প্রতিবেদন

দেশব্যাপী সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ-২০১৮ এর দেয়া মেধাবীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণকালে প্রধানমন্ত্রী : নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে গড়ে তোলার আহ্বান শেখ হাসিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক : নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সম করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে দেশব্যাপী সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ-২০১৮-এর নির্বাচিত জাতীয় পর্যায়ের সেরা মেধাবীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে দ জনশক্তি, অর্থাৎ নতুন প্রজন্মকে প্রতিযোগিতায় সম করে গড়ে তুলতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশকেও এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে হবে। আমরা সেভাবেই আমাদের শিশু-কিশোরদের গড়ে তুলতে চাই; শিাই তাদের বিকাশের একমাত্র চাবিকাঠি। সরকার ২০১৩ সাল থেকে দেশের সব বিভাগের স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে এই মেধা অন্বেষণ কর্মসূচি শুরু করে। এবার তিনটি বিভাগে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি, নবম থেকে দশম শ্রেণি এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সাহিত্য, বিজ্ঞান, গণিত এবং কম্পিউটারÑ চারটি বিষয়ে দেশের সব বিভাগ ও জেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত শীর্ষ ১০৮ জন শিার্থীর মধ্যে নির্বাচিত ১২ জনকে এদিন মেধা অন্বেষণ-২০১৮ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। পুরস্কার হিসেবে একটি ট্রফি, এক লাখ টাকার বৃত্তি এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়। জাতীয় পর্যায়ের সেরা ১২ মেধাবী শিার্থী ৯ জুলাই ৫ দিনের শিা সফরে তুরস্ক যাবেন (গিয়েছেন) বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাকি ৯৬ জন শিার্থীর
প্রত্যেককে পুরস্কার হিসেবে ৫ হাজার টাকা এবং সনদপত্র প্রদান করেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশকে ুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে উন্নত এবং সমৃদ্ধিশালী করে গড়ে তোলার মূল হাতিয়ার হলো শিা। কেউ যদি শিতি হয় তাহলে যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশে সে টিকে থাকতে পারে। সবাইকে একটা কথাই বলব, শিাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সম্পদ। এর চেয়ে বড় সম্পদ আর কিছু নেই। এই সম্পদ কেউ কেড়ে নিতে পারবে না, ছিনতাই করতে পারবে না। আর শিক্ষার মাধ্যমে জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের শিশুরাই একদিন সব কিছু পরিচালনা করবে। সেই সুযোগটাই আমরা সৃষ্টি করে দিতে চাই। সেটাই আমাদের ল্য। আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন, জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক একটি জাতি আমরা গড়ে তুলতে চাই। সে ল্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। ডিজিটাল বাংলাদেশে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে আরো দ জনশক্তি প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ উপগ্রহ উৎপেণ করেছি, যার মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে নেটওয়ার্কটা চালু হবে। সমুদ্র থেকে বাংলাদেশের সর্বত্র যোগাযোগ স্থাপনে আমাদের স্যাটেলাইট কাজ করবে। শিায়, স্বাস্থ্যসেবায় সব কিছুতেই অবদান রাখতে পারবে। সরকার পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র করছে, আরো জটিল এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সন্নিবেশ ঘটাচ্ছে, যেগুলো চালাতে ভবিষ্যতে অনেক দ জনশক্তির প্রয়োজন হবে।
ভাষণের এই পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা এত মেধাবী, আমি মনে করি, বিশ্বে বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা সবচেয়ে বেশি মেধাবী। আমাদের ছেলে-মেয়েদের একটু সুযোগ করে দিলে তারা অত্যন্ত ভালো করে। আমাদের ছেলে-মেয়েদের আমরা সেভাবেই গড়তে চাই, যেন আগামী দিনে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় তারা এগিয়ে থাকে।
শিামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং শিা প্রতিমন্ত্রী (কারিগরি এবং মাদ্রাসা শিা) কাজী কেরামত আলী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। শিা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক এবং উচ্চশিা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। মেধা অন্বেষণ-২০১৮-এর নির্বাচিত জাতীয় পর্যায়ের ১২ জন সেরা মেধাবীর পে মাহিন মুসতাসির ও সিরাতুল মুসতাকিম শ্রাবন্তী অনুষ্ঠানে নিজ নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করেন।