প্রতিবেদন

বাংলাদেশে ৩ দিনের ব্যস্ত সফর শেষে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং : ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বন্ধনে আবদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতের স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ১৩ জুলাই ঢাকার উদ্দেশে দিল্লি ত্যাগের আগে তার টুইটার অ্যাকাউন্টে লেখেন, ৩ দিনের বাংলাদেশ সফরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছি। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বন্ধনে আবদ্ধ। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত খুবই গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ১৫ জুলাই দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে রাজনাথ সিং আবারো তার টুইটার অ্যাকাউন্টে লেখেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্ব অকৃত্রিম ও ঐতিহাসিক বন্ধনে আবদ্ধ।
বাংলাদেশ সফররত ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ১৪ জুলাই গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাাৎ করতে এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশ সবসময় আলোচনার মাধ্যমে এ অঞ্চলের সকল সমস্যা সমাধান করতে চায়। ভারতের সঙ্গে স্বারিত স্থল সীমান্ত চুক্তিসহ বিভিন্ন চুক্তি বাস্তবায়ন দ্বিপাকি আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ তার ভূখ-কে ব্যবহার করে কখনও কোনোভাবেই কোনো সন্ত্রাসী বা সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনা করতে দেবে না। বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারতসহ কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদী কার্যক্রম চালাতে দেয়া হবে না।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদ সমূলে উৎপাটনে দণি এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে আঞ্চলিক পর্যায়ে আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে এ সামাজিক ব্যাধিকে মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের কোনো কোনো দেশের কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করে রাজনাথ সিং বলেন, ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভবত বিশ্বে সর্বোচ্চ এবং দ্রুত বর্ধনশীল জিডিপি। রাজনাথ সিং বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ের দ্বিপাকি সুসম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা স্মরণ করে বলেন, সে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছিল।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল সেক্রেটারি বর্ডার ম্যানেজমেন্ট ব্রজরাজ শর্মা, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এবং বাংলাদেশের পে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন এবং সুরা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দীন আহম্মদ চৌধুরী এবং আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারি এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। শপিংমলের গ্রাউন্ড মাইনাস-১-এ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। উদ্বোধনের পর একজন বাংলাদেশির হাতে প্রতীকী ভিসা তুলে দেন রাজনাথ সিং। নতুন এ ভিসা কেন্দ্রে ঢাকায় বিদ্যমান ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো প্রতিস্থাপিত হবে। একই সঙ্গে ভারতীয় ভিসা আবেদন জমা দেয়ার জন্য বিদ্যমান ই-টোকেন ব্যবস্থাও প্রত্যাহার করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, যমুনা গ্র“পের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, যমুনা গ্র“পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম ও পরিচালক মনিকা নাজনিন ইসলাম। এছাড়া ভারতের স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার বর্গফুটজুড়ে নতুন এ কেন্দ্রে একই সময়ে ৭০০ লোক অবস্থান করতে পারবেন। ৪৮টি কাউন্টারে ভিসা প্রত্যাশীদের সেবা দেয়া হবে। প্রতিদিন অন্তত ৬ হাজার ব্যক্তি পাসপোর্ট জমা দিতে পারবেন। নতুন এ ভিসা আবেদন কেন্দ্রটি হবে মডেল ভিসা কেন্দ্র। সব ধরনের ভিসার আবেদন করা যাবে। জ্যেষ্ঠ নাগরিক, নারী, মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যবসা ভিসা আবেদনের জন্য আলাদা কাউন্টার থাকছে। একটি বিশেষ সহায়তা ডেস্ক এবং প্রিন্টিং ও ফটোকপি ইত্যাদি সেবার জন্যও থাকছে বিশেষ কাউন্টার।
মতিঝিল ও উত্তরায় অবস্থিত ভিসা আবেদন কেন্দ্র ১৫ জুলাই থেকে যমুনা ফিউচার পার্ক কেন্দ্রে প্রতিস্থাপিত হয়েছে। গুলশান ও মিরপুর রোড ভিসা আবেদন কেন্দ্র ৩১ আগস্টের মধ্যে স্থানান্তরিত হবে এখানে। এর পর থেকে ঢাকায় এটিই হবে একমাত্র ভিসা আবেদন কেন্দ্র। পূর্বনির্ধারিত সাাৎকার সূচি (ই-টোকেন) ছাড়াই এখানে ভিসার আবেদন করতে পারবেন ভিসা প্রত্যাশীরা।
ভারতীয় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরো সহজ ও সমন্বিত করা এবং ভারত-বাংলাদেশের মানুষে মানুষে সম্পর্ক শক্তিশালী করার জন্য ভারতীয় হাইকমিশনের অব্যাহত প্রচেষ্টার প্রতিফলন এ কেন্দ্র। এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ভারতীয় স্টেট ব্যাংকের সহযোগিতায়।
ভারতের স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ৬ষ্ঠ বৈঠকের কো- চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। রাজনাথ সিং বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে সহযোগিতা এবং ভ্রমণ ব্যবস্থাপনাসহ দ্বিপাকি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।