবফ (ওগঞ-অফাধহপবফ) ংঢ়বপরভরপধঃরড়হ নামে পরিচিত। ফোর-জি মোবাইলের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ :
ডাটা ট্রান্সফারের গতি ঐরময সড়নরষরঃু ংঃধঃরড়হ (যেমন ট্রেন ও বাস ইত্যাদি) এবং খড়ি সড়নরষরঃু ংঃধঃরড়হ (যেমন পথচারী ও রহফড়ড়ৎ ইত্যাদি) এর েেত্র যথাক্রমে ন্যূনতম ১০০ মেগাবাইট/সেকেন্ড এবং ১ গিগাবাইট/সেকেন্ড হতে হবে। এই প্রযুক্তির ডাটা ট্রান্সফার পুরোপুরি ইন্টারনেট প্রটোকল প্যাকেট সুইচ নেটওয়ার্ক ভিত্তিক হতে হবে। একই স্পেকট্রাম থেকে সর্বাধিক সংখ্যক গ্রাহককে সেবা দিতে হবে। পরিমাপযোগ্য ঈষধহহবষ ইধহফ রিফঃয ন্যূনতম ৫-২০ মেগাহার্জ এবং ত্রেবিশেষ ৪০ মেগাহার্জ পর্যন্ত হবে।
উড়হিষরহশ-এর েেত্র ষরহশ ংঢ়বপঃৎধষ ঊভভরপরবহপু ১৫নরঃ/ং/ঐু এবং টঢ়ষরহশ এর েেত্র ৬.৭৫ নরঃ/ং/ঐ হতে হবে।
এই সবগুলো বৈশিষ্ট্যই শুধু খঞঊ অফাধহপবফ (ঝঃধহফধৎফরুবফ নু ৩এচচ) এবং ৮০২.১৬স (ংঃধহফধৎফরুবফ নু ঃযব ওঊঊঊ) এই দুটি প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করবে।
থ্রি-জি’র কার্যপ্রণালি : থ্রি-জি মোবাইল মূলত ৪টি স্ট্যান্ডার্ডে কাজ করে যা নিম্নরূপ : টগঞঝ (টহরাবৎংধষ গড়নরষব ঞবষবপড়সসঁহরপধঃরড়হং ঝুংঃবস): টগঞঝ ৩এচচ (৩ৎফ এবহবৎধঃরড়হ চধৎঃহবৎংযরঢ় চৎড়লবপঃ) ভিত্তিক একটি প্রযুক্তি, যা প্রাথমিকভাবে ২০০১ সালে ইউরোপ, জাপান ও চায়না প্রভৃতি দেশে চালু হয়। এেেত্র একই অবকাঠামো ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ৎধফরড় রহঃবৎভধপব-এর সুবিধা দেয়া হয়; যেমন সর্বাধিক ব্যবহৃত জধফরড় রহঃবৎভধপব হচ্ছে ড-ঈউগঅ ঞউ-ঝঈউগঅ রেডিও ইন্টারফেসটি ২০০৯ সালে শুধু চীনে চালু করা হয়। টগঞঝ সিস্টেমের সর্বশেষ সংস্করণ ঐঝচঅ (ঐরযম ঝঢ়ববফ চধপশবঃ অপপবংং) সর্বোচ্চ ৫৬সনরঃ/ং ডাউনলিংক গতি সরবরাহ করতে পারে। ৩চএচ২ ভিত্তিক ঈউগঅ২০০০ পদ্ধতি, যা ২০০২ সালে প্রথম ওঝ-৯৫২ এ স্ট্যান্ডার্ডের অবকাঠামো ঝযধৎরহম-এর মাধ্যমে উত্তর আমেরিকা ও দণি কোরিয়ায় চালু হয়। সর্বশেষ সংস্করণ ঊঠউঙ (ঊাড়ষঁঃরড়হ উধঃধ ঙঢ়ঃরসরুবফ) জবা ই ১৪.৭গনরঃ/ং ডাউনলিংক গতি প্রদান করে। এছাড়াও এঝগ ঊউএঊ মোবাইল ওয়াইম্যাক্স সার্ভিস ওগঞ-২০০০ এর শর্তাবলি পূরণ করে এবং ওঞট কর্তৃক থ্রি-জি স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে স্বীকৃত; তবে এরা প্রচলিত থ্রি-জি ব্র্যান্ড নয় বরং সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সিস্টেম।

ফোর-জি’র কার্যপ্রণালি :
বর্তমানে দুটি ফোর-জি স্ট্যান্ডার্ড বাণিজ্যিকভাবে ফোর-জি মোবাইলের সাথে যুক্ত আছে। এর মধ্যে গড়নরষব ডরসধী ২০০৬ সালে দণি কোরিয়ায় সর্বপ্রথম এবং খড়হম ঞবৎস ঊাড়ষঁঃরড়হ (খঞঊ) স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলে ২০০৯ সাল থেকে অপারেশন শুরু করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঝঢ়ৎরহঃ ঘবীঃবষ ২০০৮ সালে গড়নরষব ডরসধী চালু করে এবং গবঃৎড় চঈঝ ২০১০ সালে খঞঊ সার্ভিস শুরু করে। শুরু থেকেই ফোর-জি প্রযুক্তির টঝই ডরৎবষবংং গড়ফবস প্রচলিত ছিল; তবে ২০১০ সালে সর্বপ্রথম ওয়াইম্যাক্স স্মার্টফোন এবং ২০১১ সালে খঞঊ স্মার্টফোন বাজারে আসে। এখন পর্যন্ত ফোর-জি মোবাইল গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল।